Hanuman Chalisa Chaupai 30 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 30 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa Pdf is a revered devotional hymn dedicated to Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 30 in Bengali with Meaning & Analysis

সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকন্দন রাম দুলারে।

সারানুবাদ : সাধুসজ্জনগণের আপনি রক্ষাকর্তা, রাক্ষসদের বিনাশকারী এবং শ্রীরামচক্ত্রের একান্ত প্রিয়পাত্র।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈটি শ্রীহনুমানজীর চরিত্রের একটি বিশেষ দিক দর্শায়। আমরা ২১ নম্বর চৌপাঈতে পের়েছি ‘রাম দুয়ারে তুম রখবারে’ আবার এখানে পাচ্ছি ‘সাধু সন্ত কে তুম রখবারে’। তাহলে আমরা কি এই দুটি চৌপাঈ-এর মূল ভাবকে নিয়ে এই মতে আসতে পারি না যে, প্রভু শ্রীরামের দুয়ার অবধি পোঁছতে হলে অর্থাৎ রামময় হওয়ার জন্য সাধু বা সণ্ত হওয়া জরুরি এবং শ্রীহনুমানজী সেই সাধু বা সন্তদের শুধু রক্ষা করেন না,

উপরন্তু তাঁদের হাত ধরে রাম-অনুগত বা পরমাত্ম-রস আস্বাদনের ব্যবস্থা করে দেন ? কারণ শ্রীহনুমানজীর কৃপা ছাড়া- ‘হোত না আজ্ঞা বিনু পৈসারে’ — প্রভু শ্রীরামের প্রতি ভক্তি লাভ সষ্ভব নয়। তাহলে আমাদের সবার আগে জানা দরকার ‘সাধু’ কে?

‘সাধু’ বলতেই আমাদের মানসপটে গৈরিক বসনধারী জটাজুটধারী ব্যক্তির চেহারা ফুটে ওঠে, যার নিবাস যত্র তত্র অর্থাৎ সংসার বৈরাগী। আধ্যাছ্মিক মার্গের নিজ নিজ পন্থার মহাজনগণ এই ‘সাধু’ শব্দের বিভিন্ন অর্থ করেছেন। কিন্তু ভাগবত এবং অন্য শাস্ত্র এ কথা স্বীকার করেন না যে, যাঁরা গৃহস্থাশ্রম ত্যাগ করে বৈরাগ্যশ্রম গ্রহণ করেন ঢাঁরাই সাধু। যেমন-

‘শ্রীহদ্ভাগবত’ (নবহ স্কন্ধ)-এ মহারাজ অম্বরীষকে সাধু বলে মান্যাতা দিয়েছেন ‘স্বয়ং ভগবান নারায়ণ এবং এ কथा জানিয়েছেন দুর্বাসা মুনিকে। অর্থাৎ পৃথিবীপতি রাজাভ হতে পারেন সাধু। তাই মহান ‘বৈষ্ব-দার্লিনিক আচার্য শ্রীল শ্রীজীবগোস্বামীপাদ ‘সাধু’ শব্দের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, সাধু কারা ?

তিনি বলছেন, ‘গৃহে, বনে, আশ্রহে, যে যেখানেই থাকুন, যাঁরা ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, বাসনা নিঃশেযে ত্যাগ করে প্রেমভক্তিপরায়ণ হয়েছেন, তাঁরাই সাধু’। আর প্রেমভক্তিপরায়ণ ব্যক্তিকে সর্বদাই পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেন শ্রীহননুমানজী। ‘নবধা’ ভক্তির আর বাকি কাজটা শ্রীহনুমানজী করে দেन।

এই চৌপাঈতে আরও বলা হয়েছে যে, শ্রীহনুমানজী রাক্ষদদের নিধনকারী এবং প্রভু শ্রীরামের প্রিয়পাত্র। আমরা সবাই জানি যে, প্রভু শ্রীরাম দঞুকবনে রাক্ষসদের নৃশংসতা দেখে এত বিচলিত হয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি সমস্ত রাক্ষসকুলকে ধ্বংস করবেন এবং তাঁর এই কাজে শ্রীহনুমানজী যোগ্য সহযোগিতা করেছিলেন। তাই তিনি প্রভু শ্রীরামের অন্য অনেক কারণের মধ্যে এই কারণেও যে প্রিয় হবেন, তা তো বলাই বাহল্য।

কিন্তু যখন ‘সাধু সন্ত কে তুম রখবারে’ এই বিশেষণটির সঙ্গে তাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়, তখন এর এক অন্য অর্থ আমাদের সামনে উঠে আসে যা আমাদের সাংসারিক জীবের পক্ষে পথ-প্রদর্শক স্বরূপ। ‘অসুর নিকন্দন’ অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ্, মাৎসর্য ইত্যাদি আসুরিক বৃত্তিগুলি যে নির্মূল করার প্রয়াস করবে, সেই সাধু বা সাধক সর্বদাই ‘রামদুলারে’ হবেন আর শ্রীহনুমানজী তাঁকে অবশ্যই রক্ষা করবেন তাঁর অভীষ্ট লাভের জন্য।

Hanuman Chalisa Chaupai 29 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 29 Meaning in Bengali

Reciting the Hanuman Chalisa Lyrics is a practice that unites Hanuman devotees in their devotion to the Lord.

Hanuman Chalisa Chaupai 29 in Bengali with Meaning & Analysis

চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা।
হু পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।

সারানুবাদ : সমস্ত জগতেই এ কথা প্রসিদ্ধ আছে যে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্জৈভভাবে বর্তমান।

ব্যাখ্যা : আমাদের অজানা নয় ভে শীরনুমানজী ‘অমর’। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি চার যুগেই তাঁর অবাধ উপস্থিতি থাকে কোনো না কোনো রূপে।

  • সত্য যুগে : তিনি ঢাঁর মূল স্বরূপ অর্থাৎ ভগবান শঙ্কর।
  • ত্রেতা যুগে : প্রভু শ্রীরামের ভক্তশ্রেষ্ঠ ও দূতরূপে পরিচিত।

(৩) দ্বাপর যুগে : তৃতীয় পাঙ্যব অর্জুনের রথের ধ্বজাতে তিনি অবস্থিত যার জন্য াঁঁর রথের আর এক নাম ‘কপিষ্বজ’। ভগবান শ্রীকৃষণ কুরু-পাগুবের যুদ্ধ শেফে অর্জুনকে দ্রুত রথ থেকে নামডে বললেন এবং শীরুহুমানজীকে আহ্বান করলেন ধ্বজা থেকে নেমে আসতে। মুহূর্তে সেই রথ আগুনে পুড়ে ছই হয়ে গেল। অর্জুন এই সব দেখে অবাক হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায়, শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “মহাবীর কর্ণ ও পিতামহ ভীপ্মের বাণের তীব্রতাকে শ্রীহনুমানজী এতদিন নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছিলেন যে কারণে এই রথ অক্ষত ছিল। এঁদের বাণের এত জোর ছিল যে রথ একশো হাত পেছনে চলে যেতো কিন্তু শ্রীহনুমানজীর কারণে তা হয়নি।”

(8) কলি যুগে : যেখানে প্রভু শ্রীরামের কথা হবে, তাঁর স্মরণ-মনন-ভজনকীর্তন হবে সেখানেই শ্রীহনুমানজী অবশায উপস্থিত হবেন।
यত্র তত্র রঘুনাথকীর্তনং তত্র তত্র কৃতমসगতকাঞ্জম্।
বাষ্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মরুতিং নমত রাক্ষসাত্তকম্। — (ख्रीरनूमৎ-ग्ठবन)

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাথের (নাম, রূপ, গুণ, লীলা আদি) কীর্তন করা হয়, সেই সেই জায়গায় করজোড়ে নতমস্তক হয়ে, অশ্রঞপূর্ণ নয়নে যিনি সদা উপস্থিত থাকেন সেই রাস্ষসবংশের অন্তকারী পবননন্দনের উপ্দেশ্যে সকলেইই প্রণাম নিবেদন করুন।

শ্রীহনুমানজী বায়ুপুত্র হওয়ায় তিনি সর্বব্যাপী। পঞ্চভূতের মধ্যে আর যারা আছেন যथা ভূমি, সমুদ্র (জল), আকাশ এবং অগ্নি এঁদের একটা সীমা আছে যার মধ্যে এঁদের থাকতে হয়, কিন্তু বায়ুর কোনো সীমা নেই।। তাই তার গতি অবাধ এবং প্রচণ্ড বেগশালী। তই শ্রীহনুমানজী স্বতন্ট্র ও সীমাহীন। তাঁর উপস্থিতি তাই যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায়, যে কোনো রূপে হতে পারে। সবটাই তাঁর ইচ্ছাধীন।

গোস্বামীজীকে তিনি প্রথম দর্শন দেন এক অতিবৃদ্ধ হিসাবে, দ্বিতীয় পাগুব ভীমকে তিনি দর্শন দেন এক পিঙ্গল চেহারার বৃদ্ধ বানর হিসাবে। অনেক ভগবৎদর্শী শ্রীহনুমানজীর পাবন সান্নিধ্য উপল্ধি করেছেনে শীরামের লীলাকথায় বা ভজনে আবিষ্ট অবস্থায়। এই লেখকের একবার সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো।

যে চার বর্ণের কথা আহরা শাস্ত্রচর্চা থেকে জানতে পারি যথা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র, শ্রীহনুমানজীর এই চার বর্ণের যে বিভাজিত কর্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণের শাস্ত্র অধ্যয়ন, অধ্যাপন, সমাজে আধ্যাত্মিক মূল্যের সংরহ্ষণ ইত্যাদি, ক্রত্রিয়ের সমাজ সুরক্ষা, ও পালন, বৈশ্যের কৃষি, গোরক্ষা বা ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি এবং শূদ্রের সেবাকার্য প্রভৃতি, তা যুগের সঙ্গে তাল রেখে এই চাররূপেই তাঁর পরিচয় রেখেছেন।

প্রথমবার তিনি প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মা রূপ ধরে। তাঁর অসাধারণ পাঞ্তিত্য তাঁদের দুজনকেই সদা মুগ্ধ করে রেখেছিল। যে সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজা সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে রাজ্যশাসন করতেন বা করছেন (‘রাজা’র সংজ্ঞা এখন পাল্টে গেছে), শ্রীহনুমানজী সব সময় তাঁদের রক্ষা করার জন্য তৎপর। যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি করেন তাঁদের বাক্চাতুর্যতা ও প্রতিপক্ষের মনের ভাব বুঝে নেওয়া অতি জরুরি। মজার কথা হলো এই দুটি গুণই শ্রীহনুমানজীর মধ্যে প্রচুর আছে। আর শূদ্রর সেবাকার্য – বলা বাংল্য শীরুহুমানজী প্রভু শ্রীরামের সেবক হিসাবেই শুষু নয়, সমগ্র মানব-সমাজের নিপুণ কল্যাণকারী হিসাবে তাঁর অবদান রেখেছেন।

প্রাচীন ঋষি ও মনীষী সমাজ মানব-সমাজের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ও আনন্দলাভের জন্য মানব-জীবনকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন, যথা ব্রস্চার্য, গার্হস্থ, বানপ্রস্থ ও সন্য্যাস। শ্রীহনুমানজী ব্রদ্মচর্যের এক আদর্শ স্বরূপ। তিনি যাঁদের মধ্যে বিচরণ করতেন তাঁরা সবাই গৃহস্থই ছিলেন (প্রভু শ্রীরাম, সুগ্রীব, বিভীষণ ও অন্যান্যরা)। শ্রীহনুমানজীর চরিত্র গৃহস্থদের একথা শেখায় যে বিবেকপূর্ণ বিষয় উপভোগ ও ইষ্টদেবের স্মরণ-মনন এক আনন্দপূর্ণ জীবনের দ্বার তাদের সামনে খুলে দেয়।

(বানররাজ সুগ্রীব ও বিভীষণ বিভিন্ন সময় ও ‘বানপ্রস্থ’র প্রাসঙ্গিকতা খালি শাস্ত্রের পাতায় খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বানপ্রস্থ। এই বানপ্রস্থর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে নিতে হয়। এর জন্য মরের জোর অত্যন্ত জরুরি। খুব ধীরে ধীরে সংসারের বিষয়গুলি মানসিকভাবে ছাড়তে হয় এবং নিয়মিত নিজেকে জানার চেষ্টায় মন দিতে হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঢাঁর ‘চতুঃশ্লোকী ভাগবতে’ ব্রস্মাকে বলেছেন যে, ব্রহ্মা-জিজ্ঞাসা বা

আছ্ম-জিজ্ঞাসা যার মধ্যে জাগবে, ধরে নিতে হবে তার মানসিক শান্তির যাত্রা উত্তমরূপে শুরু হয়ে গেছে। গোস্বামীজী বলছেন শ্রীহনুমানজীর স্মরণ এই সময় খুর কাজ দেয়। আর সন্ন্যাস শুধু গেরুয়া বসন পরা বা সংসার ত্যাগ নয়, এর বৃহত্তর অর্থ হলো সংসারে থাকা বা না থাকা, এই দুই-অবস্থায় বেশির ভাগ সময় আতু-উন্নতি এবং ঈশ্বর অনুভূতির কাজ সময় দেওয়া। শ্রীহনুমানজী তাঁর স্মরণ-মননকারীদের এই পর্যায়ে পরিপূর্ণ ‘শরণাগতি’র মার্গদর্শন করান এবং নিজে হাতে ধরে তাদের প্রভুর (নিজ নিজ ইষ্টদেব/ দেবীর) চরণে সর্ম্পিত করান।

Hanuman Chalisa Chaupai 28 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 28 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa resonates with people seeking spiritual solace and strength.

Hanuman Chalisa Chaupai 28 in Bengali with Meaning & Analysis

চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা।
হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।

সারানুবাদ : সমস্ত জগতেই এ কথা প্রসিদ্ধ আছে এে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্ট্রলভাবে বর্তমান।

ব্যাখ্যা : আমাদের অজানা নয় যে শ্রীহনুমানজী ‘অমর’। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি চার যুগেই ঢাঁর অবাধ উপস্থিতি থাকে কোনো না কোনো रপে।

  • সত্য যুগে : তিনি ঢাঁর মূল স্বরূপ অর্থাৎ ভগবান শঙ্কর।
  • ত্রেতা যুগে : প্রভু শ্রীরাদের ভক্তশ্রেষ্ঠ ও দূতরূপে পরিচিত।

(৩) দ্বাপর যুগে : তৃতীয় পাঙ্বব অর্জুনের রথের ধ্বজাতে তিনি অবস্থিত যার জন্য ঢাঁর রথের আর এক নাম ‘কপিষ্বজ’। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধ শেফে অর্জুনকে দ্রহত রথ থেকে নামতে বললেন এবং শ্রীহনুমানজীকে আহূান করলেন ধ্বজা থেকে নেতে আসতে।

মুহূর্তে সেই রথ আগুনে পুড়ে ছইই হয়ে গেল। অর্জুন এই সব দেখে অবাক হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায়, শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “‘মহাবীর কর্ণ ও পিতামহ ভীপ্মের বাণের তীব্রতাকে শীরনুমানজী এতদিন নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছিলেন যে কারণে এই রথ অক্ষত ছিল। এঁদের বাণের এত জোর ছিল যে রথ একশো হাত পেছনে চলে যেতো কিল্তু শীহনুমানজীর কারণে তা হয়নি।”

(8) কলি যুগে : যেখানে প্রভু শ্রীরামের কথা হবে, তাঁর স্মরণ-মনন-ভজনকীর্তন হবে সেখানেই শ্রীহনুমানজী অবশ্যই উপস্থিত হবেন।

যত্র তত্র রঘুনাথকীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তবাঞ্জলিম্।
বাষ্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মরুতিং নমত রাক্ষসাস্তকম্।। (ब्ररनूমৎ-ग्णবन)

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাথের (নাম, রূপ, গুণ, লীলা আদি) কীর্তন করা হয়, সেই সেই জায়গায় করজোড়ে নতমস্তক হয়ে, অশ্রুপূর্ণ নয়নে যিনি সদা উপস্থিত থাকেন সেই রাক্সববংশের অস্তকারী পবননন্দনের উদ্লেশ্যে সকলেই প্রণাম নিবেদেন করুন।

শ্রীহনুমানজী বায়ুপুত্র হওয়ায় তিনি সর্বব্যাপী। পধ্চভূতের মধ্যে আর যারা আছেন যথা ভূমি, সমুদ্র (জল), আকাশ এবং অগ্নি এঁদের একটা সীমা আছে যার মধ্যে এঁদের থাকতে হয়, কিন্তু বায়ুর কোনো সীমা নেই। তাই তার গতি অবাধ এবং প্রচণ্ড বেগশালী। তাই শ্রীহনুমানজী স্বতন্ট ও সীমাহীন। তাঁর উপস্থিতি তাই যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায়, যে কোনো রূপে হতে পারে।

সবটাই তাঁর ইচ্ছাধীন। গোস্বামীজীকে তিনি প্রথম দর্শন দেন এক অতিবৃদ্ধ হিসাবে, দ্বিতীয় পাতুব ভীমকে তিনি দর্শন দেন এক পিঙ্গল চেহারার বৃদ্ধ বানর হিসাবে। অনেক ভগবৎদর্শী শ্রীহনুমানজীর পাবন সান্নিধ্য উপল্ধি করেছেন শীরারের লীলাকথায় বা ভজনে আবিষ্ট অবস্থায়। এই লেখকের একবার সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো।

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

Devotees often meditate on the meaning and significance of the Hanuman Chalisa with Meaning.

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তन কে কাজ সকল তুম সাজা।

সারানুবাদঃ তপস্বী শ্রীরাম হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আপনি ঢাঁর সব কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন করেছেন।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈটি এক বিশেষ অর্থ বহন করছে :
‘সব পর’ এর সাংস্কৃতিক অর্থ হল (১) সবচেয়ে উত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ ; (২) আরেকটু গভীরে এর অর্থ হলো সমস্ত ব্যক্তি, বস্তু বা বিচারের ঊর্দ্ধে। প্রশ্ন হলো, শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের সমস্ত গুরুতর কাজ যা সবসময় সঙ্কটপূর্ণ ও আপাত অসম্ভব তা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সর্বদইই সম্পন্ন করেছেন, তাহলে ‘তপস্বী রাজা’ এই রূপটি এক্ষেত্রে প্রভু শ্রীরামের ক্ষেত্রে কেন্ন ব্যবহার করলেন ?

আর একটা প্রশ্ন আমাদের মনে জাগা থুব স্বাভাবিক তা হলো অনস্ত গুণের আধার, জ্ঞানী, বলবান, পরাক্রমী ও যশস্বী শ্রীহনুমানজী স্বতন্ত্র দেবতা হিসাবে পূজিত হওয়ার পূর্ণরূপে সক্ষম হওয়া সত্ত্তে, সর্বদা প্রভু শ্রীরামের চরণে সর্মি্পিত ছিলেন কেন ?

এর উত্তর খুঁজলেই আমরা এই চৌপাঈ-এর অস্তর্নিহিত অর্থ বা ব্যাখ্যা বুঝতে পারবো। শ্রীহনুমানজী, প্রভু শ্রীরামের প্রথম দর্শনের পর থেকেই তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। প্রভু শ্রীরামের বিশেষ কিছু গুণ তাঁকে প্রথনে তাঁর দিকে আকর্ষিত করে এবং পরে তাঁকে সদা ভাববিভোর করে রাখে, যেমন :

(এক) প্রভু শ্রীরামের নম্রতা- রাজপুত্র হরয়ও নিযাদরাজ গুহক, নাবিক কেবট, পথের মধ্যে সাক্ষাৎ হওয়া গ্রামবাসীগণ, সমস্ত বানর ও ঋক্ষদের সঙ্গে তাঁর প্রেমময় ব্যবহার শ্রীহনুমানজীর হৃদয় ছুঁয়ে যেতো। (প্রভু শ্রীরাম লঙ্কাজয়ের পর অযোধ্যা ফেরার পথে মিত্র গুহক, নাবিক কেবট সহ সমস্ত গ্র/মবাসীগণের সঙ্গে দেখা করে যান।)

(দুই) প্রভু শ্রীরামের সরলতা- একদিকে তাঁর অপার করুণা যেমন দেখা যেত দেবী অহন্যা, শবরীর মতো ভক্তদের ক্ষেত্রে, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রে রাক্ষসদের নিধনের সময় তাঁর চেহারা ছিল দেখার মতো। শ্রীহনুমানজী তাঁর এই সরলতা দেখেশনে ভাববিভোর হয়ে যেতেন।

কিল্তু ঢাঁর যে গুণে এীহুমানজ্জী অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং ঢাঁকে প্রভুর কাজ সম্পন্ন করার সবসময় প্রেরণা দিত তাহল তাঁর (প্রভু ঐীরাढর) মানসিক ও বাচিক কষ্ট স্বীকার, তাকেই বলে ‘তপ্’। কেবল রাজা অথবা কেবল তপস্বী হওয়া কঠিন নয়, কিস্তু একাধারে রাজা এবং তপস্বী হওয়া এবং এই দুইয়ের কর্তব্যকে. সঠিকভাবে পালন করে ‘তপস্বী রাজা’ হওয়া অত্যস্ত বঠিন কাজ। ধর্মের সংরক্ষণ, সামাজিক তথা আধ্যাগ্মিক মূল্যবোধের পরাকাষ্ঠা দেখানো এবং ভবিষ্যাতের রাজা ও প্রজার জন্য এক উচ্চ আদর্শ স্থাপন ছিল প্রভু শীরীামের মূলমন্ত্র।

চৌদ্দ বছর বনবাস যা কিনা একটু চেষ্টা করলে বা চাইলেই বন্ধ করা যেতো, তা তিনি করেননি। চৌদ্দ বছর বনবাসের সময়ও সমস্ত সুযোগ সুবিধা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকার করে তপসস্বীর মতো দিন কাটিয়েছেন। প্রভু শ্রীরাম জনকন্নি্দিনীর পবিত্রতার সন্বন্ধে নিঃসনেদেহে হওয়া সত্ত্বেও প্রজাদের ভাবনার মূল্য দিতে, তাঁকে ত্যাগ করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বাকি জীবন তাঁর বিয়োগে দুঃখে কটিয়েছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে। প্রভুর এইসব গুণ, বিশেষতঃ তাঁর তপস্বী বেশে কাটানো বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জ শ্রীহনুমানজীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে এবং প্রভুর কঠিন কাজগুলি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সম্পল্ন করেছেন।

শ্রীহনুমানজীকে জড়িয়ে সাধু-সন্তদের রক্ষার অনেক কাহিনী আছে। সন্ত কবীরের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করবো। আমরা জানি যে কবীরের পর্ণকুটির বেনারসে অবস্থিত ছিল। তাঁর খ্যাতি তখন মধ্যগগনে। তিনি কাশীর বিখ্যাত রামাইয়া সম্পূূদায়ের গুরুর কাছে নাম দীক্ষা পেয়েছেন এবং তাও অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে।

কবীরের স্বভাব ছিল প্রত্যেক সন্ধ্যায় ভজন-কীর্তন করার এবং তা গড়িয়ে রাত্রি হয়ে যেতো তাঁর ভজনের অন্য সঙ্গীরা চলে গেলেও তিনি একাই উচ্তস্বরে নাম-গান করতেন। তাঁর পর্ণকুটিরের পাশেই ছিল এক বেশ্যা নর্তকীর বাড়ি। রাত্রি বাড়ার সাথে সাথে সেই নর্তকীর নাচ গানে মাদকতা আনার দরকার হতো তার খদ্দেরদের খুশির জন্য। সন্ত কবীরের উচ্চস্বরে ভজন তার সেই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াত। একদিন সেই নর্তকী তার মোহগ্রস্ত গ্রাহককে

বিরক্ত হয়ে বলল, “কবীরের কীর্ডন আমার মাদকতা সৃষ্টির চেষ্টাতে বাধার কারণ হচ্ছে।” এই শনে সেই মদ্যপ যুবক গ্রাহক নর্তকীকে খুশি করার জন্য বাইরে বেরিয়ে কবীরের পর্ণকুটিরে আগুন ধরিয়ে দিল। কবীর তাঁর বাড়িতে আগুন দেখে স্বগতোক্তি করে বললেন, “এটা কি রকম হলো? ভক্তের কুটীয়ায় আগুন ? ঠিক আছে, যেমন প্রভুর ইচ্ছা।” এরকম ভেবে তিনি তাঁর কুটীয়া ছেড়ে সামনের এক টৌমাথায় এক গাছের তলায় গিয়ে বসে আবার কীর্তন শুরু করলেন।

শ্রীহনুমানজীর কীর্তন অত্যন্ত প্রিয়। তিনি ভজনে কোনো বিঘু একদম পছন্দ করেন না। পবনপুত্র বাতাসের দিশাই বদলে দিলেন। মুহুর্তে সেই আগুন কবীরের কুটীয়া ছেড়ে নর্তকীর বাড়িকে গ্রাস করলো। কবীরের কুটীয়ার অনেকটাই বাঁচলো কিস্ত নর্তকীর বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। নর্তকী ঘাবড়ে গিয়ে দৌড়ে কবীরকে জিজ্ঞেস করলো, “কবীর! এটা কি হলো?

আমার বাড়িতে কি করে আগুন লাগলো?” কবীর বললেন, “এ তো মনে হচ্ছে দুই প্রেমিকের লড়াই। এর মধ্যে আমি কি করতে পারি ?” কিছুক্ষণের কথা কাটাকাটির পর নর্তকী রেগে গিয়ে বললো, “তোমার প্রেমিক প্রেমের কি বোবে ?” কবীর শধু হেলে বললেন, “তুমি আমার সাথে কীর্তনে লেগে যাও। দেখবে আমার প্রেমিক তোমারও প্রেমিক হয়ে গেছে।”

Hanuman Chalisa Chaupai 26 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 26 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Meaning serves as a reminder of the boundless love between Lord Hanuman and Lord Rama.

Hanuman Chalisa Chaupai 26 Meaning in Bengali

সঙ্কট তেঁ হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ।

সারানুবাদ : মন, কর্ম এবং মুখে এই তিনভাবে যে শ্রীহনুমানজীর নাম কীর্তন, স্মরণ ও ধ্যান করবে, তিনি তাকে সঙ্কট থেকে মুক্ত করবেন।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজী তাঁর স্মরণকারীকে অবশ্যই সঙ্কট থেকে উদ্ধার করেন, এর সাক্ষী সারা ভারতবর্ষ জুড়ে অসংখ্য আছে। গোস্বামীজী এখানে অঞ্জনানন্দনের কৃপাপ্রার্থীর জন্য আবার শর্ত রেখেছেন। বলেছেন, তাঁর কৃপা পেতে গেলে ডাঁর নাম কীর্তন, তাঁর লীলা ধ্যান ও স্মরণের মধ্যে থাকতে হবে। কলিযুপে চঞ্চল মনে এ সব কি সম্ভব? এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাঁর কৃপা শর্তসাপেক্ষ কেন ? একটা কथ ঠিক, সাধ্য সবসময় সাধনাসাপেক্ষ, তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। এই ব্যতিক্রম একমাত্র এই কলিযুগেই সম্ভব।

এই যুগে জপ, তপ, তিতিক্ষনর চেয়ে ‘নামাশ্রয়’ অনেক কার্যকর। নাম ও নামীর অভিন্নতার কারণে ও যুগের প্রভাবে শ্রীহনুমানজীর নাম নিয়মিত কীর্তন (যথা হনুমান চালীসা ; সঙ্কটমোচন হনুমানাষ্টক ; শ্রীহনুমৎস্তবন ; হনুমান্বাহ্ক ; ब্রীহনুমানজীর অ(টোত্তর শতনাম ইত্যাদি) অনুষ্ঠান মনকে ধীরে ধীরে শান্ত করে এবং তাঁর লীলার স্মারণ-মনন করিয়ে দেয়।

তথন প্রথমে স্বল্প সময়ের জন্য ধ্যান ও পরে সময় বাড়িয়ে ধ্যান সহজে হয়ে যায় এবং তাঁর কৃপা নেমে আসে। প্রত্যেক প্রচেষ্টাকারীকে শ্রীহনুমানজী স্বয়ং আড়াল থেকে প্রেরণা দান করেন এবং তাদের মার্গদর্শন, হিম্মত, বল ও ধধর্য তিনি যোগান। তিনি শধু সাময়িক সঙ্কট নয় বরং জনমম-জন্মান্তরের সমুদয় সঙ্কট থেকে তাদের মুক্ত করেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 25 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 25 Meaning in Bengali

Hanuman festivals feature grand recitations of the Shree Hanuman Chalisa in temples.

Hanuman Chalisa Chaupai 25 in Bengali with Meaning & Analysis

নাশৈ রোগ হরৈ সব পীরা।
জপত निরন্তর হনুমত বীরা।

সারানুবাদঃ বীর হনুমানের নাম সবসময় জপ করলে অসুখ দূর হয় এবং সমস্ত যস্ত্রণা দূর হয়।

ব্যাখ্যা : ত্রিতাপ জ্বালার আধিভৌতিক এই সব কায়িক ও মানসিক অসুখ, যন্ত্রণা, সঙ্কটময় জীবনে আমাদের সবাইকে কম-বেশি ভোগ করতে হয়। মানুমের অতীতের করা অনুশাসনইীন ও লাগামছাড়া ইক্দিয় লালসার পরিতৃপ্তির বিরামহীন জীবনযাত্রারই পরিণাম এই সব অসুখ, যন্ত্রণা যা সময় সময় অসহনীয়ও হয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদেরই করা কর্মফল ভাল বা মন্দ ভোগের জন্যই গ্রহনস্মন্রসমূহ অনুকূল বা প্রতিকূল অবস্থায় অবস্থান করে। শনিদেবের সাড়ে সাত দশা বা শনির দোষ আমাদের সবসময় ভয়যুক্ত করে।

আমরা সবাই এসবের থেকে মুক্তি চাই। আমি আগেই বলেছি যে, হনুমান চালীসার অনুষ্ঠান করলে, নিয়মিত তাঁর স্মরণ নিলে, এই সব অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা যায়। প্রথমে শ্রীগোস্বামী তুলসীদাসজীর নিজেরই উল্লেখ করা এক ঘটনা যা তাঁর নিজের জীবনে ঘটেছিল তা জানাই।

গোস্বামীজী সর্বদাই শ্রীহনুমানজীর স্মরণে থাকতেন। একবার, কোনো এক সময়ে গোস্বামীজী বায়ুরোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর দুই হাতেই অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। অনেক বৈদ্য ও ডাক্তারের সাহায্য নিলেও সেই যন্ত্রণা কমার বদলে আরও বাড়তে থাকে। ব্যথা অসহ্য হওয়ায় গোস্বামীজী অত্যন্ত আর্তির সাথে শ্রীহনুমানজীর স্তুতি ‘হনুমান বাহুক’ পাঠ করেন যা তাঁরই রচিত এবং তাঁর কাছে এই যন্ত্রণা উপশমের জন্য কাতর প্রার্থনা করেন। বায়ুপুত্র শ্রীহনুমানজীর কৃপায় তাঁর সেই যন্ত্রণা ধীরে ধীরে কনে যায় এবং তিনি সম্পূর্ণরূপে বেদনা মুক্ত रन।

মরের আর্তি বিনতি সহকারে জানিয়ে শ্রীহনুমানজীর প্রিয় লাড্ডু নিবেদন করে এর পাঠ করতে হবব ঘি-যুক্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে। এই লেখকের জীবনে ঘটা একটি ঘটনা ছোট করে উল্লেখ না করে পারছি না। ঘটনার সময় ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি। ১৯৯৫ সালে করুর কাছে

দীম্নার পর তাঁরই আদেশ মতো জপ, ধ্যান ইত্যাদি চলছিল। ঐীমহাবীরের নামও निয়শিত নেওয়া হত। যাই হোক, হঠাৎ করে মাফে মধেযেই জ্রর হওয়া শুরু হলো এবং তা চলেও যেতো। একদিন হ্রচঙ জ্বর ৫ যন্ত্রণা অসश्य হয়ে ওঠায় শ্রীমহাবীরের নাম সারারাত ধরে নিয়েছিলাম এবং তাও বিছানায় শুয়ে শয়ে। পরদিন সেই ক্রনিক জ্রর সারলো, তারপর বহুদিন কোলো জূর হয়নি। আগেই বলেছি যে, বায়ুপুত্র হবার কারণে ঢাঁর তিন লোকে অবাষ গতি এবং তাঁর স্মরণকারীর কাছে তিনি মুহৃর্তেই পোঁছে যেতে পারেন।

শ্রীহনুমান চালীসার পাঠ ও শ্রীহনুমানজীর স্মরণ যে মানুভের সঙ্কট তাৎক্ষণিকভাবে কাটিয়ে দেয় তার চাক্ষুষ প্রমাণ অনেক আছে। শুধু তাই নয়, ঢাঁর প্রতি অবিশ্বাস নিয়েও সঙ্কটের গভীরতার কথা মাথায় রেখে তাঁর স্মরণ সাক্ষ্ণৎ মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে, সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমার পরিবারের মধ্যেই আছেন। শ্রীহনুমানজীর পূজার বিশেষ মাহাত্য আছে মঙ্গলবার ও শনিবার। মঙ্গলবার তাঁর জন্মদিন এবং শনিবার তাঁর বিজয়দিন। শনিবার শ্রীহনুমানজী শনিদেবের উপর জয় প্রাপু হয়েছিলেন।

শ্রীহনুমানজীর শনিদেবের উপর প্রভাবের কাহিনী আমরা বিভিন্ন গ্রন্থসাহিত্যে পেয়ে থাকি। এইরকম দুটি প্রসঙ্গ এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। (এক) লঙ্কেশ রাবণ তাঁর অমিত বিক্রম ও প্রভারে ত্রিভুবন জয় করেছিলেন। সব দেবতাদের তিনি আটক করে তাঁদের নানাভাবে অপদস্থ করতেন।

তিনি শনিদেবকে ঢাঁর নিজের বাসভবনের এক স্তুস্তের নিচে আটকে রেখেখিছেলেন। শ্রীহনুমানজী एর লঙ্কা দহন কালে যখন সমস্ত লঙ্কাপুরী তোলপাড় করছিলেন, তখন হঠাৎ এক জায়গায় তিনি স্তু্ভের ভিতর থেকে আওয়াজ শুনতে পান। এক অদ্ভুত বেদনা ও আর্তিভরা আওয়াজ ডাঁকে স্তন্তের বিনাশে বাধ্য করে এবং তখনই ঢাঁর শনিদেবের সঙ্গে দেখা হয়। শনিদেব ख্রীহনুমানজীকে ঢাঁকে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন এবং শনিদেবকে তিনি স্তের নিচের থেকে উদ্ধার করেন।

শনিদেব কৃত্ভতা জানানো তো দূরের কথা, বরং শীরীহনুমানজীকে বললেন, “এবার আমি আপনার মাথার উপর বসবো।” এ্রীহনুমানজী অবাক হয়ে জিজ্ভস করলেন, “এটা কৃতজ্ঞতা জানানোর কোন পদ্ধতি ?” শনিদেব তাঁর কथায় অনড় হলে শীহনুমানজী ঢাঁর কাছে জানতে চান যে তিনি কতদিন তাঁর মাথার উপর বসরেন। শনিদেব উত্তরে বলরেন, “দিন নয়, আমি সাড়ে

সাত বছর পর্যন্ত থাকবো।” শ্রীহনুমানজী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ মুচকি হাসিতে উত্তর দিয়ে বললেন, “ঠিক আছে।” বল ও বুদ্ধির নিধান শ্রীহনুমান কিছু দূর গিয়ে এক মস্ত বড় পাহাড় (বিশাল পাথরের চাঁও হতে পারে) নিজের মাথার উপর রাখলেন এবং আবার চলতে লাগলেন।

আবার কিছুদূর গিয়ে ফের একটা পাহাড় তাঁর মাথায় নিলেন। শনিদেবের উপর এই বিশাল চাপ তাঁকে কাতর করে তুলল এবং শনিদেব জানতে চাইলেন, “এটা কি হল ?” শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত বিনীতভাবে বললেন, “আমার মাথা, আমি যা খুশি রাখতে পারি।” শনিদেব বললেন, “তা ঠিক, কিন্তু রাখার আগে আমার কথাটা কি একবার ভাবার দরকার ছিল না?” শীরুনুমানজী চলতে চলতে বললেন, “আপনি কি আমার কথা ভেবেছিলেন ?” যন্ত্রণা ক্রমশ অসহ্য ২ওয়ায় শনিদেব বলরেন, “মহারাজ! দয়া করে আমায় ছেড়ে দিন।”

রীহনুমানজী বললেন, “‘মি এক শর্তে আপনাকে ছাড়তে পারি। কথা দিন শনিবার দিন যে আমার দর্শন করবে আপনি তাকে একদম যন্ত্রণা দেবেন না বা বিপদে ফেলবেন না।” শনিদেব বললেন, “আমি কথা দিচ্ছি এরকমই হবে।”

এরকম মান্যতা আছে যে, শনিবার দিন শ্রীহনুমানজীর কেবল মাত্র দর্শন মানুষকে শনিদেবের প্রকোপ থেকে বাঁচিয়ে দেয়। তার উপর তাঁর অর্চন, বন্দন ও চালীসা পাঠ করলে ঢো কথাই নেই। (দুই) শ্রীহনুমানজী প্রায়ই ঢাঁর প্রিয় রামসেতু দর্শন ও পরিক্রমা করতেন এবং সমুদ্রের তটে প্রভু শ্রীরামের ধ্যানে মগ্ন হয়ে বসে থাকতেন। এই ঘটনা প্রভু শ্রীরাম ও ঢাঁর পরিকরদের অপ্রকট হওয়ার অনেক পরের ঘটনা।

এইরকমই একদিন সমুদ্রতটে বিকেলবেলায় শ্রীহনুমানজী ধ্যানমগ্ন অবস্থায় যখন অবস্থান করছেন, ঠিক তখনই শনিদেব ঘুরতে ঘুরতে সেই সমুদ্রতটে উপস্থিত হয়েছেন। নিজ্রের শক্তি ও পরাক্রন তাঁকে সবসময় শক্তি দেখানোর জন্য প্ররোচনা দিত।

শনিদেবের দৃষ্টি হঠাৎ শ্রীহনুমানজীর উপর পড়লে শনিদেব তাঁকে বললেন, “‘হে বানর, আমি তোমার সঙ্গে লড়তে চাই। তৈরি হয়ে যাও…” শ্রীহনুমানজী তাকিয়ে দেখেন অত্যন্ত কালো, কদর্য চেহারার এক পুরুষ। এীইনুমানজ্যী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাকে বললেন, “আপনি কে? এখানে কি কারণে আসা হলো?” শনিদেব বললেন, “আমি পরম তেজ্তস্বী সূর্যদেবের মহাপরাক্রমী পুত্র শনি। আমার নাম শুনলেই লোকে ভয়ে

থর থর করে কাঁপতে থাকে। তোমার বল আর পৌরুষের কথা আমি অনেক শনেছি এবং তই তোমার পরীক্ষা নিতে চাই। সাবধান হয়ে যাও, আমি তোমার রাশিতে প্রবেশ, করতে যাচ্ছি।” এীহনুমানজী আবারও অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন, “হে শনিদেব, আমার বয়স হয়ে গিয়েছে আর তাছাড়া আমি এখানে আমার পরম আরাধ্য ইষ্টদেব প্রভু শ্রীরামের ধ্যান করতে বসেছি।

আপনি বরং অন্য কোথাও চলে যান এবং আমার এই ধ্যানে বিঘু ঘটাবেন না।” একথা শুনে শনিদেব অত্যন্ত অহংকারের সঙ্গে বললেন, “আমি একবার কারোর সঙ্গে যুদ্ধ করার সঙ্কল্প করলে, তাকে পরাজিত না করে সেখান থেকে সরে যাই না।”

শ্রীহনুমানজী তাঁকে আবার অনুরোধ করলেন এই যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার জন্য, কিস্তু শনিদেব তাঁর কথায় কোলো উত্তরই দিলেন না। তখন শ্রীইনুমানজী বললেন, “ঠিক আছে, আপনার যখন এই রকম ইচ্ছা তখন তাইই হোক।” এই বলে শ্রীহনুমানজী প্রভুকে স্মরণ করে মুহূর্তের মধ্যে তাঁর লেজ দিয়ে শনিদেব কিছু বোঝার আগেই তাঁকে আধ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেললেন।

শুধু মাথা এবং শরীরের উপরের কিছু অংশ বাদ দিয়ে। শনিদেব অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে মুক্ত করতে পারলেন না। শীহনুমানজী এবার শনিদেবকে বললেন, “চলুন শনিদেব, এবার রামসেতুর পরিক্রমা করা যাক আর অপার আনন্দ আপনিও উপভোগ করুন।” এই কथ বলে শ্রীহনুমানজী সেই রামসেতুর এক প্রাস্ত থেকে আর এক প্রান্ত কখনও লাফিয়ে, কখনও দৌড়ে আবার কখনও লাফিয়ে অনেক উচু থেকে নিচে নামলেন এবং প্রতিবারই তাঁর লেজ সেতুর কঠিন শিলায় আছাড় খেতে লাগলো।

লেজের মধ্যে বাঁধা পড়া শনিদেবের অবস্থা তখন দেখার মতো। দেহের হাড়গোড় প্রায় ভাঙ্গার অবস্থায় এবং দেহের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে। যন্ত্রণায় শনিদেব এত কাতর হয়ে পড়লেন যে, তিনি অত্যন্ত করুণ স্বরে শ্রীহনুমানজীকে বললেন, “হে করুণাময় ভক্তরাজ! কৃপা করুন। আপনার শক্তির সঠিক আক্দাজ আমার ছিল না। এবার আমায় মুক্ত করুন।”

করুণামূর্তি শ্রীহনুমনজী দাঁড়িয়ে পড়লেন। রক্তাক্ত শনিদেবের অবস্থা ঁাঁক বিচলিত করলো। শ্রীহনুমানজী শনিদেবকে বললেন, “‘পনাকে আমি মুক্ত করতে পারি, কিন্তু আমার এক শর্ত আছে।” শনিদেব কাতরস্বরে বললেন যে, তিনি সব শর্ত মানতে রাজী আছেল। তখন

সাত বছর তুমি আমার ভভ্দের কোলো রকম যন্ত্রণা বা কষ্ট দেবে না।” শনিদেব কথা দিলেন, “হে ভগবন!! আমি আপনার ভঙ্দের কখনও কোনো কষ্ট দেব না।” এই ঘটনার পর শনিদেব আর কখনও শ্রীহনুমানজীর মুতোমুখি रननि।

Hanuman Chalisa Chaupai 24 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 24 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa Lyrics in English is a symbol of devotion and faith in Lord Hanuman’s grace.

Hanuman Chalisa Chaupai 24 in Bengali with Meaning & Analysis

ভূত পিশাচ নিকট নহিঁ আবৈ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥

সারানুবাদ : শ্রীহনুমানজীর নাম উচ্চারণ করলে, ভূত, পিশাচ ইত্যাদি সামনে আসতে পারে না।

ব্যাখ্যা : আমরা জানি যে, এই মর্ত্যলোকে ত্রিতাপ জ্বালায় আমরা সবাই কম-বেশি ভুগছি। এই ত্রিতাপ অর্থাৎ আধিদৈবিক, আধিভৌতিক এবং আধ্যাছ্মিক বিষয়ক্তলি থেকে নিরস্তর বাধা-বিপত্তির আমরা সর্বদাই মুখোমুখি হচ্ছি। এই চৌপাঈ ও পরের দুটি চৌপাঈ (অর্থাৎ ২৫ ও ২৬) আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কিভাবে আমরা এই বিপত্তিগুলি থেকে সহজে নিস্তার পেতে পারি।

প্রথমে দেখা যাক এই ভূত, পিশাচ আদি নামক বস্তুগুলি কি। এরা বস্তুতঃ বায়ুমণ্ডলে দিশাহীন বিচরণকারী কিছু দেহরহিত (সূক্ষ্মদেহ) চেতনা যারা নিজেদের প্রবল কামনা বাসনার তাড়নায় তাড়িত হয়ে তা পূর্তির উদ্দেশে অন্য স্থূলদেহের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। এদের লক্ষ্য থাকে দুর্বল, অশুচি ও তামসিক বৃত্তির আধিক্য সম্বলিত মনুষ্য দেহ। দেহ রহিত এই চেতনার মনুষ্য দেহে উপস্থিতি, সেই ব্যক্তির রাজসিক বৃত্তিকে সহজেই তমোভাবাপন্ন করে দেয় এবং যতটুকু সাত্ত্বিকভাব আছে, তাকেও ক্রমে তামসিক করে দেয়।

শক্তি অতিদ্রুত দেহ ছেড়ে পালাতে চায়। এর মুখ্য কারণ দুটি :-

  • শ্রীহনুমানজী নিজে বায়ুপুত্র হবার ফলে বায়ুমণ্ডলে বিচরণকারী এই তামসিক শক্তির উপর সহজেই লাগাম লাগাতে পারেন কেন না এই শক্তির চরিত্র ও তার মুক্তির উপায় তাঁর সহজেই জানা হয়ে যায়।
  • মনোবিজ্ঞনীীদের এই মত যে, শ্রীহনুমানজীর উপাসকদের মধ্যে ক্রমে ক্রনে শ্রীহনুমানজীর কিছু কিছু গুণের প্রভাব দেখা যায় যা তাদের শারীরিক,

মানসিক, বোদ্ধিক এবং আধ্যাদ্মিক ভাবকে দৃঢ় করে। ফলে ভূত, পিশাচ ইত্যাদি যারা তামসিক ভাবের হয়, তারা উপাসকের কাছে ঘেঁষতে পারে না। এছাড়াও ঢাঁর উপাসকরা ঢাঁর উপাসনার কারণে সাত্তৃকতার পথে চলতে থাকে। ফলে তামসিক বৃত্তির অধিকারী ভূত, পিশাচ ইত্যাদি তার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। যদি কারোর অজান্তে শ্রীহনুমানজীর নাম করার আগে ঢুকেও থাকে, তাহলে ঢাঁর নাম-জপ অস্তঃকরণে করতে থাকলে তা শীঘ্রই দেহ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

আমার নিজের দেখা বেশ কয়েকটি ঘটনা এই সাক্ষ্য দেয় যে, অজান্তে ঢুকে যাওয়া এই তামসিক সূক্ম্মদেহ (যাকে ভূত, পিশাচ ইত্যাদি অনেক নামে ডাকা হয়) শ্রীহনুমানজীর নাম নিরন্তর জপ করায় দ্রুত ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং সেই সব ব্যক্তিরা সবইই এখন স্বাভাবিক সুস্থ ও সাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ।

আমরা যদি এই চৌপাঈয়ের আধ্যাগ্মিক দিক দিয়ে বিচার করি তবে দেখা যাবে যে, মানুষের ‘অহংকারে’র চেয়ে ভয়ংকর কোনো ভূত এবং ‘ক্রোধে’র চেয়ে বিনাশকারী কোনো পিশাচ হতে পারে না। শ্রীহনুমানজী স্বয়ং বল-বুদ্ধি-বিক্রমের নিধান হওয়া সত্ত্তেও অত্যন্ত বিনম্র, তাই তাঁর নাম ওুনলে কোন অতিবড় অহংকারী ও ক্রোধিত ব্যক্তি তাদের নিজেদের আচরণের জন্য লজ্জিত বোধ না করবেন ?

লঙ্কাপতি রাবণের সভায় শ্রীহনুমানজীকে ঘোর অপমান করা হলেও এবং তাঁর ক্রোধ উৎপাদনের সব রকমের চেষ্টা করা সত্ত্রেও তিনি ছিলেন শান্ত এবং তাঁর অবিচলিত নিঃশঙ্ক রূপ দেখে সমস্ত সভা হতচচকিত হয়ে গিয়েছিল। আর তাই ছোট ছোট বিপরীত পরিস্থিতিতে নিজেদের ক্রেনধী ও অহংকারী হতে দেখলে আমাদের কার না লজ্জা লাগবে ?

এই চোপাঈ-এর আর একটি দৃষ্টিভঙ্গির দিকেও আমরা নজর দিতে পারি। यদি ভূত বলতে আমরা অতীত বুঝি এবং পিশাচ বলতে অতীতের করা তামসিক ও নিন্দনীয় কাজ বুঝি, তাহলে একথাও সত্য যে, সেই সমস্ত নিন্দনীয় অতীত কর্ম আমাদের সবসময় আধ্যাছিক পথে মনঃসংযোগ ঘটানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু শ্রীহনুমানজীর নাম জপ সেই দুর্বলতাকে সাধনার পথে কাছে আসতে দেয় না এবং তাকে বিচলিত করে না।

Hanuman Chalisa Chaupai 23 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 23 Meaning in Bengali

Devotees believe that the Shri Hanuman Chalisa has the power to fulfill sincere prayers.

Hanuman Chalisa Chaupai 23 in Bengali with Meaning & Analysis

আপন তেজ সম্হারো আপে।
তীনোঁ লোক হাঁক তেঁ কাঁটৈ।

সারানুবাদঃ আপনার তেজ একমাত্র আপনিই সম্বরণ করতে পারেন। আপনার হুক্কারে ত্রিভুবন কম্পিত হয়।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজীর অমিত তেজ তাঁর সর্বকণেণের সঙ্গী। তাঁর এই তেজ কেবলমাত্র ঢাঁর শারীরিক শক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর এই তেজের মূল কারণ নিহিত আছে তাঁর অখণ ব্রদ্মাচ্য ও অনन ভক্তির মধ্যে। ঢাঁর এই তেজকে এক তিনিই সামলাতে পারেন। অন্য কেউ একে সীমিত করতে পারে না। তাঁর এই তেজ, পরাক্রম ও হঙ্কারের বর্ণনা সম্পূর্ণ রামায়ণের বিভিন্ন জায়গায় পাই, বিশেষত সুন্দর কণ্ডে। আর তাইতো গোস্বামীজী এই কাণ্ডকে সুন্দর বলে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর এই তেজঃপূর্ণ চেহারার সাক্ষী অনেকেই। লঙ্কা দহনের সময় তিনি এক বিশাল, করাল ভ ভয়ঙ্কর মূর্তি ধারণ করেন। তাঁর বলদীপু অট্টহাস্য লঙ্কা দহনের সময় সমস্ত লঙ্কাবাসীকে অসহায় ও অনাথ করে দিয়েছিল। তাঁর বিশাল চেহারা যেন আকাশকে ছুঁর়েছিল। সমুদয় লঙ্কাবাসী চীৎকার করে ঘোষণা করেছিল যে, এ কোনো সাধারণ বানর নয় বরং এ নিশ্চয় বানরের রূপে কোনো দেবতা।

বস্তুতঃ ঢাঁর এই স্বরূপ আমরা প্রথম দেখতে পাই কিষ্কিন্ধাকাতের শেষে যখন প্রভু শ্রীরামের কাজের জন্য ঋক্ষরাজ জাম্ববান শ্রীহনুমানজীকে প্রেরণা দেন সমুদ্রের এই পারে। সেই সময় শ্রীহনুমানজীর তেজঃপূর্ণ স্বরূপ মেরু পর্বতের মতো বিশাল হয়েছিল। পরে অশোকবনে মাতা সীতার সংশয় দূর করার জন্য ঢাঁর এক বিশাল পর্বতপ্রমাণ তেজঃপূর্ণ দেহ মাতাকে দেখান। (অতি বলশালী রাক্ষসদের শৌর্য ও দক্ষতা মাতা সীতার মনে এই সন্দেহ জাগিয়েছিল যে, প্রভু শ্রীরাম এই ক্ষুদ্র বানরদের নিয়ে কি করে যুদ্ধে জয়লাভ করবেন ?)

তাঁর বিশাল ও তেজঃপূর্ণ রুদ্রমূর্তি এবং সাথে অমিত পরাক্রম ও শৌর্য রাক্ষসরা প্রত্যক্ষ করেছিল রাম-রাবণের যুদ্ধক্ষেত্রে লঙ্কার রণভূমিতে। বিরাট এবং তেজস্বী সূর্যকে যে খাবারের ফল ভাবতে পারে এবং তাকে গ্রাস করার ক্ষমতা রাখে, তার তেজ যে কতটা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

অখণ্ড ব্রহ্মচচর্যের আনন্দ অনুভূতি মন, ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির অতীত। এর তুলনা কোনো বিষয়সুখের সঙ্গে করা সস্তব নয়। এই শাশ্বত সুখ এতই স্বতঃস্ফৃর্ত যে এর সন্ধান কোনো বাইরের ব্যক্তি বা মাধ্যম দিতে ব্যর্থ। তীনোঁ লোক হাঁক ঢেঁ কাঁপৈ গোস্বামীজী মানবসমাজকে শ্রীহনুমানজীর তেজঃপূর্ণ স্বরূপের পরিচয় দিয়ে এই কথা বোঝাতে চেয়েছেন যে, যে তিন তত্ত্ব আমাদের ভিতর সবসময় উপস্থিত থাকে যথা সৎকর্ম করার ইচ্ছা, শরণাগতি ও বিষয়াসক্ত দুষ্টমন।

শ্রীহনুমানজীর হুস্কার সেই দুষ্টমনের জন্য ভয়ানক, সৎকর্ম করার ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য প্রেরণা এবং শরণাগতের জন্য অভয়প্রদের কাজ করে। তিন লোকেই ব্যপু শ্রীহনুমানজীর শরণাগতরা কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি আসুরিকভাব থেকে মুক্ত থাকে। কারণ তাঁর তেজঃদীপু উপস্থিতি ও হঙ্কার এইসব বিকারকে ভয়ে কাঁপিয়ে দেয়। তিনি সাধকের অপরাধরোধ, ইীনভাবনা ইত্যাদির মূলেও কুঠারাঘাত করেন তাঁর বিশুদ্ধ প্রেম ও সাত্ত্বিক শক্তির দ্বারা।|

Hanuman Chalisa Chaupai 22 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 22 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa in English is a cherished part of Hindu religious literature.

Hanuman Chalisa Chaupai 22 in Bengali with Meaning & Analysis

সব সুখ লহৈ তুমহারী সরনা।
তুম রচ্ছক কাহ কো ডর না।

সারানুবাদ : আপনার শরণ সমস্ত রকমের সুখ দেয়। আপনি যেখানে রক্ষক, সেখানে কার ভয় পাবো ?

ব্যাখ্যা : আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, শ্রীহনুমানজীর শরণ নেওয়ায় বানররাজ সুগ্রীবের সঙ্গে প্রভু শ্রীরামের বক্ধুত্ত হয় এবং পরে তিনি কিষ্কিক্ধার রাজাও হন। তেমনি রাবণের ভাই বিভীযণও শ্রীহনুমানজীর শরণ নেওয়ায় প্রভু শ্রীরামের শধু পরম মিত্রই হননি, উপরব্তু রাবণের মৃত্যুর পর লঙ্কার मिशহাসলেও বসেন।বস্তুত বিভিন্ন রামায়ণে এ রকম আরও অনেক ঘটনার উম্লেখ আছে যেখানে শ্রীহনুমানজীর শরণ সমস্ত রকম ভয় দূর করে সুখের প্রাপ্তি ঘটিয়েছে। তারই দু-একটি ঘটনামাত্র উল্লেখ করছি এই বইয়ের কলেবরের কথথা মাথায় রেখে।

প্রভু শ্রীরাম, অযোধ্যার সিংহাসনে আরোহণ করার কিছুদিন পরে ঋষিপ্রবর গুরু বশিষ্ঠ মুনির ইচ্ছায় অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। এই যজ্ঞের ঘোড়ার রক্ষার ভার দেওয়া হয়েছিল শ্রীহনুমানজীকে। এছাড়াও শত্রুঘ্ন, ভরতের পুত্র পুষ্কল, চতুরঙ্গী সেনা ইত্যাদিও সাথে গিয়েছিলো।

এরকমই ঘুরতে ঘুরতে সেই ঘোড়া একবার দক্ষিণের এক রাজা বীরমণির রাজ্যে প্রবেশ করে। সেই রাজার রাজ্যের নাম ছিল দেবপুর এবং রাজা ছিলেন পরম ধর্মপ্রাণ। সেই ঘোড়াকে আটক করা হলে এক ভীযণ যুদ্ধ শুরু হয়। বীর রাজার পুত্র ও রাজার সঙ্গে যুদ্ধে শত্রুঘ ও পুক্ষল পরাস্ত হন ও প্রাণ হারান।

ख্রীহনুমানজী যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন না এবং পরে এই ভয়ানক সংবাদ পান। তিনি তৎক্ষণাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছেই এই নিদারুণ দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যে সংকল্প করেন, “यদি আমি আজীবন ব্রম্মাচর্য্য ব্রত পালন করে থাকি এবং শ্রীরামের অনন্যভাবে সেবা করে থাকি, তবে শত্রঘয় ও পুক্ষল এই মুহূর্তে জীবিত হয়ে উঠুন।” শ্রীহনুমানজীর এই সংকল্পের ঘোষণা হওয়া মাত্র শত্রুয় ও পুক্ষলের দেহে প্রাণের সঞ্চার হয়।

“তুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না”-তুমি যেখানে রক্ষাকর্তা, সেখানে আবার ভয় কিসের? শ্রীরামের আরেক ঘটনায় সঙ্কটমোচন শ্রীহনুমানজী তাঁর নিজের এক গভীর সঙ্কটময় অবস্থায় তাঁর এক শরণাগতকে রক্ষা করেন। একবার কাশীনরেশ অযোধ্যায় এলে তাঁর দ্বারা এক বড় অপরাধ হয়ে যায় ঋষি বিশ্বামিত্রের উপর। ঋষি প্রভু শ্রীরামকে এই অপরাধের কথা জানালে মর্যাদা পুরুযোক্তম শ্রীরাম তিনটি তীক্ষ্ন বাণ দ্বারা কাশীনরেশকে বধের সংকল্প

নেন। তখন দেবর্ষি নারদের পরামর্শে কাশীনরেশ শ্রীহনুমানজীর মাতা অঞ্জনার শরণাপন্ন হন এবং মাতা অঞ্জনা কাশীনরেশের করুণ ক্রন্দনে বিচলিত হয়ে তাঁকে রক্ষা করার সংকল্প করেন। শ্রীহনুমানজী এসবের কিছুই জানতেন না। মা অঞ্জনা শ্রীহনুমানজীকে ডেকে পাঠিয়ে তাঁকে কাশীনরেশের মৃত্যুসঙ্কট ও নিজের দেওয়া আশ্বাস ও সংকল্পের কথা জানান। মায়ের দেওয়া সংকল্প শ্রীহনুমানজীকে এক ভীষণ সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দেয়।

একদিকে মায়ের দেওয়া সংকল্প রক্ষা এবং অন্যদিকে প্রভু শ্রীরামের সংকল্প বিফল করা। এ এক উভয় সঙ্কট। কিস্তু “তুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না”-শ্রীহনুমানজী নিজে সঙ্কটমোচলকারী হয়ে এবং স্বয়ং সঙ্কটের মধ্যে থেকেও মাকে দেওয়া আশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁর বুদ্ধি ও সেবকত্বের এক কঠিন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। শ্রীহনুমানজী কাশীনরেশকে সরয় নদীর জলে দাঁড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ এই মন্ত্র শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে উচ্চস্বরে করতে বললেন বিরামহীনভাবে

এবং নিজে সরযূ নদীর তীরে আসন করে বসে ধ্যানে লীন হলেন। কাশীনরেশ প্রাণের ভয়ে বিরামহীনভাবে নাম করে চললেন এবং দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে এলো এবং দিন শেষ হওয়ার সময় ক্রমশ এগিয়ে এলো। প্রভু শ্রীরাম সূর্যাস্তের পূর্বেই তাঁর প্রাণনাশের সঙ্কল্প করেছিলেন এবং তাই তাঁর প্রথম তীক্ষ্নবাণ নিক্ষেপ করলেন। কিন্তু সেই বাণ কিছুক্ষণ পরেই তাঁর কাছে তূণে ফিরে এল!

অন্তর্যামী প্রভু বুঝলেন যে কাশীনরেশ অবশ্যই তাঁর নাম শ্বাস-প্রশ্বাসে নিচ্ছেন। এদিকে প্রথম বাণ ফিরে যাওয়া মাত্রই শ্রীহনুমানজী কাশীনরেশকে বললেন, ‘জয় সীয়া রাম’ এই নাম আবার বিরামহীনভাবে নিতে এবং নিজে আবার প্রভুর ধ্যানে লীন হলেন। এদিকে সূর্যাস্তের সময় এগিয়ে আসছে দেখে প্রভু শ্রীরাম তাঁর দ্বিতীয় তীক্ষ্ববাণ নিক্ষেপ করলেন।

সেই বাণও কিছুক্ষণের মধ্যে প্রভুর তৃণে ফিরে এলো কাশীনরেশের ল্রুযুগলের মধ্যস্থলের একহাত দূরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। প্রভু শ্রীরাম এবার বিচলিত হয়ে পড়লেন সূর্যাস্তের আর বেশি দেরি নেই দেখে। তিনি এও বুঝলেন যে, এ সবই তাঁর পরম ভক্ত ও দাস শ্রীহনুমানজীর কাজ।

যাই হোক, প্রভু শ্রীরাম এবার সরযূ নদীর তীরে নিজে যাবেন এবং বাণ নিক্ষেপ করবেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অশ্বে আরোহণ করে তীব্র বেগে এগিয়ে চললেন। এই খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ায় দলে দলে অযোধ্যাবাসী সরযূ নদীর তীরে এসে উপস্থিত হতে লাগলেন। এদিকে গুরুদেব ঋযিপ্রবর বশিষ্ঠ খবর পেয়েই অত্যন্ত উদ্বিগ হয়ে ঋষি বিশ্বামিত্রের কাছে উপস্থিভ হয়ে তাঁকে শ্রীহনুমানজী ও প্রভু শ্রীরামের মধ্যে এই অভাবিত দ্বন্দ্বের কথা বলে ঋষিবরকে অনুরোধ করলেন এই সঙ্কট দূর করতে।

প্রভু শ্রীরামের সরযূ নদীর তীরে আসার খবর শ্রীহনুমানজী ধ্যানস্থ অবস্থায় জানতে পেরে, কাশীনরেশকে বললেন, “আপনি এবার ‘জয় সীয়ারাম হনুমৎ’ এই মন্ত্র অবিচ্ছিন্নভাবে জপ করুন আর আমি সূক্ষ্মরূপে আপনার অত্তরে প্রবেশ করে অবস্থান করবো। আপনি ভয় পাবেন না।”

যাই হোক, ঋষি বশিষ্ঠের অনুরোধে বিশ্ধামিত্র সরযূ নদীর তীরে এসে প্রভু শ্রীরামকে এই বলে নিরস্ত করলেন যে, তিনি (ঋষি বিশ্বামিত্র) ঢাঁর কথা ফিরিয়ে নিচ্ছেন। প্রভু শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীর দাস্যভক্তি ও মাতৃআজ্ঞ পালনের দৃঢ় সঙ্কল্লের জন্য খুশি হলেন এবং এইভাবে কাশীনরেশের প্রাণরঞ্ষা পেলো। তই “ তুুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না”।

ভোলেবাবার অবতার শ্রীহনুমানজী স্বভভাবতই অত্যন্ত উদার এবং করুণাবান। তাঁর শরণাগত ভক্তের সব সুখ এমনিতেই এসে যায়। শ্রীহনুমানজী ঢাঁর শরণাগত ভক্তকে ভক্তের কল্পনাতীত সুখ দান করে থাকেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 21 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 21 Meaning in Bengali

Hanuman devotees recite the Hanuman Chalisa Pdf to seek blessings for health and well-being.

Hanuman Chalisa Chaupai 21 in Bengali with Meaning & Analysis

রাম দুয়ারে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে।।

সারানুবাদ : শ্রীরামের প্রবেশ দ্বারের আপনিই রঙ্ষক। আপনার অনুমতি ছাড়া কারোর পক্ষেই প্রবেশ কবা সম্টব নয়।

ব্যাখ্যা : প্রভু শীরীম পরব্র২্ন কিন্তু নরলীলায় তিনি অযোধ্যার রাজা। তাই এক রাজার গৃহ বা রাজপ্রাসাদ যেমন সবল ও অস্ত্রধারী প্রহরী দ্বারা সর্বদা রক্ষিত হয়, তাঁর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তফাতের মধ্যে তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থীদের ছিল অবারিত দ্বার। তারা দিন বা রাতের যে কোনো সময় তাঁর সাক্ষাৎ চাইলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাদের মনস্কামনা বা প্রার্থনা স্বীকার করতেন এবং তা পূরণ করার প্রয়াস করতেন।

তাহলে ‘রাম দুয়ারে তুম রখবারে’ বলতে ঠিক কি বোঝানো হচ্ছে? আসুন, আমরা গোস্বামী তুলসীদাসজীর ‘শ্রীশ্রীরামচরিতমানস’ থেকে এর অর্থ খুঁজে দেখি। কিষ্কিষ্ধাকাত্ডের ওুরুতে আমরা দেখি যে, শ্রীহনুমানজী, শ্রীরাম ও লক্ষ্মণকে ঋষ্যমুক পর্বতের শীর্যে নিয়ে গিয়ে সুগ্রীবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে মৈত্রী স্থাপন করালেন।

ওই সময় তিনি ঢাঁর দাদা কিষ্কিন্ধানরেশ বালীর কাছে পরাজিত হয়ে ও রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে এই পর্বতের গুহায় লুকিয়েছিলেন। শ্রীহনুমানজীও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে কিষ্কিদ্ধা থেকে বেরিয়ে আসেন যদিও বালী তাঁকে সম্মান সহকারে তাঁর রাজসভায় মন্ত্রী হয়ে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন।

শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামকে সুগ্রীবের এই দুর্দশার কারণ বিস্তারিত জানালে তিনি তাকে সমস্ত রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরে অগ্নি সাক্ষী করে দুইজনের মৈত্রী স্থাপিত হয়। প্রভু শ্রীরাম সুগ্রীবকে সব অবস্থায় রস্ষা করারও কথা দেন। ভাই লক্ষ্ণনের এই অগ্নি সাক্ষী করে মিত্রতা ভাল লাগেনি, কারণ সুগ্রীবের কিছু কিছু চারিত্রিক গুণ তাঁর কাছে রাজাসুলভ মনে হয়নি এবং প্রভু শ্রীরামের মৈত্রতার পরিপন্থী বলে মনে হয়েছিল।

কিস্তু শ্রীরাম কেবল একটি কারণেই ঢাঁর ভাই লক্মৃকে মানিয়ে নিয়েছিলেন যে, শ্রীহনুমানজী যেহেতু তাঁর (সুগ্রীবের) প্রশংসা করেছেন, কাজেই তাঁকে তিনি ত্যাগ করতে পারেন না। আবার, শ্রীশ্রীরামচরিতমানস-এর আরেকটি প্রসঙ্গ যা কিন্না সুন্দরকণ্ডে আছে যেখানে আমরা দেখি যে, লঙ্কাধিপতি রাবনের ভাই বিভীষণ লঙ্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে সমুদ্রের অপর পারে প্রভু শ্রীরামের কাছে শরণাগতির আশায় পোঁছে যান। তিনি যখন তাঁর অনুগত পার্যদদের নিয়ে সমুদ্রের ওপর দিয়ে আকাশমার্গ হয়ে আসছিলেন, ত্খন সুগ্রীবসহ সমস্ত বানরকুল যোদ্ধারা

ঢাঁদের দেখে তাঁরা কোনো গুপু মতলবে আসছেন এই আশঙ্কা করে প্রভু শ্রীরামকে খবর দেন। কিস্তু প্রভু শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীর দিকে তাকালে শ্রীহনুমান ইশারায় বিভীষণকে সাদর আমন্ত্রণ জানানোর কথা বললেন এবং শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীর শুধু ইচ্ছাই পূর্ণ করলেন না পরন্ত বিভীষণকে অন্তরঙ্গ সখা করলেন। এই দুই প্রসঙ্গ থেকে এটা পরিষ্কার যে, শ্রীহনুমানজীর কৃপাপাত্র ভক্তর দোষ-গুণ প্রভু দেখেন না, শুধু তাই নয় প্রভু শ্রীরাম তৎক্ষণাৎ তাঁকে তাঁর নিজের শরণে নিয়ে নেন এবং সবরকমের অভয় প্রদান করেন।

এর আর এক অর্থ এ রকমও হতে পারে যে, প্রভু শ্রীরামের চরণে শরণাগত হবার জন্য যে ভক্ত প্রভুর দুয়ারে আসে, শ্রীহনুমানজী সেই ভক্তর সব সঙ্কট অবস্থায় তার রক্ষার দায়িত্ব স্বীকার করেন। লঙ্কাদহনের সময় সমস্ত লঙ্কাপুরী জূলে ছারখার হয়ে গেলেও, বিভীষণের ঘর কিন্তু জ্বলেনি কারণ (১) সেই ঘর ছিল শ্রীহরি মন্দির যার আঙ্গিনায় তুলসীমঞ্চ শোভা পাচ্ছিল এবং (২) সমস্ত ঘর প্রভু শ্রীরামের বিভিন্ন চিহৃ দ্বারা সুশোভিত ছিল।

একবার ভাবুন, আমরা যদি প্রভুর শরণাগত ইই এবং নিজেদের ঘরের বাইরে নেমপ্লেটে নিজেদের নাম সরিয়ে ‘রামদ্বার’ লিখি এবং দেহের আমি/আমার অহংকার ত্যাগ করতে পারি, তবে এই দুয়ারই ‘রামদ্বার’ হবে এবং স্বয়ং শ্রীহনুমানজী তা রক্ষা করবেন এই বিষয়ে কোলো সন্দেহ নেই যা তিনি বিভীষণের ক্ষেত্রে করেছিলেন।

ভারতবর্বের যত মন্দিরে প্রভু শীরীামের মূর্তি আছে, সেই মন্দিরের বাইরে অবশ্যই শ্রীহনুমানজীর মূর্তির দর্শন আপনার হবেই। কিস্তু যেখানে শ্রীহনুমানজীর মূর্তি আছে সেখানে প্রভু শ্রীরামের মূর্তি নাও থাকতে পারে।

গোস্বামী তুলসীদাসজীর বিভিন্ন লেখার মধ্যে একটা কথা আমরা বারবার পাই যে যেখানে প্রভু-প্রেনের কথা হয়, সৎসঙ্গ হয়, সাধু ও সন্তদের আগমন হয়, সেই স্থান/ভবনের রক্ষা শ্রীহনুমানজী নিজের কাঁধে নিয়ে নেন। প্রভু-পপ্রেমের, নৈঘ্ঠিক ভজনের প্রতীক হলেন শ্রীহনুমানজী। তাঁর কৃপা ছাড়া হৃদয়স্থিত পরমতত্ট্বের অনুভব সম্ভবই নয়। আসুন, এই চৌপাঈ-এর তাত্ত্বিক দিকটা একবার বিচার করি|

মনে এই প্রশ্ন আসতেই পারে যে, শ্রীহনুমানজী রাম-দ্বারে কাকে রক্ষা করবেন ? শ্রীরামকে ? প্রভু শ্রীরামের নিজেকে রঙ্ষা করার জন্য কাউকে কি দূককার লাগতে পারে? অবশ্যই নয়। তাহলে ?

আধ্যাখিক দৃষ্টিতে শ্রীরাম হলেন পূর্ণভ্রম্ম। তিনি বিভু চৈতন্য। জীবাজ্মা অর্থাং আমরা হলাম অণুচেতন্য। অণুচেতন্যের বিভুতে একাত্ম হবার নামই সাধনা। সমুদ্রের জলবিন্দু যেমন সমুদ্রেরই অংশ, তেমনই ভক্ত ভগবানের অংশ। গোস্বামীজীর ভাষায় ‘ঈশ্বর অংশ জীব অবিনাশী। চেতন অমল সহজ সুখরাশী॥’

(রা: চ: মা:) কিন্তু অনাদিকাল থেকে জীব প্রারক্ধে পাওয়া দেহকে নিজের বলে অহং করে, ইন্দিয়, মন, বুদ্ধিকে ব্যবহারিক জীবনের কায়িক সুখের খোঁজে আটকে রেখে, সেই পরমতত্ত্ব তথা বিভু চৈতন্যের থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

তাই জীবাডারার ‘রামদ্বার’-এ প্রবেশের চেষ্টায় ভভক্তকে যেখানে যেখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থা দিয়ে পেরতে হয় এবং মূল্য বান শ্রদ্ধা, ভক্তি যেখানে যেখানে ডগমগ করে, সেখানে সেখানে এই শ্রীহনুমানজীই তো তকে হাত ধরে পার করে দেন, ভরসা যোগান, মনোবল বাড়ান এবং সবার ওপরে প্রভুর কাছে তার হয়ে দরবার করেন, যেমন তিনি সুগ্রীবের বেলায়, বিভীষণের বেলায় করেছিলেন।

দেখুন, সাধকের জীবনে আস্থা এমন এক তত্ত্ব যার উপস্থিতি সব অবস্থায় জরুরি। কিন্তু বুদ্ধির উপস্থিতির কারণে বিচারশক্তি এবং ক্রিয়াশক্তির প্রভাবও অবশ্যম্ভাবী। আধ্যাখ্মিক উন্নতিতে এই দুই শক্তি যেমন উপকারক হয়, তেমনই এরাই আবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

উপাসনা বা সাধনার কাখ্বিত ফল অনুভব না হলে ভক্তের সাত্ত্বিক উদ্বিগ্নতা বাড়ে। এই সময় যদি বিচারশক্তি সঠিক রাস্তা না পায় এবং ক্রিয়াশক্তি বিপথে চালিত হয়, তবে ভক্তের সব চেষ্টাই বিফলে যাবার সম্ভাবনা থাকে এবং ভক্তের আস্থা টলমল করে। আসলে প্রভু-শরণাগতিই ভক্তকে প্রভু-প্রেম দেয়।

আস্থা টলমল হলে শরণাগতি হতে চায় না। ‘রামদ্বার’-এ উপস্থিত শ্রীহনুমানজী তাকে সেই অবস্থা থেকে তুলে এনে প্রভু-শরণাগতির রাস্তা দেখান, কারণ তিনি স্বয়ংই তো প্রভু বিশ্বসের মূর্তিময় স্বরূপ।