Hanuman Chalisa Chaupai 37 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 37 Meaning in Bengali

Each verse of the Hanuman Chalisa narrates an aspect of Hanuman’s divine qualities.

Hanuman Chalisa Chaupai 37 in Bengali with Meaning & Analysis

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈ।
কৃপা করহু চরুদেব কী নাঈ।

সারানুবাদঃ হে গোস্বামী হনমান! আপনার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। ওরুদেবের মতন কৃপা করুন।

ব্যাখ্যা : গোস্বামী তুলসীদাসজী হনুমান চালীসার একেবারে শেষে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি ‘চালীসা’ শুরু করেছিলেন শ্রীগুরুর চরণকমলের ‘রজঃ’ র বন্দনা দিয়ে আর এথন শেষ করছেন গুরুমহিমার ‘উদ্-ঘোষ’ দিয়ে। আমাদের শাস্ত্রীয় পরস্পরায় উপক্রম এবং উপসংহার সমানতাপুর্বক হওয়া উচিত এবং এখানে তাই হয়েছে।

শ্রীহনুমানজীর উদ্দেশে গোস্বামীজী তিনবার ‘জয় হোক’ ‘উদ্-ঘোষ’ করেছেন। আসলে চালীসার একদম শেষলগ্নে তিনি অত্যন্ত ভাব-বিহুল হয়ে পড়েছিলেন। আর হবেন নাই বা কেন, শ্রীহনুমানজীর উপস্থিতি ও আলিঙ্নের প্রতীক্ষারত গোস্বামীজী অঞ্র্পুর্ণ নয়নে তাঁর ভাবুক হৃদয়ের উথলে ওঠা ভাব থেকে বলে উঠলেন, “জয় হৌ! জয় হো! জয় হো!” ভক্তিমার্গের পথিকদের এই ক্ষণ হয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মূল্যবান।

ইষ্ট সাক্ষাৎকারের সময় যত কাছে আসতে থাকে, ভক্ত হৃদয় তত উদ্বেল, ব্যাকুল ও গদগদ হয়ে যায়। মহাপ্রভু শ্রীচেতন্যদেবের ভাযায়, ‘… নয়নং গলদखরঞ্ধারয়া বদনং গদগদ রুদ্ধয়া গিরা। পুলকৈর্নিচিতং বপুঃ…..’ প্রভুর কাছে প্রার্থনা তখন একটই কথা শোনাতে চায় (মহাপ্রভুর ভাষায়)” ‘হে আমার নাথ! পতিতং মাং বিষহে ভাবান্মুবৌ। কৃপয়া তব পদপস্কজ-স্থিত ধূলীসদৃশং বিচিত্তয়।।”

শ্রীহনুমানজীর ভক্তকুল এবং গোস্বামীজীর গুগ্রাহীরা এই তিনবার ‘জৈ, ‘জি, জৈ…’ শব্দের আরো অনেক অর্থ বার করেছেন। যেমন-

  • ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ- এই তিন কালেই আপনার জয় হোক।
  • ভৃঃ ভুবঃ স্বঃ- অর্থাৎ পৃথিবী, অস্তরিক্ষ এবং স্বর্গ, এই তিন লোকেই আপনার জয় হোক।
  • মন, বচন ও কর্ম- অর্থাৎ আপনার ভক্তি ও কৃপায় যেন এই তিন खुদ্ধ इड़।
  • সভ্ধ, রজ ও তম- অর্থাৎ আপনার কৃপা এই তিন গৃণের উপরে निয়ে গিয়ে যেন গুণাতীত অবস্থার অনুভব প্রাপ্ত করায়।
  • ভ্ঞন, কর্ম ও ভক্তি- এই তিনের সমন্ধয়ে যেন আধ্যাত্রিক সাধনা পূর্ণण প্রাপ্ত হয়।

গোস্বামীজী শ্রীহনুমানজীকে এর পরে গোসাঈ বলে সম্বোধন করেছেন। আসুন, দেখা যাক এর দ্বারা তিনি জগৎকে কি জানাতে চাইছেন।

গোস্বামী : সংস্কৃত শব্দ গোস্বামীর অপভ্রংশ হল গোঁসাই। গোস্বামী অর্থাৎ গৌ + স্বামী। এই গৌ শব্দের অনেক অর্থ আছে, যেমন-
গৌ = গরু ! অর্থাৎ যিনি গৌী রক্ষক ও পোষক তিনিই গোস্বামী। শ্রীইনুমানজী সদাই এর রক্ষক।
গ্গে = ইন্দ্রিয়! बরীহনুমানজী জিতেন্দ্রিয় হওয়ার কারণে তাঁকে গোস্বামী বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
গেগে = বাণী! শ্রীহনুমানজী ‘বাণী’র সার্থক অধিপতি। প্রভু শ্রীরাম, ভরত, জনকনन্দিনী সীতা, সমস্ত ঋযিগণ ঢাঁর বাণীর শতমুতে প্রশংসা করেছেন। তাই তাঁকে গোস্বামী বলে সন্বোধন করা হয়েছে।
গৌ = পৃথিবী! শ্রীহনুমানজী রাক্ষসদের পাপাচার থেকে পৃথিবীকে সদা রক্ষা করেন। এই পৃথিবীলোকে তাঁর কৃপায় তমোগুণ নাশ হয়। তাই তাঁকে গোস্বামী সম্বোধন সার্থক।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নাঈ
গোস্বামীজী চালীসার একদম শেষে এসে শ্রীহনুমানজীর কছছ প্রার্থনা করছেন যে, তিনি যেন গুরুর মতন তাঁর কৃপা বর্ষণ করেন কারণ ‘ইষ্ট যদি গুরু হন’ তাহলে তো কথাই নেই।

আমরা জানি যে, আধ্যাগ্মিক যাত্রায় গুরুর ভূমিকা কি হতে পারে। এই যাত্রায় পদে পদে সংশয়, অধৈর্যতা, দিশাহীনতা ইত্যাদির মত সঙ্কট মাথা চাড়া দেয়। এই সময় মার্গদর্শন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষতঃ আধুনিক সময়ে, সম্পত্তি, শক্তি, অর্থ প্রভৃতির দরকার কেউ অস্বীকার করতে পারে না। সমাজে বাস করার জন্য এ সবই জরুরি। যেটা দরকার তা হলো এই সবের সদ্উপযোগ। এই সব সম্পত্তি ইত্যাদি আবার অনেক বিষয়কে টেনে আনে যেমন কপট বন্ধু, অহংকার, দূরদৃষ্টির অভাব প্রভৃতি।

এই সময় দরকার সত্যি কথা রলার সাহস করা কোনো দূরদৃষ্টিসי্পন্ন সদ্গুরূর যাঁর বিষয়-লোভ জয় হয়েছে এবং সংসারে সবার মঙ্গল কামনাই যাঁর একমাত্র লক্ষ্য। জীবনের যাত্রাপথ সদাই অজ্ঞান অক্ধকারে ঢাক। একটি ভুল সিদ্ধাত্ত যাত্রাপথের দিক পাল্টে দিতে পারে এবং তা বুঝতে বুঝতে জীবনের মূল্যবান অনেক সময় পেরিয়ে যায়। তই যোগ্য ব্যক্তির মার্গদর্শন জীবনে এত গুরুত্তপূুর্ণ।

এইটা জরুরি নয় যে এই মার্গদর্শীকে কোলো গেরুয়াধারী সন্ম্যাসী হতে হবে বা উচ্চকোটীর যোগী-ঋযি হতে হবে। দরকার সেই ব্যক্তির যে, নিজে তার জীবনে তার গুরুর নির্দেশ অহংকারশূন্যভাবে পালন করেছে এবং বিষয়ে থেকেও বিষয়লিপু হয়নি। সমর্থ সদ্গুরু একজনের শুষু মার্গদর্শনই করান না, তিনি জীবাআ্কে পরমাত্মার সাথে মিলনের সেতু হন।

গোস্বামীজীর এই টৌপাঈ আমাদের ভরসা দেয় যে, শ্রীহনুমানজী সাধককে যোগ্য গুরু পাওয়ায় সাহায্য করেন। চৌপাঈ-এর অংশ ‘কৃপা করহু গুরুদেব কী নাঙ্গ’-এর অন্য অর্থও করা যায় অর্থাৎ হে হনুমান! হে গুরু! দেবতাদের মতো কৃপা করুন।

গুরুবন্দনার সেই বিখ্যাত শ্লোক আমরা স্মরণ করতে পারি যেখানে গুরু ব্রহ্মার স্বরূপে শিষ্যের মনে আধ্যাত্মিক জিষ্ভাসার স্রোত জাগান ; গুরু, বিষুণুর রূপে তাঁর শিষ্যের মধ্যে নিষ্ঠার বীজ বপন করেন যা শ্রদ্ধা ও বিশ্যাসের মূল কারণস্বরূপ এবং গুরু, শিব রূপে শিষ্যের মনে বাসা বেঁঁে থাকা মোহ ও ভ্রম দূর করেন। গুরু, এরপর, পরব্রস্মের রূপে সাধককে জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন থেকে মুক্ত করান।

Hanuman Chalisa Chaupai 36 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 36 Meaning in Bengali

Tulsidas, a renowned poet-saint, authored the Hanuman Chalisa with Meaning in the 16th century.

Hanuman Chalisa Chaupai 36 in Bengali with Meaning & Analysis

সঙ্কট কটে মিটে সব পীরা।
জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা।

সারানুবাদ : যিনি মহাবলবীর্য সমন্বিত শ্রীহুমানকে স্মরণ করেন, তাঁর সকল সঙ্কট দূর হয় এবং সর্ব রোগ নিরাময় হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা : আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্রীহনুমানজী তাঁর অসংখ্য ভক্তের সঙ্কট দূর করেছেন এবং সবসময়ই করছেন। সমস্ত রামায়ণে যেমন তাঁর সঙ্কট দূর করার অনেক প্রসঙ্গ আছে, তেমনই শ্রীহনুমানজীর স্মরণ ও কৃপায় সঙ্কট থেকে উদ্ধার প্রাপ্তির ঘটনার সাক্ষী হয়তো আপনারা অনেকেই, তার সংখ্যাও কিছু বম নয়। শ্রীহনুমানজীর প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস অনেক বড় সঙ্কটকেও পাশ কাটিয়ে দেয়। আমার নিজের জানা ও দেখা ঘটনার সংখ্যাও কম নয় যা নিয়ে পরে লেখার ইচ্ছা রইল। আমরা দেখেনি রামায়ণের কিছু পरসঙ্গ :-

(১) সুগ্রীব : বড় ভাই বালীর দ্বারা তিনি বিতাড়িত হয়ে ঋষ্যমুক পর্বতে অবস্থান কালে শ্রীহনুমানজীর কৃপায় প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মেের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বালী সুগ্রীবের স্ত্রীকে অবধি আটক করে রেখেছিলেন। শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের সঙ্গে ঢাঁর মিত্রতা স্থাপন করান এবং প্রভু তাঁর সব সঙ্কট দূর করেন। প্রভু প্রথমে বালীকে বধ করেন, সুগ্রীবকে কিষ্কিন্ধার সিংহাসরে বসান এবং পত্মী রুমাকেও বালীর কবল থেকে মুক্ত করেন।

(২) বিভীষণ : তাঁর অবস্থান অত্যন্ত তামসিক পরিবেশে হলেও, প্রভু শ্রীরামের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাস তাঁকে সর্বদই নীতিপূর্ণ এবং আধ্যাছ্মিফ ভীবন যাপন করতে সহায়তা করেছে। শ্রীহনুমানজীর সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ ঢাঁকে সুনিশ্চিতভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল যে …. বিনু হরিকৃপা মিলহি নহি সন্তা…। (রা:চ:মা:)— বিভীষণ শ্রীহনুমানজীকে বলছেন যে, আমার এখন দৃঢ় বিশ্বাস ২য়েছে যে, প্রভু শ্রীরাহের কৃপা বিনা আপনার মতো সন্তের সাক্ষাৎ হতে না। শ্রীহনুমানজীর পরামর্থি তিনি রাবণকে বোঝাতে যান যে তিনি যেন

Hanuman Chalisa Chaupai 35 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 35 Meaning in Bengali

Hanuman Jayanti is a significant occasion for the mass recitation of the Hanuman Chalisa Meaning.

Hanuman Chalisa Chaupai 35 in Bengali with Meaning & Analysis

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ।
হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ।

সারানুবাদ : অন্য দেবতা চিত্তে ধারণ না করে শ্রীহনমানজীর সেবা সকল সুখ প্রদান করবে।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈটি থেকে প্রথম যে প্রশ্নটি আমাদের মনে জেগে ওঠঠ তা হলো শ্রীহনুমানজীর উপাসনা করলে কি অন্য দেব-দেবীর উপাসনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বা অন্য দেবতারা কি মনে ঠঁঁই পাবেন না ?

বস্তুতপক্ষে শ্রীহনুমানজীর উপাসনা সাধকদের তাঁদের নিজের নিজের ইষ্টদেবের উপাসনাকে আরো গতি দেয় কারণ তাঁর ভক্তিতে প্রাপু জ্ঞান এবং গুণ সেই দেবতাদের উপাসনার ভিতকে আরো মজবুত করে। ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ উপাসনা দু-রকমের হয়-সকাম ও নিষ্কাম।

অধিকাংশ সাধন সকাম দিয়েই শুরু হয়। ভক্ত ধ্রুবর চরিত্রই তার প্রমাণ। সমস্যাটা হলো কখনো কখনো ভক্ত পরিণামের আশায় আকুল হয়ে ওঠে এবং সেই কারণে বিভিন্ন রাস্তায় (সাধনপথ, পন্থা ইত্যাদি) ঘোরাফেরা করে। ভক্তদের এই অধীরতাই তাঁদের প্রকৃত ভক্তির পথে বাধা হয় এবং প্রভুকৃপা থেকে তারা বঞ্ণিত হয়।

গোস্বামীজী এই চৌপাঈতে বলছেন যে, এই সব সবনম ভক্তের চিত্তবৃত্তি চঞ্চল হওয়ার কারণে নিজ নিজ ইষ্টধারণ বা ধ্যান বাধাপ্রাপু হয়। এই অবস্থায় হনুমানজীর স্মরণ নিলে, তিনি সেই সাধকের মরের চঞ্চলতাকে কম্মাতে সাহায্য করেন।

কারণ বায়ুপুত্র শ্রীহনুমান প্রাণের স্থিরতা এনে চিত্ত-নিরোধে সাহায্য করেন এবং সেই সাধক তখন বুঝতে পারে যে তার সেই সকাম সাধনা সফল না হওয়ার অর্থ হলো যে সেই কামনা পূরণের এখনও সময় আসেনি বা সেই কামনা পূরণ তার পক্ষু কল্যাণকারী নয়।

ইষ্টদেবের আরাধনা তাই নিষ্কামভাবে করতে ভক্তির আনন্দ এক আলাদা মাত্রা পায়। নিক্কামভাবে শুরু না করে কামনা দিয়ে শুরু করলেও, লক্ষ্য রাখতে হবে কামনার বেগ যেন মাথা চাড়া দিয়ে না ওঠে। একটা জিনিস মনে রাখলে ভাল হয় যে, নিষ্কাম সাধকের পার্থিব প্রয়োজনগুলি কিন্তু শীরনহুমানজীর নজর ভড়ায় না। তিনি লেঙুলি পূর্ণ তে করেনই এবং তার সাথে সাথথ তাকে তার ইটষ্টে বাডে পৌঁহতে মার্গদর্শনও করান।

Hanuman Chalisa Chaupai 33 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 33 Meaning in Bengali

People often chant the Hanuman Chalisa Lyrics in English to seek strength, courage, and protection.

Hanuman Chalisa Chaupai 33 in Bengali with Meaning & Analysis

তুমহরে ভজন রাম কো পাবৈ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ।।

সারানুবাদ : আপনার ভজন করলে তা প্রকৃত্ক্ষে শ্রীরামের উদ্দেশোই নিবেদিত হয় এবং শ্রীরামের প্রীতি সম্পাদন করে। (শ্রীরামকে পাইয়ে দেয়)। জন্ম-জন্ম ধরে সঞ্চিত দুঃখরাশিকে তা ভুলিয়ে দেয় (অর্থাৎ দুঃখ নির্মূল হয়ে যায়)।

ব্যাখ্যা : গোস্বামীজী এই টৌপাঈতে আবার দৃঢ়তার সঙ্গে শ্রীহনুমানজীর ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের শ্রীহনুমান ভজন প্রকৃতপক্ষে শ্রীরামের প্রসন্নতার অধিকারী বানাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই দুইয়ের সংযোগে জন্ম-জন্মাস্তরের দুঃখও নাশপ্রাপু হচ্ছে।

শ্রীহনুমানজী সনাতন, চিরঞ্জীবী এবং পরাৎপর। বিভিন্ন শাস্ত্রে এরকম উল্লেখ আছে যে শ্রীহুমানজী হেমকূট পর্বতের দক্ষিনে ‘কিমপুরুষবর্য’-এ অবস্থান করেন এবং সেখানে প্রভু শ্রীরাম ও মাতা সীতার বিগ্রহের নিত্যসেবা করেন এবং গন্ধর্ধলোকের নিবাসীদের সাথে রামকথা শ্রবণ ও কীর্তনের আনন্দ প্রতিনিয়ত নেন। শ্রীহনুমানজীর দর্শন ও অপূর্ব রামকথা শোনার লোভে শ্রীনারদ ওখানে প্রায়ই যান।

‘গর্গসংহিতা’য় এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে যে, শ্রীহনুমানজীর ভজন প্রভু শ্রীরামের কৃপালাভের পথকে শধু সুগমই করে না, তা জন্ম-জন্মান্তরের দুঃখরাশিকেও নির্মূল করে। প্রশ্ন উঠতে পারে জন্ম-জন্মাস্তরের দুঃখরাশিকে ভজন কিভাবে নির্মূল করবে কারণ সঞ্চিত কর্মের রাশিই তো প্রারধ্ধ হয়ে সুখ-দুঃখ ভোগ করায় ?

প্রকৃতপক্ষক ‘কর্মাধীন জগৎ’ এই তত্তৃকে বা এই সিদ্ধান্তকে কখনই খণ্ডন করে না। আধ্যাত্ছিক দৃষ্টিতে, সমস্ত দুঃখের মূলই হলো অহংকার। ख্রীহনুমান ভক্তি বা ইষ্ট-ভক্তির চরমাবস্থায় অহংকার বিগলিত হয়ে গেলে, তার সাথে সাথে সমস্ত দুঃখও নিরাধার হয়ে যায়।

শ্রীমন্ মহাপ্রভু বলেছিলেন, “আমি, আমার, এইরকম আত্মাভিমানই সংসারভয় বা মায়াবদ্ধতা।” জীব প্রাক্তন কর্মফলের অধীন, তাই তার ভোগের স্বাধীনতা নেই। চিত্তশুদ্ধিতে জ্ঞানের পূর্ণ বিকাশ হলে মায়ার আবরণ মুক্ত হয় অর্থাৎ আমি, আমার এই আআ্মাভিনান বা মায়াবদ্ধতার নিবৃত্তি হয়।

অনস্তনল স্থায়ী অত্যন্ত বিরল অবস্থায় হয়। बরীহনুমানজীর ক্রেত্র তা চিরস্থায়ী। তাই শ্রীহনুমনজীর ভজন, কীর্ডন সহজেই ভক্তকে রাম-অনুরাগী বরে ভবং প্রভুর অইহতুফী কৃপা সহজেই নেমে আসে।

Hanuman Chalisa Chaupai 32 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 32 Meaning in Bengali

Shri Hanuman Chalisa is composed of 40 verses that extol the virtues of Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 32 in Bengali with Meaning & Analysis

রাম রসায়ন তুমহরে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা।

সারানুবাদঃ আপনার কাছে রাম রসায়ন বিদ্যমান। আপনি সর্বদা রঘুপতির দাস হয়ে আছেন।

ব্যাখ্যা : রাম রসায়ন তুমহরে পাসা
এই চৌপাঈতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ‘রাম রসায়ন’-এর অধিকারী শ্রীহনুমানজী। এখন এই ‘রাম রসায়ন’ বলতে কি বোঝানো হচ্ছে? শাস্ত্রকার ও প্রখ্যাত রামভক্তরা এর অনেক রকম অর্থ করেছেন।

যেমন এর অর্থ হলো- অধ্যাত্ম-বুদ্ধি। অর্থাৎ নিজের স্ব-স্বরূপের বিষয়ে অবগত হয়ে, সেই উপলব্ধির উপর দাঁড়িয়ে পরমতত্ত্তের সঙ্গে তার একাত্মের চেষ্টারূপ বুদ্ধিকে বলে ‘রাম রসায়ন’। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে উল্লেখ আছে

যে, প্রভু শীরীহের এই প্রশ্ন যে, কে আপনি ? এর উত্তরে শ্রীহনুমানজী বললেন যে “দেহের দৃষ্টিতে আমি আপনার দাস, জীবের দৃষ্টিতে আপনার অংশ ও পরমার্থিক দৃষ্টিতে যা আপনি তা আমিও-এই আমার নিশ্চিত ধারণা।” ভক্তিমার্গের দিক দিয়ে বিচার করলে ‘রাম রসায়ন’ হলো প্রেম-ভক্তি যা ‘পূর্ণ শরণাগতি’ ছাড়া কখনই সষ্তব নয়।

তুলসীদাসজী রামনামে লীন অবস্থায় তাঁর উপলক্ধির কथा বলতে গিয়ে গেয়ে উঠলেন, “হাম্ তো রমতে রাম ভরোসে, রজা করে সো হোঈ’-অর্থাৎ আমার কাজ হলো রাম ভরোসে (প্রভুর ভরসায়) নাম করা, বাকি তিনি যা করার করবেন। প্রেমভক্তির পরাকাষ্ঠা সাধিকা মীরাবাঈ গেয়ে উঠলেন এই বলে যে, গিরিধর গোপাল ছাড়া আমার দ্বিতীয় কেউ নেই। আমি তাঁর কীর্তন করি, বাকি “শো হোয়ে সো হোঈ” (যা হবার তা (ক)।

‘রসায়ন’-এর ইংরাজী হল ‘chemistry’ ‘রাম রসায়ন’ মানে রামের কেমিস্ট্রি। ‘রাম’ হলো তারকব্রহ্ম নাম। শাস্ত্রকাররা বলেন ‘রাম’ নামের তপস্যায় মধ্যে কি এমন গূঢ়-রহস্য আছে, তা জানার আগ্রহ অনন্তকাল ধরে বিরাজ করহে।

শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের ‘সুন্দরকাণ্ড’-এ উল্লেখ আছে যে, বিভীষণ তো প্রভু রামের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁর মুখ থেকে শুনেই ফেললেন তাঁর স্বভাবের কথা। প্রভু শ্রীরাম বললেন, “শুনহ সখা নিজে কহউ সুভাউ। জান ভুসুণ্ডি সম্ভু গিরিজাউ।।” শ্রীরাম আরও বললেন, “বিশ্ব চরাচরের কল্যাণদ্রোহীও যদি মদ্, পোহ, ছল, চাতুরী পরিহার করে ভয় পেয়ে আমার শরণাগত হয়, তাকেও আমি অনতিবিলম্বে সাধুর স্তরে উন্নীত করে দিই।। আমার প্রীতির লক্ষণ সকল বলছি।

জনক, জননী, ভ্রাতা, পুত্র, ভার্যা, দেহ, সম্পদ, গৃহ, বন্ধু-পরিবার সকলের মমতার বন্ধনসূত্র সকলকে রজ্জুরূপে ব্যবহার করেও যে তার মনকে আমার সঙ্গে নিত্যयুক্ত করে দেয় (অর্থাৎ আমাকেই সমস্ত সাংসারিক বন্ধনের মূলরূপে স্বীকৃতি দেয়), যে সমদর্শী, যার নিজস্ব ইচ্ছা বলে কিছু নেইই আর যে হর্ষ-বিযাদে, চায় কাতর হয় না, তেমন ব্যক্তিই আমার হৃদয়ে স্থান পায়।”

আর এক মত হল সংসারের সমনু বিষয়ক্ত প্রভাব সমাপু হরতে পারে পর দেবী সীতা শীইনুমানজীকে দিব্য রতূময় হার উপহার দিলেন। এই হার পরার পর শ্রীহনুমানজীর স্বর্ণময় চেহারা আরো উজ্ট্রল ৫ শোভনীয় হলো, জিত্জে করলেন, “প্রিয় হনুমান! আপনার কি আমার চেয়ে আমার নাম নিক্চিত মত। আপনি স্বয়ং তো কেবল অযোধ্যাবাসীদের উদ্ধার করেছেন। কিস্তু আপনার নাম ত্রিভুবনের সমস্ত জীবের উদ্ধারকারী।”

‘রাম রসায়ন তুমহরে পাসা’-এর আর এক অর্থ এরকমও হতে পারে যে ‘রসায়ন রাম তুমহরে পাসা’। রসায়ন অর্থাৎ রস + অয়ন = রসায়ন ; রসের মার্গ ब্রীরাম আপনার কাছে থাকেন। আপনি সর্বদা তাঁর দাস হয়ে সেই রসায়নে ডুঁবে আছেন আর প্রভু আপনাতে মগ্ন হয়ে আছেন।

সদা রহো রঘুপতি কে দাসা
ভভগবান শ্রীকৃষ্ণ চাঁর নরলীলা সাঙ্গ করার ঠিক আগে উদ্ধবকে তাঁর বিভূতির বিষয়ে বলতে গিয়ে বলনেেন, ‘কিম্ পুরুষানাং হনুমান্।’ (ख্রীমম্ভাগবত)। অর্থাৎ সেবকের মব্যে হনুমান (আমার বিভূতি স্বরূপ)।

বাল্মীকি রামায়ণের উত্তরকাতে এক প্রসঙ্গ আছে যেখানে প্রভু শীরাম बরীহনুমানজীকে তাঁর কাছ থেকে কিছু প্রার্থনা করতে বললেন। ख্রীহনুমানজী তার উত্তরে বললেন, “প্রভু, আমার কোনো ইচ্ছাই নেই।” প্রভু শ্রীরাম যথন বললেন যে, আপনাকে আপনার পছন্দমতো কিছু দিতে পেরেছি এই সুখ যাতে আমার হয়, তার জন্য তে কিছু অস্তত: প্রার্থনা করুন, তখন এীননমানজী या প্রার্থনা করলেন, তা একমাত্র তিলিই করতে পারেন।

শ্রীহনুমানজী বললেন, “হহ রাজন, ঐীরাম, আমার পরম স্নেহ সদা আপনাতেই বিদ্যমান। হে বীর, আমার অবিচল ভক্তি আপনাতেই সর্মি্পিত। আপনাকে ছেড়ে অন্য কেলো এীহনুমানজীর মনের অস্তরতম ইচ্ছইই হলো প্রভু শ্রীরামের অন্তরঙ্গ সেবক হয়ে তাঁকে প্রসন করা। প্রভুর দাস হয়ে থাকার মট্যেই এ্রীহনুমানজী গৌরব বোষ করেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 31 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 31 Meaning in Bengali

Devotees around the world recite the Hanuman Chalisa in English with deep reverence.

Hanuman Chalisa Chaupai 31 in Bengali with Meaning & Analysis

অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা।
অস বর দীन জাनকী মাতা।

সারানুবাদ : মাতা জানকীদেবী আপনাকে এইরূপ বর দিয়েছেন যে আপনি ইচ্ছা করলেই অষ্টসিদ্ধি (আট থ্রকার সিদ্ধি) এবং নয় প্রকার সম্পদ দান করতে পারেন।

ব্যাখ্যা : একজন যোগসিদ্ধ পুরুষ যিনি কুণুলিনী যোগসাধনার শীর্ষে পোঁছেছেন, তিনি স্বভাবতই অষ্টসিদ্ধির মালিক হন। এই আট প্রকার সিদ্ধি সাধনার বিভিন্ন স্তরে যোগীর প্রথতে অনুভবে এবং পরে কার্যকারিতার রূপ নেয়। এই আট প্রকার সিদ্ধি যোগীপুরएষ শ্রীহনুমানজী তাঁর যৌবন অবস্থাতেই কঠোর যোগসাধনায় পেয়েছিলেন।

ভগবান শঙ্করের কৃপাতেই এই সিদ্ধিগুলি পাওয়া যায় আর শ্রীহনুমানজী হলেন স্বয়ং রুদ্র অবতার। শ্রীহনুমানজী, প্রভু ত্রীরামের নরলীলায় তাঁর যোগ্য সহায়ক হয়ে, তাঁর সেবাধর্ম পালনের পথে এই সিদ্ধিগুলির প্রয়োগও করেছিলেন। শ্রীহনুমানজীর কাজে লাগা এই যৌগিক শক্তিগুলি এই রকম :

Hanuman Chalisa Chaupai 31 Meaning in Bengali 1
Hanuman Chalisa Chaupai 31 Meaning in Bengali 2Hanuman Chalisa Chaupai 31 Meaning in Bengali 3

নয় निधि
নয়া প্রকারের দৈবী সম্পদ আছছ। শাস্ককরগণ এই নয় निধির আনেক রকম অর্থ করেছেন যার মব্যে (ক) ভূমি বা সাগরের গভীর ৫েকে বা গাছপালা থেকে পাওয়া নয় সম্পদ ; (খ) নবধা ভক্তি।

ভূমি, সাগর বা বনস্পতি থেকে পাওয়া নয় নিধি এইরকসম : (১) পদ্ম, (২) মহাপদ্ম, (৩) শঙ্য, (৪) মকর, (৫) কচ্ছপ, (৬) মুকুন্দ (মূল্যবান রত্ন), (৭) কুন্দ (মূল্যবান ধাতু), (৮) নীল (নীলরড্ন), (৯) থর্ব।

নবধা ভক্তি : ভক্তি যাজনের নয়টি অঙ্গ: (১) শ্রবণম্ (২) কীর্তনম্ (৩)
বিষ্ণু শ্ররণম্ (৪) পাদসেবনম্ (৫) অর্চনম্ (৬) বন্দনম্ (৭) সখ্যম্ (৮) দাস্যম্ (৯) আত্ম-নিবেদনম্।

সামাজিক দৃষ্টিতে নিচের বিষয়গুলিকেও নয় নিধি রূপে মানা হয়-
(১) ধন (২) সম্পতি (৩) রাজ্যসুখ (৪) মান (৫) প্রতিষ্ঠা (৬) সমৃদ্ধি (৭) রত্ম (৮) সুন্দরী এবং প্রিয়তমা পত্নী (৯) প্রমপূর্ণ পরিবার।

এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে পারে এই সিদ্ধি বা নিধি যদি কেবলমাত্র যোগের
(তা সে রাজযোগ বা ক্রিয়াযোগ বা অষ্টাঙ্যোগের পূর্ণতর রূপ হোক) সর্বোক্তম অবস্থার সাধ্য হয়, তাহলে শ্রীহনুমানজী শুধু কি ঝষি, যোগীদেরই এই শক্তি দান করতে পারেন, অন্য কাউকেই নয়? মাতা জানকী শ্রীহনুমানজীকে বর দিয়েছিলেন যে, এই শক্তি তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করবেন তাকেই দান করতে পারবেন।

বিভিন্ন সাধনপথের প্রায় সবাই শ্রীহনুমানজীর কৃপাপ্রত্যাশী। শ্রীহনুমানজী তাঁর ভক্তদের সাধনপথের উত্তরণের অবস্থা অনুযায়ী এবং সাধকের মানসিক আকাক্ষা অনুসারে এই শক্তির উপযোগ করেন। যেমন, যোগবিদ্যার গ্রন্থসমূহের মতে আধ্যাছ্মিক ক্ষেত্রে সিদ্ধ মহাপুরুষদের মধ্যে এমন কিছু লক্ষণ যুক্ত হয় যা অন্য সাধনায় থুব একটা লক্ষ্য করা যায় না, যার গণনা অষ্টসিদ্ধির মধ্যে পড়ে।

আবার অন্য সাধন পথে এমন কিছু নিধির লক্ষণ আমরা সাধক/সাধকের পরিবারের মধ্যে দেখি যার সংস্ষিপু পরিচয় আমাদের করিয়েছেন বিদ্বান কবি ভর্তৃহরি চাঁর রচনা ‘নীতিশতক’-এ। রাজা ভ্তৃহরি পরবর্তী জীবনে বৈরাগ্যের পথ অবলম্বন করেছিলেন।

তিনি লিখছেন (নিধিগুলি এইরকম) :-

  • চরিত্রবান সন্তান,
  • প্রিয়ত্মা পত্লী,
  • স্নেহপণর হিত্র,
  • শ্রসন্নমুখ স্থির বৈভব,
  • বিদ্যার তেজোদীপু চেহারা।

এই নয় ক্রকার নিধি শ্রীহরি সক্তষ্ট হয়ে চাঁর ভক্তর সাংসারিক কষ্ট দূর করার জন্য দান করেন। এইবার আসুন আমরা এই চৌপাঈটিকে একটু অন্যাভাবে বুঝি।

অষ্টসিদ্ধি আর নয় নিধির দাতা কে হতে পারেন? কে আবার-প্রভু শ্রীরাম। শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীকে বর দিলেন যে, “হে প্রিয় হনুমান, তোমার সেবা, অনুগ্রহ, সঙ্কটহরণের সর্বদা প্রয়াসের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। আমার এই প্রসন্ন মন তোমাকে তাই বর দিচ্ছে যে দেবী জানকী তোমার মাতা হউন।”–‘অসবর দীন জানকী মাতা’।

ব্যস, আবার কি! সীতাজী মাতা হলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রভু শ্রীরাম পিতা হলেন। আর তার সাথে সাথেই প্রভুর বস্ত্র, সিদ্ধি, নিধি, ইত্যাদি সব শ্রীহনুমানজীর হয়ে গেলো। ত্রীহনুমানজী তাঁর সিদ্ধির উপযোগ সর্বদা রামভক্তদের প্রেরণা, মার্গদর্শন, শক্তি, ধৈর্য এবং শ্রেয়র জন্যই করেন। যে বিরাট রামকাজের দায়িত্ব নিয়ে তিনি এসেছেন, এতো তারই অঙ্গ।

Hanuman Chalisa Chaupai 30 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 30 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa Pdf is a revered devotional hymn dedicated to Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 30 in Bengali with Meaning & Analysis

সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকন্দন রাম দুলারে।

সারানুবাদ : সাধুসজ্জনগণের আপনি রক্ষাকর্তা, রাক্ষসদের বিনাশকারী এবং শ্রীরামচক্ত্রের একান্ত প্রিয়পাত্র।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈটি শ্রীহনুমানজীর চরিত্রের একটি বিশেষ দিক দর্শায়। আমরা ২১ নম্বর চৌপাঈতে পের়েছি ‘রাম দুয়ারে তুম রখবারে’ আবার এখানে পাচ্ছি ‘সাধু সন্ত কে তুম রখবারে’। তাহলে আমরা কি এই দুটি চৌপাঈ-এর মূল ভাবকে নিয়ে এই মতে আসতে পারি না যে, প্রভু শ্রীরামের দুয়ার অবধি পোঁছতে হলে অর্থাৎ রামময় হওয়ার জন্য সাধু বা সণ্ত হওয়া জরুরি এবং শ্রীহনুমানজী সেই সাধু বা সন্তদের শুধু রক্ষা করেন না,

উপরন্তু তাঁদের হাত ধরে রাম-অনুগত বা পরমাত্ম-রস আস্বাদনের ব্যবস্থা করে দেন ? কারণ শ্রীহনুমানজীর কৃপা ছাড়া- ‘হোত না আজ্ঞা বিনু পৈসারে’ — প্রভু শ্রীরামের প্রতি ভক্তি লাভ সষ্ভব নয়। তাহলে আমাদের সবার আগে জানা দরকার ‘সাধু’ কে?

‘সাধু’ বলতেই আমাদের মানসপটে গৈরিক বসনধারী জটাজুটধারী ব্যক্তির চেহারা ফুটে ওঠে, যার নিবাস যত্র তত্র অর্থাৎ সংসার বৈরাগী। আধ্যাছ্মিক মার্গের নিজ নিজ পন্থার মহাজনগণ এই ‘সাধু’ শব্দের বিভিন্ন অর্থ করেছেন। কিন্তু ভাগবত এবং অন্য শাস্ত্র এ কথা স্বীকার করেন না যে, যাঁরা গৃহস্থাশ্রম ত্যাগ করে বৈরাগ্যশ্রম গ্রহণ করেন ঢাঁরাই সাধু। যেমন-

‘শ্রীহদ্ভাগবত’ (নবহ স্কন্ধ)-এ মহারাজ অম্বরীষকে সাধু বলে মান্যাতা দিয়েছেন ‘স্বয়ং ভগবান নারায়ণ এবং এ কथा জানিয়েছেন দুর্বাসা মুনিকে। অর্থাৎ পৃথিবীপতি রাজাভ হতে পারেন সাধু। তাই মহান ‘বৈষ্ব-দার্লিনিক আচার্য শ্রীল শ্রীজীবগোস্বামীপাদ ‘সাধু’ শব্দের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, সাধু কারা ?

তিনি বলছেন, ‘গৃহে, বনে, আশ্রহে, যে যেখানেই থাকুন, যাঁরা ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, বাসনা নিঃশেযে ত্যাগ করে প্রেমভক্তিপরায়ণ হয়েছেন, তাঁরাই সাধু’। আর প্রেমভক্তিপরায়ণ ব্যক্তিকে সর্বদাই পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেন শ্রীহননুমানজী। ‘নবধা’ ভক্তির আর বাকি কাজটা শ্রীহনুমানজী করে দেन।

এই চৌপাঈতে আরও বলা হয়েছে যে, শ্রীহনুমানজী রাক্ষদদের নিধনকারী এবং প্রভু শ্রীরামের প্রিয়পাত্র। আমরা সবাই জানি যে, প্রভু শ্রীরাম দঞুকবনে রাক্ষসদের নৃশংসতা দেখে এত বিচলিত হয়েছিলেন যে, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তিনি সমস্ত রাক্ষসকুলকে ধ্বংস করবেন এবং তাঁর এই কাজে শ্রীহনুমানজী যোগ্য সহযোগিতা করেছিলেন। তাই তিনি প্রভু শ্রীরামের অন্য অনেক কারণের মধ্যে এই কারণেও যে প্রিয় হবেন, তা তো বলাই বাহল্য।

কিন্তু যখন ‘সাধু সন্ত কে তুম রখবারে’ এই বিশেষণটির সঙ্গে তাঁকে জুড়ে দেওয়া হয়, তখন এর এক অন্য অর্থ আমাদের সামনে উঠে আসে যা আমাদের সাংসারিক জীবের পক্ষে পথ-প্রদর্শক স্বরূপ। ‘অসুর নিকন্দন’ অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ্, মাৎসর্য ইত্যাদি আসুরিক বৃত্তিগুলি যে নির্মূল করার প্রয়াস করবে, সেই সাধু বা সাধক সর্বদাই ‘রামদুলারে’ হবেন আর শ্রীহনুমানজী তাঁকে অবশ্যই রক্ষা করবেন তাঁর অভীষ্ট লাভের জন্য।

Hanuman Chalisa Chaupai 29 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 29 Meaning in Bengali

Reciting the Hanuman Chalisa Lyrics is a practice that unites Hanuman devotees in their devotion to the Lord.

Hanuman Chalisa Chaupai 29 in Bengali with Meaning & Analysis

চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা।
হু পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।

সারানুবাদ : সমস্ত জগতেই এ কথা প্রসিদ্ধ আছে যে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্জৈভভাবে বর্তমান।

ব্যাখ্যা : আমাদের অজানা নয় ভে শীরনুমানজী ‘অমর’। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি চার যুগেই তাঁর অবাধ উপস্থিতি থাকে কোনো না কোনো রূপে।

  • সত্য যুগে : তিনি ঢাঁর মূল স্বরূপ অর্থাৎ ভগবান শঙ্কর।
  • ত্রেতা যুগে : প্রভু শ্রীরামের ভক্তশ্রেষ্ঠ ও দূতরূপে পরিচিত।

(৩) দ্বাপর যুগে : তৃতীয় পাঙ্যব অর্জুনের রথের ধ্বজাতে তিনি অবস্থিত যার জন্য াঁঁর রথের আর এক নাম ‘কপিষ্বজ’। ভগবান শ্রীকৃষণ কুরু-পাগুবের যুদ্ধ শেফে অর্জুনকে দ্রুত রথ থেকে নামডে বললেন এবং শীরুহুমানজীকে আহ্বান করলেন ধ্বজা থেকে নেমে আসতে। মুহূর্তে সেই রথ আগুনে পুড়ে ছই হয়ে গেল। অর্জুন এই সব দেখে অবাক হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায়, শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “মহাবীর কর্ণ ও পিতামহ ভীপ্মের বাণের তীব্রতাকে শ্রীহনুমানজী এতদিন নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছিলেন যে কারণে এই রথ অক্ষত ছিল। এঁদের বাণের এত জোর ছিল যে রথ একশো হাত পেছনে চলে যেতো কিন্তু শ্রীহনুমানজীর কারণে তা হয়নি।”

(8) কলি যুগে : যেখানে প্রভু শ্রীরামের কথা হবে, তাঁর স্মরণ-মনন-ভজনকীর্তন হবে সেখানেই শ্রীহনুমানজী অবশায উপস্থিত হবেন।
यত্র তত্র রঘুনাথকীর্তনং তত্র তত্র কৃতমসगতকাঞ্জম্।
বাষ্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মরুতিং নমত রাক্ষসাত্তকম্। — (ख्रीरनूमৎ-ग्ठবन)

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাথের (নাম, রূপ, গুণ, লীলা আদি) কীর্তন করা হয়, সেই সেই জায়গায় করজোড়ে নতমস্তক হয়ে, অশ্রঞপূর্ণ নয়নে যিনি সদা উপস্থিত থাকেন সেই রাস্ষসবংশের অন্তকারী পবননন্দনের উপ্দেশ্যে সকলেইই প্রণাম নিবেদন করুন।

শ্রীহনুমানজী বায়ুপুত্র হওয়ায় তিনি সর্বব্যাপী। পঞ্চভূতের মধ্যে আর যারা আছেন যथা ভূমি, সমুদ্র (জল), আকাশ এবং অগ্নি এঁদের একটা সীমা আছে যার মধ্যে এঁদের থাকতে হয়, কিন্তু বায়ুর কোনো সীমা নেই।। তাই তার গতি অবাধ এবং প্রচণ্ড বেগশালী। তই শ্রীহনুমানজী স্বতন্ট্র ও সীমাহীন। তাঁর উপস্থিতি তাই যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায়, যে কোনো রূপে হতে পারে। সবটাই তাঁর ইচ্ছাধীন।

গোস্বামীজীকে তিনি প্রথম দর্শন দেন এক অতিবৃদ্ধ হিসাবে, দ্বিতীয় পাগুব ভীমকে তিনি দর্শন দেন এক পিঙ্গল চেহারার বৃদ্ধ বানর হিসাবে। অনেক ভগবৎদর্শী শ্রীহনুমানজীর পাবন সান্নিধ্য উপল্ধি করেছেনে শীরামের লীলাকথায় বা ভজনে আবিষ্ট অবস্থায়। এই লেখকের একবার সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো।

যে চার বর্ণের কথা আহরা শাস্ত্রচর্চা থেকে জানতে পারি যথা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র, শ্রীহনুমানজীর এই চার বর্ণের যে বিভাজিত কর্ম অর্থাৎ ব্রাহ্মণের শাস্ত্র অধ্যয়ন, অধ্যাপন, সমাজে আধ্যাত্মিক মূল্যের সংরহ্ষণ ইত্যাদি, ক্রত্রিয়ের সমাজ সুরক্ষা, ও পালন, বৈশ্যের কৃষি, গোরক্ষা বা ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি এবং শূদ্রের সেবাকার্য প্রভৃতি, তা যুগের সঙ্গে তাল রেখে এই চাররূপেই তাঁর পরিচয় রেখেছেন।

প্রথমবার তিনি প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মা রূপ ধরে। তাঁর অসাধারণ পাঞ্তিত্য তাঁদের দুজনকেই সদা মুগ্ধ করে রেখেছিল। যে সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজা সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে রাজ্যশাসন করতেন বা করছেন (‘রাজা’র সংজ্ঞা এখন পাল্টে গেছে), শ্রীহনুমানজী সব সময় তাঁদের রক্ষা করার জন্য তৎপর। যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি করেন তাঁদের বাক্চাতুর্যতা ও প্রতিপক্ষের মনের ভাব বুঝে নেওয়া অতি জরুরি। মজার কথা হলো এই দুটি গুণই শ্রীহনুমানজীর মধ্যে প্রচুর আছে। আর শূদ্রর সেবাকার্য – বলা বাংল্য শীরুহুমানজী প্রভু শ্রীরামের সেবক হিসাবেই শুষু নয়, সমগ্র মানব-সমাজের নিপুণ কল্যাণকারী হিসাবে তাঁর অবদান রেখেছেন।

প্রাচীন ঋষি ও মনীষী সমাজ মানব-সমাজের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ও আনন্দলাভের জন্য মানব-জীবনকে চার ভাগে ভাগ করেছিলেন, যথা ব্রস্চার্য, গার্হস্থ, বানপ্রস্থ ও সন্য্যাস। শ্রীহনুমানজী ব্রদ্মচর্যের এক আদর্শ স্বরূপ। তিনি যাঁদের মধ্যে বিচরণ করতেন তাঁরা সবাই গৃহস্থই ছিলেন (প্রভু শ্রীরাম, সুগ্রীব, বিভীষণ ও অন্যান্যরা)। শ্রীহনুমানজীর চরিত্র গৃহস্থদের একথা শেখায় যে বিবেকপূর্ণ বিষয় উপভোগ ও ইষ্টদেবের স্মরণ-মনন এক আনন্দপূর্ণ জীবনের দ্বার তাদের সামনে খুলে দেয়।

(বানররাজ সুগ্রীব ও বিভীষণ বিভিন্ন সময় ও ‘বানপ্রস্থ’র প্রাসঙ্গিকতা খালি শাস্ত্রের পাতায় খুঁজে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বানপ্রস্থ। এই বানপ্রস্থর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে নিতে হয়। এর জন্য মরের জোর অত্যন্ত জরুরি। খুব ধীরে ধীরে সংসারের বিষয়গুলি মানসিকভাবে ছাড়তে হয় এবং নিয়মিত নিজেকে জানার চেষ্টায় মন দিতে হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঢাঁর ‘চতুঃশ্লোকী ভাগবতে’ ব্রস্মাকে বলেছেন যে, ব্রহ্মা-জিজ্ঞাসা বা

আছ্ম-জিজ্ঞাসা যার মধ্যে জাগবে, ধরে নিতে হবে তার মানসিক শান্তির যাত্রা উত্তমরূপে শুরু হয়ে গেছে। গোস্বামীজী বলছেন শ্রীহনুমানজীর স্মরণ এই সময় খুর কাজ দেয়। আর সন্ন্যাস শুধু গেরুয়া বসন পরা বা সংসার ত্যাগ নয়, এর বৃহত্তর অর্থ হলো সংসারে থাকা বা না থাকা, এই দুই-অবস্থায় বেশির ভাগ সময় আতু-উন্নতি এবং ঈশ্বর অনুভূতির কাজ সময় দেওয়া। শ্রীহনুমানজী তাঁর স্মরণ-মননকারীদের এই পর্যায়ে পরিপূর্ণ ‘শরণাগতি’র মার্গদর্শন করান এবং নিজে হাতে ধরে তাদের প্রভুর (নিজ নিজ ইষ্টদেব/ দেবীর) চরণে সর্ম্পিত করান।

Hanuman Chalisa Chaupai 28 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 28 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa resonates with people seeking spiritual solace and strength.

Hanuman Chalisa Chaupai 28 in Bengali with Meaning & Analysis

চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা।
হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।

সারানুবাদ : সমস্ত জগতেই এ কথা প্রসিদ্ধ আছে এে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্ট্রলভাবে বর্তমান।

ব্যাখ্যা : আমাদের অজানা নয় যে শ্রীহনুমানজী ‘অমর’। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি চার যুগেই ঢাঁর অবাধ উপস্থিতি থাকে কোনো না কোনো रপে।

  • সত্য যুগে : তিনি ঢাঁর মূল স্বরূপ অর্থাৎ ভগবান শঙ্কর।
  • ত্রেতা যুগে : প্রভু শ্রীরাদের ভক্তশ্রেষ্ঠ ও দূতরূপে পরিচিত।

(৩) দ্বাপর যুগে : তৃতীয় পাঙ্বব অর্জুনের রথের ধ্বজাতে তিনি অবস্থিত যার জন্য ঢাঁর রথের আর এক নাম ‘কপিষ্বজ’। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধ শেফে অর্জুনকে দ্রহত রথ থেকে নামতে বললেন এবং শ্রীহনুমানজীকে আহূান করলেন ধ্বজা থেকে নেতে আসতে।

মুহূর্তে সেই রথ আগুনে পুড়ে ছইই হয়ে গেল। অর্জুন এই সব দেখে অবাক হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করায়, শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “‘মহাবীর কর্ণ ও পিতামহ ভীপ্মের বাণের তীব্রতাকে শীরনুমানজী এতদিন নিজের মধ্যে ধারণ করে রেখেছিলেন যে কারণে এই রথ অক্ষত ছিল। এঁদের বাণের এত জোর ছিল যে রথ একশো হাত পেছনে চলে যেতো কিল্তু শীহনুমানজীর কারণে তা হয়নি।”

(8) কলি যুগে : যেখানে প্রভু শ্রীরামের কথা হবে, তাঁর স্মরণ-মনন-ভজনকীর্তন হবে সেখানেই শ্রীহনুমানজী অবশ্যই উপস্থিত হবেন।

যত্র তত্র রঘুনাথকীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তবাঞ্জলিম্।
বাষ্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মরুতিং নমত রাক্ষসাস্তকম্।। (ब्ररनूমৎ-ग्णবन)

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাথের (নাম, রূপ, গুণ, লীলা আদি) কীর্তন করা হয়, সেই সেই জায়গায় করজোড়ে নতমস্তক হয়ে, অশ্রুপূর্ণ নয়নে যিনি সদা উপস্থিত থাকেন সেই রাক্সববংশের অস্তকারী পবননন্দনের উদ্লেশ্যে সকলেই প্রণাম নিবেদেন করুন।

শ্রীহনুমানজী বায়ুপুত্র হওয়ায় তিনি সর্বব্যাপী। পধ্চভূতের মধ্যে আর যারা আছেন যথা ভূমি, সমুদ্র (জল), আকাশ এবং অগ্নি এঁদের একটা সীমা আছে যার মধ্যে এঁদের থাকতে হয়, কিন্তু বায়ুর কোনো সীমা নেই। তাই তার গতি অবাধ এবং প্রচণ্ড বেগশালী। তাই শ্রীহনুমানজী স্বতন্ট ও সীমাহীন। তাঁর উপস্থিতি তাই যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায়, যে কোনো রূপে হতে পারে।

সবটাই তাঁর ইচ্ছাধীন। গোস্বামীজীকে তিনি প্রথম দর্শন দেন এক অতিবৃদ্ধ হিসাবে, দ্বিতীয় পাতুব ভীমকে তিনি দর্শন দেন এক পিঙ্গল চেহারার বৃদ্ধ বানর হিসাবে। অনেক ভগবৎদর্শী শ্রীহনুমানজীর পাবন সান্নিধ্য উপল্ধি করেছেন শীরারের লীলাকথায় বা ভজনে আবিষ্ট অবস্থায়। এই লেখকের একবার সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো।

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

Devotees often meditate on the meaning and significance of the Hanuman Chalisa with Meaning.

Hanuman Chalisa Chaupai 27 Meaning in Bengali

সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তन কে কাজ সকল তুম সাজা।

সারানুবাদঃ তপস্বী শ্রীরাম হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আপনি ঢাঁর সব কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন করেছেন।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈটি এক বিশেষ অর্থ বহন করছে :
‘সব পর’ এর সাংস্কৃতিক অর্থ হল (১) সবচেয়ে উত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ ; (২) আরেকটু গভীরে এর অর্থ হলো সমস্ত ব্যক্তি, বস্তু বা বিচারের ঊর্দ্ধে। প্রশ্ন হলো, শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের সমস্ত গুরুতর কাজ যা সবসময় সঙ্কটপূর্ণ ও আপাত অসম্ভব তা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সর্বদইই সম্পন্ন করেছেন, তাহলে ‘তপস্বী রাজা’ এই রূপটি এক্ষেত্রে প্রভু শ্রীরামের ক্ষেত্রে কেন্ন ব্যবহার করলেন ?

আর একটা প্রশ্ন আমাদের মনে জাগা থুব স্বাভাবিক তা হলো অনস্ত গুণের আধার, জ্ঞানী, বলবান, পরাক্রমী ও যশস্বী শ্রীহনুমানজী স্বতন্ত্র দেবতা হিসাবে পূজিত হওয়ার পূর্ণরূপে সক্ষম হওয়া সত্ত্তে, সর্বদা প্রভু শ্রীরামের চরণে সর্মি্পিত ছিলেন কেন ?

এর উত্তর খুঁজলেই আমরা এই চৌপাঈ-এর অস্তর্নিহিত অর্থ বা ব্যাখ্যা বুঝতে পারবো। শ্রীহনুমানজী, প্রভু শ্রীরামের প্রথম দর্শনের পর থেকেই তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। প্রভু শ্রীরামের বিশেষ কিছু গুণ তাঁকে প্রথনে তাঁর দিকে আকর্ষিত করে এবং পরে তাঁকে সদা ভাববিভোর করে রাখে, যেমন :

(এক) প্রভু শ্রীরামের নম্রতা- রাজপুত্র হরয়ও নিযাদরাজ গুহক, নাবিক কেবট, পথের মধ্যে সাক্ষাৎ হওয়া গ্রামবাসীগণ, সমস্ত বানর ও ঋক্ষদের সঙ্গে তাঁর প্রেমময় ব্যবহার শ্রীহনুমানজীর হৃদয় ছুঁয়ে যেতো। (প্রভু শ্রীরাম লঙ্কাজয়ের পর অযোধ্যা ফেরার পথে মিত্র গুহক, নাবিক কেবট সহ সমস্ত গ্র/মবাসীগণের সঙ্গে দেখা করে যান।)

(দুই) প্রভু শ্রীরামের সরলতা- একদিকে তাঁর অপার করুণা যেমন দেখা যেত দেবী অহন্যা, শবরীর মতো ভক্তদের ক্ষেত্রে, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রে রাক্ষসদের নিধনের সময় তাঁর চেহারা ছিল দেখার মতো। শ্রীহনুমানজী তাঁর এই সরলতা দেখেশনে ভাববিভোর হয়ে যেতেন।

কিল্তু ঢাঁর যে গুণে এীহুমানজ্জী অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং ঢাঁকে প্রভুর কাজ সম্পন্ন করার সবসময় প্রেরণা দিত তাহল তাঁর (প্রভু ঐীরাढর) মানসিক ও বাচিক কষ্ট স্বীকার, তাকেই বলে ‘তপ্’। কেবল রাজা অথবা কেবল তপস্বী হওয়া কঠিন নয়, কিস্তু একাধারে রাজা এবং তপস্বী হওয়া এবং এই দুইয়ের কর্তব্যকে. সঠিকভাবে পালন করে ‘তপস্বী রাজা’ হওয়া অত্যস্ত বঠিন কাজ। ধর্মের সংরক্ষণ, সামাজিক তথা আধ্যাগ্মিক মূল্যবোধের পরাকাষ্ঠা দেখানো এবং ভবিষ্যাতের রাজা ও প্রজার জন্য এক উচ্চ আদর্শ স্থাপন ছিল প্রভু শীরীামের মূলমন্ত্র।

চৌদ্দ বছর বনবাস যা কিনা একটু চেষ্টা করলে বা চাইলেই বন্ধ করা যেতো, তা তিনি করেননি। চৌদ্দ বছর বনবাসের সময়ও সমস্ত সুযোগ সুবিধা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে অস্বীকার করে তপসস্বীর মতো দিন কাটিয়েছেন। প্রভু শ্রীরাম জনকন্নি্দিনীর পবিত্রতার সন্বন্ধে নিঃসনেদেহে হওয়া সত্ত্বেও প্রজাদের ভাবনার মূল্য দিতে, তাঁকে ত্যাগ করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বাকি জীবন তাঁর বিয়োগে দুঃখে কটিয়েছিলেন অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে। প্রভুর এইসব গুণ, বিশেষতঃ তাঁর তপস্বী বেশে কাটানো বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জ শ্রীহনুমানজীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে হয়েছে এবং প্রভুর কঠিন কাজগুলি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সম্পল্ন করেছেন।

শ্রীহনুমানজীকে জড়িয়ে সাধু-সন্তদের রক্ষার অনেক কাহিনী আছে। সন্ত কবীরের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করবো। আমরা জানি যে কবীরের পর্ণকুটির বেনারসে অবস্থিত ছিল। তাঁর খ্যাতি তখন মধ্যগগনে। তিনি কাশীর বিখ্যাত রামাইয়া সম্পূূদায়ের গুরুর কাছে নাম দীক্ষা পেয়েছেন এবং তাও অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে।

কবীরের স্বভাব ছিল প্রত্যেক সন্ধ্যায় ভজন-কীর্তন করার এবং তা গড়িয়ে রাত্রি হয়ে যেতো তাঁর ভজনের অন্য সঙ্গীরা চলে গেলেও তিনি একাই উচ্তস্বরে নাম-গান করতেন। তাঁর পর্ণকুটিরের পাশেই ছিল এক বেশ্যা নর্তকীর বাড়ি। রাত্রি বাড়ার সাথে সাথে সেই নর্তকীর নাচ গানে মাদকতা আনার দরকার হতো তার খদ্দেরদের খুশির জন্য। সন্ত কবীরের উচ্চস্বরে ভজন তার সেই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াত। একদিন সেই নর্তকী তার মোহগ্রস্ত গ্রাহককে

বিরক্ত হয়ে বলল, “কবীরের কীর্ডন আমার মাদকতা সৃষ্টির চেষ্টাতে বাধার কারণ হচ্ছে।” এই শনে সেই মদ্যপ যুবক গ্রাহক নর্তকীকে খুশি করার জন্য বাইরে বেরিয়ে কবীরের পর্ণকুটিরে আগুন ধরিয়ে দিল। কবীর তাঁর বাড়িতে আগুন দেখে স্বগতোক্তি করে বললেন, “এটা কি রকম হলো? ভক্তের কুটীয়ায় আগুন ? ঠিক আছে, যেমন প্রভুর ইচ্ছা।” এরকম ভেবে তিনি তাঁর কুটীয়া ছেড়ে সামনের এক টৌমাথায় এক গাছের তলায় গিয়ে বসে আবার কীর্তন শুরু করলেন।

শ্রীহনুমানজীর কীর্তন অত্যন্ত প্রিয়। তিনি ভজনে কোনো বিঘু একদম পছন্দ করেন না। পবনপুত্র বাতাসের দিশাই বদলে দিলেন। মুহুর্তে সেই আগুন কবীরের কুটীয়া ছেড়ে নর্তকীর বাড়িকে গ্রাস করলো। কবীরের কুটীয়ার অনেকটাই বাঁচলো কিস্ত নর্তকীর বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো। নর্তকী ঘাবড়ে গিয়ে দৌড়ে কবীরকে জিজ্ঞেস করলো, “কবীর! এটা কি হলো?

আমার বাড়িতে কি করে আগুন লাগলো?” কবীর বললেন, “এ তো মনে হচ্ছে দুই প্রেমিকের লড়াই। এর মধ্যে আমি কি করতে পারি ?” কিছুক্ষণের কথা কাটাকাটির পর নর্তকী রেগে গিয়ে বললো, “তোমার প্রেমিক প্রেমের কি বোবে ?” কবীর শধু হেলে বললেন, “তুমি আমার সাথে কীর্তনে লেগে যাও। দেখবে আমার প্রেমিক তোমারও প্রেমিক হয়ে গেছে।”