Hanuman Chalisa Chaupai 11 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 11 Meaning in Bengali

Many people believe that regular recitation of Hanuman Chalisa Lyrics brings inner peace.

Hanuman Chalisa Chaupai 11 in Bengali with Meaning & Analysis

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রীরঘুবীর হরষি উর লায়ে।

সারানুবাদ : সঞ্জীবন বুটি এনে লক্ষণণকে প্রাণ ফিরে পেতে সাহায্য করলেন। শ্রীরাম প্রসন্ন হয়ে হৃদয়ে লাগালেন (শ্রীহনুমানজীকে)।

ব্যাখ্যা : প্রভু শ্রীরাম তাঁর নরলীলায় সদাই সৌম্য, শাত্ত ও নির্লিপু থাকডেন। করুণা তাঁর হৃদয় ও মনকে সদাই প্লাবিত করে রাখতো। সেই প্রভু শ্রীরাম অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে রোদন ও বিলাপ করেছিলেন। প্রথমবার যখন তিনি ও লক্ষ্মণ জনকনন্দিনীর থোঁজে বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, আর দ্বিতীয়বার যখন রাবণপুত্রের (মেঘনাদ) শক্তিশেল বাণে বিদ্ধ হয়ে লক্ষ্মণ মৃত্যুসজ্জায় শ্রীরামের কোলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ত্রীশ্রীরামচরিতমানসে উঙ্লেখ আছে যে, লক্ষ্মণ লঙ্কাযুদ্ধের সময় দুইবার মেঘনাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। প্রথমবার লস্ট্মণ মেঘনাদকে না পরাস্ত করতে পেরেছিলেন না তাকে মারতে পেরেছিলেন, উপরত্ত মেঘনাদকে দেওয়া ব্রম্মার শক্তিশেল অস্ত্র দ্বারা বিদ্ধ হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়েছিলেন।

প্রথমবার দাদা প্রভু শ্রীরামের আভ্ঞা তো নিয়েছিলেন কিস্ত নিজে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে, উত্তেজিত হয়ে যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন। কিল্তু লক্ষন্মণ যুদ্ধযাত্রা করার আগে প্রভু শ্রীরামের চরণ ছুঁয়ে আশীর্বাদ চেয়েছিলেন এরকম কোনো উল্লেখ নেই। কিস্তু দ্বিতীয়বার শ্রীরঘুনাথের চরণে প্রণাম করে লক্ষ্মণ দ্রুত যুদ্ধের জন্য রওনা হলেন।

এই ঘটনা আমাদের কাছে একটা দৃষ্টান্ত স্বরূপ যে, কঠিন পরিস্থিতিতে, বিপরীত অবস্থায় নিজের বল ভরসাই সব কিছু করতে পারে না, প্রভুর কৃপাও একইভাবে কাম্য। প্রভুর চরণে কায়-মনো-বাকে্য’-র প্রার্থনা তাঁর কৃপা নেনে আসতে সাহায্য করে। লস্মৃণ দ্বিতীয়বারের যুদ্ধে মেঘনাদকে বধ করতে সমর্থ रয়েছিলেन। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে যদিও উল্লেখ নেই কিষ্তু অন্যত্র এরকম বর্ণনা পাওয়া যায় যে, প্রভু শ্রীরামের বানর সেনাতে সুষেণ নামক এক সুযোগ্য চিকিৎসক

ছিলেন যিনি লক্ষ্মনের শক্তিশেলে বিদ্ধ হওয়ার আগে, কয়েকজন বানর-ঋস্ক যোদ্ধাকে বাণের আঘাতে আহত অবস্থায় তাঁর ঔষধের সাহায্যে সুস্থ করে তুলেছিলেন। কিল্ণু শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের ঘটনাই অধিক প্রসিদ্ধ যে মহামতি জাম্ববানের পরামর্শে শ্রীহনুমানজী লঙ্কাপুরীতে ছোট আকারে প্রবেশ করে বিশাল আকার নিয়ে আকাশমার্গে লঙ্কার বৈদ্যরাজ সুযেণকে তার বাটিকাশুদ্ধ তুলে নিয়ে আসেন।

বৈদ্যরাজ সুযেণ প্রথনে লস্ম্মেণের চিকিৎসা করতে তাঁর অসুবিধার কथ জানালে শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত সুচিন্তিত মত ও তর্ক উপস্থাপিত করে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকের কাজ রোগীকে দেখা, তা সে যে পক্ষেরই হোক না কেন। কথা জানালে চারিদিক এক গভীর নৈরাশ্যে ছেয়ে গেল। বৈদ্যরাজ যে বিধানের কথা বললেন তা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলো সবার। বৈদ্যরাজ বললেন, “যদি সূর্যোদয়ের আগে হিমালয় থেকে সঞ্জীবনী বুটি আনা যায়, তবে তার থেকে প্রস্তুত ঔষধ লক্ম্নেের মূর্ছ্রাকে সমাপু করতে পারে।”

শ্রীহনুমানজী সব কিছু সহ্য করতে পারেন কিস্তু প্রভু শ্রীরামের অশ্র সইতে পারেন না। তিনি এই কथা শনে এগিয়ে এলেন। তাকে দেখে প্রভু শ্রীরাম কিছু বলার আগে, বৈদ্যরাজ, যিনি শ্রীহনুমানজীকে লঙ্কাদহনের সময় দেখেছিলেন, বললেন, “হে বানরশ্রেষ্ঠ, এই কাজ একমাত্র আপনিই করতে পারেন।” প্রভু শ্রীরামকে আপ্বস্ত করে শ্রীহনুমানজী বিশ্বাসভরা শব্দে বললেন, “প্রভু, আপনি নিশ্চিত থাকুন, যতক্ষণ আমি ঔষধি নিয়ে না আসছি, ততক্ষণে সূর্য আকাশে উঠবার সাহসই করবে না।” এই বলে প্রভুর আজ্ঞ ও মনে মনে তাঁর চরণে প্রণাম জানিয়ে গভীর অন্ধকারে শ্রীহনুমানজী দ্রুতবেগে মিলিয়ে গেলেन।

একথা আমরা সবাই জানি যে শ্রীহনুমানজীর হিমালয় পর্বতের যাত্রার কথা গুপ্তচরের মুতে জানতে পেরে লস্কেশ প্রচণ্ড পরাক্রমী ও মায়াবী কালনেমীকে দ্রোণ পর্বতের পথে রওনা করিয়ে দেন মূলতঃ শ্রীহনুমানজীকে ঢাঁর যাত্রাপথে বিলম্ব ঘটানোর জন্য। কালনেমি তার কাজে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল কারণ তার মুনিবেশে করা রামকথা শীরনুমানজীকে এতটইই দ্রবীভূত করে দিয়েছিলো যে তিনি প্রভু শ্রীরামের কথার আবেশে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণের

ছিলেন যিনি লক্ষণের শক্তিশেলে বিদ্ধ হওয়ার আগে, কয়েকজন বানর-ঋক্ষ যোদ্ধাকে বাণের আঘাতে আহত অবস্থায় তাঁর ঔ্ষষধের সাহায্যে সুস্থ করে তুলেছিলেন। কিল্তু শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের ঘটনাই অধিক প্রসিদ্ধ যে মহামতি জাম্ববানের পরামর্শে শ্রীহনুমানজী লঙ্কাপুরীতে ছোট আকারে প্রবেশ করে বিশাল আকার নিয়ে আকাশমার্গে লঙ্কার বৈদ্যরাজ সুযেণকে তার বাটিকাশুদ্ধ তুলে নিয়ে আসেন।

বৈদ্যরাজ সুযেণ প্রথমে লস্ক্নের চিকিৎসা করতে তাঁর अসুবিধার কথা জানালে শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত সুচিত্তিত মত ও তর্ক উপস্থাপিত করে তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকের বাজ রোগীকে দেখা, তা সে যে পক্ষেরই হোক না কেন।

বৈদ্যরাজ লক্ষ্মণকে ভালভাবে পরীক্ষা করার পর লক্ষ্মেণের সঙ্কটময় অবস্থার কথা জানালে চারিদিক এক গভীর নৈরাশ্যে ছেয়ে গেল। বৈদ্যরাজ যে বিধানের কথা বললেন তা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলো সবার। বৈদ্যরাজ বললেন, “यদি সূর্যোদয়ের আগে হিমালয় থেকে সঞ্জীবনী বুটি আনা যায়, তবে তার থেকে প্রস্তুত ঔষধ লক্ষ্মেরে মূচ্চ্ছাকে সমাপ্ত করতে পারে।”

শ্রীহনুমানজী সব কিছু সহ্য করতে পারেন কিস্তু প্রভু শ্রীরামের অশ্রু সইতে পারেন না। তিনি এই কথা শনে এগিয়ে এলেন। তাকে দেখে প্রভু শ্রীরাম কিছু বলার আগে, বৈদ্যরাজ, যিনি শ্রীহনুমানজীকে লঙ্কাদহনের সময় দেখেছিলেন, বললেন, “‘হে বানরশ্রেষ্ঠ, এই কাজ একমাত্র আপনিই করতে পারেন।” প্রভু শ্রীরামকে আশ্বস্ত করে শ্রীহনুমানজী বিশ্বাসভরা শব্দে বললেন, “প্রভু, আপনি নিশ্চিত থাকুন, যতক্ষণ আমি ঔষধি নিয়ে না আসছি, ততক্ষণে সূর্য আকাশে উঠবার সাহসই করবে না।” এই বলে প্রভুর আজ্ঞ ও মনে মনে ঢাঁর চরণে প্রণাম জানিয়ে গভীর অন্ধকারে শ্রীহনুমানজী দ্রুতবেগে মিলিয়ে গেলেन।

একথা আমরা সবাই জানি যে শ্রীহনুমানজীর হিমালয় পর্বতের যাত্রার কথা গুপ্তচরের মুতে জানতে পেরে লস্কেশ প্রচণ্ড পরাক্রমী ও মায়াবী কালনেমীকে দ্রোণ পর্বতের পথে রওনা করিয়ে দেন মূলতঃ শ্রীহনুমানজীকে তাঁর যাত্রাপথে বিলম্ব ঘটানোর জন্য। কালনেমি তার কাজে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল কারণ তার মুনিবেশে করা রামকথা শীহনুমানজীকে এতটইই দ্রবীভূত করে দিয়েছিলো যে তিনি প্রভু শ্রীরামের কথার আবেশে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণের

জন্য মুনির কাছে জল চাওয়ার ইচ্ছে ও সঞ্জীবনী বুটি আনার কথা সম্পুর্ণ ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্ত্ত কালনেমির জ্ঞান সীমিত হওয়ায় একসময় সে কথা ছেড়ে নিজের প্রশংসা ওরু করায় শ্রীহনুমানজীর ঘোর কেটে যায় এবং তার সঙ্গে সঙ্গে জল-তৃষ্ণার কথা মনে পড়ে। কালনেমি তাঁকে কমণ্ডলুর জল পান করতে বললে শ্রীহনুমানজী এত অল্প জলে তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ হবে না বলায় তিनि ইभिতে জলাশয় দেখিয়ে দেন। মহামায়াবী কালনেমি শ্রীহনুমানজীর বাজে আবার বিঘ ঘটানোর আশায় তাঁকে বললেন, ” ‘হে কপীন্দ্র, আমি ত্রিকালজ্ঞ তোমায় আগেই বলেছি।

আমি আমার তপোবলের প্রভাবে দেখতে পাচ্ছি যে প্রভু শ্রীরাম ও লঙ্কাধিপতি রাবনের মধ্যে ঘোর যুদ্ধ চলছে এবং প্রভু শ্রীরামের ভাই লক্ষ্নণ যে কিনা রাবণপুত্র মেঘনাদের শক্তিশেল বাণে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল, সে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং বাকি বানর ও প্রভু শীরামের সাথে আলাপচারিতায় ব্যস্ত আছে। অতএব তুমি এই আশ্রমে স্থির হয়ে বস এবং ফলমূল গ্রহণ করে পরে জলপানের জন্য সরোবরে যাও।

শ্রীহনুমানজী মায়াবী মুনিকে বললেন, “প্রভুর দর্শন ছাড়া আমি এক মুহূর্ত নষ্ট করতে চাই না। তাই আপনার দেখানো সরোবরে আমি চললাম।” কালনেমি তখন শ্রীহনুমানজীকে বললেন, “কপীবর, আপনি চোখ বন্ধ করে জলপান করবেন।” কালনেমি জানতেন এই সরোবরে এক মস্ত মায়াবিনি ঘোররূপিণী কুমীরের রূপ ধরে অবস্থান করছে। শ্রীহনুমানজী চোখ বন্ধ করে জলপান করলে এই কুমীর তাঁকে ফ্ষতবিক্ষত করবে এবং আহত শ্রীহনুমানের পক্ষে বাকি কাজ করা অসষ্ভব হবে।

সেই ঘোররূপিণী কুমীর শ্রীহনুমনজীর জলপানের সময় তার বিশাল মুখ দিয়ে শ্রীহনুমানজীর পা কামড়ে ধরলো। শ্রীহনুমানজী চোখ বন্ধ রাখায় দেখতে পাননি। কিন্তু আঘাত পাওয়া মাত্র চোখ খুলে কুমীরকে দেখামাত্র অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর বিশাল হাত দিয়ে সেই কুমীরের মুখকে চিরে দুভাগ করে দিলেন এবং সেই কুমীরের তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হলো। সহসা শ্রীহনুমানজী সরোবরের উপর আকাশে এক দিব্যরূপী স্ত্রীকে দেখলেন। সেই স্ত্রী তার দুই হাত জোড় করে শ্রীহনুমানজীকে প্রণাম করে বললেন, “হে কপীপ্বর! আমি একজন শাপগ্রস্ত অপ্সরা।

আমার নাম ধাপ্বমালী। আজ আপনার পবিত্র স্পর্শে আমি শাপমুক্ত হলাম। হে অনঘ! এই যে সুরম্য আশ্রয় দেখছেন, এ পুরোপুরি মায়া দ্বারা রচিত। মুনির বেশে মায়াবী কালনেমী আপনার কাজে বাধা দেবার উদ্দেশে এই সব করছে। আপনি এই দুষ্টকে মেরে শীঘ্র দ্রোণাচলে প্রস্থান করুন। আজ আমি কৃতার্থ আপনার স্পর্শে এবং আমি ব্রহ্মলোক চললাম।”

পরের ঘটনাক্রম্ম আমরা জানি। শ্রীহনুমানজী দ্রোণাচল পর্বতে গিয়ে বুঝতে না পেরে সঞ্জীবনী বুটির গাছ সমতে দ্রোণ পর্বতমালার একটা বিরাট অংশ তুলে এলেছিলেন। দুটি ঘটনা এর মধ্যে ঘটেছিল যা উল্লেখ করা খুবই প্রাসঙ্গিক হবে। (এক) ভরত যখন শ্রীহনুমানজীকে ওই বিশাল পাহাড়সমেত ঢাঁর বাণের দ্বারা মাটিতে নামিয়ে আনলেন, তখন শ্রীহনুমানজীকে প্রভু শ্রীরামের নাম অচেতন অবস্থায় উচ্চারণ করতে তনে মুহূর্তে বিহ্বল হয়ে পড়লেন। রাম-প্রেমিক শ্রীভরতের মনের অবস্থা সমস্ত রামায়ণ যখন বর্ণনা করছেন তখন অতি বড় পাষণুও অর্রু সংবরণ করতে পারবে না।

শ্রীভরতের মনে হলো তাঁর মতো অপরাধী এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নেই। প্রভুর কাজে আবার বাধার তিনিই কারণ হলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের কোলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে যাচ্ছিলেন। শ্রীহনুমানজীর অ্জান ফেরানোর সব চেষ্টাই যখন ব্যর্থ হলো এবং বাণের আখাতে অনেক রক্ত স্ষুরণ হচ্ছিল, তখন ঐ মাঝরাত্রে শ্রীভরতের আহ্বানে, গুরুদেব শ্রীবশিষ্ট, তিনমাতা, শত্রুঘ্ন ও প্রধান সেনাপতিরা হাজির হলেন।

গুরুদেবের পরামর্রে সবাই যখন উট্চেস্বরে রামনাম সঙ্কীর্তন করলেন, তখন শ্রীহনুমানজীর চেতনা ফিরে এলো। শ্রীভরত বারবার অর্রসজল নেত্রে তার কাছে স্কমা চাইলেন। তিনি লক্ষ্মনের সঙ্কটের কথা বলায় উপস্থিত সবাই অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। শ্রীভরত অযোধ্যার সেনাদের প্রভু – রীরামের সাহায্যের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দিলে গুরুদেব তা বারণ করলেন।

শ্রীহনুমানজীকে শীঘ্র যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্দেশে শ্রীভরত ঢাঁর বাণের উপর শ্রীহনুমানজীকে সেই বিশল্যকরণীর সঙ্গে বসতে বললে শ্রীহনুমানজী তাঁর বায়ুপুত্র হবার পরিচয় দিয়ে সাহায্যের জন্য শ্রীভরতের অকুষ্ঠ প্রশংসা করে তাঁদের সবাইকে আশ্বস্ত করলেন এবং প্রণাম করে রওয়ানা रলেन।

(দুই) শ্রীহনুমানজীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম অহংকার হয়েছিলো যখন ঐ বিশাল পর্বতসহ শ্রীহনুমানজীকে শ্রীভরত তাঁর বাণের উপর বসতে বলেছিলেন। শ্রীহনুমানজী ভেবেছিলেন একটি বাণ কি এই ভার সহ্য করতে পারবে ? যাই হোক, প্রভু শ্রীরামের কৃপায় তা নিরসন হয়েছিলো। এখানে আর একটি থুব স্বাভাবিক প্রশ্ন এসে যায় যে শ্রীহনুমানজী যিনি স্বয়ং জ্ঞান-গুণ সাগর, তিনি দ্রোণ পর্বতমালায় অবস্থিত বিশল্যকরণীর মধ্যে সঞ্জীবনী বুটিটি চিনতে পারলেন না যার জন্য তাঁকে ওই পর্বতমালার বিরাট অংশ তুলে আনতে হলো? এর উত্তর আমরা পাই ‘অদ্ভুত রামায়াণে’র কথাক্রমের বিচারে।

শ্রীহনুমানজীর পরাক্রম, করুণা, অনুকম্পা ও দূরদৃষ্টির আলোচনায় আমরা দেখতে পাই যে, যখন তিনি সঞ্জীবনী বুটির থোঁজ পেলেন এবং দেখলেন যে এই বুটির সাথে সাথে আরো অসংখ্য জড়িবুটি চতুর্দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে অবস্থান করছে যার সম্বন্ধে তাঁর যথেষ্ট ধারণা শিক্ষাগুরু সূর্যদেবের কাছ থেকে পেয়েছিলেন, তখন তাঁর মনে এক বিচার এলো যে প্রভু শ্রীরামের ভাই লক্ষ্মণের জন্য তো আমি এই দ্রোণ পর্বতমালায় এসেছি, কিষ্তু এই যুদ্ধ

(রাম-রাবগের) যদি লম্বা চলে, তাহলে আমাদের বাহিনীতে থাবা বানর বা ঋক্ষরাও বাণের আঘাতে যে কোনো সময় জখম হতে পারে। তাহলে তাদের উপাচারের কি হবে? তখন তো এই উদ্যোগ নাও হতে পারে? তাই শ্রীহনুমানজী ঢাঁর পরাক্রম, করুণা (সাধারণ যোদ্ধাদের কথা ভেবে) ও দূরদৃষ্টির ছাপ রেখে সঞ্জীবনী বুটিসহ অনেক বুটি সমৃদ্ধ বিশাল গক্ধমাদন পর্বত স্বেচ্ছায় লঙ্কায় আনলেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 10 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 10 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa is a timeless prayer that inspires unwavering faith in Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 10 in Bengali with Meaning & Analysis

ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সঁবারে।।

সারানুবাদঃ ভয়ানক আকার ধারণ করে রাক্ষসদের বধ করেছিলেন। প্রভু শ্রীরামচক্র্রের দেওয়া কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজী অশোকবনে, লঙ্কাপুরী জূালানোর সময় এবং রাক্ষসদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বিভিন্ন রকমের বিকটরূপ ধারণ করেছিলেন। শ্রীহনুমানজী ইচ্ছা করলেইই রূপ ধারণ বা পরিবর্তন করতে পারতেন। সমস্ত রামায়ণই এই কথা বলে যে, শ্রীহনুমানজী রাক্ষসদের বধ অত্যন্ত আক্রামক রূপ ধারণ করে করতেন। তাঁর লঙ্কা দহনের বিকটরূপ লঙ্কাবাসীরা কোনোদিনই ভুলতে পারেনি।

তাদের শ্রীহনুমান-ভীতি এতদূর অবধি পৌঁছেছিল যে যখন বালীপুত্র অঙ্গদ প্রভু শ্রীরামের দূত হয়ে শেষবারের মতো রাবণকে বোঝাবার জন্য লঙ্কাপুরীতে পোঁছেছিলেন তখন লঙ্কাবাসীরা তাঁকেই শীহনুমান মনে করে ভয়ে চতুর্দিকে পালাতে শুরু করেছিলো। গোস্বামী শ্রীতুলসীদাসজী লিখছেন:

“ভয়উ কোলাহল নগর মঝারী।
আবা কপি লঁকা জেঁহি জারী।।”

শ্রীহনুমানজীর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য প্রভু শ্রীরানের কাজ সম্পন্ন করা। প্রভুর কাজকে সিদ্ধ করার জন্য তাঁর চেয়ে উপযুক্ত আর কেউ ছিল না। পরাৎপর ব্রহ্ম ভগবান শ্রীরামের পরম ভক্ত ছিলেন শ্রীহনুমানজী। নবধাভক্তির সপ্তম-সাধন ‘দাস্য’ তিনি আদর্শ উদাহরণ। স্বয়ং প্রভু শ্রীরাম মুক্ত কঠ্ঠে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন, “তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাই।” শ্রীরামের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কখনও সূক্ষ্নরূপ, কখনও বিপ্ররূপ, কখনও বিকটরূপ, আবার ভীমরূপ ধরেছেন।

কখনও বা বন্ধন স্বীকার করে মুক্তও হয়েছেন। তিনি ‘জ্ঞনিনামগ্রগণ্যম্’ হওয়ার কারণে অনেক জটিল সমস্যার শাস্ত্রবিধি সমাধানও করেছেন। প্রভু শ্রীরামের কাজ করার জন্য যেমন শ্রীবিভীষণকে অনুপ্রাণিত করেছেন তেমনই তাঁর শিক্ষাগুরু সূর্যদেবের আদেশক্রমে মহারাজ বালির ভাই সুগ্রীবের মার্গদর্শনও করিয়েছেন। তিনি ছিলেন ‘অতুলিতবলধধামং’।

তাঁর মুষ্ঠাঘাত লঙ্কিনী, রাবণপুত্র মেঘনাদ, রাবণভ্রাতা কুস্তকর্ণ ও স্বয়ং রাবণকে মূর্চ্ছিত করেছে। প্রতু শ্রীরামের একজন সেবকের এই ক্ষমতা তাদের শ্রীরামের প্রতাপ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রভু শ্রীরামের কাজ সম্পন্ন করার শ্রীহনুমানজীর দৃঢ় সঙ্কল্প আমাদের তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এক নতুন প্রেরণা জোগায়।

শ্রীহনুমানজীর ‘ভীমরূপ’ যেমন রাক্ষসকুলের ত্রাসের কারণ ছিল, তেমনই ভগবদ-উন্মুখ ব্যক্তির অস্তঃকরণে স্থিত কাম, ক্রোধ, লোভ, লোহ, মাৎসর্য ও অহংকার প্রভৃতি আসুরিক স্বভাব, যা শত চেষ্টাতেও বশ মানে না এবং ভক্তির পথে নিরন্তর চেষ্টাতেও বাধার পথ ছাড়ে না, তাদের নির্মূল করার দৃঢ় সঙ্কল্পের উৎসস্বরূপ হলেন শ্রীহনুমানজী। জনকनন্দিনী সীতা সাক্ষাৎ ভক্তি এবং ভগবদ্কৃপার মূর্তি।

ঢাঁর সামনে শ্রীহনুমানজী ছোটো আকারে অবস্থান করেন যা ভক্তিপথের যাত্রীকে নিরভিমানী হওয়ার প্রেরণা দেয় ; আবার লঙ্কাধিপতি রাবণ, যিনি অহংকার ও কামনার প্রতীক, তাঁর কছে শ্রীহনুমানজী বিশাল এবং ভয়ানকরূপ ধারণ করেন। তেমনি यদি নিরভিমানী ভক্তের এই নম্রতা ও বিনয় স্বভাবকে কেউ তাঁর দুর্বলতা ভেবে তার ওপর অত্যাচার করে, তাহলে শ্রীহনুমানজীর মতো ভক্ত তার পৌরুষ অবশ্যই দেখাতে পারে। পরিশেযে এই টোপাই আমাদের দৃত়ভাবে আশ্বন্ত করে যে নানা প্রকার বিঘ্নের কারণে আমাদের উৎসাহ ৫ ঊদ্যম যেন শিখিল না হয়। বরং অত্তন্ত সাহস বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এর মোকাবিলা করলে সাফল্য নিশ্চিত।

Hanuman Chalisa Chaupai 9 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 9 Meaning in Bengali

Devotees sing the Hanuman Chalisa with Meaning with devotion in temples and during religious gatherings.

Hanuman Chalisa Chaupai 9 in Bengali with Meaning & Analysis

সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিঁ দিখাবা।
বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জরাবা।

সারানুবাদ : ছোট রূপ ধরে সীতাকে দেখিয়েছিলেন, ভয়ংকর আকার ধারণ করে লঙ্কা জ্বালিয়েছিলেন।

ব্যাখ্যা : বিভিন্ন রামায়ণে এবং পুরাণে শ্রীহনুমানজীর স্বেচ্ছায় অনেকরূপ ধারণ করা বা প্রকট হৃওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন কখনও ঢাঁর অতি বিশাল রূপ ধারণ আবার কখনও অতি সূক্ষ্মরূপ ধারণ করার ঘটনার উঙ্গেখ আছে। কোথাও আবার তাঁর দেহকে বজ্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আবার কোথাও তিনি মানবদেহে, ব্রাক্মণ বেশে, সন্ন্যাসীর রূপে, বটুক বেশে আবির্ভূত रয়েছেন।

মানবরূপেই হোক অথবা বানরবেশে, তাঁর সূক্ষ্ম, ভয়ংকর ও বিরাট রূপ ধারণ করার কথা অনেক রামায়ণে আছে। শ্রীহনুমানজী জনকনन्দিনী সীতার কাছে সূক্ষ্মরূপে প্রকাশ হয়েছিলেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করার জন্য বিশাল সুন্দর দেহ দেখিয়েছিলেন। আবার লঙ্কা দহনের সময় বিকট রূপ ধারণ করেছিলেন।

সমুদ্র লঅ্ঘনের সময় শ্রীহনুমানজী নাগমাতা সুরসার বিশাল দেহ এবং মুখ দেখে তাঁর শরীরকে ভগবান বিষ্ণুর বামন অবতারের ত্রিপাদের মতো বিশাল আকার দিয়েছিলেন। আবার সুরসার কথা রাখবার জন্য অঙ্গুষ্ঠের চেহারা নিয়ে তাঁর মুখে প্রবেশ করে মুহূর্তে বেরিয়ে এসেছিলেন। লঙ্কা নগরীতে প্রবেশের সময়েও অতি লঘু রূপ ধারণ করেছিলেন (একটি মশার মতো)। অশোকবনে বৈদেহীর সামনে নিজেকে প্রকাশ করার সময় শ্রীহনুমানজী কি রূপ ধারণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে অনেক মত বিরোধ আছে।

‘শ্রীহনুমানত্রাটক’-এ বর্ণনা আছে যে ওই সময় শ্রীহনুমানজী মশার চেহারা নিয়েছিলেন। বাল্মীকি রামায়ণে আবার বিড়ালের রূপ ধারণের কথা আছে। ‘শ্রীরঙ্গনাথ রামায়ণে’ ভারী সুন্দর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, অশোকবনে পোঁছে শ্রীহনুমানজী অঙ্গুষ্ঠ মাত্র চেহারা নিয়ে ভগবান বিষুণু যেমন সৃষ্টির অস্তে বটপত্রের উপর শয়ন করার রূপ ধারণ করেন, সেই রকম অশোকবৃক্ষের ঘন শাখায় অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে লুকিয়ে ছিলেন।

এবার আসা যাক তাঁর লঙ্কা দহনের সময় বিকট রূপ ধারণের কথায়। ভ্রাতা বিভীষণের পরামর্শে দশানন রাবণ যখন দূতরূগী শ্রীহনুমানের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে লেজে আগুন লাগানোর সিদ্ধাস্ত জানালেন তখন শ্রীহনুমানজী তাঁর স্বাভাবিক রূপেই ছিলেন। কিন্তু তিনি অবাক হলেন যখন দেখলেন দশগ্রীব রাবগের এই ঘোষণায় রাক্ষসকুলের মধ্যে শোরগোল পড়ে গেল কারণ সবাই আগুন লাগানোর কাজে যোগদান করতে চায়।

সেই কারণে সবাই যে যার বাড়ি থেকে তেল, কাপড় এনে স্তূপীকৃত করতে লাগলো। শ্রীহনুমানজীর এইসব দেখে কৌতুক হলো এবং হঠাৎ তাঁর মনে হলো এ সবই বোধ হয় ঈশ্বরের ইচ্ছায় হচ্ছে। মনে হওয়া মাত্র শ্রীহনুমানজী তাঁর ‘সঙ্কল্প-বল’কে স্মরণ করলেন। তিনি তো ‘সঙ্কল্প-বলে’ সিদ্ধ।

সঙ্কল্প হওয়া মাত্র একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে লাগলো। রাবণের সভা থেকে বেরিয়ে আশেপাশের গলি, প্রধান রাস্তা দিয়ে তাঁর লেজ বিস্তৃত হতে ওুরু হলো এবং এই লেজ বৃদ্ধির কারণে জমা করা তেল, বস্ত্র ইত্যাদি কম পড়তে লাগলো। সমস্ত লঙ্কা নগরী ক্রমে ক্রুে তেল ও বস্ত্রশূন্য হয়ে গেলো। রাজভাঞার থেকে মূল্যবান রাজবস্ত্র ও ঢেল আনা হতে লাগলো।

শ্রীহনুমানজীর এই লেজ বৃদ্ধির কারণ ঘটলো লোকচক্কুর অন্তরালে। দেবাদিদেব মহাদেব যখন তাঁর ইষ্টদেব প্রভু শ্রীরামের অবতার কালে তাঁর সেবার কার্য করার জন্য একাদশ রুদ্র অবতার শ্রীহনুমানজীর রূপে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন, তখন মাতা পার্বতীও তাঁর এই মহতী কাজে অংশীদার হতে চাইলে, দেবাদিদেব তাঁকে তাঁর পেছনে সর্বক্ষণ থাকার পরামর্শ দিলে তিনি রাজী হয়ে শ্রীহনুমানজীর লেজে অলক্ষে বিরাজ করার সিদ্ধাত্ত নিলেন। শ্রীহনুমানজী সঙ্কল্প করা মাত্র মাতা পার্বতীর কৃপায় তাই তাঁর লেজ ক্রমশ বাড়তে লাগলো।

 

Hanuman Chalisa Chaupai 8 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 8 Meaning in Bengali

Each verse of the Hanuman Chalisa Meaning narrates an aspect of Hanuman’s divine qualities.

Hanuman Chalisa Chaupai 8 in Bengali with Meaning & Analysis

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।
রাম লখণ সীতা মন বসিয়া।।

সারানুবাদ : থভুকথা শোনার রসিক, রাম লঙ্ষণ ও সীতার জুদয়ে বা মনে বাস করেন।।

ব্যাখ্যা : ভক্তের হৃদয়ে যখন প্রভুর বাস হয়, ভক্ত যখন তার লালসাসিক্ত ব্যাকুলতায় তার প্রভুকে হৃদয়ে অনুভব করেন, বুঝতে হবে সেই ভক্েের ভক্তি মার্গের যাত্রার সঠিক প্রারষ্ভ হয়েছে। আর যদি প্রভুর হৃদয়ে ভক্তের নিবাস হয় তবে বুঝতে হবে যে তিনি (ভক্ত) ভক্তিমার্গের উচ্চতম শিখরে পৌছেছেন।

প্রভুর সাথে একাত্ম হবার নবধা ভক্তির যে শৃখ্বলা প্রভু নিজ মুখে ব্যক্ত করেছেন তার মধ্যে প্রথমটিि হলো ‘শ্রবণ’। আর শ্রীহনুমানজী এই শ্রবণকেই তাঁর জীবনের আধার বানিয়েছেন। প্রভু শ্রীরামের কথা, তাঁর কীর্তন, তাঁর

যশোগাথা যেখানে, শ্রীহনুসানজী সদা সেইইানে পৌঁছে যান সেই অমৃত্যয় রস পান করার জন্য।

বাল্মীকি রামায়ণে এই শ্রসঙ্গে ভারী সুন্দর এক ঘটনার কथা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রভু শ্রীরাম অযোধ্যায় ফিরে এসেছেন এবং তাঁর রাজ্যাভিষেকও হয়ে গেছে। বানররাজ সুগ্রীব, অস্দদ, ঋক্ষরাজ জাম্ববান, নল, নীল ও আন্যান্যদের এবার বিদায় নেবার পালা। প্রভু সবাইকে সুল্দর উপহার ও তাদের মনোবাছ্ছিত বর দিলেন।

প্রভু শ্রীহনুমানজীর খোঁজ করলেন। শ্রীহনুমানজী যথারীতি রামনাহে মগ্ন হয়ে চোখ বুজে ছিলেন। গুরুর ডাকে তিনি মুর্হূতে প্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন। প্রভু অত্যন্ত স্নেহের সম্ভাষণে ब্রীহনুমানজীকে ঢাঁর ইচ্ছামত বর প্রার্থনা করতে বললেন। শ্রীহনুমানজী ঢাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করে বললেন –

यাবদ্ রামকथा বীর চরিত্রতি মহীতলে।
তাবছরীরে বৎসম্তু প্রাণা মম ন সংশয়ঃ।।

অর্থাৎ, হে বীর, এই পৃথিবীতে যত দিন রামকথা প্রচলিত থাকবে, ততদিন যেন নিঃসন্দেহে আমার প্রাণ, আমার শরীরে বাস করে। শ্রীহনুমানজীর এই কथा শননে প্রভু সিংহাসন থেকে উঠে এসে শ্রীহনুমানজীকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “’হে কপিশ্রেষ্ঠ, কোনো সংশয় রেখোনা, এই রকমই হবে। এই সংসারে আমার কথা যতদিন প্রচলিত থাকবে ততদিন তোমার কীর্তি অটুট থাকবে আর তোমার শরীরে প্রাণও থাকবে।

আর যতদিন এই ভূলোক থাকবে, ততদিন আমার কথাও সদা বিরাজমান হবে।” এই ঘটনার পুষ্টি মহাভারতেও পাওয়া যায়। যখন বনবাসের সময় পাণ্তবদের শ্রীহনুমানজীর দর্শন হয় তখন পাঞ্বদের অনুরোধে শ্রীহনুমানজী ঢাঁদের রামকথা ওুনালে, সেই কথা প্রসঙ্গে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। তাই গোস্বামীজী ‘শ্রীহনুমৎ-স্তবনে’ দীপু কণ্ঠে ঘোষণা করে তার প্রণাম জানিয়ে বললেন –

यত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাঞ্জলিম্।
বাস্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসান্তকম্।।

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাথের কীর্তন হয়, সেখানে সেখানে হাতজোড় করে অশ্রুপুর্ণ চোখে মাথা ঝুঁকিয়ে রাঙ্ম্সদের শেষ করার কার্য সম্পন্ন করা বায়ুপুত্র শ্রীহনুমানজীকে আমি আমার প্রণাম জানাচ্ছি। যশোগাথা যেখানে, শ্রীইনুমানজী সদা সেইইানে পৌঁছে যান সেই অমৃত্য় রস পান করার জন্য।

বাল্মীকি রামায়ণে এই প্রসঙ্গে ভারী সুন্দর এক ঘটনার কथা উঙ্লেখ করা হয়েছে। প্রভু শ্রীরাম অযোধ্যায় ফিরে এসেছেন এবং তাঁর রাজ্যাভিষেকও रढ়ে গেছে। বানররাজ সুগ্রীব, অস্দদ, ঋক্ষরাজ জাম্ববান, নল, নীল ও আন্যান্যদের এবার বিদায় নেবার পালা। প্রভু সবাইকে সুন্দর উপহার ও তাদের মনোবাছ্ছিত বর দিলেন। প্রভু শ্রীহনুমানজীর থোঁজ করলেন। শ্রীহনুমানজী যথারীতি রামনাদে মগ্ন হয়ে চোখ বুজে ছিলেন। গুরুর ডাকে তিনি মুর্হূতে প্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন। প্রভু অত্যন্ত স্নেহের সম্ভাষণে ख্রীহনুমানজীকে তাঁর ইচ্ছামত বর প্রার্থনা করতে বললেন। শ্রীহনুমানজী তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করে বললেন –

याবদ্ রামকथा বীর চরিত্রতি মহীতলে।
তাবছরীরে বৎসম্তু প্রাণা মম ন সংশয়ঃ।।

অর্থাৎ, হে বীর, এই পৃথিবীতে যত দিন রামকথা প্রচলিত থাকবে, ততদিন যেন নিঃসন্দেহে আমার প্রাণ, আমার শরীরে বাস করে। শ্রীহনুমানজীর এই কথা শুনে প্রভু সিংহাসন থেকে উঠে এসে শ্রীহনুমানজীকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “হে কপিশ্রেষ্ঠ, কোনো সংশয় রেখোনা, এই রকমই হবে।

এই সংসারে আমার কথা যতদিন প্রচলিত থাকবে ততদিন তোমার কীর্তি অটুট থাকবে আর তোমার শরীরে প্রাণও থাকবে। আর যতদিন এই ভূলোক থাকবে, ততদিন আমার কথাও সদা বিরাজমান হবে।” এই ঘটনার পুষ্টি মহাভারতেও পাওয়া যায়। যখন বনবাসের সময় পাণ্ডবদের শ্রীহনুমানজীর দর্শন হয় তখন পাঞ্ডবদের অনুরোধে শ্রীহনুমানজী তাঁদের রামকথা কুনালে, সেই কথা প্রসঙ্গে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। তাই গোস্বামীজী ‘শ্রীহনুমৎ-স্তবনে’ দীপু কন্ঠে ঘোষণা করে তার প্রণাম জানিয়ে বললেন –

यত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাঞ্জলিম্।
বাস্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসান্তকম্।।

অর্থাৎ যেখানে যেখানে শ্রীরंঘুনাথের কীর্তন হয়, সেখানে সেখানে হাতজোড় করে অশ্রুপূর্ণ চোখে মাথা ঝুঁকিয়ে রাক্ষম্দের শেষ করার কার্য সম্পন্ন করা বায়ুপুত্র শ্রীহনুমানজীকে আমি আমার প্রণাম জানাচ্ছি।

প্রভু শ্রীরামের কথা তাঁর যে কত প্রিয় তা আবার প্রমাণ হলো যখন প্রভু তাঁর লীলা সংবরণ করার জন্য সরযূ নদীতে অযোধ্যাবাসীদের নিয়ে প্রবেশ করার আগে শ্রীহনুমানজীকে তাঁর সঙ্গ নেওয়ার কথা বললে, শ্রীহনুমানজী অত্যন্ত বিনীত কিস্ত ব্যথিত হৃদয়ে বললেন, “প্রভু, আপনার কथা ছেড়ে আমি কোথাও যেতে চাই না।” প্রভু কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, “হনুমান, তুমি আমায় ছেড়ে আমার কথার জন্য যেতে চাইছো না ?” শ্রীহনুমানজীর উত্তর তো দেখুন।

এই রকম উত্তর শ্রীহনুমানজীর মতন জ্ঞানবান ভক্ত শিরোমণিই দিতে পারেন। শ্রীহনুমানজী বললেন, “‘হে প্রভু, আপনি যেখানেই থাকুন, সেখানে যে আপনার কথা হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিস্তু আপনার কথা যেখানে হয়, সেখানে আপনি যে উপস্থিত হবেনই, তা একেবারে নিশ্চিত। তাই আমি এখানেই থাকতে চাই। হে প্রভু, আপনিই তো বলেছেন যে আমি বৈকুষ্ঠ বা যোগীদের হৃদয়ে বাস করি না, কিস্তু হে নারদ, যেখানে আমার ভক্ত আমার কথা বা গান করেন, আমি সেখানেই অবস্থান করি।”

আমরা প্রভুর ভজন, তাঁর কথা এইজন্য শন বা করি যাতে কোনো বা কোনো সময়ে প্রভুর চিন্ময়লোকে তাঁর সঙ্গ করতে পারি। আর শ্রীহনুমানজী প্রভুর আগ্রহ সন্ত্বেও তাঁর লোকে যেতে চাইছেন না এইজন্য যে তাঁর কথা বা গান তিনি এই লোকে শোনার আনন্দ থেকে যাতে বধ্চিত না হন।

মানুষের স্বভাব হলো সে যে বিষয়ে ‘রস’ পায়, যেভাবেই হোক সেই বিষয়ের ‘রস’ লাভের সুযোগ কোনোমতেই হারাতে চায় না বা ‘রসিক’ মন সব বাধা পেরিয়ে সেখানে পোঁছতে চেষ্টা করে। শ্রীহনুমানজীও প্রভুর কথা বা চরিত্র ‘শুনিবে কো রসিয়া’ অর্থাৎ প্রভু শ্রীরামের কথা শোনার একটিও সুযোগ নষ্ট করেন না তা সে যতই প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক।

শ্রীশীরামচরিতমানসে লঙ্কাকাঞ্ডের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা খুবই প্রাসঙ্গিক হবে। প্রভু শ্রীরাম ও রাবণের সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ তখন ভীষণ পর্যায়ে। ভাই লক্ষ্মণ রাবণপুত্র মেঘনাদের শক্তিশেল বাণের আঘাতে অচেতন হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে আছেন আর প্রভু শ্রীরাম ভাইয়ের জন্য বিলাপ করে চলেছেন। প্রবীণ জাম্ববানের কথায় শ্রীহনুমানজী বৈদ্য সুযেণকে এনে তার কথা মতো সঞ্জীবনী বুটির সন্ধানে হিমালয় পর্বতের পথে রওনা হয়েছেন। তাঁর বায়ুর গতি তাঁকে মুহূর্ত হিমালয়ের পাদদেশে পোঁছে দিয়েছে।

যেহেতু ভক্তশিরোমণি শ্রীহনুমানজীর রামকথা শোনার আগ্রহ সবার জানা, তাই রাবণের পরামর্শে রাক্ষ্বীর ‘কালনেমী’ আগে থেকে গিয়ে হিমালয়ের পাদদেশে তাঁর মায়াবী শক্তির দ্বারা এক মনোরম গুহায় মুনির বেশ ধরে প্রভু শ্রীরামের যশোগান করতে লাগলো।

কালনেমির উদ্দেশ্য হলো, এই ‘রাম-ভজন’ ও ‘রামকথা’য় শ্রীহনুমানজীকে আটকে রাখা যাতে রাত্রিশেশে লক্ষ্মণের মৃত্যু হয়। বৈদ্যোজ সুষেণ শ্রীহনুমানজীকে আগেই বলে রেখেছিলেন যে, সূর্যোদয়ের আগে সঞ্জীবনী বুটির রস লক্ষ্বকে সেবন করাতে হবে নচেৎ তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত।

শ্রীহনুমানজীর শ্রীরাম-কথা অনুরাগের থবর সর্বত্র এমনকি লঙ্কাপুরীতেও পোঁছে গিয়েছিল। যাই হোক, মারুতনन্দন শ্রীহনুমান আকাশ-মার্গ থেকেই সেই মনোরম আশ্রম দেখতে পেলেন। সেখানে সরোবর, মনোরম ফুলের বাগান দেখে তাঁর মনে হলো এই আশ্রমের যিনি স্বামী, সেই মুনি নিশ্চয়ই তাঁকে জলের সঙ্ধান দিতে পারবেন কারণ সারাদিনের যুদ্ধের শ্রাত্তির পর তিনি খুবই তৃষ্ণার্ত ছিলেন। তই তিনি সেই মায়াময় আশ্রমে নেমে মুনির চরণে তাঁর প্রণাম নিবেদন করলেন।

সেই মুনি ঢাঁকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে রামকথা বলেই চললেন। কালনেমি একথাও জানতেন যে শ্রীহনুমানজী রামকার্য ও রামকথার মধ্যে রামকথাকেই সদাই প্রাধান্য দেন। দুষ্ট কালনেমি আরও জানতেন যে, শ্রীহনুমানজী রামকথা শেষ না হওয়া পর্যচ্ত স্থান ত্যাগ করবেন না। কালনেমির এই ছল কিত্ত বেশ কাজে লেগে গেলো।

প্রভু শ্রীরামের কথা শ্রীহনুমানজীর এত প্রিয় যে কালনেমির শিষ্টাচার সম্বন্ধীয় ভুল তাঁর নজর এড়িয়ে গেলো এবং যার জন্য এই আশ্রনে নামা অর্থাৎ তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জলের খোঁজ করা, তাও তিনি ভুলে গেলেন। রামকথা চাঁর শরীরের ক্লাত্তি ও তৃষ্ণা ভুলিয়ে দিলো। শ্রীমদ্ভাগবত কথা শ্রবণের সময়ও মহারাজ পরীক্ষিতের খিদে-তৃষ্ণা সাতদিনের জন্য একেবারে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিলো।

শ্রীহনুমানজী রামকথায় এমন লীন হয়ে গেলেন যে তিনি তাঁর মূল উদ্দেশের কথা অর্থাৎ সঞ্জীবনী বুটি আনার কথা ভুলে গেলেন। মূল্যবান সময় পেরিয়ে যেতে লাগলো। শ্রীহনুমানজীর মন, চিত্ত সব রামকথায় একাত্ম হয়ে গেলো। ওদিকে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্রভু শ্রীরাম ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। এদিকে রামকথার প্রসঙ্গে যখন যুদ্ধলীলার বর্ণনা শুরু হলো, কালনেমি তার দেখা যুদ্ধকথা বর্ণনা করতে লাগলেন কিন্তু তার দেখার সামর্থ্য সীমিত ছিল। তাই তার কথা হঠাৎ করে অন্য প্রসঙ্গে যেতে লাগলো এবং

কালনেমি তখন তার নিজের প্রশংসায় তার ত্রিকালদর্শী হওয়া এবং অসাধারণ গুণসমূহের বর্ণনা শুরু করা মাত্রই শ্রীহনুমানজীর রামকথা শোনার একগ্রতা ভঙ্গ হয়ে গেল এবং তাঁর তৃষ্ণার্ত হওয়া ও জলের অনুসঙ্ধানের কথা মনে পড়লো। কালনেমি তাঁকে নিকটবত্তী জলাশয়ে জলপান ও ক্লান্তি দূর করার জন্য বললে শ্রীহনুমানজী সেই সরোবরে জল পান করতে নামলেন এবং জলে অবগাহন করে ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রচেষ্টা করা মাত্র এক শাপিত অ্্দরা যে কিনা ওই সরোবরে কুমীরের রূপে বিরাজ করছিল, তার আক্রমণের মুখে পড়লেন।

শ্রীহনুমানজীর দ্বারা তার বধ ও উদ্ধার হওয়ায় সেই অপ্সরা তাঁকে মুনিবেশে কালনেমির কথা জানালেন। শ্রীহনুমানজী তারপর কালনেমিকে বধ করে দ্রোণপর্বতকেই উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে লক্ষ্মেনের প্রাণ উদ্ধারের কাজ করলেন।

কালনেমি প্রভু শ্রীরামের অনেক কথা জানতেন না আর যদি জানতেন তাহলে শ্রীহনুমানজীকে সারা রাত্রিই এই কথায় আটকে রাখতে পারতেন। প্রশ্ন হচ্ছে তা হলে কি হতো ? এই ঘটনা থেকে আমরা এই বিশ্বাস নিতে পারি যে রামভজন বা রামকথা অনুরাগীর কথা বা ভজন তন্ময়তা কখনই তার অন্য কাজ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে শ্রীহনুমানজীর কোনো কাজ কখনও বাধাপ্রাপু হয়ে বিগড়ে যায়নি।

গোস্বামী তুলসীদাসজীর মারুত-নন্দনের রামকথাপ্রীতির তো প্রত্যক্ষ দর্শন হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা আমাদের অনেকেরই জানা যে কাশীর প্রহুদা ঘাটে শ্রীহনুমানজীর সাক্ষাৎ দর্শন তার হয়েছিল এই কথা জেনে যে শ্রীহনুমানজী ওই ঘাটে হওয়া রামকথায় সর্বপ্রথম আসতেন এবং সবার শেষে যেতেন।

গোস্বামীজী তাঁর শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে মঙ্গলাচরণে যখন সব পূজনীয় চৈতন্যস্বরূপদের গুণ ও তাঁদের বিশিষ্ট লঙ্ষণগুলির সঙ্গে আমাদের পরিচয় করাচ্ছেন, তখন শ্রীহনুমানজীর ও শ্রীবাল্মীকির পরিচয় করাতে গিয় শ্রীহনুমানজীর ও শ্রীবাল্মীবির বিষয়ে বললেন যে এঁরা “সীতারামগুণগ্রাম পুণ্যারণ্য বিহারী”, অর্থাৎ এই দুজন প্রভু শ্রীরাম এবং মাতা সীতার ওুসমুহরূপ পুণ্যময় অরণ্য ছেড়ে কখনও কোথাও যান না।

দুজনের ত্যাৎ শু এই যে জঙ্গলে দস্যুগিরিরত একজন দেবর্ষি নারদের কৃপাপ্রাপু হয়ে শুধু রামনামের জপ ও কঠোর তপশ্চর্যার ফলস্বরূপ মহির্ষ বাল্মীকিরূপে জগতে পরিচিত হন আর অন্যজন জন্ম থেকেই “’সীতারামগুণগ্রাম পুণ্যারণ্য বিহারী”, কেননা স্বয়ং

ভগবান শিব প্রভু শ্রীরামকে ভক্তি করবার জন্য একাদশ রুদ্র অবতার হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই কারণে শ্রীহনুমানজীর রামকথা ও ভজন অনুরাগ জন্মসিদ্ধ ও স্বভাবসিদ্ধ। তার মধ্যে শ্রবণ, সৎকর্ম এবং সমর্পণের ত্রিধারা সম্মিলিত হওয়ায় শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরাম, মাতা সীতা ও লক্ষনের হৃদয়ে সদা বিরাজ করেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 7 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 7 Meaning in Bengali

Tulsidas, a renowned poet-saint, authored the Shree Hanuman Chalisa in the 16th century.

Hanuman Chalisa Chaupai 7 in Bengali with Meaning & Analysis

বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।
রাম কাজ করিবে কো আতুর।।

সারানুবাদ : বিদ্যাবান, গুণী, অতি চতুর, ভগবান শ্রীরামের কাজ করবার জন্য সদা তৎপর।
ব্যাখ্যা : বিদ্বান-বিদ্যাবান : গোস্থামী তুলসীদাসজী শ্রীহনুমানজীকে ‘বিদ্বান’ না বলে ‘বিদ্যাবান’ বললেন কেন ? বাল্মীকি রামায়ণে উল্লেখ আছে যে, ঋষি অগস্ত্য প্রভু শ্রীরামকে বলছেন যে, কিভাবে শ্রীহনুমানজীর শিক্ষালাভ হল। বাল্যকালে শ্রীহনুমানজীর সেই বিখ্যাত ঘটনা ঘটানোর কथ

আমরা সবাই জানি যেখানে সূর্যকে ফল মনে করে তিনি খাবার জন্য সূর্যের কাছে পৌঁছলে, রাহুর আগ্রহে দেবরাজ ইন্দ্র ডাঁর উপর বজ্রাঘাত করেন। শ্রীহনুমানজী মূর্ষ্ছিত হয়ে পড়লে তাঁর পিতা পবনদেব অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে সমগ্র জগৎ থেকে বায়ুকে প্রত্যাহার করলে সমস্ত সৃষ্টিতে উথাল-পাতাল কুরু হয়ে যায়।

পবনদেবকে শান্ত করার জন্য সমস্ত দেবতারা এসে শ্রীহনুমানজীকে বিভিন্ন প্রকারের বর দেন। সেই সময় সূর্যদেব তাঁর বর দিতে গিয়ে বলেন (বাল্মীকি রামায়ণ, উত্তর কাণ্ড, সর্গ-৩৬, শ্লোক-১৪), বালক যখন শাস্ত্র অধ্যয়ন করার মতো বয়সে পৌঁছছবে, তখন আমি একে সমস্ত শাস্ত্রের জ্ঞন দেব যার ফলে এ অত্যন্ত সুবক্তা হবে এবং শাস্ত্রজ্ঞানে এর সমান কেউ হবে না।

তার যখন অধ্যয়ন করার বয়স হল তখন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। সূর্যদেব যেহেতু চব্বিশ ঘণ্টাই কর্মব্যস্ত, তাই শ্রীহনুমানজীকে বললেন যে, তিনি তাঁকে শাস্ত্র-অধ্যয়ন তখনই করাতে পারবেন যখন শ্রীহনুমানজী উদয়াচল থেকে অস্তাচল পর্যন্ত সূর্যের সামনে থেকে তাঁর মুখ করে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে সমান তালে চলবেন। শ্রীহনুমানজী তাই করলেন।

শ্রীহনুমানজী সমস্ত সূত্র, বৃত্তি, বার্তিক, মহাভাষ্য এবং সংগ্রহ – এই সমস্তই থুব ভালভাবে অধ্যয়ন করলেন। অন্যান্য শাস্ত্র এবং ছন্দ শাস্ত্র ইত্যাদিতে ঢাঁর সমান কেউ নেই। বাল্মীকি রামায়ণে (উত্তর কাণ্ডের সর্গ ও শ্লোক 8৭-এ) উল্লেখ আছে যে, সম্পূর্ণ বিদ্যা এবং তপের অনুষ্ঠানে শ্রীহনুমানজী দেবতাদের গুরু বৃহস্পতির স্পর্ধা রাখেন। নব ব্যাকরণের সমস্ত সিদ্ধাত্তের জ্ঞাতা শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের কৃপায় ব্রহ্মার সমান সম্মান পान।

এবার দেখা যাক গোস্বামীজী ‘বিদ্যাবান’ শব্দ কেন ব্যবহার করলেন প্রচলিত শব্দ বিদ্বানের জায়গায়? প্রাথমিক দৃষ্টিতে দুটি শব্দের খুব বেশি অর্থকরি ফারাক নজরে পড়ে না। কিন্তু গোস্বামীজী যে বিনা কারণে ‘বিদ্যাবান’ শব্দ ব্যবহার করেননি তা বোঝা দরকার। এ বিষয়ে শ্রীরীরামচরিতমানস-এর সুন্দরকাঞ্ড এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শ্রীহনুমানজীর বিদ্যালাভের প্রথম পরীক্ষা হয়

লস্কেশ রাবগের সভাগৃহে। প্রথমে দেখা যাক রাবণের অবস্থা। লস্কেশ রাবণের সমসাময়িক কালে তাঁর সমকক্ষ জ্ঞানী থুম কমই ছিল। বেদকে সুর দেওয়া, রাবগের সংস্কৃত ভাষা, ব্যাকরণ এবং অন্যান্য শাস্ত্রে পারদর্শিতা ছিল অসাধারণ। মননশীল সাধু ও শাস্ত্রকারদের এই মত যে, রাবগের দশ মাথা তাঁর বিভিন্ন বিদ্যার পারঙ্গমতার প্রতীকস্বরূপ। চার বেদ ও ছয় শাস্তের ঢাঁর গতি ছিল অবাধ।

এই কারণে একজন সাধারণ মানুষের বৈদিক ক্ষমতার দশগুণ তাঁর পারদর্শিতা। অথচ তাঁর এই বিদ্যাবত্তা ঢাঁকে দুর্ষর্ম থেকে বিরত করতে পারেনি। এর কারণ শাস্ত্রকারেরা বলেন যে, যার বিদ্যাবত্তা এবং বৈদিক প্রতিভা অতি মাত্রায় বেড়ে যায় সে অপরের শাত্তিভঙ্গের কারণ হয়। জনকনল্দিনী সীতার অনেক স্বরূপের মধ্য এক স্বরূপ হলো শান্তি। রাবণ তাই যখন সীতাকে হরণ করলেন, তাঁর বিদ্যাবত্তা, বৈদিক প্রতিভা তাঁকে নিরস্ত করতে ব্যর্থ হলো। বিদ্যার অভিমান মানুষের অধোগতির কারণ হয়।

অন্যদিকে শ্রীহনুমানজীকে দেখুন, তাঁর বিদ্যা আর বুদ্ধি প্রয়োগ করে মাতা সীতাকে লঙ্কাতে ঠিক অনুসন্ধান করে প্রভু শ্রীরামের সঙ্গে মিলনের নিমিত্ত হলেন। তাই অন্যের শাত্তি হরণ যিনি করেন, তিনি বিদ্বান হতে পারেন আর হারিয়ে যাওয়া শান্তিকে যিনি পুনঃপ্রাপু করেন তিনি অবশ্যই বিদ্যাবান। তাই শ্রীহনুমানজী কেবল বিদ্বান नন, বিদ্যাবানও।

এবার রাবণের সভায় বিদ্বান রাবণ ও বিদ্যাবান শ্রীহনুমানজীর মুতোমুখি দেখা হওয়ায় এই দুইয়ের পরীক্ষা আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। শ্রীহনুমানজী সভায় বলছেন (শ্রীশ্রীরামচরিতমানস, সুন্দরকাণ্ড, দোহা ২২), “হে রাবণ, আমি করজোড়ে তোমায় বিনতি করছি, তুমি অভিমান ছেড়ে আমার কথা শোনো।” প্রশ্ন হল শ্রীহনুমানজী কি এতই দুর্বল যে রাবণের সামনে হাতজোড় করছেন ? সাধারণতঃ হাতজোড় করা হয় – ভয়ে কিংবা ভাবে।

শ্রীহনুমানজী হাতজোড় করলে রাবণ অভিমানে হেসে বলছেন, “তুমি আমার সামনে হাতজোড় করছো এ আর এমন কি আচ্চর্য কথা, আমার সামনে তো বড় বড় দিকপাল আর দেবতারা হাতজোড় করেই থাকে।” (রাঃ চঃ মাঃ সুঃ কাঃ)। গোস্বামীজী বলছেন যে বড় বড় দেবতা আর দিকপালরা রাবণের সামনে ভয়ে হাতজোড় করলেও শ্রীহনুমানজী ভয়ে নয়, ভাবে হাতজোড় করছেন, কারণ ‘বিদ্যাবান’-এর এক গুণ হলো ‘শীলতা’। শ্রীহনুমানজী যে ভীত হননি

তার প্রমাণ পাওয়া গেল রাবণের কথাতেই একটু পরে। রাবণ বলছেন, “তুমি কি আমার নাম আগে শোনোনি, আমি তোমায় অত্যন্ত নিঃশঙ (ভয়হীন) দেখছি। (রাঃ চঃ মাঃ সুঃ কমঃ দোহা-২৯)। শ্রীহনুমানজী রাবনের ভ্রকুটিকে তোয়াক্কাই করেননি কারণ ঢাঁর জানা আছে প্রভু রামের জ্কুটি কী করার ক্ষমতা রাখে। তিনি বললেন, শ্রীরামের এক ভ্রুকুটির প্রকোপে সমস্ত সৃষ্টি মুহূর্তেই লয় হতে পারে।

রাবণ প্রশ্ন করলেন রামের জ্রুকুটি যদি তোমার এতই জানা আর আমার জ্রুকুটিকে এতই অবহেলা তা হলে আমরা সামনে হাতজোড় করলে কেন ? শ্রীহনুমানজী স্পষ্ট করছেন, “এটা তোমার ভুল। আমি তোমার বাহানায় প্রভু শ্রীরামকেই তো হাতজোড় করলাম।” রাবণ বললেন, “এখানে শ্রীরাম কোথায় ?” শ্রীহনুমানজী বললেন, “আরে, আমি তো এইটই তোমাকে বোঝাতে ইচ্ছে করে তোমার সভায় এসেছি।

প্রভু শ্রীরাম তো সর্বব্যাপক, তাই তিনি এখানেও আছেন। আমি তো তোমার মধ্যে প্রভু শ্রীরামকেই দেখতে পাচ্ছি।” ঠিক এই কারণেই শ্রীহনুমানজী রাবণকে সম্বোধন করার সময় প্রভু, স্বামী ইত্যাদি উপযোগ করেছেন। অথচ রাবণ যতবার শ্রীহনুমানজীকে সম্বোধন করেছেন ততবার বলেছেন শঠ, খল, অধম ইত্যাদি।

রাবণ যতই শ্রীহনুমানজীকে অপশব্দ দ্বারা সম্বোধিত করুন না কেন, শ্রীহনুমানজী সর্বদাই শালীনতা বজায় রেখে তাকে সম্মানসূচক শব্দের দ্বারাই সম্বোধন করেছেন। সম্মানীয় ব্যক্তিকে অপমানিত করা কোনো বিদ্বান করলেও করতে পারেন, কিন্তু যিনি অপরের অপমানসূচক সম্বোধনের মধ্যেও প্রভুর দর্শনের আনন্দ পান তিনিই হলেন বিদ্যাবান, শ্রীহনুমানজী তাই বিদ্যাবান।

আবার দেখুন রাবণ কিস্তু ভগবান শিবের এক পরম ভক্ত ছিলেন। নিজের ইট্টের প্রতি হৃদয়ের ভাব এবং শ্রদ্ধা জানিয়ে রাবণ অনেক গ্রন্থও রচনা করে গেছেন। কিস্তু সেই ভগবান শিব যখন হনুমান স্বরূপে সামনে এলেন তখন তাকে চিনতেও পারলেন না। নিজের ইট্টদেব অন্য স্বরূপে এলে তাকে চিনতে না পারা এক বিদ্বানের খামতি হতে পারে, কিষ্তু সর্ব অবস্থায় এমন কি শত্রুর মধ্যেও যিনি হরিদর্শন করেন তিনিই বিদ্যাবানের বিবেক শক্তির অধিকারী হন। অ্চান পেয়ে যে অহংকারী হয় সে বিদ্বান হতে পারে কিন্তু জ্ঞান পেয়ে যিনি সদাই বিনয়ী থাকেন তিনিই বিদ্যাবান, কারণ “বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্” – বিদ্যা বিনয় দেয়।

এই বিদ্যার বিষয়ে প্রভু শ্রীরাম ‘শ্রীশ্রীরামচরিতমানস (কিষ্কিন্ধাকাগ, দোহা-১৪)-এ বলেছেন, মেঘ যেমন বর্ষণের আগে পৃথিবীর খুব কাছে লেমে আসে, তেমনি বিদ্যালাভ করে বিদ্যাবান সদা নম্র থাকতে জানেন। বিদ্যাবান সর্বদা নিরহঙ্কার থাকতে জানেন এবং নম্র থেকে পরোপকার আর অপরের কল্যাণের চিন্তা করেন।

বিদ্যাবান সদা বুদ্ধিকে সদ্উপযোগ করায় তাঁর বিবেক তাঁকে সর্ব অবস্থায় সহায়তা করে এবং তিনি অপরের হৃদয়ের কলুষতাকে দূর করার জন্য অত্যন্ত তৎপর থাকেন। শ্রীহনুমানজী তাই রাবণকে বোঝানোর জন্য বলেন (রাঃ চঃ মাঃ সুন্দরকাণ্ড, দোহা-২৩) প্রভু শ্রীরামের চরণকমল হৃদয়ে ধারণ করুন আর লঙ্কায় অবিচ্ছিন্ন রাজত্ব করুন। রাবণ তর্ক করতে পারতেন যে, তুমি কি আমার এই ধন, বৈভব, সমস্ত জাগতিক সুখের ভাগ্ডার দেখতে পাচ্ছো না ?

আমি তো অত্যন্ত সুখী, আমি বুঝতে পারছি না আমার হৃদয় ছাড়া তোমার কি কিছুই নজরে পড়ছে না ? এখানে একটা উদাহরণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হবে। মানুষ যখন ক্যামেরায় ফটো তোলে তখন নিজেকে যতটা সম্ভব সাজিয়ে তোলে যাতে তার বাইরের চেহারা, সাজসজ্জা সবার নজর কাড়ে। কিষ্ত যখন এক্স-রেতে ফটো তোলা হয়, তখন তার ভিতরের প্রকৃত অবস্থা বেরিয়ে আসে।

বাইরের চাকচিক্যের কোনো ছাপ সেখানে থাকে না। শ্রীহনুমানজী এক বিরল সদ্গুরু, যাঁর রাবণের প্রতি দৃষ্টি পড়তেই, রাবণের ভিতরের অবস্থার জ্ঞান হয়ে যায়। তাই রিক্ত হৃদয়ে প্রভু শ্রীরামের চরণকমল ধারণ করার কথা বলে তাকে সঠিক উপদেশই দিয়েছিলেন। বিদ্বান রাবণ আর বিদ্যাবান শ্রীহনুমানজীর ফারাকটা তাই খুবই পরিষ্কার।

ওণীী-ওুণবান : শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে সুন্দরকাণ্ডের মঙ্গলাচরণে গোস্বামীজী শ্রীহনুমানজীকে ‘সকলগুণ নিধানং’ বলছেন অর্থাৎ শ্রীহনুমানজীকে সর্বগুণের ভাগার বলছেন। এই সুন্দরকাণ্ডেই আগে যেখানে জনকনন্দিনী সীতার খোঁজ করে তাঁকে প্রভু শ্রীরামের আসার সমাচার দিলেন এবং তাঁকে নিঃসংশয় করলেন, তখন দেবী সীতা শ্রীহনুমানজীকে আশীর্বাদ করে বললেন (রাঃ চঃ মাঃ সুন্দরকাঞ্ড, দোহা-২৭), “‘হে তাত, তুমি ‘বল’ আর ‘শীল’-এর নিধান হবে। হে পুত্র, তুমি বৃদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে, তুমি ‘অমর’ হবে এবং ‘গুনের’ ভাগুার হবে। শ্রীরঘুনাথ তোমায় অত্যন্ত কৃপা করুন।’

শ্রীহনুমান চালীসার প্রধান ও বিশেষ কাজই হলো শ্রীহনুমানজীর অনস্ত গুণ, শৌর্য, বল ও তাঁর দীপ্তির স্মরণ ও সস্কটমোচনকারী হিসাবে তাঁর কীর্তির যশগান করা ও তাঁর কৃপা প্রার্থনা করা। সমগ্র শ্রীহনুমান চালীসা তাঁর গুণকীর্তনের বর্ণনায় পরিপূর্ণ। তাঁর অসংখ্য গুণের মধ্যে কয়েকটি সংক্ষেপে বর্ণনা করছি।

প্রভু শ্রীরাম ও শ্রীলস্ম্ যখন জনকন্নन्দিনী সীতাদেবীর খোঁজে ঋস্বমুক পর্বতের পাদদেশে পৌঁঁলেন, যে পর্বতের এক সুউচ্চ গুহায় তখন কিষ্কিন্ধারাজ বালীর ভাই সুগ্রীব অত্যন্ত ভয়গ্রস্ত হয়ে অবস্থান করছিলেন, তখন সুগ্রীবের অনুগ্রহে শ্রীহনুমানজী, যিনি ওই পর্বতেই সুগ্রীবের সাথে অবস্থান করছিলেন, তিনি এক ব্রাহ্মণের বেশ ধরে শ্রীরাম ও লক্ষ্নেে কাছে উপস্থিত হলেন।

শ্রীহনুমানজী ওই দুই সম্ন্যাসবেশী রাজপুত্রকে যেভাবে ঢাঁর পরিচয় দিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর যে বাক্যালাপ হলো, বাল্মীকি রামায়ণে তার সুন্দর বর্ণনা আছে। এই বার্তালাপ শ্রীহনুমানজীর চরিত্রের শু কিছু গুণেরই পরিচায়ক নয়, প্রথম সাক্ষাতে তিনি যেভাবে দুই ভাইকে অভিভূত করলেন তাও এককথায় অননুকরণীয়। শ্রীহনুমানজী ঢাঁর নিজের পরিচয় (ব্রাস্মণরূপে) দিলেন সুগ্রীবের দূত হিসাবে।

তিনি যে বাক্য ব্যবহার করলেন, যে শব্দ সুচিন্তিতরূপে প্রয়োগ করলেন, তা তনে প্রভু শ্রীরাম লস্ষ্মণকে বলছেন, “যার ঋগ্ধেদের শিক্ষা হয়নি, যে যজুর্বেদের অভ্যাস করেনি, যার সামবেদের জ্ঞান নেই, সে কখনও এত সুন্দরভাবে বার্তালাপ করতে পারে না। নিশ্চয়ই সে সমস্ত ব্যাকরণ অনেকবার স্বাধ্যায় করেছে, কারণ অনেক কথা বললেও তার মুখ থেকে কিত্তু কোনো অশুদ্ধ বা অপশব্দ বের হয়নি।

কথাবার্তার সময় এর মুখ, চোখ কপাল ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো দোষই প্রকট হয়নি। এর বক্তব্য না অতি লম্বা, না অস্পষ্ট, না এ থেমে থেমে, না থুব তাড়াতাড়ি বলেছে। এর হৃদয়ের ভাষা কণ্ঠে মধ্যম সুরের দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে।” প্রভুর মুখ থেকে শোনা এই কথা তাঁর বার্তালাপের কুশলতারই পরিচায়ক। যার ওই স্বল্প সংখ্যক বার্তালাপেই প্রভু এত মুপ্ধ, কল্পনা করতে অসুবিধা হয় না তার বিদ্যা ও গুণের ভাঞ্ডার কত পরিপূর্ণ হবে।

অতি চাতুর : শ্রীগোস্বামীজী বলছেন শ্রীহনুমানজী বিদ্যাবান এবং ওুণবান। এর সাথে অত্যন্ত চতুরও ছিলেন। চালাকি ও চাতুরতার মধ্যে ফারাক আছে। যে সমস্ত ব্রাহ্মারা পূজা, পাঠ, যজ্ঞ ইত্যাদিতে তাঁদের জীবন গুজরান করেন তাঁদের মধ্যে খুব কমজনই ধনী হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে এই সমস্ত ব্রাহ্মণদের

দরিত্র ও অতি দরিদ্রই বলা হয়েছে। এদের মষ্যে অনেকে বিদ্বান এবং কেউ কেউ গুণশীল ও বিজ্ঞ কিল্তু এরা চতুর নয়। কিষ্টু যারা বৈশ্য, ব্যবসাই যাদের প্রধান কাজ তাদের অধিকাংশই ধনীর পর্যায়ে পড়ে। কারণ এরা বিদ্বান বা ুণবান না ইউক চালাকি এদের অবশ্যই রক্তে আছে। ব্যতিক্রম নেই? সে তো ব্রাগ্দণ ও বৈশ্য দুজনের মধ্যেই থুঁজে পাওয়া যাবে। সত্ত সমাভে একটি দোঁহা খুবই প্রচলিত আছে – “বিদ্যা পড়ি সঞ্জীবনী, মতি কে निকলে ইীন। ইস কার্রণ মারে গ্যয়ে, पूलमी বन। जिन।।”

যে ঘটনাকে নিয়ে এই দোহা, তার গল্পটি এই রকম :
একবার বারাণসীর গুরুকুলে নিজেদের পাঠ শেষ করে তিন বিত্বান একসাথে তাদের গৃহের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। বাড়ি যাবার রাস্তায় তাদের একটা বনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বনের মধ্যে কিছুটা যাবার পর তারা দেখলো এক মরা বাঘের দেহ পড়ে আছে। তাই দেথে এই বাঘের প্রতি তাদের দয়া জন্দাল এবং কিভাবে তাদের বিদ্যার প্রভাবে তাকে বাঁচান যায়, তই ভাবতে লাগল। প্রধমজন বললো যে, ডামি এর শরীরের হাড়-মাংসকে হৃষ্টপুষ্ট করতে পারি। দ্বিতীয়জন বললো, আমি এর আগের মতো চামড়াও লাগাতে পারি।

তথন তৃতীয়জন তার বিদ্যাবত্তার অহমিকায় বললো যে, আমি এমন এক মস্ত্র জানি যে তাতে এই বাঘ জীবিত হয়ে যাবে। তিনজনই তাদের বিদ্যাবত্তার পরিচয় দিলে বাঘ জীবিত হয়ে উঠলো এবং তিনজনকেই খেয়ে ফেললো। এরা তিনজনই বিত্বান এবং ऊুণবান ছিলেন, কিলু চাতুর্যতার অভাব ছিলো। বিদ্যার প্রয়োগ কখন, বোধায় ও কতটুকু করতে হবে তা বোঝার জন্য চতুরতার দরকার। আজকল চালাক লোকের অভাব নেই, কিস্ত বিদ্বান, ওণবান এবং সাথে চতুরতা খুব কম্ই দেখা যায়। শ্রীহনুমানজীর বিদ্যাবান, গণবান হওয়ার কথা আগেই বলা হয়েছে কিত্তু তিনি অত্যন্ত চতুর৫ ছিলেন।

শ্রীহনুমানজীর চতুরতার পরিচয় : (১) একবার প্রভু শ্রীরাম কালের আগমনে কালের ইচ্ছায় তাঁদের দু’জনের বার্তালাপের সময় কারোর প্রবেশ নিযেধ করলেন এবং লক্ষ্মণকে আদেশ দিলেন যে কেউ যেন তাঁদের দু’জনের বার্তালাপের সময় সেখানে প্রবেশ না করে। সেই উদ্দেশের অন্য তিনি লস্ম্মণকে দরজায় পাহারায় বসালেন। প্রভু ত্রীরাম একথাও বললেন যে, যদি

কেউ এই বার্তালাপের মধ্যে প্রবেশ করে তবে তার শাস্তি লস্ম্মণকে পেতে হবে। স্বয়ং কাল যখন তার নিজ স্বরূপে প্রভুর সঙ্গে আলাপে ব্যস্ত তখন ঋষি দুর্বাসা দ্বারপ্রাত্তে পোঁছে প্রভু শ্রীরামের সঙ্গে তখনই দেখা করার জেদ ধরলেন। ঋষি দুর্বাসা বলে কথা, যাঁর জিহ্বার অগ্রভাগে সদা অভিশাপ নেচে বেড়ায় বলে খ্যাতি ছিল। লক্ষ্মণ যখন প্রভুর সঙ্গে সাঙ্ষাতের অসুবিধার কথা বারবার বোঝাতে লাগলেন, তখন ঋষি দুর্বাসা প্রচঞ রেগে অভিশাপ দেবার জন্য তৈরি হলেন।

লক্ষ্মণ তখন প্রমাদ গুণে প্রভুর ঘরে প্রবেশ করলেন যেখানে তিনি কালকে তার নিজ স্বরূপে প্রত্যক্ষ করলেন যা কিনা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। প্রভু শ্রীরাম লক্ষমনের কাছ থেকে সব শুনলেন এবং ঋষি দুর্বাসাকে স্বাগত জানাতে তখনই দ্বার প্রাত্তে পৌাঁছলেন। ঋষি দুর্বাসাকে বিদায় করে প্রভু শ্রীরাম তাঁর আদেশ লঘ্যনের জন্য লক্ষ্নণকে শাস্তি দেবার জন্য প্রস্তুত হলেন।

রাজ-আজ্ঞা না পালনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে সাব্যস্ত হলো। সমস্ত অযোধ্যা দুঃখে মুহ্যমান হয়ে পড়লো। প্রভু শ্রীরাম মর্যাদা পুরুযোত্তম। ঢাঁর প্রিয় ভ্রাতার প্রাণদঞ তিনি মেনে নিতে পারছেন না, কিন্তু তাঁর বিধান অলখ্য্য। এই সময় শ্রীহনুমানজী তাঁর অসামান্য শাস্ত্র ও নীতি জ্ঞানের প্রমাণ রেখে প্রভু শ্রীরামকে বোঝালেন যে, শ্রীলক্ষ্মেের পরিত্যাগ তার প্রাণদগ্ডের সমতুল্য হবে।

প্রভু শ্রীরাম, অযোধ্যায় উপস্থিত ঋষিকুল ও ঢাঁর পরামর্শদাতা সবাই শ্রীহনুমানজীর শাস্ত্রসম্মত যুক্তিকে সম্মান করে ওই সিদ্ধাস্তই মেনে নিলেন। শ্রীহনুমানজী অত্যগ্ত চতুরতার সঙ্গে ঢাঁর বিদ্যাবত্তা ও গুণবত্তাকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্মেের প্রাণ বাঁচালেন। লস্মণ অবশ্য এই পরিত্যাগকে মৃত্যু অপেক্ষা কঠিন মেনে সরযূনদীর তীরে দেহত্যাগ করলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রকটের আগে সঙ্কর্ষণ বলরাম দেহ রেখেছিলেন তেমনি লক্ষ্মণ প্রভু শ্রীরামের অপ্রকটের আগেই দেহ রাখলেন। আশ্রয়তত্ত্বকে ছাড়া ঈশ্বরতত্ত্তেকে ভাবা যায় না, তা সে এই ভূলোকেই হোক বা চিন্ময়লোকে।

(২) তিনি অত্যন্ত বুদ্ধি করে সূর্যের মতো সম্যক উজ্ট্রলা নাগমাতা সুরসার আশীর্বাদ পান। শ্রীহনুমানজী নাগমাতা সুরসাকে ঢাঁর কর্তব্য, যাত্রার কারণ, প্রভু শ্রীরামের কাহিনী শোনালেন যাতে তিনিও ডাঁকে একাজে সাহায্য করেন। শ্রীহনুমানজী একথাও বললেন যে, তাঁর কাজ শেষ করে এসে নাগমাতা সুরসার মুখে প্রবেশ করবেন। কিল্তু সুরসা মানলেন না। শ্রীহনুমানজী প্রভুর

কাজ বাধা হএয়ায় বিরক্ত হলেন, বিচ্টু তিনি তো অভিমান শূন্য, ক্রোধজয়ী। তিनि दूঝলেন প্রভুর কাজ করতে গোলে নাগমাতাকে প্রসন্ন করতেই হবে। बীহনুমানজী তাঁর চতুরতার পরিচয় দেবার জন্য নাগমাতাকে ইা করতে বললেন। নাগ মাতা সুরসা যত বড় হাঁ করেন, ब্রীহনুমানজ্যী তার দশওুণ দেহ বিস্তার করেন। এই করতে করতে মাতা সুরসা যখন একশ যোজন মুখ বিস্তার করলেন, শ্রীহনুমানজী মুহূর্তে মেঘের মতো নিজের দেহটিকে ছোট করে নিডেন এবং আকার হলো বুড়ো আধুলে মঢো।

মহাবলী ও বুদ্ধিমান হনুমান এবার চোখের পলকে মাতার মুখে প্রবেশ করে বাইরে বেরিয়ে এলেন। মাতা সুরসা কিছু বোঝার আগেই শ্রীহনুমানজী মাতা সুরসাকে তাঁর চতুরতায় পরাস্ত করলেন। এী:নুমানজী দেবী সুরসাকে প্রণাম করলেন এবং দেবী তাঁকে তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধির আশীর্বাদ দিলেন। শ্রীহনুমানজীর চতুরতার আরো অনেক কাহিনী রামায়ণে পাওয়া যায়। এই লেখাকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মাত্র দুটি ঘটনার উল্লেখ করলাম।

রাম কাজ করিবে কো আডুর : অর্থাৎ প্রভু ঐ্রীরামের কাজ করার জন্য সদা তৎপর। এই চোপাঈ্ঈ-এর প্রসিদ্ধ ও পারম্পরিক অর্থ হলো যেহেতু শ্রীহনুমানজী বিদ্যাবান, ুণবান এবং অত্যন্ত চতুর, তাই প্রভু শ্রীরামের কাষ্জ করার জন্য সদা তৎপর। বিদ্যাবান হবার কারণে তাঁর লস্ষ্য অত্যত্ত স্থির হয়, ওণবান হবার জন্য ওই লক্ষোর প্রতি একাগ্রতা স্বাভাবিক হয় আর তিনি স্বয়ং চতুর হওয়ার জন্য ওই লক্ষ্যে পৌছবার সयন্লত নিশ্চিত হয়।

শ্রীহনুমানজী স্বয়ং ভক্তশিরোমণি আর তাই প্রভুকে বারবার ডেকে তাঁকে কিছু বলতে হয় না বরং শীরনুমানজী প্রভু শ্রীরামের অস্তঃকরণের ইচ্ছাকে আগে থেকে জেনে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সেই ইচ্ছাকে পুর্ণ করেন। প্রভু শ্রীরামের কাভে তাঁর কখনও বিশ্রামের চিত্তাই হতো না আর তাই দেবতাদের নির্দেশে যথন মৈনাক পর্বত সমুদ্রলত্টনের সময় শ্রীহনুমানজীকে তাঁর পৃষ্ঠদেশে কিছ্মুকণ বিब্রাম निঢে বললেन তथन শ্রীহनুমानझो বলছেनসুন্দরকাগ)

অর্থাৎ প্রভু শ্রীরামের কাজ শেষ না করে আমি কি করে বিল্রাম নিতে পারি ? এই দোহার এইরকম অর্থও করা যায় যে, যেহেতু প্রভু শ্রীরাহের কাজ করার জন্য শ্রীহনুমানজী সদাই তৎপর ও মুখিয়ে থাকেন, তাই তিনি বিদ্যাবান, গুণী এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান।

শ্রীহনুমানজী নিজের নামে বা ঢাঁর বাবার নামে অথবা ঢাঁর গুণসমূহের উদূঘোযে বিন্দুমত্র উৎসাহিত হন না, কিস্তু यদি তাঁকে বলা হয় যে, প্রভু শ্রীরামের কাজ আছে যা তাঁকে করতে হবে বা প্রভু শ্রীরাম তাঁকে স্মরণ করেছেন, তাহলে তাঁর উৎসাহের অস্ত থাকে না এবং তিনি তাঁর সমস্ত গুণ, বুদ্ধি ও বল निয়ে প্রভুর কাজ সফল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন।

শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের কিষ্কিষ্ধাকাত্ডের একেবারে শেষ দিকে সমুদ্রের তটে জাম্ববানসহ শ্রীহনুমানজী ও অন্যান্য বানরগণ অত্যন্ত চিস্তিতভাবে অবস্থান করছেন, কারণ গৃখ্ররাজ সম্পাতি একটু আগেই তাঁদের জানিয়েছেন যে, এই বিশাল ও দুস্তর সমুদ্রের ওপারেই রাক্ষসরাজ রাবণের লঙ্কাপুরীর অশোকবনে দেবী সীতা অবস্থান করছেন।

এই বিশাল সমুদ্র লঘনেরে উপায়ে জাম্ববান যখন একে একে অঙ্গদ, নল, নীল ও অন্যান্য বানরদের জিজ্ঞাসা করছেন তখন শ্রীহনুমানজী চুপ করে এই সব থেকে একটু দূরে বসেছিলেন। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল শান্ত, ধীর ও প্রভু শ্রীরামের নিরস্তর নাম স্মরণে প্রশান্ত। বানরশ্রেষ্ঠগণ যখন তাদের সমুদ্র লষ্যনের প্রয়াসে তাঁদের সীমিত বলের কথা জানালেন এবং জাম্ববান স্বয়ং তাঁর বৃদ্ধ অবস্থার কथা

বললেন, তখন সবার নজর গেল শ্রীহনুমানজীর দিকে। ব্রস্মার মানসপুত্র জাম্ববান শ্রীহনুমানজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “‘হে হনুমান, হে বলবান! শুনো, তুমি কেন চুপ করে বসে আছ? তুমি পবনদেবের পুত্র, শক্তিতে তুমি পবনদেবের সমান। তুমি বুদ্ধি, বিবেক আর বিদ্যার ভাগ্ডার।” যখন শ্রীহনুমানজীর মধ্যে এই কথা ওনে কোনো প্রতিক্রিয়া হোল না তখন জাম্ববান আরও বললেন :

“হে বানরশ্রেষ্ঠ শ্রীহনুমান, এই জগতে কোন এমন কঠিন কাজ আছে যা আপনার সাধ্য নয় ? শ্রীরামের কাজের জন্যই তো আপনি অবতার হয়েছেন।” এই কথা শোনা মাত্র মুর্হূতের মধ্যে শ্রীহনুমানজীর দেহ পর্বতসমান বিশাল হয়ে গেলো। লক্ষ্য করুন, জাম্ববান তাঁর গুণের বর্ণনা করলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। কিন্তু যখনই তাঁকে শ্রীরামের কাজের কথা স্মরণ করালেন, রীহনুমানজী তৎস্গণাৎ তাঁর স্বরূপ ধারণ করে কাজের জন্য তৎপর হলেন। ঋষিদের অভিশাপে তিনি एँঁর স্বরূপ ভুলে গিয়েছিলেন। কিল্ত জাম্ববান তাঁর অবতারতেনের, প্রভু শ্রীরামের কাজের কথা স্মরণ করালে তিনি স্বমূর্তি ধারণ করলেন।

এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝলাম যে, শ্রীহনুমানজীর কৃপা পেতে হলে, তাঁকে জাগাতে হলে (তিনি সর্বদা প্রভু শ্রীরামের নামে ধ্যানস্থ অবস্থায় লীন থাকেন) অন্য কোনো প্রয়াসে কাজ হবে না। শ্রীহনুমানজীকে কেবল রামের নাম এবং রামের কাজের কথা স্মরণ করাতে হবে। আপনার নিজের স্বার্থের জন্য নয়, সবার কল্যাণের জন্য শ্রীহনুমানজীর কৃপা প্রার্থনা করতে হবে।

অর্থাৎ আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত “’হে হনুমানজী, আমার কষ্ট বা সমস্যা দুর হওয়ার পর প্রভু শ্রীরামের কাজ করতে চাই অর্থাৎ অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।” এই রকম প্রার্থনা করলে শ্রীইনুমানজী অবশ্যই কৃপা করে সঙ্কট বা সমস্যা দূর করে দেবেন। তারপর আমাদের অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। আমরা यদি শ্রীরামের কাজ করতে ভুলে যাই, শ্রীহনুমানজী কিন্তু ভুলবেন না।

Hanuman Chalisa Chaupai 6 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 6 Meaning in Bengali

Hanuman Jayanti is a significant occasion for the mass recitation of the Hanuman Chalisa Lyrics in English.

Hanuman Chalisa Chaupai 6 in Bengali with Meaning & Analysis

শঙ্কর সুবন কেশরীনন্দন।
তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দन।।

সারানুবাদ : শংকরের পুত্র, রাজা কেশরীকে যিনি আনন্দ দেন, আর তেজের প্রতাপের কারণে সমস্ত জগতে যিনি বন্দনীয়।

অর্থ : গোস্বামীজী শ্রীহনুমান চালীসার দর্শন করাতে করাতে বলছেন যে শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের পুত্র। সুবন মানে পুত্র -এ বিষয়ে বিভিন্ন পুরাণে কিছু বর্ণনা আমরা পাই। শিবপুরাণে (শতরুদ্র সংহিতা, অধ্যায় ২০) বলা আছে যে, ভগবান বিষ্ণুর পুরুযোত্তম শ্রীরাম অবতার ধারণ করার সময় তাঁর লীলায় সক্রিয় অংশ গ্রহণের ইচ্ছা ভগবান শিবের জাগে। সমুদ্রমন্থনের সেই প্রসঙ্গ আমরা জানি যেখানে ভগবান বিষুণু ঢাঁর অপরূপ মোহিনী অবতারে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্রমন্থন থেকে প্রাপু অমৃত দেবতাদের পান করিয়েছিলেন এবং রাহর মুঞ্ড ছেদন করেছিলেন। দেবাদিদেব মহাদেব ও ভগবান বিষুণ এর পর এক অপূর্ব লীলাখেলা করেন।

ভগবান শিবের অনুরোধে ভগবান বিষুণু তাঁর সেই ,োহিনী স্বরূপ তাঁকে দর্শন করালে ভগবান শিব মোহিনীর যৌবন, সোন্দর্য ও অঙ্গসজ্জার দর্শনে মোহিত হলে তাঁর বীর্য স্থলন হয়, সপু-ঋষি সেই বীর্যকে পাতায় ধারণ করে সুরক্ষিত স্থানে রেখে দেন এবং পরে ভগবান শংকরের ইচ্ছায় শ্রীরাম অবতারের সময়কালে দেবী অঞ্জনার গর্ভে বায়ুদেবের সাহায্যে তার কর্ণকুহরের মধ্য দিয়ে সেই বীর্য স্থাপন করেন।

এর থেকে অনুমান করা যায় যে আধুনিক বিজ্ঞানের টেস্ট-টিউব বেবির পদ্ধতি আমাদের ঋষি-মুনিরা প্রাচীন কাল থেকেই জানতেন। ভগবান শংকরের তেজ দেবী অঞ্জনার কানে ঢালার অর্থ হলো ভগবান শিবের কল্যাণকারী বচনের, তার শক্তি ও পরাক্রমের বীজের বপন হলো। তাই শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের সর্বগুণসম্পন্ন তেজস্বীতারও ধারক।

আমরা এই শিবপুরাণে (রুদ্রসংহিতা, যুদ্ধখণ্ড, অধ্যায়-২, শ্লোক-৫১) মধ্যেই পাই ডগবান শিবের ত্রিপুরাসুরের বধের অত্যস্ত আকর্ষক ও ঘটনাবহুল কাহিনী। যুদ্ধের আগে দেবতাদের ভগবান শিবের বিভূতি বর্ণনায় শ্রীহনুমানজীর স্বরূপের উঙ্লেখ পাই। তাতে উল্লেখ আছে যে আদিত্যদের মধ্যে বাসুদেব এবং বানরদের মব্যে শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের বিভূতি।

বায়ুপূরাগেও (অধ্যায়-৬০, শ্লোক-৭৩) ভগবান শিবের শ্রীহনুমান অবতার হওয়ার উল্লেখ আছে। তাতে উল্লেখ আছে যে, শ্রীমহাদেব অঞ্জনার গর্ভে পবনপুত্র মহাবিক্রন্মী শ্রীহনুমান স্বরূপে অবতরিত হন। আবার স্কন্দপুরাণে (মাহেশ্বরসংহিতা, কেদারখণ্ড, অধ্যায়-৮, শ্লোক-৯৯, ১০০) উহ্নেখ আছে যে একাদশ রুদ্রই ভগবান বিষুভুর সহায়তার জন্য মহাকপি হনুমানের স্বরূপে অবতরিত হয়েছেন। স্বয়ং গোস্বামীজী তাঁর দোহাবলীতে (দোহা-১৪২, ১৪৩) ঘোষণা করেছেন প্রভু শ্রীরামের তত্তৃ অনুভব করানোর কারণেই শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের অবতার হয়েছেন।

কেশরীনন্দন : কেশরীর যখন অল্প বয়স তখন তিনি গোকর্ণ তীর্থে এক অত্যত্ত শক্তিশালী রাক্ষসকে বধ করেছিলেন। স্বয়ং কেশরীও ভগবান শিবের কঠিন তপস্যা করেছিলেন এবং এই বর পেয়েছিলেন, ‘তুমি ভোলাভালা, বুদ্ধিমান, বলবান আর বিদ্যাবান পুত্র চাইছ তা পাবে কিন্তু সেই পুত্রলাভের তুমি নিমিত্ত হবে।’ আর এই বরদানের কারণেই তিনি শ্রীহনুমানজীকে পুত্ররূপে লাভ করেন।

তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দন : গোস্বামীজী বলেন শ্রীমহাদেবের তেজেরই প্রতাপ শ্রীহনুমানজী, যেমন তেজস্বী, তেমনই প্রতাপী এবং মহানও বটে। তাই সমস্ত সংসার চাঁর বন্দনা করে। প্রভু শ্রীরাম যার গুণ বর্ণনা করতে কখনও ক্লান্ত হন না এবং আনল্দের সাগরে ডুবে যান তিনি জগবন্দনীয়ই ণধু নল, তিনি মহা জগবন্দনীয়।

Hanuman Chalisa Chaupai 5 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 5 Meaning in Bengali

The recitation of Shri Hanuman Chalisa is believed to ward off evil and negativity.

Hanuman Chalisa Chaupai 5 in Bengali with Meaning & Analysis

হাত বজ্র ঔ্ ধ্বজা বিরাজৈ।
কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ।।

সারানুবাদ : হাতে বজ্র এবং ধ্বজা বিরাজ করছে। কাঁধে পবিত্র ঘাসের যজ্ঞেপপীত সুশোভিত হয়ে আছে।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজীর হাতে বভ্র আছে। তিনি রামনামে মগ্ন এবং যখন কোলো কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন অন্তরময় রামনাম। শ্রীহনুমানজীর হাতের বজ্র সদা রামনামের প্রভাবে হরিনামের প্রতীক হয়ে গেছে। গোস্বামীজী বোধ হয় এ কথা বলতে চেয়েছেন যে হরিনাম কেবল মুখে রাখলেই হবে না, হরি কার্য সদা করার সঙ্কল্পও নিতে হবে। নামের তো মাহাত্য আছেই, কিস্তু হরির

কার্য, তার স্থান তো আরো উপরে। এ্রীহনুমানজীর সঙ্গে যখন শ্রীবিভীষণের দেখা তখন বিভীষণ বলে উঠলেন যে “বাবা, আমার এখন পাক্কা ভরসা হয়েছে যে আমার উপর প্রভু শ্রীরামের কৃপা হয়েছে কারণ আমি আপনাকে পেয়েছি। প্রভুর কৃপা না হলে তো সন্তদের দর্শন হয় না।”

একথা उনে শ্রীহনুমানজী বললেন, “আপনার উপর প্রভু কখনও কৃপা করবেন না একথা আমি বলতে পারি কারণ আমি প্রভুর কাছে সর্বদা থাকি আর জানি প্রভু কাদের কৃপা করেন।” একথা শুনে বিভীষণ বললেন, “বাবা, আমি সদা রাম রাম বলি, অঙ্গনে তুলসী মঞ্চ আছে। ছোট্ট একটা মন্দিরও আছে যেখানে রোজ প্রভুর পৃজা করি।

আমি বৈষ্ণব। প্রভু শ্রীরামের কথা আমার এই প্রাসাদের দেওয়ালে অক্কিত আছে। ভোরে ঘুম থেকে আমি উঠি প্রভুর নাম নিতে নিতে या কিन्ना আপनि ওনেছেন। তা সত্ত্বেও প্রভু আমায় কৃপা করবেন না ?” জানডে চাইলেন, ‘ব্যাপরটা কি ?” তখন শ্রীহনুমানজী বললেন,

“আপনি প্রড় শ্রীরারের নাম তো নেন কিল্তু তাঁর কাজ তো একেবারেই করেন না। আপনার ঘর দেখে বোঝা যায় যে এ পরম বৈষ্ণবের ঘর। এই প্রাসাদের দেওয়ালও প্রভুর নাম করে। কিষ্তু আপনি প্রভু শ্রীরামের কাজ তো করেন না।” লক্ষ্য করুন শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের কাজের ব্যাপারে জগতকে কিছু জানাতে চাইছেন বিভীষণের মাধ্যদে।

শ্রীহনুমানজী বলছেন, “আপনি আমায় জবাব দিন যে, যে শ্রীরামের নাম আপনি সদা জপ করেন, তাঁরই স্ত্রীকে আপনার ভাই রাবণ অপহরণ করে আনরেন, আর আপনি তারই দরবারে এক মস্ত্রী হয়ে কি করেছেন ? আপনার কি কর্তব্য ছিল না রাবণকে বলা যে তিনি যেন জনকন্দিনিনীকে প্রভু শ্রীরামের কাছে ফিরিয়ে দেন; কারণ রাবণ অত্যন্ত গर্থিত কাজ করেছে।

রামের নাম নেবেন অথচ রামের কাজ করবেন না তো প্রভুর কৃপা কিভাবে পাবেন ?” একথা শনে বিভীষণ সঙ্কল্প করলেন যে, এরপর প্রথম যে রাজসভা বসবে, তিনি সেখানে রাবণের সামনে এই কথা রাখবেন। রাবণকে বোঝাবেন। তখন তো প্রভু শ্রীরাম নিশ্চয়ই কৃপা করবেন। শ্রীহনুমানজী বললেন, “না, তাহলে তো প্রভু শ্রীরাম আর কখনও কৃপা করবেন না।” তনে বিভীযণ অবাক দৃষ্টিতে শ্রীইনুমানজীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। শ্রীইনুমানজী

তখন বলরেন, “আরে, যখন আপনি রামের কাজ করবেন তখন ত্রীরাম কৃপা করবেন না, উপরন্ত প্রভু আপনাকে প্রেম করবেন। আর কৃপার চেয়ে অনেক উচচু হল পপ্রম।” শ্রীহনুমানজী সমস্ত জগতকে জানালেন প্রভুর কাজ করার জন্য বद্র সমান হাত ও সঙ্কল থাকা চাই। হাতে রামের কাজ অর্থাৎ সত্যের সঙ্গ দেওয়া আর মুখে রাম নাম করা, তবেই প্রভুর প্রেম আসবে। হাতে বভ্রর আর এক অর্থ হয় যে শ্রীহনুমানজীর হাত বভ্র সমান দৃঢ় ও সত্যসঙ্কল्প বদ্ধ। আর সত্যের ধ্বজ্ঞ তো দুর্বল হাতে শোভা পাবে না, চাই বহ্ভ সমান হাত যার হাতে সত্যের ধ্বজা সদা সুরক্ষিত থাকবে।

শীহনুমানজীর হাতে যে ধ্বজার কथা বলা হয়েছে তা সত্যের, তা ধর্মনিষ্ঠার, আর তাই বিভীযণ যখন রাবণকে বলেন যে ‘রামই সত্য, রামই সত্যসংকল্প’, তখন বোঝা যায় যে এ্রীহনুমানজীর হাতে কেন ধ্বজা তাঁর সুরঙ্গা নিশ্চিত করে। ‘ধ্বজা’ হলো কীর্তির প্রতীক, এখন যেমন আমরা গাড়ির লাল লাইট বা নম্বর প্লেট দেখে যাত্রীর প্রতিষ্ঠার কৃथ জানতে পারি, আগেকার দিনে রাজা, সেনাপতি, প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রীগণ ইত্যাদির রথের ধ্বজা দেখে তাদের পরিচয় পাওয়া যেতো। শীরনুমানজীর হাতের ধ্বজা ওধু সত্যের জয় জয়কার সূচিত করে না, প্রভু শ্রীরামের কীর্তিকেও প্রতিষ্ঠা করে।

কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ : শ্রীহনুমানজী কাঁধে মূঁজ নামক ঘাসের যজ্ঞোপবীত ধারণ করে আছেন। পরম বৈরাগী যারা তারা আজও মূঁজ নামক ঘাসের যজ্ঞোপবীত ধারণ করেন। এখনও অযোধ্যা, চিত্রকূট ইত্যাদি জায়গায় অনেক মহাআকে পাবেন যাঁদের এই যজ্ঞোপীত পরতে দেখা যায়। শ্রীহনুমানজী যজ্ঞোপবীত পরেন অর্থাৎ তিনি দীক্ষিত। ঢাঁর যজ্ঞোপবীতে তিনটি ধাগা আছে। তিনি ব্রস্মাচারী হওয়ার কারণে তিন ধাগার যख্ঞেপবীত ধারণ করেন। তিনি পরম বৈরাগ্যের ঘনীভূত রূপ। যজ্ঞোপবী|তের তিনটি ধাগা জ্ঞনযোগ, কর্মযোগ এবং ভক্তিযোগের পরিচায়ক।

মানুষ কাঁবে লাঠি বা জলের কলসী নিয়ে চললে যেমন প্রয়োজনের সময় তার উপযোগ করতে পারে, তেমনি এই তিন ধাগায় যख্ঞোপবীত মানুষ যে যোগের সাধনা করে, সেই সেই যোগের সাধনার রাস্তার সহায়ক হয়। ভারতে এই যজ্জোপবীতের ভারী সংস্কার দেখা যায়।

কিট্তু বর্তমান সময় এই যত্ঞে|পবীত ধারণ খালি এক কর্মকালের উপাচার হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই যজ্ঞোপবীত মানুষকে সদা স্মারণ করতে সাহায্য করে তার শীল, তার মর্যাদা, তার সভ্যতা, তার বিচার-বুদ্ধির কুশলতা ইত্যাদি। যজ্ঞোপবীত যোগে অথবা ভোগে, সর্ব অবস্থায় ঈশ্বরের উপস্থিতির, তাঁর সর্বব্যাপকতার কথা মনে করায়।

Hanuman Chalisa Chaupai 4 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 4 Meaning in Bengali

People often chant the Hanuman Chalisa in English to seek strength, courage, and protection.

Hanuman Chalisa Chaupai 4 in Bengali with Meaning & Analysis

কঞ্চন বরণ বিরাজ সুবেশা।
কানন কুগুল কুঞ্চিত কেশা।

সারানুবাদ : সোনার বর্ণ, আকর্ষক পোষাক দ্বারা শোভিত, কানে দুল এবং কোচকানো চুল।

ব্যাখ্যা : কষ্চন বরণ : শ্রীতুলসীদাসজী এই চৌপাঈতে শ্রীহনুমানজীর রূপ বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে তাঁর গাত্রবর্ণ, পোষাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ইত্যাদি। শ্রীতুলসীদাসজীর হনুমান চালীসা অনুসারে শ্রীহনুমানজীর গায়ের রং সোনার মতো। মহামুনি বাল্মীকিও তাঁর গায়ের রং সোনার বর্ণের বলেছেন। ‘রঙ্গনাথ রামায়ণে’ও ঢাঁর রং সোনার বর্ণই বলা হয়েছে। উপনিষদেও যেখানে শ্রীহনুমানজীর উল্লেখ আছে সেখানে তাঁর গায়ের রং ‘কাধ্ডন বর্ণ’ বলা হয়েছে। মহাভারতের ‘বনপর্বে’

যেখানে দ্বিতীয় পাঞুব ভীমসেনের সঙ্গে শ্রীহনুমানজীর সাক্ষাৎ হয়, সেখানে শ্রীহনুমানজীর গায়ের রং পিঙ্গল বর্ণ বলা হয়েছে। শ্রীহনুমানজী যেহেতু চার যুগেই বিরাজমান তাই ভগবানের বিভিন্ন অবতারের রং যেমন ভিন্ন, সে রকম তাঁর রংও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। শ্রীহনুমানজীর সোনার মতো রং তাঁর ব্রস্মচর্যের তেজের প্রতীক। সোনা যেমন পরিপূর্ণ শুদ্ধতার প্রতীক, শ্রীহনুমানজীর জীবনও তেমনি অতি পবিত্র।

বিরাজ সুবেশা : শ্রীহনুমানজী অতি সুন্দর বস্ত্র পরিধান করতেন। রামায়ণে তাঁর পীতাম্বর বস্ত্র পরিধানের কথা বলা হয়েছে। আবার জনকনন্দিনী সীতা বলেছেন, ‘বৃক্ষের আড়ালে প্রথম যে বাঁদরকে আমি দেখি তার পরিধানে ছিল সুন্দর শ্বেত বস্ত্র।’ আবার ‘সঙ্কটমোচন হনুমানষ্টক’-এ বলা আছে-

লাল দেহ লালী লসে, অরু ধরি লাল লঁগূর।
বজ্র দেহ দানব দলন, জয় জয় জয় কপি সুর।।

কেউ কেউ এই মত রাখেন যে, শ্রীহনুমানজী লাল রংয়ের কাপড় পরতেন। আবার প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মণের প্রথম সাক্ষাতের সময় শ্রীহনুমানজী ব্রাক্সাণের

বেশ ধারণ করেছিলেন যা প্রভু শ্রীরামের খুব ভালো লেগেছিলো। আসলে সৌন্দর্য কখনও ব্যক্তি বা তার পরিধানের বস্ত্রে বিচার হয় না। শ্রদ্ধা ও প্রেমপূর্ণ অন্তঃকরণ যার সেই ভক্তের কাছে শ্রীহনুমানজীর দর্শন সর্বদাই আকর্ষণীয় হয় তা তিনি যে বস্ত্রই পরুন না কেন।

কানন কুগ্ডল কুঞ্চিত কেশা : শ্রীহনুমানজীর কানে দুল আছে আর তাঁর চুল কোঁচকানো। তিনি সদা রামনামে মগ্ন, তাই এই কুঞুল সদা এই নাম শুনতে শুনতে নিজেদের ধন্য মনে করে আর আনন্দে দুলতে থাকে। এই কুণুল দেখতে গোলাকার, ঠিক অনেকটা কস্কণের মতো। ‘কম্ব রামায়ণ’ অনুযায়ী জনকনন্দিনী সীতার বোঁজে বানরসেনা যখন স্বয়ংপ্রভার গুহায় প্রবেশ করেছিল তখন শ্রীহনুমানজীর কুণ্ডলের ছটায় সমস্ত গুহা আলোকিত হয়েছিলো। শ্রীহনুমানজীর চুল ভারী সুন্দর ও কোঁচকানো।

শ্রীহনুমানজীর চেহারা অত্যত্ত মনমোহক। স্বয়ং শ্রীরাম যিনি ভুবন-সুন্দর তিনি শ্রীহনুমানজীর রূপের প্রশংসা করেছেন। ভগবান শ্রীরামের চুলও ছিল অতি সুন্দর ও কোঁচকানো। আধ্যাখ্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চুল হলো বাসনার প্রতীক। কিন্তু কারোর চুল যদি কোঁচকানো হয় এবং স্বয়ং প্রভু তার রূপে মুগ্ধ হয়ে যান তখন সেই বাসনাই উপাসনা হয়ে যায়। তখন বাসনার সম্পূর্ণ রূপাস্তর হয়ে যায়। শ্রীহনুমানজীর উপর প্রভু শ্রীরাম সদাই মুগ্ধ। আর তাই যেখানে প্রভু শ্রীরাম সেখানেই শ্রীহনুমানজীর অবস্থানের কারণে শ্রীহনুমানজী সদা পূজনীয়, সদা সাধনার বস্তু।

Hanuman Chalisa Chaupai 3 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 3 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Pdf is composed of 40 verses that extol the virtues of Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 3 in Bengali with Meaning & Analysis

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী।।

সারানুবাদ : মহা বলবান, বিশেষ পরাক্রমী, বজ্রতুল্য দেহ, কুবুদ্ধিনিবারক এবং সুবুদ্ধির সাথী।
ব্যাখ্যা : আসুন, আমরা প্রত্যেকটি শব্দের যথা সম্ভব সংক্ষিপু ব্যাখ্যা
জানার চেষ্টা করি। সংক্ষিপ্ত এই জন্য যে, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা যা গোস্বামীজীর ও মহামুনি বাল্মীকির রচনায় পর্যাপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে তার বিবরণ দিলে এই লেখা শেষ করা যাবে না।
মহাবীর : এই শব্দের মূলতঃ চারটি অর্থ হতে পারে-

(১) যে যোদ্ধা অজেয় তাকে মহাবীর বলা যেতে পারে অথবা যার শক্তি এবং পুরুষার্থের সামলে কেউ টিকতে না পারে তাকে মহাবীর বলা চলে। রামায়ণে আমরা দেখি শ্রীহনুমানজীকে কেউ কখনো হারাতে পারেনি। শুধু একবার তিনি স্বইছায় রাবণের পুত্র মেঘনাদের হাতে ব্রস্মাস্ত্রের মর্যাদা রাখতে বন্ধন স্বীকার করেছিলেন। কিস্তু সেটাও তিনি করেছিলেন আরও একটা কারণে। তা হলো রাবগের সভায় গিয়ে রাবণকে উপদেশ দেওয়া এবং প্রভু শ্রীরামের দূত হিসাবে তাঁর পরিচয় রাখার জন্য।

(২) যে অন্যকে পরাজিত করে তাকে বলা হয় বীর আর যিনি নিজেকে জেতেন তাকে বলা হয় মহাবীর। অন্য কারোকে পরাজিত করা সহজ কারণ এই কাজে কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তি বা বাহ্যিক কোনো কিছুর সাহায্য নেওয়া যায় কিল্তু নিজের উপর বিজয় পাওয়া সোজা কাজ নয়। নিজের উপর শাসন করার জন্য অনবরত সাত্ত্বিক সংঘর্ষ করতে হয়। অন্যের উপর বিজয় ক্ষণস্থায়ী কিস্তু নিজের উপর যে নিয়ন্ত্রণ রাখে তার এই বিজয় হয় শাশ্বত বা সর্বকালের জন্য।

ब্রীমদ্ আদি শংকরাচার্য তাঁর বিবেকচূড়ামণি গ্রন্থে ৭৬-নং শ্লোকে মানুষকে সাবধান করে দিয়ে বলছেন যে, হরিণ, হাতি, পতঙ্গ, মাছ এবং মৌমাছি এরা রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শের মধ্যে যে কোনো একটিতে আকর্ষিত হয়ে সংযমের অভাবে মৃত্যুমুতে পতিত হয় আর সেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত এই পাঁচটির দ্বারা আকর্ষিত হচ্ছে, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে? সেই মানুষ যদি এই পাঁচ ইন্দ্রিয়ের উপর তার কর্তৃত্ব করতে পারে অর্থাৎ যে স্বয়ংকে শাসনে রাখতে পারে তাকে মহাবীর ছাড়া আর কি বলা যায় ? আর শ্রীহনুমানজী তো জিতেন্দিয় ছিলেনই।

(৩) যিনি ইন্দিরিয় ছাড়া, মন ও বুদ্ধির উপরও কর্তৃত্ব করেন তাকেও মহাবীর বলা চলে। মূলতঃ অস্থির এবং দুর্বল মন মানুষকে হাজারো দলদলে পাঁকে ফেলে আর মানুষ ক্রমশ নিচের দিকে তলিয়ে যায় যার ফলে অশান্তি ও অন্যান্য দুর্তুণ তাকে পেয়ে বসে। মুস্কিল হচ্ছে যে মানুষ বিচারশীল এবং বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও কুবিচার আর বুদ্ধিহীন কাজকে যখন এই গুণগুলির দ্বারা সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে তখনই সমস্যা তার ঘাঁটি গেড়ে বসে।

আর এই কারণেই মানুষ জন্ম-মরণের পাকচক্রে আটকে যায় আর অসীম যাতনার শিকার হয়। আধ্যাছ্মিক উন্নতির জন্য ইন্দ্রিয়, মন আর বুদ্ধির উপর অঞ্কুশ লাগানো অত্যন্ত জরুরী। শ্রীহনুমানজী সমস্ত সদ্গুণের সাগর আর তাই ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি তাঁর সদা অনুগত। এই কারণেও তিনি মহাবীর।

(৪) শ্রীমদ্ বল্লভাচার্য মহাবীর শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, যার মধ্যে মদ, মদন ও মাৎসর্য নেই, তিনিই মহাবীর আখ্যার যোগ্য। সংক্ষেপে দেখা যাক এর অর্থ কি।

মদ ; দন্ত। ভারী অদ্ভুত মনে হয় যখন দেখা যায় প্রভু শ্রীরাম, মাতা সীতা, শত্রু রাবণ ও বানরবীর ও দেব-দেবীর অসংখ্য প্রশংসা সত্ত্বেও শীরীহুমানজীর মধ্যে দম্ভের বা গর্বের লেশমাত্র হয় না। শেখার জিনিস এটই যে, যখনই শ্রীহনুমানজীর কেউ প্রশংসা করতো, তখন তিনি এই প্রশংসার শ্রেয় সর্বদাই প্রভু শ্রীরামকে দিতেন। আর প্রভু রাম স্বয়ং বললে তো তিনি অর্টু সংবরণ করতে পারতেন না। প্রভুর পা জড়িয়ে ধরতেন। শ্রীহনুমানজী তাই সর্বদাই এক অতি বিরল ব্যক্তিত্ব।

মদন : যার আর এক অর্থ কাম। ভগবান শংকর দ্বারা ‘মদন-ভস্ম’-এর কাহিনী আমরা সবাই জানি। সুতরাং খুবই স্বাভাবিক যে একাদশ রুদ্রাবতার অর্থাৎ শ্রীহনুমানজী কামদেবকে তাঁর থেকে সদা দূরে থাকতে বাধ্য করেছেন। শ্রীহনুমানজী মাতা সীতার খোঁজে লঙ্কাপুরীর সর্বত্র রাত্রে যখন ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তখন তিনি রাবণের অন্তঃপুরে প্রবেশ করে অসংখ্য সুন্দরী নারীর রাত্রিকালীন শয়নের বিভিন্ন ভঙ্গিমা ও অঙ্গসজ্জা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

কিস্তু এই দর্শন তাঁর মনের মধ্যে এতটুকু কাম-গন্ধের দাগও ফেলতে পারেনি। ঘটনা হলো সত্যিকারের মহাপুরুষের কাছে কাম ইত্যাদি নিকৃষ্ট বিচার টিকতেই পারে না যার জগতে অসংখ্য উদাহরণ আছে। আর শ্রীহনুমানজী তো স্বয়ং ত্রিগুণাতীত বা মায়ার অতীত, তাই কামদেবের মায়া কোনো কাজে আসেনি।

মাৎসর্য : অর্থাৎ ঈর্ষা; মানুষের অত্যন্ত পুরনো স্বভাব হলো নিজের অবস্থাকে অপরের সঙ্গে তুলনা করে জোর করে দুঃখ বা মনের পীড়াকে টেনে আনা। সংবাদপত্রে কোনো ভিখারীর পঞ্ণশ লক্ষ টাকা লটারী পাওয়ার

খবর দশজনকে জানাতে মানুষ সদা উৎসুক হয় কিন্তু যদি পাঁচ হাজার টাকা তার কোনো পড়শী পায় তবে মন বিষাদগ্রস্ত হয়ে কয়েকদিনের ঘুম কেড়ে নেয় বা সুস্বাদু খাবারও বিস্বাদ লাগতে থাকে। আধ্যাছ্মিক পথের মহাজনরা বলেন এই রোগের নিরসনের সহজ উপায় হলো অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের যা আছে তার আনন্দ নেওয়া। এটা তখনি করা যাবে যখন মনের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, মানুষ তার প্রারদ্ধ অনুযায়ী সুখ বা দুঃখ পায়। সুতরাং আমর প্রারদ্ধে যা আছে তাই আমি পেয়েছি। “যাহে বিধি রাখে রাম, তাহে বিধি রহিয়ে।।”

বিক্রম : এই শব্দ পরাক্রমের শ্রেষ্ঠত্বকে সূচিত করে। শ্রীহনুমানজী বীরত্বে, দাসভক্তিতে, সময়জ্ঞানে, জ্ঞানে, বৈরাগ্যে, কর্মযোগে ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য রেখেছেন। তাই শ্রীহনুমানজী ‘অনস্ত বিক্রমী’ এ হেন কথা বললে কোনো অত্যুক্তি হবে না।

বজরঙ্গী : মূল শব্দ হলো বভ্রাঙ্গী অর্থাৎ বজ্র সমান যার দেহ। শ্রীহনুমানজীর দেহ বভ্র সমান তো ছিলই, তাঁর মানোবল ও আআ্মবল ছিল বজ্রের সমান কঠিন। শ্রীহনুমানজীকে বিচলিত করা শধু কঠিন নয় অসম্ভবও বটে।

কুমতি নিবার সুমতিকে সঙ্গী : তুলসীদাসজী বলছেন যে, শ্রীহনুমানজীর শরণ কেউ নিলে তিনি প্রথমে তার যে কাজটি ধীরে ধীরে করে দেন তা হলো তার মধ্যে বিচারশীলতা এনে দেন, সদ্বুদ্ধি দান করেন আর কুবুদ্ধির নাশ করেন। শ্রীহনুমানজী জানেন শধু কুবুদ্ধির প্রভাব কমালেই হবে না, কারণ বুদ্ধিকে খালি ছেড়ে দিলে কুবুদ্ধি আবার ফিরে আসতে পারে। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের সুন্দরকাণে বিভীষণ বলছেন যে, সবার হৃদয়েই সুমতি আর কুমতি পাশাপাশি অবস্থান করে :-

সুমতি কুমতি সবকে ঔর রহश। নাথ পুরান নিগম অস কহश।।
সুমতি মানে সৎ সঙ্গ, সদ্বিচার, সদ্চর্চা, শভ নির্ণয়। কুমতি অর্থে ভুল নির্ণয়।

বুদ্ধির দু রকম দিশা। যে নির্ণয় ক্ষতিকারক, যে বুদ্ধি সূক্ষ্ম ছলনার আশ্রয় নেয়, যে নির্ণয় শাশ্বত নয় তাই কুমতি। আর সুমতির সঙ্গ সদাই শ্রীহনুমানজী করিয়ে দেন তাঁর শরণাগতদের। কিষ্কিন্ধায় শ্রীসুগ্রীব আর অঙ্গদের কুমতি দূর করেছিলেন শ্রীহনুমানজী, লঙ্কা নগরীতে প্রবেশ দ্বারে মুষ্ঠাঘাতের ফলে লঙ্কিনীর শাশ্বত চেতনা ফিরেছিলো, মূচ্চিত লক্ষ্মণকে চিকিৎসা না

করার যুক্তিজাল বিস্তার করার জন্য চিকিৎসক সুযেণকে ডাঁর কর্তব্য বুঝিয়েছিলেন; ইত্যাদি অনেক দৃষ্টান্ত আছে যেখানে শ্রীহনুমানজী কুমতি দূর করে সুমতি প্রদান করেছিলেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 2 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 2 Meaning in Bengali

Devotees around the world recite the Hanuman Chalisa Lyrics with deep reverence.

Hanuman Chalisa Chaupai 2 in Bengali with Meaning & Analysis

রামদূত অতুলিত বলধামা।
অঞ্জनि পুত্র পবনসুত नমা।।

সারানুবাদ : শ্রীরামচক্রের দূত, যিনি অতুলনীয় শক্তির ভাণ্ডার এবং অঞ্জনির পুত্র ও বায়ুদেবের পুত্র নামে বিখ্যাত।।

ব্যাখ্যা : রামদূত : শাস্ত্রকার তথা কোনো কোনো কথাকারের মতে দূত তিন রকমের হয়-

  • রাজদূত
  • রামদূত
  • রাহদূত

লক্ষ্য করুন রামদূতকে মাঝখানে রাখা হয়েছে। রাহদূত অর্থে তিনি স্বয়ংকে প্রায়োজিত করেন অপরকে পথ দেখানোর কাজে। এরা সব্ত্ব প্রধান হয়ে থাকেন এবং অহংকার ও ক্রোধ রহিত হন। রাজদুতে রজো ও তমোগুণের লক্ষণ বিদ্যমান। তমোগুণ কম আর রজোগুণ বেশি। সাম-দাম-দগ-ভেদের আশ্রয় এদের নিতে হয় মালিকের বার্তা পৌছনোর জন্য। কিস্তু রামদূত ত্রিওুণাতীত না সত্ত্ব, না রজ, না তম।

আর শ্রীহনুমানজীকে দেখুন তিনি গুণাতীত। একবার প্রভু শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীকে প্রশ্ন করে বসলেন, “হনুমান, তোমার ও আমার মধ্যে কিসের সম্বন্ধ ?” তো শ্রীহনুমানজীর উত্তর, “यদি দেহবুদ্ধির কথা বলেন তাহলে আমি আপনার দাস, আর যদি অন্তঃদৃষ্টি থেকে দেখি তাহলে আমি আপনার ভক্ত। কিক্তু যদি আত্মদৃষ্টি থেকে বিচার করি তাহলে আপনিও যা আমিও তা। আমার আপনার মধ্যে কোন ত্যাত নেই।” এ রকম উত্তর একমাত্র রামদূতই দিতে পারেন। ভারতীয় নীতিশাস্ত্রে অবশ্য দূতের ১৯টি লক্ষণ থাকার কথা বলা হয়েছে।

  • মেধাবী,
  • বাক্পটু,
  • প্রাজ্ঞ,
  • পরচিত্তপলক্ষক অর্থাৎ অন্যের চিতের গতিবিধিকে মুহূর্তে বুকে নেওয়া,
  • ধীর,
  • যথৌক্তবাদী অর্থাৎ যেটুকু বলার শধু সেটুকুই বলা,
  • গুণী,
  • ভক্তঃ নিজের স্বামীর প্রতি ভক্তি সমর্পিত,
  • পবিত্র,
  • দক্ষ,
  • বিচক্ষণ,
  • সহিষ্ণু,
  • বিবসরহীন,
  • পবিত্র আচরণযুক্ত,
  • প্রতিভাবান,
  • আকর্ষক ব্যক্তিত্ব,
  • বগ্মী,
  • निস্পৃহ,
  • নানাশাস্ত্রবিচক্ষণ।

শ্রীহনুমানজী এই সমস্ত গুণের অধিকারী। রামদূতের আর এক অর্থ সত্যের দূত বা ধর্মের দূত, আর যে সত্যের দূত হবে সে তো ‘অতুলিত বলধামা’ই হবে।

অতুলিত বলধামা : গোস্বামীজী বলছেন শ্রীহনুমানজী অতুলনীয় বলের অধিকারী। অতুলনীয় অর্থে যার কোনো ঢুলনা হয় না। রামায়ণে চার রকম বলের উল্লেখ পাওয়া যায়-

  • বল,
  • মহাবল
  • অতিবল
  • বিশালবল।

শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে উল্লেখ আছে ভগবান রাম সুগ্রীবকে বলছেন, “হে সুগ্রীব, আপনার সব কাজ আমি করে দেবো। আমি এর জন্য মায়ার কোনো সাহায্য নেবো না। আমার নিজের ‘বল’ দ্বারা আপনার কাজ করে দেবো।” সুগ্রীব এরপর প্রভুকে বলছেন প্রভু, আপনি নিজের বলের কথা বললেন, কিষ্টু বালী তো ‘মহাবলের’ অধিকারী।” এখানে ‘বল’ আর ‘মহাবলের’ উম্লেখ পাই।

সুগ্রীব এরপর প্রভু শ্রীরামকে বালীর মহাবলের পরিচয় দিয়ে বললেন যে, আপনি যদি সাত তালগাছকে এক বাণে বিধ্বনস্ত করতে পারেন তবে ছিলেন বানররাজ মহাবলশালী কেশরী। শ্রীকেশরী ভগবান শংকরের আরাধনা ও তপের দ্বারা আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যে, তিনি ইচ্ছা অনুসারে মানবদেহ ধারণ করতে পারবেন। পরে দেবী অঞ্জনার বিবাহ বানররাজ শ্রীকেশরীর সঙ্গে रয়।

বিবাহের দীর্ঘদিন পরেও সস্তান না হওয়ায় দুঃখী অঞ্জনাদেবী ঋষিশ্রেষ্ঠ মাতঙ্গের দ্বারস্থ হয়ে পুত্রপ্রাপ্তির উপায়ের প্রার্থনা করেন। ঋষি মাতঙ্গ তাঁকে বলেন – “পম্পা সরোবরের পূর্বদিকে পঞ্ণশ যোজন দূরে আছে নরসিংহাশ্রম। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নারায়ণগিরি পর্বতের উপর আছু স্বামীতীর্থ বলে একটি জায়গা। এই স্বামীতীর্থ থেকে এক ক্রোশ উত্তরে অবস্থান করছে আকাশগঙ্গা তীর্থ।

এই তীর্থে স্নান করে সেখানে বারো বছর তপস্যা করলে তোমার অত্যস্ত গুণবান পুত্রের প্রাপ্তি হবে।” মুনির কথা অনুসারে দেবী অঞ্জনা পুষ্করিণীতে স্নান করে এই তীর্থের পরিক্রমার পর ভগবান বরাহ অবতারের স্তুতি করেন। আকাশগঙ্গা তীর্থে অবস্থৃানরত সমস্ত ঋষিদের প্রণাম করে, তাঁর স্বামীর অনুমতি নিয়ে পূর্ণ উপবাসের সঙ্গে বারো বছর তপস্যা করেন। তাঁর বারো বছরের তপস্যায় সস্তুষ্ট হয়ে বায়ুদেব ঢাঁকে পুত্রসন্তানের বরদান করেন।

একবার যখন পতিব্রতা দেবী অঞ্জনা মানবীর দেহ ধারণ করে দিব্য আভূষণে ভূষিত হয়ে তাঁর পতি বানররাজ কেশরীজীর সঙ্গে সুমেরু পর্বতের অত্যন্ত মনোহর বাগিচায় ভ্রমণ করছিলেন তখন তাঁর মনে হলো কে যেন তাঁকে স্পর্শ করছে। দেবী অঞ্জনা তখন অত্যন্ত শিষ্ট ভাষায় বলে উঠেন, “কে আমার পতিব্রতাকে নাশ করতে চায়?” তাঁর এই কথা শুনে বায়ুদেব দর্শন দান করে বলেন,

“হে দেবী, হে সুশ্রীনী, আমি তোমার পতিব্রতাকে নাশ করতে আসিনি, তুমি মনে কোনো ভয় রেখো না। আমি অব্যক্তরূপে মানসিক সংকল্পের দ্বারা তোমার ভিতরে তেজ স্থাপন করেছি। তোমার পরাক্রমী এবং বুদ্ধিমান পুত্র হবে। তেমার পুত্র বড় মহান, ধৈর্যবান, মহাতেজস্বী, মহাবলী হবে এবং লম্ফ ও তার ব্যাপকতায় (ঝাঁপ এর দীর্ঘতা ও গতিবেগ) আমার সমান হবে।”

ব্রহ্মদেবের মানসপুত্র জাম্ববানজী শ্রীহনুমানজীকে আরো বললেন – “হে মহাকপি! যখন বায়ুদেব এই কथা তোমার মাকে বললেন তখন তোমার মাতা অত্যন্ত প্রসন্ন হলেন। হে মহাবাহো! হে বানরশ্রেষ্ঠ, এরপর তোমার মা তেমায় এক গুহায় জন্ম দিয়েছিলেন।” চৈত্র মাসের শক্ল পক্ষের

পূর্ণিমা यা কিন্না মঙ্গলবার ছিল, সেই পবিত্র দিনে অঞ্জনাপুত্র শ্রীহনুমানজীর শুভ আবির্ভাব হল। যেহেতু এই সন্তান অঞ্জনার গর্ভ থেকে প্রকট হলেন তাই তাঁর এক নাম অঞ্জনাপুত্র, বায়ুদেব মাধ্যম ছিলেন তাই পবনসুত, রাজা কেশরীর পুত্র হবার কারণে কেশরীনন্দন আর ভগবান শংকরের একাদশ রুদ্রের রূপে অবতার ধারণ করায় তাঁর আর এক নাম হলো শঙ্করসুবন।

কোথাও কোথাও এই মান্যতাও আছে যে শ্রীহনুমানজী চৈত্র মাসের তক্ল পক্ষের একাদশী তিথির দিন জন্মেছিলেন যখন নক্ষত্র ছিল মঘা। শ্রীহনুমানজীর করা নানা লীলার কথা মাথায় রেখে তাঁর আরও নাম দেওয়া হয়েছে যেমন মারুতি, মারুতনनদ্ন, বাতাত্মজ ইত্যাদি।

এবার দেখে নেওয়া যাক শ্রীহনুমানজী তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে নিজের মুখে ঢাঁর কোন নামটা বলছেন। শ্রীর্রীরামচরিতমানসে এক জায়গায় তিনি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলছেন-আমার নাম হলো হনুমান। চোদ্দো বছর বনবাসের পর শ্রীরাম লক্ষ্মণাদির সঙ্গে অযোধ্যায় ফেরার আগে শ্রীহনুমাজীকে পাঠালেন শ্রীভরতের সঙ্গে দেখা করতে নন্দীগ্রামে। যেখানে শ্রীভরত সিংহাসনে প্রভু শ্রীরামের পাদুকাজোড়া রেখে একজন বনবাসী তপস্বীর মতো এই দীর্ঘ চোদ্দ বছর কাটিয়েছেন।

শ্রীভরত প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে প্রভু শ্রীরাম চোদ্দো বছর পর অযোধ্যায় ফিরে না এলে তিনি আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। প্রভু শ্রীরাম শ্রীভরতকে এই খবর দেওয়ার জন্য শ্রীহনুমানজীকে পাঠালেন যে তিনি ফিরে আসছেন। শ্রীহনুমানজী শ্রীভরতকে বললেন, “আমি পবনপুত্র, এক বাঁদর। হে কৃপানিধান ভরতজী, আমার নাম হনুমান।” এই কারণেই গোস্বামীজী চালীসার আগে অন্য কোনো নাম না দিয়ে রাখলেন খালি হনুমান। তাই নাম হলো হনুমান চালীসা।