Hanuman Chalisa Chaupai 20 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 20 Meaning in Bengali

Some families have a tradition of reciting the Hanuman Chalisa Lyrics together every Tuesday.

Hanuman Chalisa Chaupai 20 in Bengali with Meaning & Analysis

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।।
সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে॥

সারানুবাদ : বিশ্বে যত কঠিন কাজ আছে বা হয়, আপনার কৃপায় সেই সব কাজ তত সহজ হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজীর ভক্তরা শ্রীহনুমান চালীসার এই চৌপাঈটিকে তাঁর হৃদয় রূপে মান্য করেন।

শ্রীহনমানজীর কथ: মনে এলেই তাঁর সঙ্কটমোচল গুণটি সবার আগে মনে পড়ে। এই চৌপাঈটির ভাবপূর্ণ পাঠ বা গান এবং তাঁর স্মরণ ভচেক্তর হৃদয়ে এক অভূতপূর্ব আত্মবিশ্বাস এবং অস্তঃকরণে প্রসন্নতা নিয়ে আসে। আমরা, যারা সাংসারিক জীব, আমাদের দৈনनদিন জীবনে সমস্যা সদাই লেগে আছে। কখনও কখনও সঙ্কট অত্যণ্ত গভীর এবং তার সমাধান আরো কঠিন মনে হয়। সেই কঠিন সমস্যার সমাধান যখন সহজেই হয়ে যায়, তখন আমাদের কি প্রভুকৃপার অনুভব হয় না ?

যোগ বা সাধনপথের প্রণম্য সাধকরা একথা জোরের সঙ্গে বলেন যে, সাধনপথের পথিককে সর্বদাই জীবনের পিছনদিকে নজর দিয়ে ঈশ্বরকৃপার বা অদৃশ্য হাতের পরশের অনুভব নিতে হয়। মানুষের অহংকারনাশের এর চেয়ে ভাল পথ আর কিছু নেই। ঈপ্বরকৃপার এই অনুভব যার যত বেশি হয়, তার আল্পুত মনের আবেগপূর্ণ প্রার্থনা ততটাই তাকে তার ইষ্টকে টেনে আনতে সাহায্য করে।

এই বিশ্বে সব থেকে দুর্গম কাজ কোনটা বা কি হতে পারে ? স্বয়ং প্রভু শ্রীরামের যে কাজকে অত্যন্ত দুক্ষর মনে হয় তাই সবচেয়ে দুর্গম হওয়া উচিত। জনকনন্দিনী সীতার খোঁজ, ভাই লস্ষ্মপের শক্তিশেলে অচেতন হওয়া, এই ঘটনায় প্রভু শ্রীরামের অত্যন্ত চিচ্তিত ও ব্যথিত হয়ে রোদন করা এই ঘটনাগুলিকে কঠিন থেকে কঠিনতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

একটিতে দেবী সীতার থ্থোজ যার কোনো সূত্রই কারও জানা নেই এবং সমস্ত ভারতবর্শের যে কোনো প্রাত্ত বা তার বাইরেও তাঁর গস্তব্য হতে পারে, অন্যটিতে সময় মাত্র, একরাত্রি এবং দূরত্ব ভারতের দক্ষিণ থেকে উত্তরের শীর্ষে এবং সমাধান সূত্র শক্রুর বৈদ্যর কাছে ; এর চেয়ে কঠিন সঙ্কটময় পরিস্থিতি আর কি হতে পারে?

প্রভু শ্রীরামের হৃদয় সদাই দ্রবীভূত থাকতো। কোমল হৃদয় ও অপার করুণার সাগর শ্রীরাম মর্যাদা পুরুযোত্তম হবার কারণে এই সবের বহিঃপ্রকাশের বিষয়ে সদা সচেতন থাকতেন। কিন্তু সেই তিনি ঢাঁর চোখের জলের বাঁধ আটকে রাখতে পারেননি কিছু কিছু মুহূর্তে। যেমন দেবী অহল্যার কাহিনী ঋষি বিশ্ধামিত্রের কাছ থেকে শুনে তাঁর চোখ ছলছল করে উঠেছিল এবং অশ্রুধারার বর্ষণ তিনি আটকাতে পারেননি। দেবী সীতার অপহরণ ও চাঁর

খোঁজজর সময় তিনি অশ্রুধারায় প্লাবিত হয়েছিলেন। কিল্তু ভাই লক্ষ্মণের শক্তিশেলে অচেত্ন হওয়া তাঁকে অত্যন্ত শোকগ্রস্ত করেছিলো এবং তিনি উচ্চেঃস্বরে রোদন করে ভাইয়ের সাথে মৃত্যুবরণের কথা পর্যন্ত বলে বিলাপ করছিলেন। এই কঠিন সঙ্কটময় অবস্থায় যখন সকলে দিশাহারা তখন প্রভু শ্রীরামের কাছে গিয়ে শ্রীহনুমানজী (প্রভু শ্রীরামের অর্রু ঢাঁকে অত্যন্ত বিচলিত করেছিলো)

যে কথা বলেছিলেন, তা তাঁর মতো বীররলে পুষ্ট নিভীক ব্যক্তির পক্ষেই বলা সম্ভব। ‘হনুমত্রাটক’ এ এর উল্লেখ আছে- শ্রীহনুমানজী বলেছেন, “প্রভু, আপনি আজ্ঞ করলে আমি স্বর্গ বা পাতাল থেকে অমৃত নিয়ে আসতে পারি, চাঁদকে নিংড়ে লক্ষ্মণের মুতে অমৃত ঢালতে পারি, সূর্যের কিরণ যাতে পৃথিবীতে পৌঁছতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে পারি

(সূর্যকে পাতালে বন্দী করে রাখতে পারি) ; আর মৃত্যুলোকের দেবতা যমরাজকে ধরে কাঁচাই চিবোতে পারি।” একবার ভাবুন এও কি সম্তব ? চন্দ্রকে কি কেউ নিংড়োতে পারে ? নাকি যমরাজকে কেউ মারতে পারে? কিস্তু গোস্বামীজী মনে করেন এ সব করা শ্রীহনুমানজীর পক্ষে অবশ্যই সম্তব, কারণ “দুর্গম কাজে জগতকে জেতে, সুগম অনুগ্রহ তুমহরে তেতে”-এই তো শ্রীহনুমানজীর পরিচয়।

আগেই বলা হয়েছে যে, শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে রামকথার প্রসঙ্গ এসেছে কখনও ভগবান শংকর ও দেবী পার্বতীর মধ্যে, কখনও ঋষি যাজ্ঞবক্ষ্য ও ঋষি ভরদ্বাজের মধ্যে, বা কাকভুশণ্ডি ও মহাগ্মা গরুড়ের মধ্যে। তো ভগবান শংকরের মুখ থেকে শ্রীহনুমানজীর এই কথা (‘হনুমত্রাটক’) শুনে দেবী পার্বতী ভগবান শংকরকে জিজ্ঞসা করছেন, “প্রভু, এটা কি করে সম্ভব ? শ্রীহনুমানজীর সব কাজের সিদ্ধির সাক্ষী তো আপনি (‘হোয় সিদ্ধি সাক্ষী গোরীসা’-হনুমান চালীসা), মৃত্যুর দেবতার মৃত্যু কি করে সম্ভব?

এখন ভেবে দেখুন স্বয়ং ভগবান শংকরের অবতার শ্রীহনুমানজী এবং দেবী পার্বতী তাঁর কাছেই জানতে চাইছেন। দেবাদিদেব মহাদেবের উত্তর তো ওনুন, “হে পার্বতী! এ সবই সম্ভব। কিস্তু এ সব কার প্রতাপে? এর মধ্যে হনুমানজীর কোনো স্পর্ধা নেই, এ সবই প্রভু শ্রীরামের প্রতাপ, যা কিনা কালকেও গ্রাস করতে পারে।” তাহলে দেখা যাচ্ছে শ্রীহনুমানজীর সব কাজের যিনি সাক্ষী, সেই ভগবান শংকর বলছেন সমস্ত দুর্গম ও অসম্তব কাজ

শ্রীহনুমানজী সিদ্ধ করতে সক্ষম। আমাদের জানতে ইচ্ছে করে এই অদ্ভুত ক্ষমতা শ্রীহনুমানজী কোথা থেকে পেলেন এবং এ্রীহনুমানজীর কৃপায় যখন দুর্গম/ কঠिन কাজ সরল হয়ে যায়, তখন সাধক বা ভক্ত কি করলে এ্রীহনুমানজীর অনুগ্রহ পাবেন? এই সম্বক্ধে অনেকের অটেক মত আছে যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু মোটামুটি শ্রীহনুমানজীর কৃপাধন্য ব্যক্তিরা যা বলে থাকেন বা বিভিন্ন শাস্ত্র যে কথার উল্লেখ করে আমরা সেই দিকটির প্রতি একবার দৃষ্টি দিই।

সাধারণতঃ শ্রীহনুমানজীর ভক্তদের এটা বিশ্বাস বা ঢাঁরা মানেন যে, শ্রীহনুমানজীকে খুশি রাখতে পারলে, তিনি কিছু ‘চমৎকার’ করে কঠিন কোনো সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সরল ভাবে করে দেবেন। শাস্ত্রকাররা এই কথা মানেন যে, কঠিন সমস্যার সহজ সমাধান শ্রীহনুমানজীর কৃপায় সম্ভব কিস্তু তাঁরা এই ‘চমৎকার’-এর তত্ত্তে বিশ্বাসী নন, যদিও আমার অত্যন্ত পরিচিতদের থেকে নিজের

জোগাড় করা তথ্য এই ঘটনার সাক্ষী যে বিশ্বাসে তো বটেই, অত্যন্ত অবিশ্বাসে করাও শ্রীহনুমান চালীসা পাঠ সাক্ষাৎ মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে বা অবিশ্বাস্যভাবে সঙ্কট থেকে উদ্ধার করেছে যা কিনা কোনো ‘চমৎকার’-এর চেয়ে কম নয়। এই সমস্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে পাঠককুলের কছছে একটি বই প্রস্তুত করার ইচ্ছা আছে।

শাস্ত্রকাররা শ্রীহনুমানজীর ওপর লিখিত বিভিন্ন গ্রম্থ এবং তাঁর ভক্তদের উপলক্ধির কথা মাথায় রেখে বলেন যে-

(ক) শ্রীহনুমানজীর নিয়মিত উপাসনা তাঁর (শ্রীহনুমানজীর) সমস্ত সদ্গুণগুলিকে ধীরে ধীরে তাঁর ভক্তের মধ্যে প্রবেশ করায় এবং সেই সমস্ত গুণের লক্ষণযুক্ত ব্যক্তি তার পুরুষার্থ দ্বারা পরিণামে কঠিন কাজকে সরলভাবে সিদ্ধ করে। এই বিষয়ে শাস্ত্র বলে-

“বুদ্ধিবলং যশোধৈর্য নির্ভয়ত্বসরোগতা।
অयाড্যং বাক্যদূपবং চ হনুমৎ স্মরণৎ ভবেত।”

অর্থাৎ শ্রীহনুমানজীর চ্মরণ করলে মানুষের বুদ্ধি, বল, যশ, ধৈর্য, নির্ভয়তা, আরোগ্যতা, বিবেক আর বাক্যকৌশল ইত্যাদি গুণ এসে যায়।

(খ) এখন প্রশ্ন জগে যে শ্রীহনুমানজীর অনুগ্রহ আরও সহজভাবে কি পাওয়া সম্ভব কারণ শ্রীহনুমানজীর উপাসনার পরিধি এবং বিস্তৃতি বিভিন্ন

গ্রন্থে বিভিন্ন ভাবে বিবৃত হয়েছে। এই বিষয়ে শ্রীহনুমানজীর সাধনসিদ্ধ ভক্তদের সম্মিলিত রায় হলো যে শ্রীহনুমানজীর অনুগ্রহ লাভের সবচেয়ে সরল মার্গ रुला :

শ্রীরামনাম মজ্ত্রের অবিরত জপ;
শ্রীরামকথা শ্রবণ, অধ্যয়ন ও চিন্তন বা মনन।

শ্রীহনুমানজীর উপাসনার অর্থ এই নয় যে চ্ঁর মূর্তির সামনে হাত জোড় করে বসে থাকা এবং কোরো ‘চমৎকার’-এর প্রতীক্ষা করা। এই পথের মহাজনরা বলেন যে, ইষ্টদেবতার নিয়মিত মনन (তাঁর নাম, রূপ, লীলা, করুণা, প্রেম, তাঁর ভক্তের লীলা ইত্যাদি) তার মধ্যেকার ভয়, চিন্তা অনেকটা দূর করে এবং সমস্যা নোকাবিলা করার মানসিক উৎসাহ ও হিম্মত জোগায়। মহাজনের।

এই কথাও বলেন যে, মানুষ যদি তার নিজের ভেতরের সামর্থ্য ও শক্তিকে সমস্যার কঠিনতার থেকে ইীন মনে করে, তবে কোনো পুরুষার্থই তাকে তার ইপ্সিত লক্ষ্যে পোঁছতে দেবে না। শ্রীহনুমানজী সব সময় ডাঁর সামর্থ্য ও শক্তি সম্বক্ধে দৃঢ় নিশ্চয় ছিলেন এবং এও জানতেন যে অবিরাম রামনাম জপ ও ইট্টের মনন তাঁর সামর্থ্য ও শক্তিকে আরও বলশালী করেছে। প্রভু শ্রীরামই তাঁর শক্তি ও সামর্থ্য এই বিশ্ধাস তাঁকে কঠিন থেকে কঠিনতম সময়ের মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছে।

শ্রীহনুমানজীর এই মানসিক দৃঢ়তা ও সংকল্পে অটুটতার প্রধান কারণ হলো তাঁর আজন্ম ব্রস্মার্য পালন। তার অগাধ শক্তিস্রোতেরও এটাই কারণ। ব্রস্মাচর্য রক্ষা ও পালন করা কলিযুগের এক কঠিনতম ব্রত। এই ব্রত পালনকারী দিব্য দুর্লভ গুণের অধিকারী হয়।

শ্রীহনুমানজী সব সময় লক্ষ্য রাখেন যে রামভক্তদের যেন দুঃখ, বেদনা ইত্যাদি না ঘটে বা তারা পরিশ্রাত্ত বা নাজেহাল না হন। প্রভু শ্রীরামের কাছে তাদের আর্তি পোঁছোনোর আগেই তিনি তাদের সমস্যা মিটিয়ে দেবার সর্বদা চেষা করেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 19 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 19 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa tells the tale of Hanuman’s devotion and unwavering loyalty to Lord Rama.

Hanuman Chalisa Chaupai 19 in Bengali with Meaning & Analysis

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীঁ।
জলধি লাঘিঁ গয়ে অচরজ নাহাঁ।

সারানুবাদ : থ্রভু শ্রীরামের আংটি মুখে রেখে সমুদ্র লখ্ঘন করে যাওয়ার মধ্যে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

ব্যাখ্যা : গোস্বামী তুলসীদাসজী এই চৌপাঈতে প্রভু শ্রীরামের দেওয়া আংটিকে তাঁর কৃপার প্রতীক হিসাবে দেখিয়েছেন। আমাদের দেশে এমনকি পাশ্চাত্য দেশের লোকাচারের পরম্পরায় ‘সাগাই’এ এই আংটির এক বিশেষ ভূমিকা আছে। যুবক ও যুবতীর সমস্ত জীবনে এই আংটি এক অটুট সম্বন্ধের চিহুরূপে সদা বিরাজ করে।

সেইরকম আত্মতত্ত্ব ও পরমামতত্ত্বের মধ্যেও এক অটুট সম্বন্ধ আছে যা ঈশ্বরের কৃপায় ‘প্রভুমুদ্রিকা’ জীবাত্মার পরমাত্মার সাথে মিলনের পথকে সহজ করে। ভক্তের অনুভূতিতে যখন এই বিষয় দৃঢ হয়, তখন তার কৃপাপ্রাপ্তির বিশ্বাস তাকে নিরন্তর সংসাররূপ সাগর অতিক্রং করার প্রেরণা যোগায়। গোস্বামীজী শ্রীহনুমানজীর প্রসঙ্গে বলছেন যে, প্রভুকৃপাস্বরূপ মুদ্রিকা যখন তাঁর সহায় তখন তিনি যে দুস্তর সাগর হেলায় লাফ দিয়ে অতিক্রম করবেন এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে।

আমরা যদি আধ্যাছিক দিক দিয়ে বিচার করি তবে এই সাগরকে ভারত আর লঙ্কার মধ্যেকার সাগর না ভেবে তাকে সংসাররূপ সাগর ভাবতে পারি এবং মহাকবি কালিদাসের ‘রঘুবংশম’-এর মতো বলতে পারি :
‘মারুতিঃ সাগরংতীর্ণঃ সংসারমিব নির্মমঃ’ অর্থাৎ শ্রীহনুমানজী এমন ভাবে সমুদ্রে লাফ দিয়ে পার হলেন যেমন করে মমতারহিত ব্যক্তি সংসার-সাগর হেলায় পার হয়ে যায়।

ঈশ্বরকৃপা ভক্তকে যেমন কর্তব্য বিষয়ে সচেতনতা দেয় তেমনই সংসার মায়াস্বরূপ মমতার ডালপালা বেশি মেলতে দেয় না। সত্যি কথা বলতে কি মানুষকে সংসারে বেঁঁ রাখার ক্ষমতা কারোরই নেই। মানুষ নিজেই সাংসারিক মোহমায়াকে কাছে টেনে নিয়ে নানান বঙ্ধনে বেঁধে যায়। সমস্যার মূল যে ‘আমি’, ‘আমার’ ইত্যাদি স্বরূপ অহংকার, এর থেকে মানুষ যখন অভ্যাস ও বৈরাগ্যযোগে বেরিয়ে আসে, তখন তার সাধনপথ হয় সদা বিঘ্নরহিত ও আনन्দপূর্ণ।

প্রভুকৃপা যাঁর সহায়, তিনি অহংকার রহিত, তাঁকে ভবসাগর সাঁতরে পেরোতে হয় না, তিনি যে মুদ্রায় আসন নিন্ না কেন, সেই অবস্থায়, সেই নামস্বরূপ ভাবাবিষ্ট অবস্থায় তিনি ভবসাগর লঙ্খন করে যান। বহু সাধক, যোগী, ভক্ত এর সাক্ষী আছেন। তাই শ্রীহনুমানজীর মুদ্রিকাস্বরূপ শ্রীরামকৃপা যে ঢাঁকে সাগর অতি সহজে লখ্টন করাবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

Hanuman Chalisa Chaupai 18 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 18 Meaning in Bengali

Pilgrims visiting Hanuman temples often offer the recitation of Hanuman Chalisa with Meaning as a form of worship.

Hanuman Chalisa Chaupai 18 in Bengali with Meaning & Analysis

যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ।
লীল্যো তাহি মধর ফল জানূ॥

সারানুবাদ : সহম্র বা হাজার যুগ-যোজন দূরে অবস্থিত যে সূর্য, তাকে আপনি সুমিষ্ট ফল মনে করে গ্রহণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা : এই চোপাঈতে গোস্বামীজী তাঁর ভক্ত হৃদয়ের অপূর্ব কাব্যশৈলীর পরিচয় রেখে শ্রীহনুমানজীর পরাক্রমের চিত্র অক্কন করেছেন।

শ্রীহনুমানজীর নাম কেন হনুমান রাখা হলো প্রসঙ্গের মূল সূত্র এই চোপাঈতে খুঁজে পাওয়া যাবে। হনুমান চালীসার আলোচনা করতে গিয়ে হনুমান নামকরণের কাহিনী আগে সংক্ষেপে বলেছি। এখন আমরা দেখব গোস্বামীজী এই প্রসঙ্গে আমাদের মনের মধ্যে ওঠা কয়েকটি প্রশ্নের কিভাবে নিরসন করছেন।

প্রথম প্রল্ন : স্বয়ং ভগবান শংকরের একাদশ অবতার কিভাবে ভোরের উদীয়মান সূর্যকে একটি ফল বলে ভুল করলেন ?

দ্বিতীয় बরশ্ন : গোস্বামীজী পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব বোঝাতে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আধুনিক গণনাকারদের সঙ্গে কতটা মেলে ?

তৃতীয় প্রশ্ন : যে হনুমানজী মাতা জানকীর অনুমতি নিয়ে নিজের তীব্র খিদে নিবারণের জন্য অশোকবাটীকায় ইচ্ছে মতো ফল খেলেন এবং তার আগে প্রচণ খিদে সত্ত্বেও মৈনাক পর্বতের অনুরোধেও বিশ্রাম ও ফল গ্রহণ করলেন না, ওধু তাই নয় সমুদ্র লখ্বনের পরেও ফলের বাগান দেখে খিদে চেপে রাখলেন, সেই তিনি ওই অল্প বয়সে মায়ের আগমনের জন্য (মা অঞ্জনা বাড়ির বাইরে ছিলেন) খিদে চেপে রাখতে পারলেন না ?

মহাপরাক্রমী শ্রীহনুমানজীর অনनয কথার রস-আস্বাদনের জন্য এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আসুন, আমরা সেই রস-সাগরে ডুব দিই।। প্রথমেই দেখি, “যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ” বলতে কি বোঝানো হচ্ছে?

দূরত্ব মাপবার সংস্কৃত শব্দ ‘যোজন’। আমরা যদি আরো বিস্তৃত তথ্যের অনুসন্ধানে যাই তাহলে কয়েকটি জিনিস আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যেমন পঞ্চম শতাব্দীতে রচিত ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ অনুসারে পাঁচ মাইলকে এক যোজন বলে ধরা হতো।

আবার আর্যভট্ট তাঁর রচিত গ্রন্থ আর্যভট্টীয়তেও এই হিসাবকে সঠিক বলে মান্য করেছিলেন। কিস্তু চতুর্দশ শতাব্দীতে এই হিসাবকে অস্বীকার করে এক যোজনকে আট মইল সমান ধরা হয়েছিলো। আলেকজাগার কানিংহাম নামে এক ভৌগোলিক এক যোজনকে আট মাইলই মেনেছিলেন। তাই আমরা এক যোজনকে আট মাইল মেনেই এগিয়ে চল|

এই চৌপাঈতে গোস্বামীজী পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বকে তাঁর ভক্তিমিশ্রিত কাব্যে সূত্রাকারে প্রস্তুত করে বলছেন যে ‘যুগ সহস্র যোজন’। এবার দেখা যাক হিসেব কি দাঁড়াচ্ছে ?

১ যুগ = ১২,০০০ বছর
হাজার = ১, ০০০
১ যোজন = মাইল

তাহলে ‘যুগ সरस যোজন’ দাঁড়ায় : ১২,০০০ x ১, ০ ০ ০ x  = ৯,৬০,০০,০০০ অর্থাৎ ন কোটি ষাট লক্ষ মইল। তাহলে দেখা যাচ্ছে গোস্বামীজী যোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব বৈজ্ঞানিক সিদ্ধাস্তের প্রায় কাছাকাছিই বলেছিলেন। গোস্বামীজী শ্রীহনুমানজীর অসামান্য কীর্তির বর্ণনায় এই বিশাল ও অসম্ভব দূরত্বের বর্ণনা রেখেছেন।

এরপর আমরা প্রথম ও তৃতীয় প্রণ্নের উত্তর থুঁজবো। প্রভাতের উদীয়মান সূর্যকে ফল ভেবে তাকে গ্রহণ করার জন্য লাফ মেরে শ্রীহনুমানজীর এগিয়ে চলার ঘটনা প্রধানতঃ বিভিন্ন রামায়ণে কিষ্কিন্ধাকাণ্ড, উত্তরকাণ্ত ও সুন্দরকাণ্ডে পাই। মহাকবি বাল্মীকির রামায়ণে এই ঘটনার বিস্তারিত উঙ্লেখ দুই জায়গায় পাই। প্রথমে কিষ্কিন্ধাকাগ্ডে ও পরে উত্তরকাগ্ডে।

উত্তরকাগ্ডের বর্ণনা অনুসারে এই ঘটনার দিন ছিল অমাবস্যা। রাহ সূর্যকে গ্রাস করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, তখন শ্রীহনুমানজীকে দেখে সে পালিয়ে যায়। দেবরাজ ইন্দ্র, রাহুর কাছে খবর পেয়ে শ্রীহনুমানজীকে নিরস্ত করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ঢাঁর ওপর বজ্জ প্রহার করেন। বাল্মীকি রামায়ণ অনুসারে শ্রীহনুমান মুখে আঘাত পেয়ে

মূর্ছিতিত অবস্থায় উদয়গিরি পর্বতের শিখরে পড়েন। যেহেতু তাঁর হনু খগ্ডিত বা বসে যায়, তাই তাঁর নাম হনুমান। এই ঘটনায় পবনদেব (ब্রীহনুমানজীর মানস পিতা) অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে তাঁর কাজ বন্ধ করে দেন। সমস্ত জগৎ প্রাণবায়ুর অভাবে লয়প্রাপ্ত হওয়ার দিকে এগোতে থাকলে দেবতারা প্রমাদ গোনেন। ব্রহ্মদেব দেবতাদের অনুরোধে সকলকে নিয়ে পবনদেবকে বোঝান এবং শ্রীহনুমানজীকে সুস্থ করে তুলে তাঁকে আশীর্বাদসহ সমস্ত রকম শক্তি আলাদা আলাদাভাবে দেবতাদের দিয়ে দেওয়ান।

পরে অবশ্য ঋযিগণ তাঁর ওপর রুষ্ট হয়ে তাঁর এই সমস্ত শক্তি বিস্মরণের অভিশাপ দেন। অনেক পরে বয়োঃজ্যেষ্ঠ ঋক্ষরাজ জাম্ববান তাঁর এই শক্তির কথা মনে করালে শ্রীহনুমানজী দেবতাদের আশীর্বাদে তাঁকে দেওয়া সমস্ত শক্তি ফিরে পান। এই সমস্ত ঘটনা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যায় যে, অত্যন্ত ছোট বয়স থেকেইই শ্রীহনুমানজী ছিলেন অসম সাহসী, निর্ভয় ও প্রচঞ শক্তিধর।

এইবার আমরা দেখি শ্রীহনুমানজী সূর্যকে কি করে ফল বলে ভুল করলেন এবং প্রচগু খিদেকে কেন সহ্য করলেন না ? শ্রীহনুমানজীর দ্বারা সংঘঠিত এই ঘটনার ফল ছিল সূদূরপ্রসারী। রামায়ণের ঘটনাক্রমে ও ভক্তদের সাধকের জিজ্ঞাসার উত্তর এতে নিহিত আ৫ছ। গোস্বামীজীর এই চৌপাঈ-এর আধ্যাছ্মিক ব্যাখ্যার দিকটা একবার দেখি।

এই ঘটনা এই কথা প্রমাণ করে যে, শ্রীহনুমানজী সেই সকালে অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ছিলেন। ক্কুধা সাধারণতঃ তিন প্রকারের হয়। সর্বপ্রথম – শরীরের ক্ষুধা। এই ক্ষুধা, ধনী হোক বা গরীব, সবার একইরকম হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাত, সদ্গুণী বা নির্তণ, অ্ঞানী বা অজ্ঞানী সবারই শারীরিক ক্ষুধা একই রকম হয়। আর সবাই এই ক্ষুধাকে খাবার গ্রহণের দ্বারা নিবৃত্ত করে।

শরীরের ক্ষুধার মতো মন ও বুদ্ধিরও ক্কুধা আছে। কারণ মানব কেবল শরীর নয়, মন ও বুদ্ধির সমন্বয়ও বটে। মানুযের মনের অনেক কুষুধার মধ্যে সর্বদাই প্রাথমিকতা হলো প্রেম ও আদর পাওয়া। মনের আরেক ক্ষুধা হলো প্রসন্ন হওয়া বা প্রসন্নতাকে পাওয়া। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় ক্ষুধা হলো শাত্তির এবং এই ক্ষুধার নিবৃত্তি হল শাত্তিলাভ।এইরকমই বুদ্ধির ক্ষুধা হলো সত্যকে জানা অর্থাৎ আমি কে? সংসার কি? ভগবান কেমন ?

অর্থাৎ প্রথম প্রশ জীব সম্পর্কিত, দ্বিতীয় প্রশ্ জগতকে নিঢ়ে আর তৃতীয় প্রশ্ন জগদীশকে নিয়ে। মানুমের সুস্থ দেহ এবং উই্ততির জন্য অত্যন্ত জরুরি হলো তার শরীর, মন ও বুদ্ধির খিদে যেন সদা জাগ্রিত থাকে এবং সুচারূপে যেন তা সধ্ট্টি প্রদান করে। এই বিশ্লেষণ থেকে আমরা বুঝডে পারছি যে শ্রীহনমমানজী খিদের তাড়নায় সূর্যকে ফল ভেবে ভে লম্ফ দিয়েছিলেন, তাঁর সেই খিদে ছিল বোধ্ধিক অর্থাৎ বুদ্ধি দ্বারা পুষ্ট। উদীয়মান সূর্যকে নিতের অস্তঃকরণে উতরানোর প্রয়াস পরম সত্যকে উপলক্ধির প্রতীকস্বরূপ।

अসঢো মা সদ্গময়।
उसসো মা জ্যোতির্গুয়।
মৃर्णযো মা অমৃতং গময়।

(বৃহদারণ্যক উপनियদ) আক্মস করার জন্য যেমন বড় নাফ দেওয়ার প্রেরণা দেয়, সেই রক্ম ভক্ত ও সাধকদের সদা সত্য, জ্ঞান এবং অমৃত্তৃর থোঁজে উর্ধগমনের (সাধন ৫ বৈরাগ্যের সিঁंড়ি আরোহণের) চেষ্টা করা উচিত।

Hanuman Chalisa Chaupai 17 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 17 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Meaning is considered a source of spiritual strength during challenging times.

Hanuman Chalisa Chaupai 17 in Bengali with Meaning & Analysis

তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।
লঙ্কেশ্বর ভএ সব জগ জানা।

সারানুবাদ : তোমার (শ্রীহনমানজীর) পরামর্শ মান্য করে বিভীষণ লঙ্কার রাজা হয়েছিলেন, এই কথা সমস্ত সংসার জেনেছিলেন।

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈতে এমন কয়েকটি মূল্যবান তথ্য সম্মিলিত আছে যা ভগবদ্-ভক্ত বা সাধকের মনে প্রেরণা দেয়।

সাধারণতঃ এই কথা মানা হয় যে, প্রভুভক্তি বা ঈশ্বর সাধনায় ফল পেতে হলে সাংসারিক সুখ, সম্পত্তি, পদের মোহ, নাম-যশ কামনা ইত্যাদি সব ত্যাগ করতে হয়। কিন্তু চোপাঈ ১৬ এবং ১৭ আমাদের সামনে এক স্পষ্ট উদাহরণ দেয় যে, শ্রীহনুমানজীর কৃপা বানররাজ সুগ্রীব ও লঙ্কেশ্বর রাবণের ছোট ভাই বিভীষণের অপার আনন্দ ও লৌকিক সুখের কারণ হয়েছিল এই সব কিছু না ত্যাগ করেই।

তাই উপরের উদাহরণ সর্বসাধারণের জন্য এই কথা সিদ্ধ করে যে শ্রীহনুমান চালীসার পাঠ, শ্রীহনুমানজীর উপাসনা এবং অন্যান্য উপদেশ ইত্যাদি ঠিকমতো পালন করলে অর্থাৎ শ্রীহনুমানজীর নিত্য সঙ্গ করলে সংসারে থেকেই অলৌকিক আনन্দ ও সুখ পাওয়া যায়।

আগেই বলা হয়েছে যে লঙ্কাপতি রাবনের ছোট ভাই ছিলেন বিভীষণ। তিনি শ্রীহনুমানজীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনেক আগে থেকেই শ্রীরামের ভক্ত ছিলেন। লঙ্কেশ রাবণের মতো কঠোর শ্রীরামের বিরোধীর ছোট ভাই হওয়া সত্তৃও এবং রাজকীয় আয়েশ-আরামের মধ্যে থেকেও তাঁর শ্রীরাম-ভক্তিতে এতটুকু শিথিলতা আসেনি। অযোধ্যায় অনুকূল পরিবেশে শ্রীরামের ভক্তি আর লঙ্কায় অতি প্রতিকূল অবস্থায় ভক্তি সাধনায় অটুট থাকার মধ্যে অনেক পার্থক্য। শীবিভীষণ নিজের ঘরকে মন্দির বানিয়েছিলেন।

তুলসীমঞ্চ থেকে ঘরের বিভিন্ন অংশে তুভ প্রতীক রেখে তিনি শ্রীরামভক্তিতে মগ্ন থাকতেন। আর সেই প্রতীক দেখেই তো শ্রীহনুমানজীর মাতা সীতার থোঁজে লঙ্কায় ঘুরতে ঘুরতে বিভীষণের ঘরে প্রবেশ। তারপর বিভীষণের ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময় ‘রাম’, ‘রাম’, ‘রাম’ নামের উদাত্ত আহ্বান শ্রীহনুমানজীর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জাগায় যে তিনি একজন ভক্তর বাড়িতে পৌঁছেছেন।

শ্রীহনুমানজীর বিভীষণের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনাক্রম এইজন্য উম্লেখ করছি কারণ তাঁদের কথাবার্তার মধ্যে শ্রীহনুমানজীর বিভীষণকে কোনো ‘মস্ত্র’ দেওয়ার প্রসঙ্গ আসেনি। অথচ চৌপাঈতে উল্লেখ আছে যে, শ্রীহনুমানজীর দেওয়া ‘মন্ত্র’ বিভীষণ মান্য করেছিলেন। সমসু রামায়ণের কোথাও শ্রীহনুমানজীর বিধিবদ্ধভাবে দেওয়া ‘মন্ত্র-দীক্ষার’ কোনো উল্লেখ নেই। তাহলে গোস্বামী তুলসীদাসজী কোন মন্ত্র দেওয়ার কথা বলছেন ?

শ্রীহনুমানজীর দর্শন ও পরিচয় পেয়ে একজন সত্যিকারের ভক্তের মতো বিভীষণ তাঁর মনের বেদনা ও দুর্ভাগ্যের কথা তাঁকে জানালেন। রাক্ষসকুলে তাঁর জন্ম, লঙ্কায় চতুর্দিকের আসুরিক শক্তির মধ্যে তাঁর বাস, অনুকূল পরিস্থিতির অভাবে তাঁর পর্যাপু আধ্যাছ্মিক বিকাশ না হওয়া এবং তার কারণে প্রভু শ্রীরামের কৃপালাভ থেকে বঞ্চিত হওয়া প্রভৃতি কথা বলে তিনি তাঁর মনের বেদনা ঢাঁর কাছে প্রকাশ করলেন।

শ্রীহনুমানজী তাঁর অপূর্ব বাক্যশৈলীর প্রয়োগে শ্রীবিভীষণকে আশ্বস্ত করলেন যে কৃপাসিক্ধু শ্রীরাম তাঁর ভক্তদের সদইই করুণা করেন। শ্রীহনুমানজী তাঁর

নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন যে তাঁর মতো একজন সদা চঞ্চল বানরও তাঁর কৃপা ও করুণা লাভ থেকে বধ্চিত হয়নি। একথা সত্য যে বিভীষণের প্রভু শ্রীরামের প্রতি প্রেম ছিল অনन, কিস্তু চাঁর ভক্তি নিষ্्্রিয় ছিল। যখন শ্রীহনুমানজী মাতা সীতার বিষয়ে জানতে চাইলেন, তখন বিভীষণ তাঁকে জানালেন যে, সীতা অশোক বাটীকায় রাক্ষসী দ্বারা বেষ্টিত হয়ে পরম দুঃ: দিন অতিবাহিত করছেন। একথা শুনে শ্রীহনুমানজী মাতা সীতার থোঁজ পাওয়ায় তাঁর এখানে আগমনের সার্থকতার কথা ভেবে প্রসন্ন হলেন, কিন্তু চাঁর মন বিষাদময় হয়ে উঠলো দুটো কারণে:

(এক) বিভীষণ প্রভু শ্রীরামের ভক্ত হওয়া সন্তেত একবারের জন্যও সীতার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে এই দুঃসহ অবস্থায় মানসিক সাত্ত্বনা দেবার চেষ্টা করেননি ;

(দুই) ভ্রাতা লঙ্কেশ রাবণকে তার কুকীর্তি ও নীতিবিরুদ্ধ কাজের জন্য তাকে তিরস্কার করা বা যুক্তি দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। প্রশ্ন উঠডে পারে বিভীষণ তাঁর ইষ্টদেবের পত্নী, যিনি কিনা তাঁর পরম পূজনীয়া, তাঁর দুঃখ লাঘবের কোলো চেষ্টাই কেন করলেন না? লঙ্কেশ রাবণ ভ্রাতা বিভীষণকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর সুপরামর্শ নিতেন। ভ্রাতা বিভীষণও তাঁর জ্যেষ্ঠর অত্যন্ত অনুগত ছিলেন। তা হলে ?

আসলে ভগবদ্-ভক্ত তথা সাধকদের মধ্যে একটা বড় অংশ নিজের ঘর অথবা মন্দিরের চার দেওয়ালের মধ্যে সংকুচিত মনোবৃত্তিতে ইষ্টস্বরূপের আরাধনায় রত থাকেন, কিস্তু ধর্মের গ্লানি বা সমাজের ধর্মের শোষণের ঘটনা তাঁরা দেখেও দেখেন না বা নিজেদের নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত থাকতে ভালবাসেন।

শ্রীহনুমানজীর সাক্ষাৎ সর্বদাই অমোঘ হয়। বিভীযণকে মার্গদর্শন করাতে তিনি বোঝালেন যে, কোলো নীচ বা আসুরিক কুলে জন্ম হলেই তার আধ্যাত্মিক বিকাশ হবে না এমন নয়। (ভক্ত প্রহুদা, রাক্ষসরাজ বৃত্তাসুর এঁরা এর জূলত্ত উদাহরণ)।

নিষ্ঠাবান সাধকের সাত্ত্বিক পুরুযার্থের কারণে প্রভু শ্রীরাম তাঁর (সাধকের) সাক্ষাৎ জ্ঞানী এবং সদ্গুরুর সঙ্গ করান। এই রকম সদ্গুরু অথবা মহাপুরুষের উপর পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে তাঁর মার্গদর্শন এবং আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলে সময়ের সাথে সাথে সব রকম জিজ্ঞাসা ও সংশয় দূর হয় এবং ইট্টে ধ্যান কেন্দ্রীভূত হয়। আর তখন সংসারের সব বিপরীত পরিস্থিতিতে

সত্যকে আঁকড়ে থাকার হিম্মত এসে যায়। তপস্যার ভূমি তখন দৃঢ় হয় যার দ্বারা সাধক বাহ্য জগতের বিবাদ এবং অন্তঃকরণের বিকার থেকে মুক্ত হয় এবং আখ্ম-সাক্ষাৎকারের চরম অবস্থায় পোঁছোয়।

শ্রীহনুমানজীর মার্গদর্শনের পর বিভীষণের পরম তত্ত্বের জ্ঞান এবং আধ্যাত্ম যাত্রা গতি লাভ করলো। বিভীষণ শ্রীহনুমানজীকে কথা দিলেন যে, দাদাকে তিনি মাতা সীতাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বলবেন এবং এই কাজে কোনো বিলম্ব হবে না। বিভীষণ তাঁর কথা রেখেছিলেন এবং এই কাজে দাদার বারংবার পদাঘাতও তাঁকে তাঁর কাজ থেকে টলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত দাদার কাছে বিতাড়িত হয়ে এই অধর্ম ও বিনাশের রাজ্য লঙ্কা ছাড়তে এক মুহূর্তও বিলম্ব করেনनি। তাই শ্রীহনুমানজীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ তাঁর জন্য কোলো সদ্গুরুর সঙ্গ থেকে কম ছিল না।

প্রশ্ন এখনও থেকে যায় যে, শ্রীহনুমানজী বিভীষণকে কোন মন্ত্র দেন এবং কখন? বিভিন্ন রামায়ণ ঘাটলে দেখা যায় যে, শ্রীহনুমানজী কোনো বিধিবদ্ধ মন্ত্র বিভীষণকে দেননি কিল্তু শ্রীহনুমানজী যখন লঙ্কেশ রাবণকে তাঁর রাজদরবারে মাতা সীতাকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রভু শ্রীরামের চরণের স্মরণ নিয়ে নিষ্কন্টক রাজ্যভোগের কথা বলেছিলেন, সেই অমূল্য পরামর্শ বিভীষণ মন্ত্রের রূপে অক্ষরে অক্ষরে গ্রহণ করেছিলেন।

শ্রীহনুমানজী লঙ্কেশ রাবণের রাজসভায় অত্যন্ত নির্ভীকভাবে যখন রাবণকে বুঝিয়ে বললেন,“রাম চরণ পঙ্কজ উর ধরহ। লঙ্কা অচল রাজু তুমহ করহু।।” (রা:চ:মা:), তখন রাবণ শ্রীহনুমানজীকে ‘জ্ঞনী গুরু’ বলে বিদ্রপ করে তাঁর এই পরামর্শ স্বীকার করলেন না, কিস্তু তাঁর এই কথা বিভীষণের চিন্তাধারায় আমূল পরিবর্ডন আনলো। এই কথাগুলি মন্ত্রের মতো ঢাঁর হৃদয়ে শক্তি সঞ্ণার করে তাঁর নিষ্ক্রিয়ভাবকে মুহূর্তে কাটিয়ে দিলো।

তিনি বুঝলেন প্রভু শ্রীরামের চরণরজ প্রাপ্ত করতে হলে শুধু শ্রদ্ধা ও বিধিবদ্ধ পূজাই যথেষ্ট নয়, তাঁর নাম, স্মরণ-মনন করাই যথেষ্ট নয়, প্রভুর অসমাপ্ত কাজে যোগদান ও সাধ্যমত সহযোগ করাও জরুরি। ঈশ্বরপ্রেম সাধককে নির্ভীক করে কারণ সে দেহাখবোধের উর্ধে উঠে যায় এবং সত্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নিজেকে সঙ্কল্পবদ্ধ করে। আর এইসব হলে তখন সে ভগবদ্ সান্নিষ্যের যোগ্য হয়। তাই বিভীষণ প্রভু শ্রীরামের শরণাগত হওয়ার শুষু যোগ্যই হলেন না, প্রভু

Hanuman Chalisa Chaupai 16 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 16 Meaning in Bengali

Devotees organize Shree Hanuman Chalisa Satsangs to collectively chant this sacred hymn.

Hanuman Chalisa Chaupai 16 in Bengali with Meaning & Analysis

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা।
রাম মিলায় রাজপদ দীনহা।

সারানুবাদঃ আপনি বানররাজ সুগ্রীবকে অনুগ্রহ করলেন। ফলে প্রভু শ্রীরামের সাথে মিলন হলো এবং ঢাঁকে রাজ সিংহাসন পাইয়ে দিলেন।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজীর শিক্ষাগুরু আদিত্যদেব অর্থাৎ সূর্যদেব। শিক্ষান্তে শীরনুমানজীকে সূর্যদেব মার্গদর্শন করিয়ে অনেক কথার মধ্যে একথাও বললেন যে, “’হে প্রিয় হনুমান, তোমার শিক্ষা শেষ হয়েছে। আমি চাইব, তুমি কিষ্কিষ্ধার যুবরাজ সুগ্রীবকে সবরকমের অনুগ্রহ প্রদর্শন করবে এবং তার ইচ্ছাকে সম্মান করবে।” সূর্যদেবের মানসপুত্র ও আশীর্বাদধন্য হলেন কিষ্কিন্ধার মহাবলী বানররাজ বালীর ভাই যুবরাজ সুগ্রীব।

শিক্ষাত্তে শ্রীহনুমানজী যুবরাজ পদে অধিষ্ঠিত হলেও (শ্রীহনুমানজীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সুমেরু পর্বতের যে অংশের রাজা ছিলেন পিতা কেশরী, সেই রাজ্যের যুবরাজ করে দিলেন। মাতা অঞ্জনার ইচ্ছাও তাই ছিল) পিতা ও মাতাকে বুঝিয়ে মহাবলশালী বালীর রাজদরবারে সুগ্রীবের সাথে অবস্থান করেছিলেন।

পরে ঘটনা পরম্পরায় যখন ভ্রাতা বালী সুগ্রীবকে রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয়, তাকে মারবার জন্য বদ্ধপরিকর হলেন, তখন সুগ্রীব ও তার অনুচরদের সাথে শ্রীহনুমানজী প্রথমে মহাঋষি মাতঙ্গের আশ্রমে ও পরে ঋষি মাতঙ্গের পরামর্শে ঋষ্যমুক পর্বতের শীর্ষে বাস করতে লাগলেন। যুবরাজ সুগ্রীবের উপর – শীহনুমানজীর অনুগ্রহ এক দৃষ্টান্তস্বরূপ। কয়েকটি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

(এক) যুবরাজ সুগ্রীবের ঘোর বিপদের দিনে শ্রীহনুমানজী তার সঙ্গই ওধু দেননি, তাকে একজন সদ্গুরু বা সন্ত যেমন সদা উপকারের জন্য তৎপর থাকেন, তেমনই এর মার্গদর্শন করিয়েছেন।

(দুই) মহাবলশালী বালী যখন যুবরাজ সুগ্রীবের স্ত্রী রুমাকে আটকে রেখে সুগ্রীবের প্রাণনাশের চেষ্টায় চতুর্দিকে তার খোঁজ করছেন, তখন শ্রীহনুমানজী তাকে রস্ষনর উপায় বার করার জন্য সচেচ্ট হয়ে তাকে মহাঋযি মাতঙ্গের আশ্রমে আনলেন। শ্রীহনুমানজী জানতেন যে ঋযিবরের অভিশাপে মহাবলী বালী তাঁর আশ্রমে পদার্পণ করলে তার তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হবে।

(তিন) সদা মৃত্যুভয়ে ভীত সুগীবকে তিনি তাঁর নিজের বল ভ শোর্যের কাহিনী শুনিয়ে সদা আশ্বস্ত করতেন।

(চার) পরব্রঞ্ম ভগবান রামের সঙ্গে শ্রীসুগ্রীবের তিনি শধু মৈত্রীই করাননি, তাঁদের এই দিব্য-ঐক্য অনেক অঘটন ঘটিয়েছিলো, যা কিনা ভগবান শীরামের স্বাভাবিক কৃপাস্বরূপ। মহাবলশালী বালী নিহত হলেন এবং -্রীসুগ্রীব কিষ্কিন্ধার সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

স্বয়ং ঈশ্বর সাথে থাকলে আর আপনার কি চাই? এক প্রকৃত সদ্গুরুই সাধককে পরব্রস্মের সাথে মেলাতে পারেন এবং সনাতন অদ্বৈতের অনুভব করাতে পারেন। শ্রীসুগ্রীব প্রভুর কৃপায় মৃত্যুভয় রহিত হলেন এবং তার স্বভাব আন্তরিক শান্তি এবং অচল প্রতিষ্ঠা প্রাপ্ত হলো।

Hanuman Chalisa Chaupai 15 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 15 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa Lyrics in English is often accompanied by bhajans and kirtans in temples.

Hanuman Chalisa Chaupai 15 in Bengali with Meaning & Analysis

যম কুবের দিগপাল জহাঁ তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে।।

সারানুবাদ : যম, কুবের ও দিকপতিগণ যখন আপনার যশোকীর্তির বর্ণনার শেষ করতে পারেন না, তখন কবি অথবা বিদ্বান কিভাবে আপনার বর্ণনার প্রতি সুবিচার করবেন?

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজী ভগবান শংকরের অবতার। তিনি একাদশ রুদ্র অবতার। তাঁর চরিত্র পরাক্রম, ভক্তি, সৎকর্ম, জ্ঞান ও নম্রতাতে এতটইই পরিপূর্ণ যে দেবতা আদি যথা, কুবের ও দিকপতিগণ তাঁর সম্পূর্ণ যশোকীর্তনে অসমর্থ। যেখানে দেবতাদের এই অবস্থা, সেখানে কবি বা বিদ্বানের সামর্থ্য কত্তটুকু!

গোস্বামী তুলসীদাসজী শ্রীহনুমানজীর অপার মহিমার বর্ণনায় নিজের অসমর্থতার বিনয়পূর্বক জ্ঞাপন করছেন। বস্তুতঃ, ভগবান শিবের অবতারের যশোগান কখনই শব্দ, বাক্য বা বচন দ্বারা বাঁধা যায় না।

এ প্রসঙ্গে গঙ্ধর্বরাজ পুষ্পদত্তের সেই বিখ্যাত উক্তিটির উল্লেখ না করে পারলাম না। ভগবান শিবের মহিমা বর্ণনায় অসমর্থ গন্ধর্বরাজ তাঁর বিখ্যাত ‘শিবমহিম্ন’ স্তোত্র-এ বলছেন-
“হে ঈশ! যদি পর্বতসমান কালি হয়, সমুদ্রের সমান দোয়াত হয়, যদি কল্পবৃক্ষের শাখা থেকে কলম তৈরি হয়, পৃথিবী যদি কাগজ হয় এবং স্বয়ং

দেবী সরস্বতী यদি তাঁর জীবন পর্যন্ত আপনার মহিমা কীর্তন করেন, তাহলেও আপনার মহিমার বর্ণনা কখনও সম্পূর্ণ হবে না।” তাই তাঁর একাদশ অবতারের মহিমার বর্ণনা কখনও সম্পূর্ণ হবে না, তা সে দেবতাদের দ্বারাই হোক অথবা কবি বা বিদ্বানের দ্বারা।

Hanuman Chalisa Chaupai 14 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 14 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa is a significant part of the Shri Hanuman Chalisa tradition.

Hanuman Chalisa Chaupai 14 in Bengali with Meaning & Analysis

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা।
নারদ সারদ সহিত অহীসা॥

সারানুবাদ : শ্রীহুমানজীর য়োগানের ক্রুমে (চৌপাঈ ১২-১৩)সনকাদি, ব্রস্মা ইত্যাদি দেবতা সকল, শ্রেষ্ঠ মুনিগণ, দেবর্ষি নারদ, শেষনাগ সঙ্গে দেবী সরস্বতী।

ব্যাখ্যা : প্রভু শ্রীরাম ভাই লক্ষ্মেের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় (শ্রীহনুমানজীর পরাক্রূমের ফলস্বরনপ সঞ্জীবনী বুটির প্রভাবে) কৃত্ততার আবেণে শ্রীহনুমানজীর মহিমা বর্ণনায় আগে বলছেন যে, সনকাদি ঋযিগণ, ভ্রা ইত্যাদি দেবতারা, শ্রেষ্ঠ মুনিগণ, দেবর্ষি নারদ, শেষনাগ এবং দেবী সরস্বতীও সঙ্কটমোচনের পরাক্রম, বুদ্ধি, জ্ঞান, নিরহঙ্কার ও সরলতার ব্যাখ্যান শেষ করে উঠতে পারবেন না। বস্তুত একাদশ রুদ্র অবতার শ্রীহনুমানজীর মহিমা বর্ণনা করা, ভগবান শংকরের মহিমা বর্ণনা করার মতো এক অসম্ভব কার্য।

Hanuman Chalisa Chaupai 13 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 13 Meaning in Bengali

Some devotees keep a copy of the Hanuman Chalisa in English in their homes for daily prayer.

Hanuman Chalisa Chaupai 13 in Bengali with Meaning & Analysis

সহস বদন তুম্হরো যশ গাবৈঁ।
অস কহি শ্রীপতি কষ্ঠ লগাবৈঁ॥

সারানুবাদঃ “হাজার মুখ তোমার কীর্তি গইইবে”, এরকম কথা বলে লক্ষ্মীপতি শ্রীরাম তাঁকে আলিঙন করলেন।

ব্যাখ্যা : হনুমান চলীসায় যখন সঞ্জীবনী বুটি এনে লক্ষ্মের প্রাণ ফিরে পাওয়ার কথা-প্রসঙ্গ আসে, তখন প্রভু শ্রীরামের ভাবাপ্লুত গদগদ কণ্ঠে শ্রীহনুমানজীর যশোগান ধ্বনিত হয় কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ের মূল থেকে।

প্রভু শ্রীরাম বলছেন, “’হে হনুমান, সহস্র মুখে তোমার জয়গান হবে। মুনি, ঋষি, যোগী ও তোমার দ্বারা উপকৃত মানবগণ মুক্তকণ্ঠে তোমার জয়গান করবে। সহস্র ফণাধারী শেষনাগের কথাও প্রভু শ্রীরামের মনে পড়লো। তিনি

আরও বললেন, “হে হনুমান, যে সহশ্র ফণাধারী শেষনাগ তার মস্তকে পৃথিবীকে ধারণ করে আছে, সেই শেষনাগও তোমার যশোকীর্তি সহস্র কঠ্ঠে কীর্তন করবে।” প্রভু শ্রীরামের সহস্র ফণাধারী শেষনাগের কথা কেন মনে পড়লো ?

(এক) শেষনাগ হলেন স্বয়ং আশ্রয়তত্ত্ব। প্রভু শ্রীরাম হলেন ঈশ্বরতত্ত্য বা বিষয়তত্ত্ব। আশ্রয়তন্ত্বের কাজ হলো সৃষ্টিতত্ত্বের আধার ব্যবস্থার সুচারু পালন। সেই তিনি শ্রীহনুমানজীর যশোগান করছেন মানে শ্রীহনুমানজীর উপর তিনি পরম সস্তুষ্ট ও প্রসন্ন। এর কারণ শ্রীহনুমানজীর সমস্ত সৎকর্ম সৃষ্টির শাশ্বত কল্যাণের জন্যই তো হয়ে থাকে।

(দুই) এছাড়া লস্ষ্মণ হলেন শেষনাগের অবতার। এর অর্থ লক্ষ্মণ শ্রীহনুমানজীর যশোগান করছেন। প্রভু শ্রীরাম লক্ষম্মণের স্বভাব সম্বন্ধে বলেছেন যে লক্ষ্মণ স্বভাবতই বড় ক্রোধী এবং আমাকে সন্তুষ্ট করা যত সহজ, ঠিক ততটাই কঠিন লক্ষ্মণকে প্রসন্ন করা। সঞ্জীবনী বুটি এনে লস্ম্মনের জীবন ফিরে পাওয়ায় লক্ষ্মণ তাঁর অকুঠ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে সহশ্র মুখে তাঁর যশোগান করে।

‘বাল্মীকি রামায়ণে’ প্রভু ब্রীরাম বলেছেন- “হে কপি, তোমার এক একটি উপকারের জন্য প্রসন্ন হয়ে আমি তোমার জন্য আমার প্রাণ পর্যণ্ত দিতে প্রস্তুত। তুমি যে উপকার করেছ, তার প্রত্যুত্তর দেবার কারণ না ঘটায় তা আমার মধ্যেই ঋণের বোঝা হয়ে রয়ে যাবে।” (কারণ আমি চাই না আমার ঋণ শোধ করার সুযোগের জন্য স্বয়ং সঙ্কটমোচনই কোনো সঙ্কটে পफ़ून)।

প্রভু শ্রীরাম আরও বলেছেন যে, শুধু তিনি, লক্ষ্মণ বা জনকনन্দিনীই নয় সমস্ত রঘুকুল তাঁর প্রতি চিরঋণী হয়ে থাকবে।এর থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট যে, প্রভু শ্রীরাম নিজে শত সঙ্কটের মধ্যে পড়তে রাজী আছেন, কিল্তু তাঁর ভক্তদের সঙ্কট উৎপন্ন হোক এবং তিনি তার উদ্ধারের জন্য যান এরকম কখনও ইচ্ছা করেন না।

Hanuman Chalisa Chaupai 12 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 12 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa Pdf is recited to seek Lord Hanuman’s blessings for overcoming obstacles.

Hanuman Chalisa Chaupai 12 in Bengali with Meaning & Analysis

রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়াঈ।
তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাই।।

সারানুবাদঃ রঘুপতি শ্রীরাম অনেক প্রশংসা করেন, “আপনি আমার ভরতের মতো প্রিয় ভাই হন।।”

ব্যাখ্যা : এই চৌপাঈ অনেকদিক থেকে অর্থপূর্ণ এবং ইঙ্গিতবাহী। প্রভু শীরাম তাঁর একান্ত প্রিয় শ্রীহনুমানজীর প্রশংসায় সদাই পঞ্চ্মুখ থাকতেন। শ্রীহনুমানজীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষনৎ থেকে শুরু করে প্রভু শ্রীরাম ঢাঁর নরলীলা
সংবরণের আগে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অনেকের কাছে শ্রীংনুমানজীর সম্বন্ধে অনেক মহত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। ত্রীহনুমান চালীসায় গোস্বামীজী প্রভুর মুখ দিয়ে এই চোপাঈ (নং ১২) এবং তারপর (নং ১৩ – ১৫)

আরো তিনটি চৌপাঈ ধরে শ্রীহনুমানজীর চরিত্রের বিভিন্ন দিকগুলির বর্ণনা করেছেন। শ্রীহনুমানজীর ভক্ত, গুণী, প্রভুঋণী ও অন্যান্য গুণের মহিমার বিশালত্ব চৌপাঈগ্লুলিতে উল্লেখ করেছেন। এইগুলি ছাড়া প্রভু শ্রীরামের মুখ দিয়ে শ্রীহনুমান চালীসায় সরাসরি আর কোনো কথার উল্লেখ নেই। তাই কয়েকটি প্রশ্ন স্বভাবতই মনের কোণে জনে ওঠে। যেমন :

প্রথম প্রশ্ন : প্রভু শ্রীরাম ঢাঁর ভাই লক্ষ্মেনের সঞ্জীবনী বুটির দ্বারা প্রাণ ফিরে পাবার পরই কেন এতগুলি কথা বললেন শ্রীহনুমানজীর সম্বহ্ধে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন : শ্রীহনুমানজী বানররূপে আছেন আর ভরত তো মানবরূপে লীলা করছেন। এই দুজনের ভ্রাতৃত্বের সম্বল্ধ কিভাবে সম্ভব?

তৃতীয় প্রশ্ন : প্রভু শ্রীরাম তাঁর ভাই লক্ষ্মনেের সামনে শ্রীহনুমানজীর তুলনা বা তার প্রিয়ত্ব ভরতের সঙ্গে করায় লক্ষ্মনের মনে কি কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি? আর সর্বদা মর্যাদা রক্ষার আদর্শ স্বরূপ শ্রীরামের এই কথা লক্ষ্মনের সামনে বলাটা কি অবাক লাগছে না ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা পেয়ে যাবো ‘আনন্দ রামায়ণ’, ‘গিরধর রামায়ণ’ ও শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের মধ্যে।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, লক্ষ্মপের ‘শক্তিশেল’ দ্বারা আহত ও মৃতপ্রায় অবস্থা প্রভু শ্রীরামকে এতটা ভাববিহ্বল করেছিলো যে তিনি ক্রমাগত অশ্রুবিসর্জনের সাথে সাথে মাতা সুমিত্রার কাছে তাঁর দেওয়া বচন ও লক্ষ্মনেের মৃত্যুর (যদি হয়) পরবর্তী নিজের প্রাণত্যাগের কথাও উচ্চেস্বরে বলতে লাগলেন।

তাই শ্রীহনুমানজীর সঞ্জীবনী বুটির সাহায্যে যখন লক্ষন বেঁচে উঠলেন, তখন প্রভু শ্রীরামের যুগপৎ আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা শ্রীহনুমানজীর প্রতি বর্ষিত হতে লাগলো। তাঁর এই ‘হনুমৎ-ঋণ’ ঢাঁকে এতটা ছেয়েছিলো যে তিনি শ্রীহনুমানকে প্রাণভরা আশীর্বাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পরের চৌপাঈগুলি বলতে লাগলেন। প্রভু শ্রীরাম যখন যুদ্ধ শেযে অযোধ্যায় ফিরলেন এবং তার রাজ্যাভিযেকও হয়ে গেলো, তখন তাঁকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেছিলেন, “আমাকে এবং ভাই লক্ষ্মণকে প্রিয় হনুমান দু-দুবার রক্ষা

করেছিলেন, প্রথমবার নাগপাশ থেকে এবং দ্বিতীয়বার অহিরাবণের পাতাল থেকে ; কিস্তু শ্রীহনুমানজীর সঞ্জীবনী বুটির আনয়ন ও লক্ষ্ণের প্রাণ ফিরে পাওয়ার মাহাত্য পরের দুইটির থেকে অনেক আলাদা। জিষ্ঞসা করায় তিনি বলেছিলেন মাতা সুমিত্রাকে তিনি বচন দিয়েছিলেন যে, লক্ষ্ককে তিনি সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ প্রভু শ্রীরামের বনবাসের থেকে প্রভু শ্রীরাম স্বশরীরে ফিরলে লক্ষ্মণও সুস্থ শরীরে ফিরবেন।

রঘুকুলে এক রীতি পরম্পরায় চলে আসছে যে- ‘রঘুকুল রীতি সদা চলি অই, প্রাণ জায় পর বচন না যাই’ (রা.চ.মা.)। প্রভু বলছেন, “এখন ল’ক্ষ্নণের কিছু হয়ে গেলে, আমার প্রাণত্যাগ তো নিশ্চিত ছিলো। কিস্তু আমাদের দুজনের একসাথে মৃত্যু হলে (দুবার সেই অবস্থা তৈরি হয়েছিলো), মর্যাদা রক্ষায় কোনো অমর্যাদা হতো না।” প্রভু শ্রীরাম সর্বথা মর্যাদা পুরুযোত্তম। আর তাই শ্রীহনুমানজী লক্ষ্নেণের প্রাণরক্ষা করলে তিনি শ্রীহনুমানজীকে প্রাণভরে আশীর্বাদ এবং মুক্তকণ্ঠে তাঁর মহিমার গুণগান করেছিলেন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের্ন উত্তর থুঁজতে গেলে আমাদের একটু পিছনে ফিরতে হবে। সস্তান প্রাপ্তির ইচ্ছায় শ্রীহনুমানজীর মাতা দেবী অঞ্জনা ভগবান শিবের প্রসন্নতা কামনায় কঠোর থেকে কঠোরতর তপস্যা করেছিলেন।

তাঁর এই তপস্যায় ভগবান শংকর প্রসন্ন হয়ে দেবীর কাছে প্রকট হয়ে বর প্রার্থনা করার জন্য বললেন। দেবী, ভগবান শিবের চরণ বন্দনা ও স্তুতি করে বললেন, “প্রভু, আপনি আমাকে আপনার মতো নির্দোষ এবং পবনদেবের সমান পরাক্রমী পুত্র লাভের আশীর্বাদ করুন।” তাঁর এই প্রার্থনা শুনে ভগবান শংকর বললেন, “দেবী, একাদশ রুদ্র আপনার পুত্র হয়ে অবতাররূপ ধারণ করবেন।

আপনি এই তপশ্রর্যা বজায় রাখুন এবং ধ্যানস্থ মুদ্রায় চোখ বন্ধ রেখে দুই হাত একন্র করে আকাশের দিকে খুলে রাখুন। বায়ুদেব আপনার হাতে প্রসাদ দেবেন, যা গ্রহণ করলে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী পুত্রপ্রাপ্তি হবে।” ভগবান শংকর এই বর দিয়ে অন্তর্হিত হলেন।

দেবী অঞ্জনা আদেশ অনুসারে তাঁর তপশ্চর্যা বজায় রেখে চললেন। ঠিক সেই সময় অযোধ্যা নরেশ চক্রবর্তী সম্রাট দশরথ গুরুদেব বশিষ্ঠর ইচ্ছানুসারে ‘পুত্রকামেষ্টি যজ্ঞ’ করেছিলেন। এই যজ্ঞে সস্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং অগ্গিদেব যজ্ঞাগ্নি থেকে প্রকট হয়ে রাজার হাতে পায়েস ভর্তি একটি পাত্র দিলেন এবং এই প্রসাদ তিনি রানীদের খাওয়াতে বললেন। সম্রাট দশরথ

তাঁর তিন রানী, কৌশল্যা, কৈকেয়ী ও সুমিত্রাকে তা ভাগ করে নিয়ে খেতে বললেন। অযোধ্যা নরেশ দশরথের ইচ্ছা অনুযায়ী তিন রানী তা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হুলেন। রানী কৈকেয়ী সেই প্রসাদ যখন খেতে যাবেন, ঠিক সেইসময় হঠাৎ একটি চিল এসে সেই প্রসাদের কিছু অংশ মুখে নিয়ে আকাশপথে উড়ে চলে গেলো।

আশর্যজনকভভাবে সেই চিল অনেকটা পথ অতিক্রম করে শ্রীকেশরীজায়া অঞ্জনার তপং্তুলীতে এসে হাজির হলো। দেবতাদের ইচ্ছা অনুयায়ী, হঠাৎ সেই চিলের মুখ খুলে গেলো এবং অঞ্জনার খোলা দুই হাতের তালুতে ওই মুতে রাখা প্রসাদ এসে পড়লো। ভগবান শংকরের বরদানের কথা ভেবে মাতা অঞ্জনা সেই প্রসাদ গ্রহণ করলেন।

সময়ের নিয়ম অনুসারে অযোধ্যায় রানি কৈকেয়ী শ্রীভরতের জন্ম দিলেন আর দেবী অঞ্জনা জন্ম দিলেন শ্রীহনুমানজীকে। একই প্রসাদের ফলস্বরূপ জন্ম নেওয়ার কারণে শ্রীযুক্ত ভরত এবং শ্রীহনুমান পরস্পরের ভাই হলেন। তাই প্রতু শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীকে বললেন, ““তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাই।”

শ্রীহনুমানজীকে ভ্রাতা ভরতের সমান প্রিয় বলায় লক্ষ্ ণ অসళ্টষ্ট তো হলেনই না বরং প্রভু শ্রীরামের কথায় খুশি হয়ে শ্রীহনুমানজীকে জড়িয়ে ধরলেন। শ্রীহনুমানজী এই অসম্তব কাজটি না করলে (সঞ্জীবনী বুটি আনা) আজ তো তিনি মৃত্যুপ্রাপু হতেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 11 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 11 Meaning in Bengali

Many people believe that regular recitation of Hanuman Chalisa Lyrics brings inner peace.

Hanuman Chalisa Chaupai 11 in Bengali with Meaning & Analysis

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রীরঘুবীর হরষি উর লায়ে।

সারানুবাদ : সঞ্জীবন বুটি এনে লক্ষণণকে প্রাণ ফিরে পেতে সাহায্য করলেন। শ্রীরাম প্রসন্ন হয়ে হৃদয়ে লাগালেন (শ্রীহনুমানজীকে)।

ব্যাখ্যা : প্রভু শ্রীরাম তাঁর নরলীলায় সদাই সৌম্য, শাত্ত ও নির্লিপু থাকডেন। করুণা তাঁর হৃদয় ও মনকে সদাই প্লাবিত করে রাখতো। সেই প্রভু শ্রীরাম অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে রোদন ও বিলাপ করেছিলেন। প্রথমবার যখন তিনি ও লক্ষ্মণ জনকনন্দিনীর থোঁজে বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, আর দ্বিতীয়বার যখন রাবণপুত্রের (মেঘনাদ) শক্তিশেল বাণে বিদ্ধ হয়ে লক্ষ্মণ মৃত্যুসজ্জায় শ্রীরামের কোলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ত্রীশ্রীরামচরিতমানসে উঙ্লেখ আছে যে, লক্ষ্মণ লঙ্কাযুদ্ধের সময় দুইবার মেঘনাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। প্রথমবার লস্ট্মণ মেঘনাদকে না পরাস্ত করতে পেরেছিলেন না তাকে মারতে পেরেছিলেন, উপরত্ত মেঘনাদকে দেওয়া ব্রম্মার শক্তিশেল অস্ত্র দ্বারা বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়েছিলেন।

প্রথমবার দাদা প্রভু শ্রীরামের আভ্ঞা তো নিয়েছিলেন কিস্ত নিজে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে, উত্তেজিত হয়ে যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন। কিল্তু লক্ষন্মণ যুদ্ধযাত্রা করার আগে প্রভু শ্রীরামের চরণ ছুঁয়ে আশীর্বাদ চেয়েছিলেন এরকম কোনো উল্লেখ নেই। কিস্তু দ্বিতীয়বার শ্রীরঘুনাথের চরণে প্রণাম করে লক্ষ্মণ দ্রুত যুদ্ধের জন্য রওনা হলেন।

এই ঘটনা আমাদের কাছে একটা দৃষ্টান্ত স্বরূপ যে, কঠিন পরিস্থিতিতে, বিপরীত অবস্থায় নিজের বল ভরসাই সব কিছু করতে পারে না, প্রভুর কৃপাও একইভাবে কাম্য। প্রভুর চরণে কায়-মনো-বাকে্য’-র প্রার্থনা তাঁর কৃপা নেনে আসতে সাহায্য করে। লস্মৃণ দ্বিতীয়বারের যুদ্ধে মেঘনাদকে বধ করতে সমর্থ रয়েছিলেन। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে যদিও উল্লেখ নেই কিষ্তু অন্যত্র এরকম বর্ণনা পাওয়া যায় যে, প্রভু শ্রীরামের বানর সেনাতে সুষেণ নামক এক সুযোগ্য চিকিৎসক

ছিলেন যিনি লক্ষ্মনের শক্তিশেলে বিদ্ধ হওয়ার আগে, কয়েকজন বানর-ঋস্ক যোদ্ধাকে বাণের আঘাতে আহত অবস্থায় তাঁর ঔষধের সাহায্যে সুস্থ করে তুলেছিলেন। কিল্ণু শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের ঘটনাই অধিক প্রসিদ্ধ যে মহামতি জাম্ববানের পরামর্শে শ্রীহনুমানজী লঙ্কাপুরীতে ছোট আকারে প্রবেশ করে বিশাল আকার নিয়ে আকাশমার্গে লঙ্কার বৈদ্যরাজ সুযেণকে তার বাটিকাশুদ্ধ তুলে নিয়ে আসেন।

বৈদ্যরাজ সুযেণ প্রথনে লস্ম্মেণের চিকিৎসা করতে তাঁর অসুবিধার কथ জানালে শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত সুচিন্তিত মত ও তর্ক উপস্থাপিত করে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকের কাজ রোগীকে দেখা, তা সে যে পক্ষেরই হোক না কেন। কথা জানালে চারিদিক এক গভীর নৈরাশ্যে ছেয়ে গেল। বৈদ্যরাজ যে বিধানের কথা বললেন তা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলো সবার। বৈদ্যরাজ বললেন, “যদি সূর্যোদয়ের আগে হিমালয় থেকে সঞ্জীবনী বুটি আনা যায়, তবে তার থেকে প্রস্তুত ঔষধ লক্ম্নেের মূর্ছ্রাকে সমাপু করতে পারে।”

শ্রীহনুমানজী সব কিছু সহ্য করতে পারেন কিস্তু প্রভু শ্রীরামের অশ্র সইতে পারেন না। তিনি এই কथা শনে এগিয়ে এলেন। তাকে দেখে প্রভু শ্রীরাম কিছু বলার আগে, বৈদ্যরাজ, যিনি শ্রীহনুমানজীকে লঙ্কাদহনের সময় দেখেছিলেন, বললেন, “হে বানরশ্রেষ্ঠ, এই কাজ একমাত্র আপনিই করতে পারেন।” প্রভু শ্রীরামকে আপ্বস্ত করে শ্রীহনুমানজী বিশ্বাসভরা শব্দে বললেন, “প্রভু, আপনি নিশ্চিত থাকুন, যতক্ষণ আমি ঔষধি নিয়ে না আসছি, ততক্ষণে সূর্য আকাশে উঠবার সাহসই করবে না।” এই বলে প্রভুর আজ্ঞ ও মনে মনে তাঁর চরণে প্রণাম জানিয়ে গভীর অন্ধকারে শ্রীহনুমানজী দ্রুতবেগে মিলিয়ে গেলেन।

একথা আমরা সবাই জানি যে শ্রীহনুমানজীর হিমালয় পর্বতের যাত্রার কথা গুপ্তচরের মুতে জানতে পেরে লস্কেশ প্রচণ্ড পরাক্রমী ও মায়াবী কালনেমীকে দ্রোণ পর্বতের পথে রওনা করিয়ে দেন মূলতঃ শ্রীহনুমানজীকে ঢাঁর যাত্রাপথে বিলম্ব ঘটানোর জন্য। কালনেমি তার কাজে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল কারণ তার মুনিবেশে করা রামকথা শীরনুমানজীকে এতটইই দ্রবীভূত করে দিয়েছিলো যে তিনি প্রভু শ্রীরামের কথার আবেশে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণের

ছিলেন যিনি লক্ষণের শক্তিশেলে বিদ্ধ হওয়ার আগে, কয়েকজন বানর-ঋক্ষ যোদ্ধাকে বাণের আঘাতে আহত অবস্থায় তাঁর ঔ্ষষধের সাহায্যে সুস্থ করে তুলেছিলেন। কিল্তু শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের ঘটনাই অধিক প্রসিদ্ধ যে মহামতি জাম্ববানের পরামর্শে শ্রীহনুমানজী লঙ্কাপুরীতে ছোট আকারে প্রবেশ করে বিশাল আকার নিয়ে আকাশমার্গে লঙ্কার বৈদ্যরাজ সুযেণকে তার বাটিকাশুদ্ধ তুলে নিয়ে আসেন।

বৈদ্যরাজ সুযেণ প্রথমে লস্ক্নের চিকিৎসা করতে তাঁর अসুবিধার কথা জানালে শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত সুচিত্তিত মত ও তর্ক উপস্থাপিত করে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকের বাজ রোগীকে দেখা, তা সে যে পক্ষেরই হোক না কেন।

বৈদ্যরাজ লক্ষ্মণকে ভালভাবে পরীক্ষা করার পর লক্ষ্মেণের সঙ্কটময় অবস্থার কথা জানালে চারিদিক এক গভীর নৈরাশ্যে ছেয়ে গেল। বৈদ্যরাজ যে বিধানের কথা বললেন তা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলো সবার। বৈদ্যরাজ বললেন, “यদি সূর্যোদয়ের আগে হিমালয় থেকে সঞ্জীবনী বুটি আনা যায়, তবে তার থেকে প্রস্তুত ঔষধ লক্ষ্মেরে মূচ্চ্ছাকে সমাপ্ত করতে পারে।”

শ্রীহনুমানজী সব কিছু সহ্য করতে পারেন কিস্তু প্রভু শ্রীরামের অশ্রু সইতে পারেন না। তিনি এই কথা শনে এগিয়ে এলেন। তাকে দেখে প্রভু শ্রীরাম কিছু বলার আগে, বৈদ্যরাজ, যিনি শ্রীহনুমানজীকে লঙ্কাদহনের সময় দেখেছিলেন, বললেন, “‘হে বানরশ্রেষ্ঠ, এই কাজ একমাত্র আপনিই করতে পারেন।” প্রভু শ্রীরামকে আশ্বস্ত করে শ্রীহনুমানজী বিশ্বাসভরা শব্দে বললেন, “প্রভু, আপনি নিশ্চিত থাকুন, যতক্ষণ আমি ঔষধি নিয়ে না আসছি, ততক্ষণে সূর্য আকাশে উঠবার সাহসই করবে না।” এই বলে প্রভুর আজ্ঞ ও মনে মনে ঢাঁর চরণে প্রণাম জানিয়ে গভীর অন্ধকারে শ্রীহনুমানজী দ্রুতবেগে মিলিয়ে গেলেन।

একথা আমরা সবাই জানি যে শ্রীহনুমানজীর হিমালয় পর্বতের যাত্রার কথা গুপ্তচরের মুতে জানতে পেরে লস্কেশ প্রচণ্ড পরাক্রমী ও মায়াবী কালনেমীকে দ্রোণ পর্বতের পথে রওনা করিয়ে দেন মূলতঃ শ্রীহনুমানজীকে তাঁর যাত্রাপথে বিলম্ব ঘটানোর জন্য। কালনেমি তার কাজে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল কারণ তার মুনিবেশে করা রামকথা শীহনুমানজীকে এতটইই দ্রবীভূত করে দিয়েছিলো যে তিনি প্রভু শ্রীরামের কথার আবেশে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণের

জন্য মুনির কাছে জল চাওয়ার ইচ্ছে ও সঞ্জীবনী বুটি আনার কথা সম্পুর্ণ ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্ত্ত কালনেমির জ্ঞান সীমিত হওয়ায় একসময় সে কথা ছেড়ে নিজের প্রশংসা ওরু করায় শ্রীহনুমানজীর ঘোর কেটে যায় এবং তার সঙ্গে সঙ্গে জল-তৃষ্ণার কথা মনে পড়ে। কালনেমি তাঁকে কমণ্ডলুর জল পান করতে বললে শ্রীহনুমানজী এত অল্প জলে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ হবে না বলায় তিनि ইभिতে জলাশয় দেখিয়ে দেন। মহামায়াবী কালনেমি শ্রীহনুমানজীর বাজে আবার বিঘ ঘটানোর আশায় তাঁকে বললেন, ” ‘হে কপীন্দ্র, আমি ত্রিকালজ্ঞ তোমায় আগেই বলেছি।

আমি আমার তপোবলের প্রভাবে দেখতে পাচ্ছি যে প্রভু শ্রীরাম ও লঙ্কাধিপতি রাবনের মধ্যে ঘোর যুদ্ধ চলছে এবং প্রভু শ্রীরামের ভাই লক্ষ্নণ যে কিনা রাবণপুত্র মেঘনাদের শক্তিশেল বাণে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল, সে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং বাকি বানর ও প্রভু শীরামের সাথে আলাপচারিতায় ব্যস্ত আছে। অতএব তুমি এই আশ্রমে স্থির হয়ে বস এবং ফলমূল গ্রহণ করে পরে জলপানের জন্য সরোবরে যাও।

শ্রীহনুমানজী মায়াবী মুনিকে বললেন, “প্রভুর দর্শন ছাড়া আমি এক মুহূর্ত নষ্ট করতে চাই না। তাই আপনার দেখানো সরোবরে আমি চললাম।” কালনেমি তখন শ্রীহনুমানজীকে বললেন, “কপীবর, আপনি চোখ বন্ধ করে জলপান করবেন।” কালনেমি জানতেন এই সরোবরে এক মস্ত মায়াবিনি ঘোররূপিণী কুমীরের রূপ ধরে অবস্থান করছে। শ্রীহনুমানজী চোখ বন্ধ করে জলপান করলে এই কুমীর তাঁকে ফ্ষতবিক্ষত করবে এবং আহত শ্রীহনুমানের পক্ষে বাকি কাজ করা অসষ্ভব হবে।

সেই ঘোররূপিণী কুমীর শ্রীহনুমনজীর জলপানের সময় তার বিশাল মুখ দিয়ে শ্রীহনুমানজীর পা কামড়ে ধরলো। শ্রীহনুমানজী চোখ বন্ধ রাখায় দেখতে পাননি। কিন্তু আঘাত পাওয়া মাত্র চোখ খুলে কুমীরকে দেখামাত্র অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর বিশাল হাত দিয়ে সেই কুমীরের মুখকে চিরে দুভাগ করে দিলেন এবং সেই কুমীরের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হলো। সহসা শ্রীহনুমানজী সরোবরের উপর আকাশে এক দিব্যরূপী স্ত্রীকে দেখলেন। সেই স্ত্রী তার দুই হাত জোড় করে শ্রীহনুমানজীকে প্রণাম করে বললেন, “হে কপীপ্বর! আমি একজন শাপগ্রস্ত অপ্সরা।

আমার নাম ধাপ্বমালী। আজ আপনার পবিত্র স্পর্শে আমি শাপমুক্ত হলাম। হে অনঘ! এই যে সুরম্য আশ্রয় দেখছেন, এ পুরোপুরি মায়া দ্বারা রচিত। মুনির বেশে মায়াবী কালনেমী আপনার কাজে বাধা দেবার উদ্দেশে এই সব করছে। আপনি এই দুষ্টকে মেরে শীঘ্র দ্রোণাচলে প্রস্থান করুন। আজ আমি কৃতার্থ আপনার স্পর্শে এবং আমি ব্রহ্মলোক চললাম।”

পরের ঘটনাক্রম্ম আমরা জানি। শ্রীহনুমানজী দ্রোণাচল পর্বতে গিয়ে বুঝতে না পেরে সঞ্জীবনী বুটির গাছ সমতে দ্রোণ পর্বতমালার একটা বিরাট অংশ তুলে এলেছিলেন। দুটি ঘটনা এর মধ্যে ঘটেছিল যা উল্লেখ করা খুবই প্রাসঙ্গিক হবে। (এক) ভরত যখন শ্রীহনুমানজীকে ওই বিশাল পাহাড়সমেত ঢাঁর বাণের দ্বারা মাটিতে নামিয়ে আনলেন, তখন শ্রীহনুমানজীকে প্রভু শ্রীরামের নাম অচেতন অবস্থায় উচ্চারণ করতে তনে মুহূর্তে বিহ্বল হয়ে পড়লেন। রাম-প্রেমিক শ্রীভরতের মনের অবস্থা সমস্ত রামায়ণ যখন বর্ণনা করছেন তখন অতি বড় পাষণুও অর্রু সংবরণ করতে পারবে না।

শ্রীভরতের মনে হলো তাঁর মতো অপরাধী এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নেই। প্রভুর কাজে আবার বাধার তিনিই কারণ হলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের কোলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে যাচ্ছিলেন। শ্রীহনুমানজীর অ্জান ফেরানোর সব চেষ্টাই যখন ব্যর্থ হলো এবং বাণের আখাতে অনেক রক্ত স্ষুরণ হচ্ছিল, তখন ঐ মাঝরাত্রে শ্রীভরতের আহ্বানে, গুরুদেব শ্রীবশিষ্ট, তিনমাতা, শত্রুঘ্ন ও প্রধান সেনাপতিরা হাজির হলেন।

গুরুদেবের পরামর্রে সবাই যখন উট্চেস্বরে রামনাম সঙ্কীর্তন করলেন, তখন শ্রীহনুমানজীর চেতনা ফিরে এলো। শ্রীভরত বারবার অর্রসজল নেত্রে তার কাছে স্কমা চাইলেন। তিনি লক্ষ্মনের সঙ্কটের কথা বলায় উপস্থিত সবাই অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। শ্রীভরত অযোধ্যার সেনাদের প্রভু – রীরামের সাহায্যের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দিলে গুরুদেব তা বারণ করলেন।

শ্রীহনুমানজীকে শীঘ্র যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্দেশে শ্রীভরত ঢাঁর বাণের উপর শ্রীহনুমানজীকে সেই বিশল্যকরণীর সঙ্গে বসতে বললে শ্রীহনুমানজী তাঁর বায়ুপুত্র হবার পরিচয় দিয়ে সাহায্যের জন্য শ্রীভরতের অকুষ্ঠ প্রশংসা করে তাঁদের সবাইকে আশ্বস্ত করলেন এবং প্রণাম করে রওয়ানা रলেन।

(দুই) শ্রীহনুমানজীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম অহংকার হয়েছিলো যখন ঐ বিশাল পর্বতসহ শ্রীহনুমানজীকে শ্রীভরত তাঁর বাণের উপর বসতে বলেছিলেন। শ্রীহনুমানজী ভেবেছিলেন একটি বাণ কি এই ভার সহ্য করতে পারবে ? যাই হোক, প্রভু শ্রীরামের কৃপায় তা নিরসন হয়েছিলো। এখানে আর একটি থুব স্বাভাবিক প্রশ্ন এসে যায় যে শ্রীহনুমানজী যিনি স্বয়ং জ্ঞান-গুণ সাগর, তিনি দ্রোণ পর্বতমালায় অবস্থিত বিশল্যকরণীর মধ্যে সঞ্জীবনী বুটিটি চিনতে পারলেন না যার জন্য তাঁকে ওই পর্বতমালার বিরাট অংশ তুলে আনতে হলো? এর উত্তর আমরা পাই ‘অদ্ভুত রামায়াণে’র কথাক্রমের বিচারে।

শ্রীহনুমানজীর পরাক্রম, করুণা, অনুকম্পা ও দূরদৃষ্টির আলোচনায় আমরা দেখতে পাই যে, যখন তিনি সঞ্জীবনী বুটির থোঁজ পেলেন এবং দেখলেন যে এই বুটির সাথে সাথে আরো অসংখ্য জড়িবুটি চতুর্দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে অবস্থান করছে যার সম্বন্ধে তাঁর যথেষ্ট ধারণা শিক্ষাগুরু সূর্যদেবের কাছ থেকে পেয়েছিলেন, তখন তাঁর মনে এক বিচার এলো যে প্রভু শ্রীরামের ভাই লক্ষ্মণের জন্য তো আমি এই দ্রোণ পর্বতমালায় এসেছি, কিষ্তু এই যুদ্ধ

(রাম-রাবগের) যদি লম্বা চলে, তাহলে আমাদের বাহিনীতে থাবা বানর বা ঋক্ষরাও বাণের আঘাতে যে কোনো সময় জখম হতে পারে। তাহলে তাদের উপাচারের কি হবে? তখন তো এই উদ্যোগ নাও হতে পারে? তাই শ্রীহনুমানজী ঢাঁর পরাক্রম, করুণা (সাধারণ যোদ্ধাদের কথা ভেবে) ও দূরদৃষ্টির ছাপ রেখে সঞ্জীবনী বুটিসহ অনেক বুটি সমৃদ্ধ বিশাল গক্ধমাদন পর্বত স্বেচ্ছায় লঙ্কায় আনলেন।