Hanuman Chalisa Chaupai 6 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 6 Meaning in Bengali

Hanuman Jayanti is a significant occasion for the mass recitation of the Hanuman Chalisa Lyrics in English.

Hanuman Chalisa Chaupai 6 in Bengali with Meaning & Analysis

শঙ্কর সুবন কেশরীনন্দন।
তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দन।।

সারানুবাদ : শংকরের পুত্র, রাজা কেশরীকে যিনি আনন্দ দেন, আর তেজের প্রতাপের কারণে সমস্ত জগতে যিনি বন্দনীয়।

অর্থ : গোস্বামীজী শ্রীহনুমান চালীসার দর্শন করাতে করাতে বলছেন যে শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের পুত্র। সুবন মানে পুত্র -এ বিষয়ে বিভিন্ন পুরাণে কিছু বর্ণনা আমরা পাই। শিবপুরাণে (শতরুদ্র সংহিতা, অধ্যায় ২০) বলা আছে যে, ভগবান বিষ্ণুর পুরুযোত্তম শ্রীরাম অবতার ধারণ করার সময় তাঁর লীলায় সক্রিয় অংশ গ্রহণের ইচ্ছা ভগবান শিবের জাগে। সমুদ্রমন্থনের সেই প্রসঙ্গ আমরা জানি যেখানে ভগবান বিষুণু ঢাঁর অপরূপ মোহিনী অবতারে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্রমন্থন থেকে প্রাপু অমৃত দেবতাদের পান করিয়েছিলেন এবং রাহর মুঞ্ড ছেদন করেছিলেন। দেবাদিদেব মহাদেব ও ভগবান বিষুণ এর পর এক অপূর্ব লীলাখেলা করেন।

ভগবান শিবের অনুরোধে ভগবান বিষুণু তাঁর সেই ,োহিনী স্বরূপ তাঁকে দর্শন করালে ভগবান শিব মোহিনীর যৌবন, সোন্দর্য ও অঙ্গসজ্জার দর্শনে মোহিত হলে তাঁর বীর্য স্থলন হয়, সপু-ঋষি সেই বীর্যকে পাতায় ধারণ করে সুরক্ষিত স্থানে রেখে দেন এবং পরে ভগবান শংকরের ইচ্ছায় শ্রীরাম অবতারের সময়কালে দেবী অঞ্জনার গর্ভে বায়ুদেবের সাহায্যে তার কর্ণকুহরের মধ্য দিয়ে সেই বীর্য স্থাপন করেন।

এর থেকে অনুমান করা যায় যে আধুনিক বিজ্ঞানের টেস্ট-টিউব বেবির পদ্ধতি আমাদের ঋষি-মুনিরা প্রাচীন কাল থেকেই জানতেন। ভগবান শংকরের তেজ দেবী অঞ্জনার কানে ঢালার অর্থ হলো ভগবান শিবের কল্যাণকারী বচনের, তার শক্তি ও পরাক্রমের বীজের বপন হলো। তাই শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের সর্বগুণসম্পন্ন তেজস্বীতারও ধারক।

আমরা এই শিবপুরাণে (রুদ্রসংহিতা, যুদ্ধখণ্ড, অধ্যায়-২, শ্লোক-৫১) মধ্যেই পাই ডগবান শিবের ত্রিপুরাসুরের বধের অত্যস্ত আকর্ষক ও ঘটনাবহুল কাহিনী। যুদ্ধের আগে দেবতাদের ভগবান শিবের বিভূতি বর্ণনায় শ্রীহনুমানজীর স্বরূপের উঙ্লেখ পাই। তাতে উল্লেখ আছে যে আদিত্যদের মধ্যে বাসুদেব এবং বানরদের মব্যে শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের বিভূতি।

বায়ুপূরাগেও (অধ্যায়-৬০, শ্লোক-৭৩) ভগবান শিবের শ্রীহনুমান অবতার হওয়ার উল্লেখ আছে। তাতে উল্লেখ আছে যে, শ্রীমহাদেব অঞ্জনার গর্ভে পবনপুত্র মহাবিক্রন্মী শ্রীহনুমান স্বরূপে অবতরিত হন। আবার স্কন্দপুরাণে (মাহেশ্বরসংহিতা, কেদারখণ্ড, অধ্যায়-৮, শ্লোক-৯৯, ১০০) উহ্নেখ আছে যে একাদশ রুদ্রই ভগবান বিষুভুর সহায়তার জন্য মহাকপি হনুমানের স্বরূপে অবতরিত হয়েছেন। স্বয়ং গোস্বামীজী তাঁর দোহাবলীতে (দোহা-১৪২, ১৪৩) ঘোষণা করেছেন প্রভু শ্রীরামের তত্তৃ অনুভব করানোর কারণেই শ্রীহনুমানজী ভগবান শিবের অবতার হয়েছেন।

কেশরীনন্দন : কেশরীর যখন অল্প বয়স তখন তিনি গোকর্ণ তীর্থে এক অত্যত্ত শক্তিশালী রাক্ষসকে বধ করেছিলেন। স্বয়ং কেশরীও ভগবান শিবের কঠিন তপস্যা করেছিলেন এবং এই বর পেয়েছিলেন, ‘তুমি ভোলাভালা, বুদ্ধিমান, বলবান আর বিদ্যাবান পুত্র চাইছ তা পাবে কিন্তু সেই পুত্রলাভের তুমি নিমিত্ত হবে।’ আর এই বরদানের কারণেই তিনি শ্রীহনুমানজীকে পুত্ররূপে লাভ করেন।

তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দন : গোস্বামীজী বলেন শ্রীমহাদেবের তেজেরই প্রতাপ শ্রীহনুমানজী, যেমন তেজস্বী, তেমনই প্রতাপী এবং মহানও বটে। তাই সমস্ত সংসার চাঁর বন্দনা করে। প্রভু শ্রীরাম যার গুণ বর্ণনা করতে কখনও ক্লান্ত হন না এবং আনল্দের সাগরে ডুবে যান তিনি জগবন্দনীয়ই ণধু নল, তিনি মহা জগবন্দনীয়।

Hanuman Chalisa Chaupai 5 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 5 Meaning in Bengali

The recitation of Shri Hanuman Chalisa is believed to ward off evil and negativity.

Hanuman Chalisa Chaupai 5 in Bengali with Meaning & Analysis

হাত বজ্র ঔ্ ধ্বজা বিরাজৈ।
কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ।।

সারানুবাদ : হাতে বজ্র এবং ধ্বজা বিরাজ করছে। কাঁধে পবিত্র ঘাসের যজ্ঞেপপীত সুশোভিত হয়ে আছে।

ব্যাখ্যা : শ্রীহনুমানজীর হাতে বভ্র আছে। তিনি রামনামে মগ্ন এবং যখন কোলো কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন অন্তরময় রামনাম। শ্রীহনুমানজীর হাতের বজ্র সদা রামনামের প্রভাবে হরিনামের প্রতীক হয়ে গেছে। গোস্বামীজী বোধ হয় এ কথা বলতে চেয়েছেন যে হরিনাম কেবল মুখে রাখলেই হবে না, হরি কার্য সদা করার সঙ্কল্পও নিতে হবে। নামের তো মাহাত্য আছেই, কিস্তু হরির

কার্য, তার স্থান তো আরো উপরে। এ্রীহনুমানজীর সঙ্গে যখন শ্রীবিভীষণের দেখা তখন বিভীষণ বলে উঠলেন যে “বাবা, আমার এখন পাক্কা ভরসা হয়েছে যে আমার উপর প্রভু শ্রীরামের কৃপা হয়েছে কারণ আমি আপনাকে পেয়েছি। প্রভুর কৃপা না হলে তো সন্তদের দর্শন হয় না।”

একথা उনে শ্রীহনুমানজী বললেন, “আপনার উপর প্রভু কখনও কৃপা করবেন না একথা আমি বলতে পারি কারণ আমি প্রভুর কাছে সর্বদা থাকি আর জানি প্রভু কাদের কৃপা করেন।” একথা শুনে বিভীষণ বললেন, “বাবা, আমি সদা রাম রাম বলি, অঙ্গনে তুলসী মঞ্চ আছে। ছোট্ট একটা মন্দিরও আছে যেখানে রোজ প্রভুর পৃজা করি।

আমি বৈষ্ণব। প্রভু শ্রীরামের কথা আমার এই প্রাসাদের দেওয়ালে অক্কিত আছে। ভোরে ঘুম থেকে আমি উঠি প্রভুর নাম নিতে নিতে या কিन्ना আপनि ওনেছেন। তা সত্ত্বেও প্রভু আমায় কৃপা করবেন না ?” জানডে চাইলেন, ‘ব্যাপরটা কি ?” তখন শ্রীহনুমানজী বললেন,

“আপনি প্রড় শ্রীরারের নাম তো নেন কিল্তু তাঁর কাজ তো একেবারেই করেন না। আপনার ঘর দেখে বোঝা যায় যে এ পরম বৈষ্ণবের ঘর। এই প্রাসাদের দেওয়ালও প্রভুর নাম করে। কিষ্তু আপনি প্রভু শ্রীরামের কাজ তো করেন না।” লক্ষ্য করুন শ্রীহনুমানজী প্রভু শ্রীরামের কাজের ব্যাপারে জগতকে কিছু জানাতে চাইছেন বিভীষণের মাধ্যদে।

শ্রীহনুমানজী বলছেন, “আপনি আমায় জবাব দিন যে, যে শ্রীরামের নাম আপনি সদা জপ করেন, তাঁরই স্ত্রীকে আপনার ভাই রাবণ অপহরণ করে আনরেন, আর আপনি তারই দরবারে এক মস্ত্রী হয়ে কি করেছেন ? আপনার কি কর্তব্য ছিল না রাবণকে বলা যে তিনি যেন জনকন্দিনিনীকে প্রভু শ্রীরামের কাছে ফিরিয়ে দেন; কারণ রাবণ অত্যন্ত গर্থিত কাজ করেছে।

রামের নাম নেবেন অথচ রামের কাজ করবেন না তো প্রভুর কৃপা কিভাবে পাবেন ?” একথা শনে বিভীষণ সঙ্কল্প করলেন যে, এরপর প্রথম যে রাজসভা বসবে, তিনি সেখানে রাবণের সামনে এই কথা রাখবেন। রাবণকে বোঝাবেন। তখন তো প্রভু শ্রীরাম নিশ্চয়ই কৃপা করবেন। শ্রীহনুমানজী বললেন, “না, তাহলে তো প্রভু শ্রীরাম আর কখনও কৃপা করবেন না।” তনে বিভীযণ অবাক দৃষ্টিতে শ্রীইনুমানজীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। শ্রীইনুমানজী

তখন বলরেন, “আরে, যখন আপনি রামের কাজ করবেন তখন ত্রীরাম কৃপা করবেন না, উপরন্ত প্রভু আপনাকে প্রেম করবেন। আর কৃপার চেয়ে অনেক উচচু হল পপ্রম।” শ্রীহনুমানজী সমস্ত জগতকে জানালেন প্রভুর কাজ করার জন্য বद্র সমান হাত ও সঙ্কল থাকা চাই। হাতে রামের কাজ অর্থাৎ সত্যের সঙ্গ দেওয়া আর মুখে রাম নাম করা, তবেই প্রভুর প্রেম আসবে। হাতে বভ্রর আর এক অর্থ হয় যে শ্রীহনুমানজীর হাত বভ্র সমান দৃঢ় ও সত্যসঙ্কল्প বদ্ধ। আর সত্যের ধ্বজ্ঞ তো দুর্বল হাতে শোভা পাবে না, চাই বহ্ভ সমান হাত যার হাতে সত্যের ধ্বজা সদা সুরক্ষিত থাকবে।

শীহনুমানজীর হাতে যে ধ্বজার কथা বলা হয়েছে তা সত্যের, তা ধর্মনিষ্ঠার, আর তাই বিভীযণ যখন রাবণকে বলেন যে ‘রামই সত্য, রামই সত্যসংকল্প’, তখন বোঝা যায় যে এ্রীহনুমানজীর হাতে কেন ধ্বজা তাঁর সুরঙ্গা নিশ্চিত করে। ‘ধ্বজা’ হলো কীর্তির প্রতীক, এখন যেমন আমরা গাড়ির লাল লাইট বা নম্বর প্লেট দেখে যাত্রীর প্রতিষ্ঠার কৃथ জানতে পারি, আগেকার দিনে রাজা, সেনাপতি, প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রীগণ ইত্যাদির রথের ধ্বজা দেখে তাদের পরিচয় পাওয়া যেতো। শীরনুমানজীর হাতের ধ্বজা ওধু সত্যের জয় জয়কার সূচিত করে না, প্রভু শ্রীরামের কীর্তিকেও প্রতিষ্ঠা করে।

কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ : শ্রীহনুমানজী কাঁধে মূঁজ নামক ঘাসের যজ্ঞোপবীত ধারণ করে আছেন। পরম বৈরাগী যারা তারা আজও মূঁজ নামক ঘাসের যজ্ঞোপবীত ধারণ করেন। এখনও অযোধ্যা, চিত্রকূট ইত্যাদি জায়গায় অনেক মহাআকে পাবেন যাঁদের এই যজ্ঞোপীত পরতে দেখা যায়। শ্রীহনুমানজী যজ্ঞোপবীত পরেন অর্থাৎ তিনি দীক্ষিত। ঢাঁর যজ্ঞোপবীতে তিনটি ধাগা আছে। তিনি ব্রস্মাচারী হওয়ার কারণে তিন ধাগার যख্ঞেপবীত ধারণ করেন। তিনি পরম বৈরাগ্যের ঘনীভূত রূপ। যজ্ঞোপবী|তের তিনটি ধাগা জ্ঞনযোগ, কর্মযোগ এবং ভক্তিযোগের পরিচায়ক।

মানুষ কাঁবে লাঠি বা জলের কলসী নিয়ে চললে যেমন প্রয়োজনের সময় তার উপযোগ করতে পারে, তেমনি এই তিন ধাগায় যख্ঞোপবীত মানুষ যে যোগের সাধনা করে, সেই সেই যোগের সাধনার রাস্তার সহায়ক হয়। ভারতে এই যজ্জোপবীতের ভারী সংস্কার দেখা যায়।

কিট্তু বর্তমান সময় এই যত্ঞে|পবীত ধারণ খালি এক কর্মকালের উপাচার হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই যজ্ঞোপবীত মানুষকে সদা স্মারণ করতে সাহায্য করে তার শীল, তার মর্যাদা, তার সভ্যতা, তার বিচার-বুদ্ধির কুশলতা ইত্যাদি। যজ্ঞোপবীত যোগে অথবা ভোগে, সর্ব অবস্থায় ঈশ্বরের উপস্থিতির, তাঁর সর্বব্যাপকতার কথা মনে করায়।

Hanuman Chalisa Chaupai 4 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 4 Meaning in Bengali

People often chant the Hanuman Chalisa in English to seek strength, courage, and protection.

Hanuman Chalisa Chaupai 4 in Bengali with Meaning & Analysis

কঞ্চন বরণ বিরাজ সুবেশা।
কানন কুগুল কুঞ্চিত কেশা।

সারানুবাদ : সোনার বর্ণ, আকর্ষক পোষাক দ্বারা শোভিত, কানে দুল এবং কোচকানো চুল।

ব্যাখ্যা : কষ্চন বরণ : শ্রীতুলসীদাসজী এই চৌপাঈতে শ্রীহনুমানজীর রূপ বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে তাঁর গাত্রবর্ণ, পোষাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ইত্যাদি। শ্রীতুলসীদাসজীর হনুমান চালীসা অনুসারে শ্রীহনুমানজীর গায়ের রং সোনার মতো। মহামুনি বাল্মীকিও তাঁর গায়ের রং সোনার বর্ণের বলেছেন। ‘রঙ্গনাথ রামায়ণে’ও ঢাঁর রং সোনার বর্ণই বলা হয়েছে। উপনিষদেও যেখানে শ্রীহনুমানজীর উল্লেখ আছে সেখানে তাঁর গায়ের রং ‘কাধ্ডন বর্ণ’ বলা হয়েছে। মহাভারতের ‘বনপর্বে’

যেখানে দ্বিতীয় পাঞুব ভীমসেনের সঙ্গে শ্রীহনুমানজীর সাক্ষাৎ হয়, সেখানে শ্রীহনুমানজীর গায়ের রং পিঙ্গল বর্ণ বলা হয়েছে। শ্রীহনুমানজী যেহেতু চার যুগেই বিরাজমান তাই ভগবানের বিভিন্ন অবতারের রং যেমন ভিন্ন, সে রকম তাঁর রংও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। শ্রীহনুমানজীর সোনার মতো রং তাঁর ব্রস্মচর্যের তেজের প্রতীক। সোনা যেমন পরিপূর্ণ শুদ্ধতার প্রতীক, শ্রীহনুমানজীর জীবনও তেমনি অতি পবিত্র।

বিরাজ সুবেশা : শ্রীহনুমানজী অতি সুন্দর বস্ত্র পরিধান করতেন। রামায়ণে তাঁর পীতাম্বর বস্ত্র পরিধানের কথা বলা হয়েছে। আবার জনকনন্দিনী সীতা বলেছেন, ‘বৃক্ষের আড়ালে প্রথম যে বাঁদরকে আমি দেখি তার পরিধানে ছিল সুন্দর শ্বেত বস্ত্র।’ আবার ‘সঙ্কটমোচন হনুমানষ্টক’-এ বলা আছে-

লাল দেহ লালী লসে, অরু ধরি লাল লঁগূর।
বজ্র দেহ দানব দলন, জয় জয় জয় কপি সুর।।

কেউ কেউ এই মত রাখেন যে, শ্রীহনুমানজী লাল রংয়ের কাপড় পরতেন। আবার প্রভু শ্রীরাম ও লক্ষ্মণের প্রথম সাক্ষাতের সময় শ্রীহনুমানজী ব্রাক্সাণের

বেশ ধারণ করেছিলেন যা প্রভু শ্রীরামের খুব ভালো লেগেছিলো। আসলে সৌন্দর্য কখনও ব্যক্তি বা তার পরিধানের বস্ত্রে বিচার হয় না। শ্রদ্ধা ও প্রেমপূর্ণ অন্তঃকরণ যার সেই ভক্তের কাছে শ্রীহনুমানজীর দর্শন সর্বদাই আকর্ষণীয় হয় তা তিনি যে বস্ত্রই পরুন না কেন।

কানন কুগ্ডল কুঞ্চিত কেশা : শ্রীহনুমানজীর কানে দুল আছে আর তাঁর চুল কোঁচকানো। তিনি সদা রামনামে মগ্ন, তাই এই কুঞুল সদা এই নাম শুনতে শুনতে নিজেদের ধন্য মনে করে আর আনন্দে দুলতে থাকে। এই কুণুল দেখতে গোলাকার, ঠিক অনেকটা কস্কণের মতো। ‘কম্ব রামায়ণ’ অনুযায়ী জনকনন্দিনী সীতার বোঁজে বানরসেনা যখন স্বয়ংপ্রভার গুহায় প্রবেশ করেছিল তখন শ্রীহনুমানজীর কুণ্ডলের ছটায় সমস্ত গুহা আলোকিত হয়েছিলো। শ্রীহনুমানজীর চুল ভারী সুন্দর ও কোঁচকানো।

শ্রীহনুমানজীর চেহারা অত্যত্ত মনমোহক। স্বয়ং শ্রীরাম যিনি ভুবন-সুন্দর তিনি শ্রীহনুমানজীর রূপের প্রশংসা করেছেন। ভগবান শ্রীরামের চুলও ছিল অতি সুন্দর ও কোঁচকানো। আধ্যাখ্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চুল হলো বাসনার প্রতীক। কিন্তু কারোর চুল যদি কোঁচকানো হয় এবং স্বয়ং প্রভু তার রূপে মুগ্ধ হয়ে যান তখন সেই বাসনাই উপাসনা হয়ে যায়। তখন বাসনার সম্পূর্ণ রূপাস্তর হয়ে যায়। শ্রীহনুমানজীর উপর প্রভু শ্রীরাম সদাই মুগ্ধ। আর তাই যেখানে প্রভু শ্রীরাম সেখানেই শ্রীহনুমানজীর অবস্থানের কারণে শ্রীহনুমানজী সদা পূজনীয়, সদা সাধনার বস্তু।

Hanuman Chalisa Chaupai 3 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 3 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Pdf is composed of 40 verses that extol the virtues of Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 3 in Bengali with Meaning & Analysis

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী।।

সারানুবাদ : মহা বলবান, বিশেষ পরাক্রমী, বজ্রতুল্য দেহ, কুবুদ্ধিনিবারক এবং সুবুদ্ধির সাথী।
ব্যাখ্যা : আসুন, আমরা প্রত্যেকটি শব্দের যথা সম্ভব সংক্ষিপু ব্যাখ্যা
জানার চেষ্টা করি। সংক্ষিপ্ত এই জন্য যে, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা যা গোস্বামীজীর ও মহামুনি বাল্মীকির রচনায় পর্যাপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে তার বিবরণ দিলে এই লেখা শেষ করা যাবে না।
মহাবীর : এই শব্দের মূলতঃ চারটি অর্থ হতে পারে-

(১) যে যোদ্ধা অজেয় তাকে মহাবীর বলা যেতে পারে অথবা যার শক্তি এবং পুরুষার্থের সামলে কেউ টিকতে না পারে তাকে মহাবীর বলা চলে। রামায়ণে আমরা দেখি শ্রীহনুমানজীকে কেউ কখনো হারাতে পারেনি। শুধু একবার তিনি স্বইছায় রাবণের পুত্র মেঘনাদের হাতে ব্রস্মাস্ত্রের মর্যাদা রাখতে বন্ধন স্বীকার করেছিলেন। কিস্তু সেটাও তিনি করেছিলেন আরও একটা কারণে। তা হলো রাবগের সভায় গিয়ে রাবণকে উপদেশ দেওয়া এবং প্রভু শ্রীরামের দূত হিসাবে তাঁর পরিচয় রাখার জন্য।

(২) যে অন্যকে পরাজিত করে তাকে বলা হয় বীর আর যিনি নিজেকে জেতেন তাকে বলা হয় মহাবীর। অন্য কারোকে পরাজিত করা সহজ কারণ এই কাজে কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তি বা বাহ্যিক কোনো কিছুর সাহায্য নেওয়া যায় কিল্তু নিজের উপর বিজয় পাওয়া সোজা কাজ নয়। নিজের উপর শাসন করার জন্য অনবরত সাত্ত্বিক সংঘর্ষ করতে হয়। অন্যের উপর বিজয় ক্ষণস্থায়ী কিস্তু নিজের উপর যে নিয়ন্ত্রণ রাখে তার এই বিজয় হয় শাশ্বত বা সর্বকালের জন্য।

ब্রীমদ্ আদি শংকরাচার্য তাঁর বিবেকচূড়ামণি গ্রন্থে ৭৬-নং শ্লোকে মানুষকে সাবধান করে দিয়ে বলছেন যে, হরিণ, হাতি, পতঙ্গ, মাছ এবং মৌমাছি এরা রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শের মধ্যে যে কোনো একটিতে আকর্ষিত হয়ে সংযমের অভাবে মৃত্যুমুতে পতিত হয় আর সেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত এই পাঁচটির দ্বারা আকর্ষিত হচ্ছে, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে? সেই মানুষ যদি এই পাঁচ ইন্দ্রিয়ের উপর তার কর্তৃত্ব করতে পারে অর্থাৎ যে স্বয়ংকে শাসনে রাখতে পারে তাকে মহাবীর ছাড়া আর কি বলা যায় ? আর শ্রীহনুমানজী তো জিতেন্দিয় ছিলেনই।

(৩) যিনি ইন্দিরিয় ছাড়া, মন ও বুদ্ধির উপরও কর্তৃত্ব করেন তাকেও মহাবীর বলা চলে। মূলতঃ অস্থির এবং দুর্বল মন মানুষকে হাজারো দলদলে পাঁকে ফেলে আর মানুষ ক্রমশ নিচের দিকে তলিয়ে যায় যার ফলে অশান্তি ও অন্যান্য দুর্তুণ তাকে পেয়ে বসে। মুস্কিল হচ্ছে যে মানুষ বিচারশীল এবং বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও কুবিচার আর বুদ্ধিহীন কাজকে যখন এই গুণগুলির দ্বারা সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে তখনই সমস্যা তার ঘাঁটি গেড়ে বসে।

আর এই কারণেই মানুষ জন্ম-মরণের পাকচক্রে আটকে যায় আর অসীম যাতনার শিকার হয়। আধ্যাছ্মিক উন্নতির জন্য ইন্দ্রিয়, মন আর বুদ্ধির উপর অঞ্কুশ লাগানো অত্যন্ত জরুরী। শ্রীহনুমানজী সমস্ত সদ্গুণের সাগর আর তাই ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি তাঁর সদা অনুগত। এই কারণেও তিনি মহাবীর।

(৪) শ্রীমদ্ বল্লভাচার্য মহাবীর শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, যার মধ্যে মদ, মদন ও মাৎসর্য নেই, তিনিই মহাবীর আখ্যার যোগ্য। সংক্ষেপে দেখা যাক এর অর্থ কি।

মদ ; দন্ত। ভারী অদ্ভুত মনে হয় যখন দেখা যায় প্রভু শ্রীরাম, মাতা সীতা, শত্রু রাবণ ও বানরবীর ও দেব-দেবীর অসংখ্য প্রশংসা সত্ত্বেও শীরীহুমানজীর মধ্যে দম্ভের বা গর্বের লেশমাত্র হয় না। শেখার জিনিস এটই যে, যখনই শ্রীহনুমানজীর কেউ প্রশংসা করতো, তখন তিনি এই প্রশংসার শ্রেয় সর্বদাই প্রভু শ্রীরামকে দিতেন। আর প্রভু রাম স্বয়ং বললে তো তিনি অর্টু সংবরণ করতে পারতেন না। প্রভুর পা জড়িয়ে ধরতেন। শ্রীহনুমানজী তাই সর্বদাই এক অতি বিরল ব্যক্তিত্ব।

মদন : যার আর এক অর্থ কাম। ভগবান শংকর দ্বারা ‘মদন-ভস্ম’-এর কাহিনী আমরা সবাই জানি। সুতরাং খুবই স্বাভাবিক যে একাদশ রুদ্রাবতার অর্থাৎ শ্রীহনুমানজী কামদেবকে তাঁর থেকে সদা দূরে থাকতে বাধ্য করেছেন। শ্রীহনুমানজী মাতা সীতার খোঁজে লঙ্কাপুরীর সর্বত্র রাত্রে যখন ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তখন তিনি রাবণের অন্তঃপুরে প্রবেশ করে অসংখ্য সুন্দরী নারীর রাত্রিকালীন শয়নের বিভিন্ন ভঙ্গিমা ও অঙ্গসজ্জা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

কিস্তু এই দর্শন তাঁর মনের মধ্যে এতটুকু কাম-গন্ধের দাগও ফেলতে পারেনি। ঘটনা হলো সত্যিকারের মহাপুরুষের কাছে কাম ইত্যাদি নিকৃষ্ট বিচার টিকতেই পারে না যার জগতে অসংখ্য উদাহরণ আছে। আর শ্রীহনুমানজী তো স্বয়ং ত্রিগুণাতীত বা মায়ার অতীত, তাই কামদেবের মায়া কোনো কাজে আসেনি।

মাৎসর্য : অর্থাৎ ঈর্ষা; মানুষের অত্যন্ত পুরনো স্বভাব হলো নিজের অবস্থাকে অপরের সঙ্গে তুলনা করে জোর করে দুঃখ বা মনের পীড়াকে টেনে আনা। সংবাদপত্রে কোনো ভিখারীর পঞ্ণশ লক্ষ টাকা লটারী পাওয়ার

খবর দশজনকে জানাতে মানুষ সদা উৎসুক হয় কিন্তু যদি পাঁচ হাজার টাকা তার কোনো পড়শী পায় তবে মন বিষাদগ্রস্ত হয়ে কয়েকদিনের ঘুম কেড়ে নেয় বা সুস্বাদু খাবারও বিস্বাদ লাগতে থাকে। আধ্যাছ্মিক পথের মহাজনরা বলেন এই রোগের নিরসনের সহজ উপায় হলো অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের যা আছে তার আনন্দ নেওয়া। এটা তখনি করা যাবে যখন মনের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, মানুষ তার প্রারদ্ধ অনুযায়ী সুখ বা দুঃখ পায়। সুতরাং আমর প্রারদ্ধে যা আছে তাই আমি পেয়েছি। “যাহে বিধি রাখে রাম, তাহে বিধি রহিয়ে।।”

বিক্রম : এই শব্দ পরাক্রমের শ্রেষ্ঠত্বকে সূচিত করে। শ্রীহনুমানজী বীরত্বে, দাসভক্তিতে, সময়জ্ঞানে, জ্ঞানে, বৈরাগ্যে, কর্মযোগে ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য রেখেছেন। তাই শ্রীহনুমানজী ‘অনস্ত বিক্রমী’ এ হেন কথা বললে কোনো অত্যুক্তি হবে না।

বজরঙ্গী : মূল শব্দ হলো বভ্রাঙ্গী অর্থাৎ বজ্র সমান যার দেহ। শ্রীহনুমানজীর দেহ বভ্র সমান তো ছিলই, তাঁর মানোবল ও আআ্মবল ছিল বজ্রের সমান কঠিন। শ্রীহনুমানজীকে বিচলিত করা শধু কঠিন নয় অসম্ভবও বটে।

কুমতি নিবার সুমতিকে সঙ্গী : তুলসীদাসজী বলছেন যে, শ্রীহনুমানজীর শরণ কেউ নিলে তিনি প্রথমে তার যে কাজটি ধীরে ধীরে করে দেন তা হলো তার মধ্যে বিচারশীলতা এনে দেন, সদ্বুদ্ধি দান করেন আর কুবুদ্ধির নাশ করেন। শ্রীহনুমানজী জানেন শধু কুবুদ্ধির প্রভাব কমালেই হবে না, কারণ বুদ্ধিকে খালি ছেড়ে দিলে কুবুদ্ধি আবার ফিরে আসতে পারে। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের সুন্দরকাণে বিভীষণ বলছেন যে, সবার হৃদয়েই সুমতি আর কুমতি পাশাপাশি অবস্থান করে :-

সুমতি কুমতি সবকে ঔর রহश। নাথ পুরান নিগম অস কহश।।
সুমতি মানে সৎ সঙ্গ, সদ্বিচার, সদ্চর্চা, শভ নির্ণয়। কুমতি অর্থে ভুল নির্ণয়।

বুদ্ধির দু রকম দিশা। যে নির্ণয় ক্ষতিকারক, যে বুদ্ধি সূক্ষ্ম ছলনার আশ্রয় নেয়, যে নির্ণয় শাশ্বত নয় তাই কুমতি। আর সুমতির সঙ্গ সদাই শ্রীহনুমানজী করিয়ে দেন তাঁর শরণাগতদের। কিষ্কিন্ধায় শ্রীসুগ্রীব আর অঙ্গদের কুমতি দূর করেছিলেন শ্রীহনুমানজী, লঙ্কা নগরীতে প্রবেশ দ্বারে মুষ্ঠাঘাতের ফলে লঙ্কিনীর শাশ্বত চেতনা ফিরেছিলো, মূচ্চিত লক্ষ্মণকে চিকিৎসা না

করার যুক্তিজাল বিস্তার করার জন্য চিকিৎসক সুযেণকে ডাঁর কর্তব্য বুঝিয়েছিলেন; ইত্যাদি অনেক দৃষ্টান্ত আছে যেখানে শ্রীহনুমানজী কুমতি দূর করে সুমতি প্রদান করেছিলেন।

Hanuman Chalisa Chaupai 2 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 2 Meaning in Bengali

Devotees around the world recite the Hanuman Chalisa Lyrics with deep reverence.

Hanuman Chalisa Chaupai 2 in Bengali with Meaning & Analysis

রামদূত অতুলিত বলধামা।
অঞ্জनि পুত্র পবনসুত नমা।।

সারানুবাদ : শ্রীরামচক্রের দূত, যিনি অতুলনীয় শক্তির ভাণ্ডার এবং অঞ্জনির পুত্র ও বায়ুদেবের পুত্র নামে বিখ্যাত।।

ব্যাখ্যা : রামদূত : শাস্ত্রকার তথা কোনো কোনো কথাকারের মতে দূত তিন রকমের হয়-

  • রাজদূত
  • রামদূত
  • রাহদূত

লক্ষ্য করুন রামদূতকে মাঝখানে রাখা হয়েছে। রাহদূত অর্থে তিনি স্বয়ংকে প্রায়োজিত করেন অপরকে পথ দেখানোর কাজে। এরা সব্ত্ব প্রধান হয়ে থাকেন এবং অহংকার ও ক্রোধ রহিত হন। রাজদুতে রজো ও তমোগুণের লক্ষণ বিদ্যমান। তমোগুণ কম আর রজোগুণ বেশি। সাম-দাম-দগ-ভেদের আশ্রয় এদের নিতে হয় মালিকের বার্তা পৌছনোর জন্য। কিস্তু রামদূত ত্রিওুণাতীত না সত্ত্ব, না রজ, না তম।

আর শ্রীহনুমানজীকে দেখুন তিনি গুণাতীত। একবার প্রভু শ্রীরাম শ্রীহনুমানজীকে প্রশ্ন করে বসলেন, “হনুমান, তোমার ও আমার মধ্যে কিসের সম্বন্ধ ?” তো শ্রীহনুমানজীর উত্তর, “यদি দেহবুদ্ধির কথা বলেন তাহলে আমি আপনার দাস, আর যদি অন্তঃদৃষ্টি থেকে দেখি তাহলে আমি আপনার ভক্ত। কিক্তু যদি আত্মদৃষ্টি থেকে বিচার করি তাহলে আপনিও যা আমিও তা। আমার আপনার মধ্যে কোন ত্যাত নেই।” এ রকম উত্তর একমাত্র রামদূতই দিতে পারেন। ভারতীয় নীতিশাস্ত্রে অবশ্য দূতের ১৯টি লক্ষণ থাকার কথা বলা হয়েছে।

  • মেধাবী,
  • বাক্পটু,
  • প্রাজ্ঞ,
  • পরচিত্তপলক্ষক অর্থাৎ অন্যের চিতের গতিবিধিকে মুহূর্তে বুকে নেওয়া,
  • ধীর,
  • যথৌক্তবাদী অর্থাৎ যেটুকু বলার শধু সেটুকুই বলা,
  • গুণী,
  • ভক্তঃ নিজের স্বামীর প্রতি ভক্তি সমর্পিত,
  • পবিত্র,
  • দক্ষ,
  • বিচক্ষণ,
  • সহিষ্ণু,
  • বিবসরহীন,
  • পবিত্র আচরণযুক্ত,
  • প্রতিভাবান,
  • আকর্ষক ব্যক্তিত্ব,
  • বগ্মী,
  • निস্পৃহ,
  • নানাশাস্ত্রবিচক্ষণ।

শ্রীহনুমানজী এই সমস্ত গুণের অধিকারী। রামদূতের আর এক অর্থ সত্যের দূত বা ধর্মের দূত, আর যে সত্যের দূত হবে সে তো ‘অতুলিত বলধামা’ই হবে।

অতুলিত বলধামা : গোস্বামীজী বলছেন শ্রীহনুমানজী অতুলনীয় বলের অধিকারী। অতুলনীয় অর্থে যার কোনো ঢুলনা হয় না। রামায়ণে চার রকম বলের উল্লেখ পাওয়া যায়-

  • বল,
  • মহাবল
  • অতিবল
  • বিশালবল।

শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে উল্লেখ আছে ভগবান রাম সুগ্রীবকে বলছেন, “হে সুগ্রীব, আপনার সব কাজ আমি করে দেবো। আমি এর জন্য মায়ার কোনো সাহায্য নেবো না। আমার নিজের ‘বল’ দ্বারা আপনার কাজ করে দেবো।” সুগ্রীব এরপর প্রভুকে বলছেন প্রভু, আপনি নিজের বলের কথা বললেন, কিষ্টু বালী তো ‘মহাবলের’ অধিকারী।” এখানে ‘বল’ আর ‘মহাবলের’ উম্লেখ পাই।

সুগ্রীব এরপর প্রভু শ্রীরামকে বালীর মহাবলের পরিচয় দিয়ে বললেন যে, আপনি যদি সাত তালগাছকে এক বাণে বিধ্বনস্ত করতে পারেন তবে ছিলেন বানররাজ মহাবলশালী কেশরী। শ্রীকেশরী ভগবান শংকরের আরাধনা ও তপের দ্বারা আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যে, তিনি ইচ্ছা অনুসারে মানবদেহ ধারণ করতে পারবেন। পরে দেবী অঞ্জনার বিবাহ বানররাজ শ্রীকেশরীর সঙ্গে रয়।

বিবাহের দীর্ঘদিন পরেও সস্তান না হওয়ায় দুঃখী অঞ্জনাদেবী ঋষিশ্রেষ্ঠ মাতঙ্গের দ্বারস্থ হয়ে পুত্রপ্রাপ্তির উপায়ের প্রার্থনা করেন। ঋষি মাতঙ্গ তাঁকে বলেন – “পম্পা সরোবরের পূর্বদিকে পঞ্ণশ যোজন দূরে আছে নরসিংহাশ্রম। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নারায়ণগিরি পর্বতের উপর আছু স্বামীতীর্থ বলে একটি জায়গা। এই স্বামীতীর্থ থেকে এক ক্রোশ উত্তরে অবস্থান করছে আকাশগঙ্গা তীর্থ।

এই তীর্থে স্নান করে সেখানে বারো বছর তপস্যা করলে তোমার অত্যস্ত গুণবান পুত্রের প্রাপ্তি হবে।” মুনির কথা অনুসারে দেবী অঞ্জনা পুষ্করিণীতে স্নান করে এই তীর্থের পরিক্রমার পর ভগবান বরাহ অবতারের স্তুতি করেন। আকাশগঙ্গা তীর্থে অবস্থৃানরত সমস্ত ঋষিদের প্রণাম করে, তাঁর স্বামীর অনুমতি নিয়ে পূর্ণ উপবাসের সঙ্গে বারো বছর তপস্যা করেন। তাঁর বারো বছরের তপস্যায় সস্তুষ্ট হয়ে বায়ুদেব ঢাঁকে পুত্রসন্তানের বরদান করেন।

একবার যখন পতিব্রতা দেবী অঞ্জনা মানবীর দেহ ধারণ করে দিব্য আভূষণে ভূষিত হয়ে তাঁর পতি বানররাজ কেশরীজীর সঙ্গে সুমেরু পর্বতের অত্যন্ত মনোহর বাগিচায় ভ্রমণ করছিলেন তখন তাঁর মনে হলো কে যেন তাঁকে স্পর্শ করছে। দেবী অঞ্জনা তখন অত্যন্ত শিষ্ট ভাষায় বলে উঠেন, “কে আমার পতিব্রতাকে নাশ করতে চায়?” তাঁর এই কথা শুনে বায়ুদেব দর্শন দান করে বলেন,

“হে দেবী, হে সুশ্রীনী, আমি তোমার পতিব্রতাকে নাশ করতে আসিনি, তুমি মনে কোনো ভয় রেখো না। আমি অব্যক্তরূপে মানসিক সংকল্পের দ্বারা তোমার ভিতরে তেজ স্থাপন করেছি। তোমার পরাক্রমী এবং বুদ্ধিমান পুত্র হবে। তেমার পুত্র বড় মহান, ধৈর্যবান, মহাতেজস্বী, মহাবলী হবে এবং লম্ফ ও তার ব্যাপকতায় (ঝাঁপ এর দীর্ঘতা ও গতিবেগ) আমার সমান হবে।”

ব্রহ্মদেবের মানসপুত্র জাম্ববানজী শ্রীহনুমানজীকে আরো বললেন – “হে মহাকপি! যখন বায়ুদেব এই কथা তোমার মাকে বললেন তখন তোমার মাতা অত্যন্ত প্রসন্ন হলেন। হে মহাবাহো! হে বানরশ্রেষ্ঠ, এরপর তোমার মা তেমায় এক গুহায় জন্ম দিয়েছিলেন।” চৈত্র মাসের শক্ল পক্ষের

পূর্ণিমা यা কিন্না মঙ্গলবার ছিল, সেই পবিত্র দিনে অঞ্জনাপুত্র শ্রীহনুমানজীর শুভ আবির্ভাব হল। যেহেতু এই সন্তান অঞ্জনার গর্ভ থেকে প্রকট হলেন তাই তাঁর এক নাম অঞ্জনাপুত্র, বায়ুদেব মাধ্যম ছিলেন তাই পবনসুত, রাজা কেশরীর পুত্র হবার কারণে কেশরীনন্দন আর ভগবান শংকরের একাদশ রুদ্রের রূপে অবতার ধারণ করায় তাঁর আর এক নাম হলো শঙ্করসুবন।

কোথাও কোথাও এই মান্যতাও আছে যে শ্রীহনুমানজী চৈত্র মাসের তক্ল পক্ষের একাদশী তিথির দিন জন্মেছিলেন যখন নক্ষত্র ছিল মঘা। শ্রীহনুমানজীর করা নানা লীলার কথা মাথায় রেখে তাঁর আরও নাম দেওয়া হয়েছে যেমন মারুতি, মারুতনनদ্ন, বাতাত্মজ ইত্যাদি।

এবার দেখে নেওয়া যাক শ্রীহনুমানজী তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে নিজের মুখে ঢাঁর কোন নামটা বলছেন। শ্রীর্রীরামচরিতমানসে এক জায়গায় তিনি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলছেন-আমার নাম হলো হনুমান। চোদ্দো বছর বনবাসের পর শ্রীরাম লক্ষ্মণাদির সঙ্গে অযোধ্যায় ফেরার আগে শ্রীহনুমাজীকে পাঠালেন শ্রীভরতের সঙ্গে দেখা করতে নন্দীগ্রামে। যেখানে শ্রীভরত সিংহাসনে প্রভু শ্রীরামের পাদুকাজোড়া রেখে একজন বনবাসী তপস্বীর মতো এই দীর্ঘ চোদ্দ বছর কাটিয়েছেন।

শ্রীভরত প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে প্রভু শ্রীরাম চোদ্দো বছর পর অযোধ্যায় ফিরে না এলে তিনি আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। প্রভু শ্রীরাম শ্রীভরতকে এই খবর দেওয়ার জন্য শ্রীহনুমানজীকে পাঠালেন যে তিনি ফিরে আসছেন। শ্রীহনুমানজী শ্রীভরতকে বললেন, “আমি পবনপুত্র, এক বাঁদর। হে কৃপানিধান ভরতজী, আমার নাম হনুমান।” এই কারণেই গোস্বামীজী চালীসার আগে অন্য কোনো নাম না দিয়ে রাখলেন খালি হনুমান। তাই নাম হলো হনুমান চালীসা।

Hanuman Chalisa Chaupai 1 Meaning in Bengali

Hanuman Chalisa Chaupai 1 Meaning in Bengali

The Hanuman Chalisa is a revered devotional hymn dedicated to Lord Hanuman.

Hanuman Chalisa Chaupai 1 in Bengali with Meaning & Analysis

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর।
জয় কপীস তিছঁ লোক উজাগর।।

সারানুবাদ : হে শ্রীহনমান, আপনার জয় হোক। আপনি জ্ঞান আর গুের সমুদ্র। তিন লোকেই প্রসিদ্ধ বানরাধিপতি আপনার জয় হোক।

ব্যাখ্যা :- জয় হনুমান জ্ঞান ওণ সাগর আদে আমরা দেখবো তুলসীদাসজী প্রথমেই ‘জয়’ ঘোষণা কেন করলেন ? বললেন- জয় হনুমান, জয় কপীস। কিস্তু কেন শ্রীহনুমানজীর জয়? এই সংসারে কার জয় ঘোষণা করা উচিত? গোস্বামীজীর লেখা অনেক গ্রন্থই বিখ্যাত হয়েছে। কিন্তু তাঁর লেখা অনেক সাহিত্য প্রচুর অদ্ভুত তথ্যে ভরপুর হলেও তার প্রসিদ্ধি অতটা হয়নি।

এই রকম্ই এক রচনায় গোস্বামীজী বলছেন, “যে স্বভাবত স্থির, শাত্ত, শীতল অথচ গস্ভীর, যার মধ্যে অনুভবের ভাঞুার সদা মজুত থাকে তার ‘জয়’ ঘোষ হতে পারে।” ‘জয়’ ঘোষ সেই সাধকের হতে পারে, সেই শরণাগতের হতে পারে যে ভগবান শংকর, প্রভু রাম বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপাসনায় রত। আর হনুমানজী, যিনি স্বয়ং একাদশ রুদ্রাবতার, যিনি জ্ঞান ও গণের সাগর, তাঁর জয় উদঘোষ হওয়া তো খুবই স্বাভাবিক।

এবার ‘হনুমান’ এই শব্দের পটভূমিকেও জেনেনি। হনুমান এই নামটি দেবরাজ ইন্দ্র দিয়েছিলেন। ছোট বয়সে শ্রীহনুমানজী একবার সূর্যকে ফল ভেবে তাকে গ্রাস করতে গিয়েছিলেন। রাহু তাঁকে বাধা দেল কিস্তু হনুমানজীর বলের কাছে হার স্বীকার করে তিনি ইন্দ্রের কাছে এই ঘটনার কথা জানান। দেবরাজ তখন তাঁর বাহন ঐরাবতকে পাঠান কিন্তু ঐরাবত ওই বালক হনুমানের তেজ ও ক্ষমতা দেখে ভয়ে পালিয়ে যান।

তখন দেবরাজ এসে ঢাঁর অমোঘ বজ্রাঘাত করে কপি হনুমানের হনু ভেঙ্গে দেন। পরে তার নাম দেন হনুমান। বাল্মীকি রামায়ণে (উত্তরকাণ্ড, সর্গ ৩৬, শ্লোক ১১) ইন্দ্র বলছেন, আমার হাত থেকে ছুঁড়ে দেওয়া বজ্রের আঘাতে এর হনু ভঙ্গ হর়ে যায়। অতএব এর নাম হনুমান হবে। এই কাহিনীর কতটা কাব্যময় অথবা অধ্যাত্মময় সে নিয়ে বিবাদ হতে পারে কিস্তু একবিংশ শতাব্দীতে এই ঘটনা যেন বাস্তব বর্জিত মনে হয় যা খুবই স্বাভাবিক। আমরা জানি সূর্যদেবকে পঞ্চদেবের একজন হিসেবে

নিত্যপূজায় অর্ঘ্য দেওয়া হয়। বেদে সূর্যকে ব্রহ্মও বলা হয়। রাহু অর্থে তমোগুণী বৃত্তি। সূর্য অর্থ জ্ঞান। ঐরাবত যে কিনা ইন্দ্রের বাহন সে রাজসিক বৃত্তির পরিচায়ক, সে দেবতাদের ভোগের প্রতীক। মুনি-ঋষিরা মনে করেন এই ঘটনা ঘটেছিল সূর্যগ্রহণের দিন। জ্ঞনরূপী সূর্যকে তমোঞুণী রাহ গ্রাস করার চেয়ে কোনো হনুমততত্ত্ব, প্রাণতত্ত্ব বা বিচারবান ব্যক্তি এই জ্ঞানকে হৃদয়স্থ করুন বা আতুস্থ করুন্ন তা সর্বতোভাবে কাম্য।

হনুমান শব্দের আরো অনেক ব্যাখ্যা আছে, আমরা তার মধ্যে কয়েকটি একটু দেখেনি :-

  • হনুমান = হনু + মান; এর অর্থ হনু যুক্ত ব্যক্তিই হনুমান।
  • ২নুমান = হন্ + উৎপাদন + মান; হন্ ধাতুর এক অর্থ হয় হিংসা যা ত্রীহনুমানজী যখন প্রহার বা সংহার করেন তখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়। এর নামার্থ এই হয় যে শ্রীহনুমানজী সর্ব সঙ্কটহর্তা, সর্ববিধ ভূত-প্রেত-পিশাচ গ্রহাদির বাধা বা পীড়াকে নিবারণ করা শত্রু বা অসুরসংহারক।

হন্ ধাতুর আর এক অর্থ হল গতি; ব্যাকরণের পণ্ডিতরা গতি শব্দের তিন অর্থ করেছেন- জ্ঞান, গমন ও প্রাপ্তি। শ্রীহনুমানজীর নামের তাই অর্থ দাঁড়ায়-জ্ঞানবান, গতিমান এবং প্রাপ্তিবান।

জয় হনুমান জ্ঞন ওণ সাগর ঃ শ্রীহনুমানজী অনন্ত গুণের ভাঞার। তিনি জ্ঞানের সমুদ্র। গোস্বামীজী সমুদ্রের সঙ্গে তাঁর জ্ঞান ও গুণের তুলনা করলেন কেন ? সমুদ্রের সাত লক্ষণ ঃ গল্ভীর, গভীর, বিশাল, মর্যাদাসম্পন্ন, রত্নের ভাগ্ডার, জলের ভাণ্ডার, এই সমুদ্রেই লক্ষ্মী-নারায়ণ তাঁদের শয়নসজ্জা পেতেছেন। আসুন, শ্রীহনুমততত্ত্বের সাথে মিলিয়েনি-

  • গম্ভীর – শ্রীহনুমানজীর জ্ঞান ও গুণ সাগরের মত গম্ভীর;
  • গভীর – হনুমানতত্ত্রের গভীরতা মাপজোক করা যায় না;
  • বিশাল – বাল্মীকি রামায়ণে লঙ্কাকাণ্ড ও উত্তরকাণ্ডে ঢাঁর জ্ঞান
  • গুনের এক বিশাল ক্রম দেওয়া আছে, যেমন- তেজ, ধৃতি, যশ, চাতুর্য, সামর্থ্য, বিনয়, নীতি, পুরুষার্থ, পরাক্রম, উত্তমবুদ্ধি, শৌর্য, বল, ধৈর্য, প্রজ্ঞ, প্রভাব, উৎসাহ, বুদ্ধি, সুশীলতা, মধুরতা, নীতি-অনীতির বিবেক, গস্ভীরতা ইज्याদি।
  • মর্যাদা – প্রভু মন্দিরের বাইরে চুপচাপ নিজের মর্যাদার মধ্যে অবস্থান

করেন। শ্রীহনুমানজী সময়মতো প্রকট হন, অন্য সময় চূপচাপ প্রভু শ্রীরামের নাহে বিলীন থাকেন।
৫. রত্নের খাজানা – শ্রীহনুমানজীর দেহ স্বর্ণময়, ঢাঁর অন্তর্দেহ রাম-রত্নের খনি ছাড়া আর কি ? মীরাবাঈ গেয়ে উঠেছিলেন- ‘পায়োজী ম্যয়নে রাম রতন ধন পাঁয়ে।।’

৬. লক্ষ্মী-নারায়ণের সমুদ্রে নিবাস – পরম বিষ্ণু, ভগবান শ্রীরাম, পরম লক্ষ্মী মা জানকী যাঁর হৃদয়-মন্দিরে সদা অবস্থান করছেন, তিনিই শ্রীহনুমানজী। সমুদ্রের হৃদয়ে যেমন লক্ষ্মী-নায়ায়ণের বাস তেমনি শ্রীহনুমানজীর হৃদয়ে সদা লক্ষীी-নারায়ণের বাস।

জয় কপীশ তিলুঁ লোক উজাগর ঃ প্রথমে শ্রীহনুমানজীর জয়, তারপর কপীশের জয়। দুটি আলাদা আলাদা শব্দে বন্দনা করা হয়েছে। শ্রীহনুমানজীর রূপে আপনার জয় হোক কারণ আপনি জ্ঞন আর গুনের সাগর। আর কপীশের রূপেও আপনার জয় হোক কারণ আপনি তিনটি ‘লোক’-কেই প্রকাশমান বা প্রসিদ্ধ করেছেন।

সংস্কৃতজ্ঞ বিদ্বানরা ‘কপি’র অর্থ করেছেন ‘কম্’ বা ‘সুখম্’। ‘কম্’ এর অর্থ হল সুখ। অর্থাৎ ‘সুখম্ পিবতি ইতি কপি’। নিরস্তর ব্রহ্ম সুখ যিনি পান করেন তাঁকে ‘কপি’ বলা যেতে পারে। কপি মানে কেবল বাঁদর নয়। শ্রীহনুমানজী কেবল ব্রহ্মসুখ পান করা কপি নন, বরং যত লোক এই সুখ পান করে তিনি তাঁদের ঈশ্বর। কপি + ঈশ = ব.পীশ। প্রভু শ্রীরাম ব্রহ্ম আর শ্রীহনুমানজী এই ব্রহ্ম সুখে সদা অবস্থান করেন, রামের কথা শোনেন, রামের গান করেন, রামের লীলা স্মরণ করেন, তিনি তাই কপি এবং কপীশ।

তিল্ঁ লোক উজাগর : হে কপীশ, আপনার জয় হোক কেনন। আপনি তিনটি ‘লোক’-কেই প্রকাশমান বা প্রসিদ্ধ করেছেন। আমাদের সংস্কৃত তিন্ লোকের দু’রকম অর্থ করেছে। এক ব্যক্তিকে মাথায়. রেখে আর দ্বিতীয় ‘সমষ্টিকে’ মাথায় রেখে।

ব্যক্তি — জাগৃতি, স্বপ্ন ও সুযুপ্তি, এটা সাধনের তিন লোক। আর সমষ্টির – ভূঃ ভুবঃ স্বঃ অর্থাৎ স্বর্গ, মৃত্যু ও পাতাল লোক। শীরীনুমানজী সুষুপ্তি, জাগৃতি আর স্বপ্ন এই তিন লোরেই রমণের পরে তূরীয়তে অবস্থানকারী মহাপুরুষ আবার, তিনি স্বর্গলোকে প্রয়োজনে উড়ান ভরেন, মৃত্যুলোকে প্রভু স্মরণকারীকে বা তাঁর স্মরণকারীকে প্রেরণা দেন আর

পাতাললোকে গিয়ে প্রভুর খোঁজ করে তার পরিত্রাতার ভূমিকা আদায় করেন। মনে রাখতে হবে উজাগর অর্থে প্রভাবিত করা নয় কারণ অপরকে প্রভাবিত করা তেমন শক্ত কাজ নয়। উজাগর অর্থে আত্ম-চেতনাকে প্রকাশিত করা যা এ্রীহনুমানজী মৃত্যুলোকে সদাই করে চলেছেন।

Hanuman Chalisa in Bengali Pdf, Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali, Hanuman Chalisa Meaning in Bengali

উদাহরণ স্বরূপ হনুমান চালীসার ‘চালীসা’র প্রচলন কবে থেকে, কোথায় লেখা হয়েছিল, লেখার সময়কাল, চালীসইই বা কেন, উনচল্পিশ বা একচল্লিশ নয় কেন ইত্যাদি? প্রশ্ন আরও আছে, যেমন কেন বলা হয় শ্রীহনুমানজীর সাধনা হল ‘হনুমান চালীসা’ পাঠ ? আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে লেখা এই ‘চালীসা’ সময়ের সাথে সাথে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে এবং বহু মানুভের এই ‘চালীসা’ পাঠের হাতেনাতে ফল পা৫য়ার প্রচুর খবরও আসছে। এটা ঘটছে কেন ? রহস্যটা কী ?

Hanuman Chalisa Bengali Pdf, Hanuman Chalisa Bengali Lyrics, Hanuman Chalisa in Bengali Version Meaning

Also Read Hanuman Chalisa in English

रনুমन চালীসা
দোঁহা

শ্রীগুরু চরণ সরোজ রজ, নিজ মনু মুকুরু সুধারি।
বরনঙ্ড রঘুবর বিমল জসু, জো দায়কু ফল চারি।।
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরোঁ পবন-কুমার।
বল বুধি বিদ্যা দেহ মোহিঁ, হরহঁ কলেস বিকার।।

চৌপাঈ

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর। জয় কপীশ তিহঁ লোক উজাগর।। ১
রামদূত অতুলিত-বলধামা। অঞ্জনি-পুত্র পবনসূত নামা।। ২
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতিকে সঙ্গী।। ৩
কঞ্চন বরণ বিরাজ সুবেশা। কানন কুণুল কুঞ্চিত কেশা।। ৪
হাত বত্র ঔর ধ্বজা বিরাজৈ। কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ।। ৫

Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali Pdf

শঙ্কর সুবন কেশরীনন্দন। তেজ প্রতাপ মহাজগ বন্দন।। ৬
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর।। ৭
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রাম লখন সীতা মন বসিয়া।। ৮
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হি দিখাবা। বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জরাবা। ৯
ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সঁবারে।। ১০

Hanuman Chalisa Lyrics Bengali

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রীরঘুবীর হরষি উর লায়ে।। ১১
রঘুপতি কীন্হী বহুত বড়াঈ। তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাই।। ১২
সহস বদন তুমৃহরো যশ গাবৈঁ। অস কহি শ্রীপতি কন্ঠ লগাবেঁ।। ১৩
সনকদিক ব্রম্মাদি মুনীসা। নারদ সারদ সহিত অহীসা।। ১৪
যম কুবের দিগপাল জহাঁ তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে।। ১৫

Hanuman Chalisa Bengali Lyrics

তুম উপকার সুগ্রীবহিঁ কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা।। ১৬
তুমহহরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লঙ্কেশ্বর ভএ সব জগ জানা।। ১৭
যুগ সহশ্র যোজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ।। ১৮
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহীঁ। জলধি লাঘিঁ গয়ে অচরজ নাহঁঁ।। ১৯
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমৃহরে তেতে।। ২০

Hanuman Chalisa in Bengali Lyrics

রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত না আজ্ঞা বিনু পৈসারে।। ২১
दिশদ অর্থ ব্যাখ্যা সर সস্কটমোচলকারী হনুমন ডালীসা
সব সুখ লইহে তুম্যারী সরনা। তুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না।। ২২
আপন তেজ সম্হারো আটৈ। তীরোঁ লোক হাঁক তেঁ চাঁটৈ।। ২৩
ভূত পিশাচ নিক্ট নহিঁ আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ।। ২৪
নাটশ রোগ হরে সব পীরা। জপত নিরস্তর হনুমত বীরা। ২৫

Bengali Hanuman Chalisa

সঙ্কট ডেঁ হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ।। ২৬
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা। ২৭
ঔর মরোরথ জো কোই লাবৈ। সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ।। ২৮
চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা। হৈ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।। ২৯
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকন্দন রাম দুলারে।। ৩০

Hanuman Chalisa Meaning in Bengali

অষ্ট সিদ্ধি লো নিধি কে দাতা। অস বর দীন জানকী মাতা।। ৩১
রাম রসায়ন তুম্হরে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা।। ৩২
তুমহারে ভজন রাম কো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ।।
৩৩ অস্তকাল রঘুবরপুর জাঈ। জহাঁ জন্ম হরি-ভক্ত কহাঈ।। ৩৪
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ। হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ।। ৩৫

Hanuman Chalisa Bengali Meaning

সঙ্কট কটে মিটে সব পীরা। জো সুমিটর হনুমত বলবীরা।। ৩৬
জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈ। কৃপা করহু গুরুদেবকী নাঈ।। ৩৭
জ্রে শত বার পাঠ কর কোঈ। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ।। ৩৮
জো য়হ পট় হনুমান চালীসা। হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা। ৩৯
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজে নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা।। ৪০

দোঁহা

পবনতনয় সঙ্কট হরণ, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয় বসহু সুর ভূপ।।

হনুমানচালীসা

দোহা

শ্রীগুরু চরন সরোজ রজ নিজ মনু মুকুরু সুধারি।
বরনউ রঘুবর বিমল জসু জো দায়কু ফল চারি।|

বুদ্ধিহীন তনু জানিকে সুমিরোঁ পবন-কুমার।
বল বুथि বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেস বিকার।|

শ্রীগুরুর চরণরণ কমনের পরানগের দ্বারা (অর্থাং শ্রীগুরুর চরণধূলির দ্বারা)
নিজের মনরূপ দর্ণণ পরিষ্কার করে নিয়ে রঘুবর শ্রীরামচট্দ্রের বিমল যশ বর্ণনা করতে

প্রবৃত্তি হচ্ছি। শ্রীরামের এই কীর্তিগাথা ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ- এই চতুর্বিধ পুরুষার্থই প্রদান করে। কিস্টে আমি যে নিতান্তই নির্বোধ (সুতরাং এই কর্মে অক্ষম) তা বুঝ্যে পবননन্দন হনুমানকে স্মরণ করছি – প্রভু, আপনি কৃপা করে আমায় সেঁই ক্ষমততা, বুদ্ধি এবং বিদ্যা দান করুন, আমার সর্বপ্রকার ক্রেশ এবং তজ্জনিত বিকারসমূহ হরণ করুন ।

চৌপাঈ

জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপীস তিষঁঁ লোক উজাগর।।
হে হনুমান, হে কপি শ্রেষ্ঠ, আপনার জয় হোক। ख্ঞান ও গুনের সাগর স্বরূপ আপনি, তিনভুবনেই উজ্ট্রন (প্রসিদ্ধ) আপনার নাম॥ ১।

রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনি-পুত্র পবনসুত নামা।
আপনি শ্রীরাদমের দূত, অতুলনীয় আপনার বল ও ত্জে। অঞ্জনার পুত্র আপনি,
পবন-নদ্দন নাচমও আপনি পরিচিত ॥ ২॥

মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী।
মशান বীর, মহাবিক্রমশালী, বজ্ঞাঙ্গবলী আপনি কুমতির নিবারণকর্ত এবং শুভবুদ্ধির সঙ্গী (অর্থাং শুভ বুদ্ধি প্রদানকারী) ॥ ৩॥

কষ্চন বরন বিরাজ সুবেসা। কানন কুঞুল কুঞ্চিত কেসা।
স্বর্ণবর্ণ দেহে শোভ্ন বেশে কর্ণে কুকুল এবং কুঞ্চিত কেশের শোভায় দশনয় আপनाর রূপ॥ 8 ॥

হাথ বজ ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কাঁধে মূঁজ জনেউ সাজৈ।
আপনার হন্তে বজ্ধ এবং ধ্বজা বিরাজিত, স্কক্ধে মুঞ্জাতৃণ নির্মিত উপবীত শোভমান ॥৫॥

Hanuman Chalisa in Bengali Meaning

সঙ্কর সুবন কেসরীনন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন।।
মহাদেবের অংশে জাত আপনি, বানর-শ্রেষ্ঠ কেশরী আপনার পিতা। তেজস্বিতায় এবং প্রতাপে আপনি সর্বজগতত পূজনীয় ॥৬॥

বিদ্যাবান গুনী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর।
সर্বপ্রকার বিদ্যা ও সকল গুণে ভৃষিত আপনি উদ্দেশ্যসাধনে অতিশয় দক্ষ ও
চতুর, বিশেষতঃ শ্রীরামের কার্য-সশ্পাদনে আপনি সর্বদাই তৎপর ॥৭॥

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রাম লখন সীতা মন বসিয়া।
প্রতু শ্রীরামচট্দ্রের চরিতকথার রসগ্রাহী শ্রোত আপনি, আপনার হৃদয়ে শ্রীরাম, লम্कণ এবং সীতার निত্য বসতি ॥৮॥

সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়হিঁ দিখাবা। বিকট রূপ ধরি লঙ্ক জরাবা।
ভীম রূপ ধরি অসুর সঁহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সঁবারে।

সীতাদেবীর কাছে আথনি ক্ষুদ্র দেহ ধারণ করে দেখা দিয়েছিলেন, লঙ্কা-দহনের সময় বিকট আকার ধারণ করেছিনেন, রাক্ষসদের সংহারকানে আপনার রূপ অতি ভয়ক্কর, আইভাবে শ্রীরামচট্ট্রের কার্যোদ্ধারের জন্য আপনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। ৯-১০॥

Hanuman Chalisa in Bengali Version

লায় সজীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রীরঘুবীর হরষি উর লায়ে ॥
রঘুপতি কীনৃহী বহুত বড়াঈ। তুম মম প্রিয় ভরতহি সম ভাঈ ॥
সহস বদন তুম্হরো জস গাবৈঁ। অস কহি শ্রীপতি কঠ্ঠ লগাবৈ ॥

মৃতসঞ্জীবনनী ওষধি নিয়ে এসে, আপনি শ্রীলস্्্রণকে পুনর্জীবিত করেন, (আপनার এই অসামান্য কর্মকুশলত দর্শনে) আনদ্দিত চিত্তে শ্রীরাম আপনাকে বক্ষে জড়িয়ে ধরেন। রঘুপতি আপনার অশেষ প্রশং সা করেন এবং বলেন ‘ ‘ুমি ভরতেরই মতো আমার পরম প্রিয় ভ্রাতা। আমি সহস্র-বদনে তোমার যশ কীর্তন করি’-এই কथा বলে শ্রীরাম আপনাকে কঠ্ঠিগ্ন করেন॥ ১১-১৩॥

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীসা। নারদ সারদ সহিত অহীসা।
জম কুবের দিগপাল জহাঁ তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাঁ তে।।

ত্রभाদি দেবশ্রেষ্ঠগণ, স্বয়ং দেবী সরস্বতী, সनকাদি মুনিচতুষ্টয়, অनন্তনাগ, নারদ-সহ অন্যান্য ঋযিবৃক্দ, যম-কুবেরাদি দিক্পালগণ ও কবিশ্রেষ্ঠ তथा জ্ঞানিবৃন্দ আপনার মशিমা বর্ণনা করে উঠুতে পারেন না॥ ১৪-১৫॥

Hanuman Chalisa Bengali Version

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজ পদ দীন্হা।
আপনি সুগ্রীবের সঙ্গ রামের মিলন ঘটিয়ে তাঁকে রাজপদে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে তাঁর পরম উপকার সাধন করেছিলেন॥ ১৬॥

তুম্হরো মন্ত্ত্র বিভীষন মানা। লঙ্কেস্বর ভএ সব জগ জানা।
বিভীযণ আপনার পরামর্শ নেনেছিলেন এবং তার ফলে পরিণামে তিনি লক্কার অষীশ্বর হয়েছিলেন একথা জগতের সকলেইই জানে॥ ১৭॥

জুগ সহস্র জোজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥
সহস্র সহস্র যোজন দূরে অবঙ্ছিত যে সূর্যদেব তাঁকে আপনি মিষ্ট ফলষ্ঞানে গ্রহণ করতে উদ্যত হয়েছিলেন॥ ১৮॥

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মার্ছী।। জলধি লাঁঘি গয়ে অচরজ নাহ্থী॥।
প্রভু শ্রীরামচট্দ্রের নামাক্িিত অঙ্গুরীয়ক মুখের মধ্যে নিয়ে আপনি সাগর লঅ্ঘন করে পরপারে গেছিলেন-এতে আশ্চর্যের কিছুই নেই (কারণ বালককালেইই আপনি ॥১৯॥

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে।
জগতে যত দুষ্কর কাজ আছছ, সবই আপনার কৃপায় সহজসাধ্য হয়ে ওঠঠ ॥ ২০॥

Hanuman Chalisa in Bengali Translation

রাম দুআরে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে।।
শ্রীরাহের দ্বারে আপনিই রহ্ষক, আপনার অনুমতি ব্যতীত কেউই সেখানে প্রবেশ করিতে পারে না (অর্থাৎ আপনার কৃপা ব্যতীত ভগবান রামের প্রতি ভক্তি লাভ इड़ ना)॥ ২১॥

সব সুখ লইহ তুম্হারী সরনা। তুম রচ্ছক কাহূ কো ডর না॥ যে আপনার শরণ নেয়, সে সর্বসুখ লাড করে; আপনি যাকে রক্ষা করেন কারো কাছ থেকেই তার ভয় থাকে না ॥২২॥

আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তীনোঁ লোক হাঁক তেঁ কাঁপৈ।। আপনার তেজ একমাত্র আপনিই সম্বরণ করতে পারেন (অন্য কেউ আপনার তেজ নিবারণ করতে পারে না।। আপনার হুक্কারে ত্রিভুবন কম্পিত হয় ॥২৩॥

ভূত পিসাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাটৈ।।
মহবীর হনুমানের নাম যখন যেখানে উচ্চারিত হয়, ভৃত-পিশাচাদি সে ছানের निকটেও आসতত পারে না ॥২8॥

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা।
নিরন্তর হনুমানের নাম জপ করলে সর্বপ্রকার রোগ-পীড়াদি বিনষ্ট হয় ॥২৫॥

Hanuman Chalisa in Bengali Pdf

সঙ্কট তেঁ হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ।। সঙ্কটে পতিত হনে শ্রীহনুমানের নাম মুতে কীর্তন, মনে তাঁকে স্মরণ এবং ক্রমশঃ তাঁকে ধ্যাকে ধ্যান করলে, সেইই সষ্কট থেকে তিনি মুক্ত করেন॥ ২৬॥

সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিন কে কাজ সকল তুম সাজা। তপস্বী শ্রীরাম সর্বজগতের সকলের প্রভু, সেই মহামহিমশালীর সকল গুরুতর কর্মসমূহের দায়িত্বপালন আপনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছিন॥ ২৭ ॥

ঔর মনোরথ জো কোই লাবৈ। সোই অমিত জীবন ফল পাবৈ।।

(সুতরাং) অন্য যে কোনো মনোবাসনা নিয়ে যে আপনার দ্বারম্ হয়, সে-ই অনন্ত জীবনের জন্য সেই সব ফললাভ করে (অর্থাৎ আপনার প্রদত্ত ফল সমূহ একজীবনে ভোগ করলেই শেষ হয়ে যায় না।) ১।২৮

চারোঁ যুগ পরতাপ তুম্হারা। ไহ পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা।
সর্বজগতেই একথা প্রসিদ্ধ আছে যে চার যুগেই আপনার প্রতাপ সমুজ্জনলভাবে বर्णমान॥ ২৯॥

সাধু সন্ঠ কে তুম রখবারে। অসুর নিকন্দন রাম দুলারে।।
সাধু সজ্জনগণের আপনি রক্ষাকর্তা, অসুরদের বিনাশকারী এবং শ্রীরামচট্দ্রের একান্ত প্রিয়শাত্র ॥ ৩০॥

Hanuman Chalisa Bengali Pdf Download

অষ্ট সিদ্ধি নৌ নিধি কে দাতা। অস বর দীন জানকী মাতা॥
মাতা জানকীদেবী আপনাকে এর্রা বর দিয়েছেন যে, আপনি ইচ্ছা করনেই অষ্ট সিদ্ধি এবং নয় প্রকার সম্পদ (নবধা ভক্তি অথবা কুবেরের পদ্ম, মহাপদ্ম প্রভৃতি নয়প্রকার বিধি) দান করতে পারেন॥ ৩১॥

রাম রসায়ন তুম্হরে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা।
শ্রীরামের প্রতি প্রেম-ভক্তি আপনারই ভাঞারে বিদ্যমান (অর্থাৎ আপনি দয়া না করলে তা লাভ করা যায় না)। হে রঘুপতির দাস মহাবীর হনুমান। আপনি সর্বদা আমার নিকটে থাকুন ॥৩২॥

তুম্হরে ভজন রাম কো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ।।
অন্ঠ কাল রঘুবর পুর জাঈ। জহাঁ জন্ম হরি-ভক্ত কহাঈ।

আপনার ভজনা করলে তা প্রকৃতপক্ষে শ্রীরামের উব্দেশ্যেই নিবেদিত হয় এবং

শ্রীরামের প্রীতি সম্পাদন করে। জন্ম-জন্ম সধ্চিত দুঃখরাশিকে তা ভুলিয়ে দেয় (অর্থাৎ দুঃখ निর্মূল হয়ে যায়)। যেখানে ( যে দেশে বা বর্ণে অথবा জাতিতে) সেই ভজনাকারীর জস্ম হোক না কেন ভগবদ্ভক্তরূপ্পেই তাঁর পরিচিতি হয় এবং অন্তে তিনি শ্রীরানের নিত্যধাদম গমন করেন ॥৩৩-৩৪॥

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরঈ। হনুমত সেই সর্ব সুখ করঈ। অপর কোনো দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করে কেবলমাত্র হুমানের সেবা করলেইই সর্ব ফললাভ হতে পারে॥৩৫॥

Hanuman Chalisa Pdf in Bengali

সঙ্কট কটে মিটে সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বলবীরা।
यिनि মহাবলবीर्यসমষ্বিত শ্রীহুনমানকে স্মরণ করেন, তাঁর সকল সঙ্চট দূরীভূত হয়, সর্ব রোগ নিরাময় হয়ে যায়। ॥ঔ৬॥

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঁ্গ। কৃপা করহু গুরু দেব কী নাঁ্গ।।
হে প্রভু হনুমানজী, আপনার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। গুরুদেব যেমন তাঁর শিষ্যের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন, সেইইরকম আপনিও আমাকে কৃপা করুন ॥৩৭॥

জো সত বার পাঠ কর কোঈ। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোঈ। এই হনুমান-চালীসা যে শতবার পাঠ করবে, তার বন্ধনমুক্তি ঘটবে এবং সে প্রতৃত সুখ-সৌভাগ্য লাভ করবে ॥৩৮॥

জো য়হ পটৈ হনুমান চলীসা। হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা।
যে কেউ এই হনুমান চালীসা পাঠ করবে, তারই সিদ্ধিলাভ (উদ্দিষ্ট ফললাড) হবে, এ বিষয়ে স্বয়ং মহদদেব প্রমাণ ॥৩৯॥

তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহঁ ডেরা॥
তুলসীদাস সদা সর্বদাই শ্রীशরির সেবক, দাসানুদাস। হে প্রভু, আथনি তার

দোঁহ

পবনতনয় সংকট হরন, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহিত, হৃদয় বসহ সুর ভূপ।

শ্রীরাম, লস্ম্ণণ এবং সীতাদেবী-সহ সঙ্কটমোচন, মঙ্গলময়বিগ্রহ সুরশ্রেষ্ঠ শ্রীপবনनদ্দন আমার হৃদয়ে বসতি করুন।
॥ ইতি ॥

সংকটমোচন হনুমানাষ্টক

মত্তগয়ন্দ ছন্দ

বাল সময় রবি ভক্ষি লিয়ো তব তীনळ লোক ভয়ো অঁখিয়ারো।
তাহি সোঁ ত্রাস ভয়ো জগ কো য়হ সংকট কাহ সোঁ জাত ন টারো।
দেবন আনি করী বিনতী তব ছাঁড়ি দিয়ো রবি কষ্ট নিবারো।
কো নহি জানত হৈ জগমেঁ কপি সংকটমোচন নাম তিহারো। ১

বালি কী ত্রাস কপীস বসৈ গিরি জাত মহাপ্রভু পহ্হ নিহারো।
চোঁকি মহা মুনি সাপ দিয়ো তব চাহিয় কৌন বিচার বিচারো।
কৈ দ্বিজ রূপ লিবায় মহাপ্রভু সো তুম দাস কে সোক নিবারো। ২

অঙ্গদ কে সঁগ লেন গয়ে সিয় খোজ কপীস য়হ বৈন উচারো।
জীবত না বচিহো হম সো জু বিনা সুধি লাএ ইহাঁ পগু ধারো।
হেরি থকে তট সিক্ধু সবৈ তব লায় সিয়া-সুধি প্রান উবারো। ৩

রাবন ত্রাস দঈ সিয় কো সব রাক্ষসি সোঁ কহি সোক নিবারো।
তাহি সময় হনুমান মহাপ্রভু জায় মহা রজনীচর মারো।
চাহত সীয় অসোক সোঁ আগি সু দৈ প্রতু মুদ্রিকা সোক নিবারো॥ 8

বান লগ্যো উর লছিমন কে তব প্রান তজে সুত রাবন মারো।
লৈ গৃহ বৈদ্য সুষেন সমেত তবৈ গিরি দ্রোন সু বীর উপারো।
আনি সজীবন হাথ দঈ তব লছিমন কে তুম প্রান উবারো। ৫

রাবন জুদ্ধ অজান কিয়ো তব নাগ কি ফাঁস সবৈ সির ডারো।
শ্রীরঘুনাথ সমেত সবৈ দল মোহ ভয়ো য়হ সংকট ভারো।
আনি খগেস তবৈ হনুমান জু বক্ধন কাটি সুত্রাস নিবারো। ৬

বক্ধু সমেত জবৈ অহিরাবন লৈ রঘুনাথ পতাল সিধারো।
দেবিহিঁ পূজি ভলী বিধি সোঁ বলি দেউ সবৈ মিলি মন্ত্র বিচারো।
জায় সহায় ভয়ো তব হী অহিরাবন সৈন্য সমেত সঁহারো। ৭

কাজ কিয়ে বড় দেবন কে তুম বীর মহাপ্রভু দেখি বিচারো।
কৌন সো সংকট মোর গরীব কো জো তুমসোঁ নহিঁ জাত ইহ টারো।
বেগি হরো হনুমান মহাপ্রভু জো কছু সঙ্কট হোয় হমারো। ৮

দোহা-লাল দেহ লালী লসে, অরু ধরি লাল লঁ।।
বজ দেহ দানব দলন, জয় জয় জয় কপি সূর।

॥ ইতি সংকটটমেচন হনুমানাষ্টক সর্পূর্ণ।

শ্রীহনুমৎ-স্তবন

সোরঠা- প্রনবডঁ পবনকুমার খল বন পাবক গ্যানঘন।
জাসু হৃদয় আগার বসহিঁ রাম সর চাপ ধর।।

বনের পক্ষে যিনি অ:্নির ন্যায় সেই পবনথুত্র হনুমানকে আমি প্রণাম করি।

অতুলিতবলধাম: হেমশৈলাভদেহ:
দनুজবनকৃশানু: জनिनाমগ্রগণ্যম:।
সকলগুণনিধান: বানরাণামধীশং
রঘুপতিপ্রিয়ভক্ত: বতজাত: नমमि॥

হারের মধ্যে উত্জন্ধল রত্নস্বরূপ সেই পবনপুত্র শ্রীহনুমানকে আমি সাদরে বন্দনা করি। মা অঞ্জনাকে যিনি অতিশয় আনन্দ প্রদান করেনেন, সীতার যিনি শোক নিবারণ করেছেন, অতিশয় বীর, অক্ষ সংহারক, লকার কন্য ভয়কর অর্থাৎ লঙ্কায় যিনি ত্রাসের সঞ্চার করেছেন সেইই বানরপতি শ্রীহনুমানকে আমি বন্দনা করি।

উब্्ख্्य সিক্ষোঃ সলिলং সলীলং
যঃ শোকবছি: জনকাত্মজায়াঃ।
আদায় তেनৈব দদাহ লষ্कং
নমামি তং প্রাঞ্লিরাঞ্জনেয়ম্।

যিনি লীলাভরে সমুদ্র লজ্ঘন করে জনকাত্মজা সীতার শোকাগ্নি গ্রহণ করে তার দ্বারা লষ্কাকে ভস্মীভূত করেছেন, সেই অঞ্জনাপুত্রকে আমি করজোড়ে প্রণাম করি।

মনোজবং মারুততুল্যবেগং জিতেন্দ্রিয়ং বুক্ধিমতাং বরিষ্ঠম্।
বাতাত্মজং বানরয়ূথমুখ্যং শ্রীরামদূতং শরণং প্রপদ্যে।

মনের সমকক্ষ শীঘগতিযুক্ত এবং বায়ুর সমান প্রবল বেগশালী, ইক্রিয়-বিজয়ী (ব্রফ্ষচারী), বুদ্ধিমানগণের মদ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, বায়ুপুত্র, বানরকুনের মধ্যে অগ্রগণ্য, শ্রীরামের দূত, সেই শ্রীহনুমানের আমি শরণাগত ইই।

আঞ্জনেয়মতিপাটলানनः কাঞ্চনাদ্রিকমনীয়বিগ্রহম্।
পারিজাততরুমূলবाসিनः ভাবয়ামি পবমানनন্দনম्॥!

যাঁর মুখ অতিশয় অতিশয় রক্তবর্ণ এবং দেহ স্বর্ণগিরির ন্যায় কান্তিযুক্ত, যিনি পারিজাত বৃক্ষমূলে निবাস করেন, সেই পবনनন্দন তथा অঞ্জনানদ্দন হনুমানের আমি মনन (চ্তিত্যা) করি।

যত্র যত্র রঘুনাথকীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাঞ্জলিম্।
বাষ্পবারিপরিপূর্ণলোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসান্তকম् ॥

যেখানে যেখানে শ্রীরঘুনাটের (নাম, রা, ঔণ, লীলা আদি) কীর্তন করা হয় সেই সেই জায়গায় করজজাড়ে নতমস্তক হয়ে, অশ্রুপূর্ণ নয়নে যিনি সদা উপছ্থিত থাকেন সেই রাক্ষস বংশের অন্তকারী পবননট্দে উল্দেশ্যে সকলেই প্রণাম নিবেদন করুন।

শ্রীহনুমানজীর আরতি

জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ। রোগ-দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁপৈ॥ ১
দে বীরা রঘুनाथ পঠाয়ে। লঙ্का জারি সীয় সুধि লায়ে। ৩
লঙ্कা সো কোট সমুদ্র সী খাঈ। জাত পবনসুত বার ন লাঈ॥ 8
লঙ্কা জারি অসুর সংহারে। সিয়ারামজীকে কাজ সঁবারে॥ ৫
লক্ষণ মূर्शिত পড়ে সকারে। আনি সজীবন প্রান উবারে।॥ ৬
ไৈঠি পতাল তোরি জম-কারে। অহিরাবন কী ভুজা উখারে।।
বाয়েঁ ভুজা অসুর দল মারে। দरिन ভুজা সন্তজন তারে॥ ৮
সুর নর মুনি আরতী উতারে। জৈ জৈ জৈ হনুমান উচারে॥ ৯
কঞ্চন থার কপূর লৌ ছাঈ। আরতি করত অঞ্জনা মাঈ।। ১০
জো হনুমান(জী) কী আরতী গাবৈ। বসি বৈকুণ্ঠ পরমপদ পাবৈ। ১১

শ্রীরামবন্দনা

আপদামপহর্তারং দাতারং সर्্সम্পদাম্।
লোকাভিরামং শ্রীরামং ভূয়ো ভূয়ো নমাম্যহম্॥
রামায় রভদ্রায় রামচন্দ্রায় মानসে।
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে नমঃ।

নীলাম্বুজশ্যামলকোমলাঙ্গং সীতাসমারোপিতবামভাগম্।
পাণৌ মহাসায়কচারুচাপং নমামি রামং রঘুবংশনাথম্।

শ্রীরামস্তুতি

শ্রীরামচन্দ্র কৃপালু ভজু মন হরণ ভবভয় দারুণং।
নবকঞ্জ-লোচন, কঞ্জ-মুখ, কর-কঞ্জ পদ কঞ্জারুণং॥
কन्দर्भ অগণिত अমिত ছবि, नবनीল-নীরদ সুন্দরং।
পট পীত মানহ তড়িত রুচি শুচি नৌমি জনক সুতাবরং।
ভজू দীनবक्षू দিনেশ দানব-দৈত্যবংশ-নিকन्দनः।
রঘুনन्দ আনঁন্দকন্দ কোশলচন্দ দশরথ-নন্দনः॥
সির মুকুট কুত্ল তিলক চারু উদারু অঙ্গ বিভূষণং।
আজানুভুজ শর-চাপ-ধর, সংগ্রাম-জিত-খরদূষনং॥
ইতি বদতি তুলসীদাস শক্কর-শেষ-মুনি-মন-রঞ্জনং।
মম रुपয়-কঞ্জ निবস কুরু, काম খলদল-গঞ্জনং।
মনু জাহি রাচেউ মিলহি সো বরু সহজ সুন্দর সাঁবরো।
করুना निধन मूজन সীল সनহ জানত রাবরো।
মঞ্জুল মঙ্গল মূল বম অঙ্গ ফরকন লগে॥
” সিয়াবর রামচদ্রকী জয়”

শ্রীরামাবতার

ভএ প্রগট কৃগাল দীनদয়াল কৌসन् হিতकाরী।
नচ अडिরম उनू घनস্যাম निজ आয়ুধ डूজ চারী।
ভূষন বনমল नয়ন বিসালা সোভাসিক্ধু খরারী।।
কহ দুই কর জোরী অস্তুতি তোরী কেহি বিধি করোঁ অনন্তা।
ময়া গুन গ্যাनाতত अমना বেদ भूরन ভनম্ঠ।
করুনা সুখসাগর সব গুন আগর জেহি গাবহি শ্রুতি সন্তা।
সো মম रिত লগী জन অनूরाগী उয়উ প্রগট শ্রীকস্ঠা।
ত্রহ্মাণ निকায়া निर्মত মায়া রোম রোম প্রতি বেদ কইহ।
মম উর সো বাসী য়হ উপহাসী সুনত ধীর মতি থির ন রহৈ।
কহি कथा সুহাঈ মতু বুঝাঈ জেহি প সুত প্রেম লইহ।।
মাতা পুনি বোলী সো মতি ডোলী उজহ তত য়হ রূপা।
कीজৈ সमूनीল अতি প्সীল য়হ সুখ পরম অनপা।
সूनि বচন সুজানা রোদন ঠানা হোই বালক সুরভূপা।
য়হ চরিত জে গাবহি হরিপদ পাবহিঁ তে ন পরহিঁ उবকূপা।

শিবপঞ্চাক্ষরস্তোত্রম্

নাগেন্দ্রহারায় ত্রিলোচনায় ভস্মাঙ্গরাগায় মহেশ্বরায়।
নিত্যায় ऊদ্ধায় দিগস্বরায় उ’স্মে ‘न’ কারায় নমঃ শিবায়।।
মন্দাকিনীসলিলচন্দনচর্চিতায় নन्দীশ্বরপ্রমথনাথমহেশ্বরায়।
মন্দারপুষ্পবহুপুষ্পসুপূজিতায় उस्্ম ‘ম’ কারায় নমঃ শিবায়।।
শিবায় গৌরীবদনাক্জবৃন্দসূর্যায় দক্ষাধ্বরনাশকায় |
শ্রীনীলকণায় বৃষধ্বনায় তস্স্মে ‘শি’ কারায় নমঃ শিবায় ||
বসিষ্ঠকুষ্ভোদ্ভবগৌাতমার্য মুনীন্দ্রদেবার্চিতশেখরায় |
চন্দ্রার্কবৈশ্বানরলোচনায় তস্মে ‘ব’ কারায় নমঃ শিবায় ||
य (क्क) জ্তস্বরূপায় জটাধারায় পিনাকহস্তায় সনাতনায় |
দিব্যায় দেবায় দিগম্বরা? তস্মু ‘য়’ কারায় নমঃ শিবায় ||
পঞ্চাক্ষরমিদ: পুণ্যং যঃ পঠেচ্ছিবসন্দিথৌ |
শিবলোকমবাপ্নোতি শিবেনসহ মোদতে ||
|| ইতি ||

হনুমান চালীসার মধ্যে এমন কিছু তথ্য আছে যা আপাত-বিরোধী কিন্ত বাংলা ভাযায় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ কোলো ভাল বই সম্ভবত না থাকায় এই লেখার দুঃসাধ্য প্রয়াস। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। যেমন হনুমান চালীসায় आছছ-

সংকট তেঁ হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাটব। (হঃ চাঃ ২৬)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ‘মন’, ‘ক্রম’, ‘বচন’, ‘ধ্যান’, এগুলি এমন কোনো সহজসাধ্য বিষয় নয় যে ইচ্ছা করলেই তা করা যায়। মানসিক, বাচিক, কায়িক ও ধ্যান এগুলির বৈশিষ্টাই এমন যে এরা দীর্ঘ সময়ের সাধন সাপেক্ষ (মূলত জড় ও চঞ্জল মনকে স্থির করা)। তাহলে এমন কেন্ল হয় যে হনুমান চালীসা ইচ্ছায় বা প্রথম প্রথম অনিচ্ছায় পাঠ করলে বা মন, ক্রম, বচন ও ধ্যান সঠিক না হলেও লোকে সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাচ্ছে বা সঙ্কট কাটিয়ে উঠছে? আবার দেখুন এই চালীসাতেই আছে –

সংকট কটে মিটে সব পীরা।
জো সুমিরৈর হনমত বলবীরা।। (হঃ চাঃ ৩৬)

অর্থাৎ শ্রীহনুমানজীর যে স্মরণ করে, তাঁর ভজনা করে বা পাঠ করে (তা সে শ্রীশ্রীরামচরিত মানস হোক বা শ্রীশ্রীরামচরিত মানসের ‘সুন্দর কাণ্ড’ হোক বা হনুমান চালীসা হোক, সঙ্কটমোচন হনুমানাষ্টক বা শ্রীহনুমৎ-স্তবন হোক ইত্যাদি) শ্রীহনুমানজী তার সঙ্কট কাটিয়ে দেন। লক্ষ্য করুন এখানে ‘সুমীরণ’-এর কথা বলা হয়েছে, মন, ক্রম, বচন ও ধ্যান কিন্তু এবার বলা হয়নি। এখানেই শেষ নয়, এই হনুমান চালীসাতেই আরও আছে-

জো য়হ পট় হনুমান চলীসা।
হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা। (হঃ চাঃ ৩৯)

গৌরীসা অর্থাৎ গৌরীপতি স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব। স্বয়ং মহাদেব সাক্ষী দাঁড়াচ্ছেন এই কথা বিশ্ববাসীকে জানাতে যে ‘হনুমান চালীসা’ যে পড়বে তার সিদ্ধির দায়িত্ব ডাঁর। এখন ‘হনুমান চালীসা’ পাঠঠর, তা সে মানসিক, বাচিক, কায়িক হোক বা গুনগুন করে হোক, ভজন করে হোক বা সাধারণ পাঠের মতো করেই হোক, যেভাবে হোক করলেই তার মানসিক (মনইই তো আসল) ইচ্ছাপূরণ হবে যার সাক্ষী স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব হবেন।

কিষ্টু প্রশ্ন ওঠে এই ‘হনুমান চালীসা’র এত প্রাধান্য এই কলিযুগে কেন ? কেন আমরা দেখি হনুমানজীর আরাধনা সমস্ত সাধু, সন্ত, যোগীরা করে থাকেন ? হনুমান চালীসা তাঁদের এত প্রিয় কেন ? যেহেতু হনুমান চালীসার পাঠ, তা সে বিশ্বাসেই হোক বা অবিশ্ধাসেই হোক, মানুষকে তার মনের ইচ্ছা, বিলেষ করে সঙ্কট থেকে উদ্ধারে সাহায্য করছে, এই চালীসার প্রত্যেকটি শব্দ তাই মক্ত্র স্বরূপ এবং কোটো মন্ত্রই সঠিক অর্থবোধ ছাড়া বা উচ্চারণ ছাড়া তার পূর্ণফল দিতে অক্ষম হয়। আমার এই প্রচেষ্টা, যা কিনা গুরু ও রীংহনুমানজীর কৃপা সাপেক্ষ, তা শুধু এই চালীসার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যাসহ প্রস্তুত করা যাতে হনুমান চালীসার পাঠ হয় সবদিক থেরেই পরিপূর্ণ ও পূর্ণফলদায়ী।

শ্রীহনুমান চালীসা যেহেতু গোস্বামী শ্রীতুলসীদাসজীর অনन গুরুস্মরণের মূল পৃষ্ঠভূমি তইই বলা হয় যে ‘হনুমান চালীসা’ সমগ্র ‘শ্রী এ্রীরামচরিত মানস’-এর ভাষ্যস্বরূপ। আরও গভীরে গিয়ে বলা যায় শ্রীহনুমানজীর কাছে পৌঁছোনোর সবচেয়ে সহজতম সোপান হলো এই ‘হনুমান চালীসা’।

পরিশেষে অত্যন্ত জোরের সঙ্গে বলি যে এই চালীসার পাঠ শুু সঙ্কটই দূর করে না, স্বয়ং শ্রীহনুমানজী নানানরূপে এসে তাদের সাক্ষাৎও দেন। লেখক এর সাক্ষী হওয়ার সৌভাগ্য ও কৃপা পেয়েছেন। তাইতো মুক্তকণ্ঠে বলি এ এমন এক দুর্লভ বস্তু (হনুমান চালীসা) যা অবিশ্বাসেও ফল দেয়। বাকীটুকু আপনাদের হাতে ছাড়লাম। দেবাদিদেব মহাদেব যার সাক্ষী ঢাঁর কি অন্যথা হতে পারে ? কলিযুগের সমস্যা-জর্জরিত ছুটে চলা মানুযের সঙ্কট সমাধানের এর চেয়ে ভালো কোনো সহজ বিকল্প বোধ হয় আর হতে পারে না।

জয় সীয়ারাম
জয় শ্রীগুরু
জয় শ্রীরীহনুমান

প্রাক্-কথন

যেমন জানেন মাত্র তিনজন যথা ভগবান শংকর, মাতা ভবানী ও কাকভূষণ্ডী, তেমনি শ্রীহনুমানতত্তৃও আগাগোড়া রহস্যে ঘেরা। এই ব্রস্মাণ্ড-চালন ব্যবস্থায় তার ভূমিকাও কোরো অংশে ত্রিদেবের চেয়ে কম নয়। সর্বব্যাপক ভগবান বিষ্ণুর সত্যগুণের ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি আরও অনেক কিছুর মধ্যে এই ভূলোকের সর্বত্র সর্বদা বিচরণ করছেন। তিনি স্বয়ং প্রাণতত্ত্ব। ঐই বিশ্বের তিনি প্রাণ। তিনি পবনদেবের পুত্র। যে কোনো প্রাণ-কেন্দ্রিক সাধনা তাঁর কৃপা বিনা অধরাই থেকে যায়। আর তাই

“সাধু সন্ত কে তুম রখবারে ……….” (হঃ চাঃ/৩০)

শ্রীহনুমানজী জাগ্রত তত্ট্ব। তিনি সদা জাগ্রত ও রামভজন রত। হরির সাধন-ভজন রত ব্যক্তির প্রতি তিনি অবশ্যই দৃষ্টি দেবেন এবং সেই ব্যক্তির উপলক্ধি অবশ্যই তাঁর কৃপা সাপেক্ষ।
আসুন, এইবার ‘হনুমান চালীসা’র কথায় চলে যাই।

এরকম মনে করা হয় যে এই ‘হনুমান চালীসা’র রচনা শুরু হয় অযোধ্যায়। প্রকৃতপক্ষে শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের পুরো রচনাই গোস্বামী তুলসীদাসজী লেখেন অযোধ্যায় বসে; কিব্তু হনুমান চালীসা লিখতে লিখতে তিনি ‘কৈলাস-মানস সরোবরের’ উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলে শোনা যায় এবং এই চালীসার শেষভাগ তিনি লেখেন মানস সরোবরের অতি মনোরম পরিবেশে। তিনি চালীসার চতুর্থ ও শেষ ভাগ ভগবান শংকরের পদমূলে বসে ও তাঁকে সাক্ষী রেখে শেষ করেন। গোস্বামীজী অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে তাই শ্রীশীরীহুমান চালীসার শেষ কয়েক চরণে বলেন :

জো য়হ পঢ় হনুমান চালীসা।
হোয় সিদ্ধি সাখী গ্গীরীসা। (হঃ চাঃ/৩৯)

গৌরীসা অর্থাৎ গৌরীপতি দেবাদিদেব মহাদেব। এখন দেখার এই ‘পড়া টা কেম্ন হবে? এই বিষয়ে আমরা পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক, এই ‘হনুমান চালীসা’য় ‘চালীসা’ শব্দ কেন এলো? চম্লিশ পংক্তিই কেন ? উনচল্পিশ কিংবা একচল্লিশ কেন নয়?

এখানে বলে রাখা ভাল গোস্বামী তুলসীদাসজী প্রধানত পরর্পরায় বিশ্বাস করতেন। স্মৃতি, শ্রুতি, বেদ, উপনিষদ, শাস্ত্রাদি ছিল তাঁর রচনার আধার। তাই ‘চালিসা’ নামের পিছনে এই শাস্ট্রাদির প্রভাব থাকা অমূলক নয়। মনে রাখা দরকার যে, এই চালীসার প্রবর্ডন প্রথমে তিনিই করেন। ঢাঁর লেখার পরও চালীসা অনেক হয়েছে, যেমন বিভিন্ন দেব-দেবীর চালীসা, অধুনা নেতা-নেত্রীর চালীসা ইত্যাদি।

আর একটা জিনিস এখানে মনে রাখা দরকার যে গোস্বামীজী মূলত কাশীতেই থাকতেন এবং তাই তাঁর মনের মধ্যে সব সময়ে এই অনুভব ছিল যে, তিনি যাই লেখেন না কেন তার ব্যাখ্যা শাস্ত্রানুরূপ না হলে কাশীর পঞ্ডিত কুলের অনুনোদন পাবে না। ইতিহাস বলে যে, গোস্বামীজী নিজের মতো থাকতেন এবং পণ্ডিত সমাজকে খুব একটা পাতা দিতেন না।

পূজ্য গোস্বামীজী যখন হনুমান চালীসা লেখা মনস্থ করেন তখন পরম্পরার ও কাশীবাসের কারণে প্রথমেই সর্ব-শাস্ত্রাদির মূল ‘বেদ’-এর ঐ মণ্ত্রের কথা তাঁর মনে পড়ে ভেখান থেকে চল্লিশ বা চালীসার কথা মাথায় আসে। ‘বেদ’-এর সেই মন্ত্রটি এইরূপ :

ইয়হ শম্বরম্ পর্বতেষু ক্ষীয়ংত্ম চত্বারিক্ষাম শরতঃ।
অबববিन्দত ঔজায়মানম् ঔৎহিং জঘানম্ ধনুংষয়াং সজ্জনা সঃ ইন্দ্রঃ।।

মস্ত্রটি বেদের সেই কাহিনীকে চিত্রিত করে, যে কাহিনী অনুসারে কোলো এক কালে শম্বর নানে এক রাক্ষস চতুর্দিক পর্বত পরিবেষ্টিত এক দুর্গম গুহায় বাস করতো। সমস্ত দেবতাদের, ঋষি-মুনিদের, সাধু-সজ্জনদের নানান রকম শারীরিক ও মানসিক পীড়া দিতো এবং চতুর্দিকে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। সে ঐ গুহার ভিতর শুয়ে থাকত এবং যখনই বাইরে বেরোতো তখন চারিদিকে হাহাকার রব শোনা যেতো।

এই রাক্ষস ছিল অবধ্য। দেবতা ও মুনি-ঋষিদের আর্তি শুনে দেবরাজ ইন্দ্র তাকে বধ করার সঙ্কল্প নিয়ে তার খোঁজ শুরু করেন। তাঁর এই থোঁজ শুরু হয় ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে এবং অনেক চেষ্টার পর আশ্ধিন মাসের দশমীর দিন ইন্দ এই রাক্ষসকে বধ করেন। রাক্ষ্কে থোঁজা ও গুহা থেকে বার করে তাকে বধ করতে ইন্দর লাগে চল্মিশ দিন (ভাদ্রমাসের ত্রিশ দিন ও আশ্বিনমাসের দশ দিন)।

এই ভাবে সংসারকে ওই রাক্ষস থেকে পরিত্রাণ দিতে ঢাঁর লাগে চক্লিশ দিন। গোস্বামীজীর হঠাৎ বেদের ওই মন্ত্রের কথা মনে হবার কারণ হলো মনুষ্যজীবনে এরই উদাহরণ। আমাদের জীবনের মন-গুহায় না জানি কত

শম্বর এইভাবে শয়ে আছে যা আমাদের ইন্দ্রিয়গুলিকে (অন্তঃকরণ ও বহিঃকরণ) অহরহ উৎপীড়ন করছে যার কারণে আমাদের সমস্ত চিন্তা-ভাবনা ও কর্ম রজঃ-চমঃয় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। শুভ চিন্তা, ভাল দেখা, ভাল বলা সব কেমন যেন মরীচিকার আকার নিচ্ছে। শুষু একজন্মে নয়, এই শম্বর শত শত জন্মে তার এই খেলা চালাচ্ছে। আমাদের না গুহার খবর আছে, না শম্বরের।

অথচ এই ইন্দ্রিয়গুলির অসীম ক্ষুতা আছে ওই শম্বরকে খুঁজে বার করে তার নিধন করার। এই ‘হনুমান চালীসা’ সেই ইন্দ্র যে শম্বরের অজাত্তে তাকে টেনে বার করে বধ করার সামর্থ রাখে। এই চল্লিশ দিনের যাত্রা তাই তুলসীদাসজীর প্রথম মনে পড়লো। তাঁর চালীসার বিচারের শুরু এখান থেকে। তাঁর চালীসা লেখার প্রথম

(প্রেণাও এখান থেকে। তাঁর মনে হলো শ্রীহনুমানজীর প্রকৃষ্ট সাধনা (তুলসীদাসজীর ভাষায় – সীধা-সাদা) এই হনুমান চালীসাকে সকলের সুবিধার জন্য চল্লিশ পংক্তিতে ধরে রাখি। পূজ্য গোস্বামীজীর দূরদৃষ্টিতে এই কথা ধরা পড়তে দেরি হয়নি যে, কলিযুগের মানুষের এই চল্লিশ পংক্তি পড়তে ধৈর্য্যের অভাব হবে।

বেদই শুধু নয়, চঞ্লিশ দিনের মাহাত্য ইতিহাসের অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। বিখ্যাত ‘টেন কম্যাগুমেন্টস্’ (Ten Commandments) মোজেস (হজরত মুসা) পেয়েছিলেন পাহাড়ের গুহায় চল্লিশ দিন কাটানোর পর। ভগবান যীশ মরুভূমিতে টানা চল্লিশ দিন উপবাসের কারণে ‘শয়তানি শক্তি’র উপর জয় পেয়েছিলেন। চল্লিশ দিলের মাহাত্য পবিত্র ইসলাম ধর্মেও আছে।

পূজ্য গোস্বামীজীর মাথায় এইগুলিও যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল বলে মনে হয়। গোস্বামীজী এই ‘চালীসা’ শব্দটি তাই অনেক চিস্তা ভাবনার পর গ্রহণ করেছেন। উপরের দুটি কারণের প্রেরণা ছাড়াও অন্য কয়েকটি বিষয়ও তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। মানব জীবনের যাবতীয় সঙ্কটের মূল কারণ তো নিহিত আছে তার নিজের অন্তঃকরণে আর তাঁর ‘হনুমান চালীসা’ লেখার মূল কারণই হলো মানুষকে সঙ্কট থেকে নিস্তার পাবার সহজ ও সুগম রাস্তা দেখানো। অস্তঃকরণের শুদ্ধিকরণ ছাড়া তা তো সষ্তবই নয়।

আমাদের অন্তঃকরণ মূলতঃ চারটি বস্তুর উপস্থিতি ও তাদের কার্য-কারণের ফল। এগুলি হল মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার। মনের আবার দশ লক্ষণ, বুদ্ধিরও দশ লক্ষণ, চিত্ত ও অহংকারের আবার দশ-দশ লক্ষণ। এর মধ্যে কিছু লক্ষণ ভাল ও কিছু লক্ষণ ক্ষতিকারক। এই চার বস্তুর দশ-দশ লক্ষণকে একত্র

করলে হয় চল্লিশ। আর হনুমান চালীসা পাঠ এই চল্লিশ লক্ষণের মব্যে যেগুলো শুভ তাকে আরও জোরালো বা বলিষ্ঠ করতে আর অশুভ লক্ষণগুলোকে নিস্তেজ বা স্তিমিত করতে প্রতূুত সাহায্য করে। এখন দেখা যাক, এই লক্কণকলি কি কি? মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার যদিও সন্দিলিতভাবে আমাদের অন্তঃকরণ কিন্তু নিজের নিজের লক্ষণের কারণে এরা একদিকে যেমন স্বাধীন বা স্বতন্ত্র, অন্যদিকে এরা একজ্ন আর একজনের পরিপূরক শুভ-অকুভ দুই অবস্থাতেই।

আসুন আমরা এবার লক্ষণগুলিকে চিতে নিতে সংক্ষেপে একবার চোখ বুলিয়ে নিই। এদের শুভ-অশুভ প্রভাবটাও বোঝার চেষ্টা করি। চালীসার প্রভাব জানতে গেলে এদের জানাও জরুরি। প্রথমেই জেনে রাখা ভাল এই চার বৃজ্তির সবটাই কিন্তু জড় অর্থীৎ চেতনরহিত। সৃষ্টি তন্ত্বের অন্যুস অংশ এরা এবং মায়াকবলিল।

মন :- সবার প্রথমে মনকেইই ধরা যাক। মন সর্বদা চঞ্চুল এবং তীব্র গতিশীল। সঙ্কল্প-বিকল্প এর মূল আধার। ঈর্ষা, দ্বেষ, স্পর্ধা মনের স্ষতিকর দিকগুলির অন্যতম। অধ্যাড্ম মার্গের এরা প্রবল বাধা এবং এদের বাস মনের গভীরতম প্রদেশে। এদের চেয়েও ক্ষতিকর হচ্ছে ‘ভয়’ ও ‘সন্দেহ’ যা কিনা বিষয় ও ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত প্রীতিকর কারণে হয়।

বুদ্ধি :- অন্তঃকরণের বৃত্তিগুলির মূল চালক হল বুদ্ধি। এর অন্যতম কাজ হল মনকে চালনা করা। কলিযুগে কিস্তু এর উল্টোটাই দেখা যায়। বুদ্ধির লক্ষণের অন্যতম হল বিষয়ে ‘নিশ্চয়তা’ দেওয়া। আবার ভুল বোঝাও এর কাজ। মজ্ঞার কথা হল এই বুদ্ধিই আবার অন্যাকে পরামর্শ দেয় এবং ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়।

এর ভাল দিকগুলির মধ্যে অন্যতম হল শাস্ত্র ইত্যাদিতে দক্ষতা পাবার ইচ্ছা বা জ্ঞানলাভের আকাষ্কা। এর আর একটি বিশেষত্ব হল কখনও কারোর কুক্ষিগত না হওয়া কারণ সে সর্বদাই বিকশিত হওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। সূর্য বুদ্ধির প্রিয় দেবতা আর তাই গায়ত্রী মন্ত্র এই বুদ্ধিকে “…….. ধীমহি, ধিয়ো য়ো ন: প্রচোদয়াৎ ভঁ” করার আহ্বান জানায়।

চিত্ত :- একে একক্থথায় ‘সংগ্রাহক’ বলা যায়। জন্ম-জন্মান্তরের সংস্কার এর ভাগ্ডারে জমা থাকে। একদিকে বিক্ষিপ্ত হওয়া যেমন এর কাজ, তেমনি এর অত্যন্ত ভাল দিক হল ‘দ্রবীভূত’ হওয়া যা আধ্যাছিক জীবনে খুবই জরঁরী। প্রসন্নতা বা উদাসীনতা এর থেকেই আসে। মহর্ষি পতঞ্জলি আধ্যাত্ম মার্গের সাধনায় এই চিত্তের ওপর খুব জোর দিয়েছেন। । তাঁর কথা অনুযায়ী ‘চিত্ত-নিবৃক্তি’ বা ‘চিত্ত-নিরোধ’ মানুষকে ‘সমাধি’-স্থিতিতে পোঁছে দিতে সক্ষম।

অহংকার :- এটি একটি তামসিক বৃত্তি। এর প্রভাবে মানুষ অভিমানী হয়। শত্রহতা বা হিংসা এর সহজাত। চাটুবারিতা এদের খুব পছন্দের হয়। প্রমাদের কারণে অপরকে তাচ্ছিল্য বা আঘাত করতে এদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা रয় ना।

হনুমান চালীসা পাঠ এই লক্ষণগুলির অশুভশক্তিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেয় এবং তা হয় আমাদের অজাস্তে। তখন এরাই সমস্ত শভ গুণের আধার হয়ে ধীরে ধীরে মনকে অস্তর্মুখী করতে সাহায্য করে। এতক্ষণ আমরা অন্তঃকরণের মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকারের লক্ষণগুলি সংক্ষেপে জানলাম। এর মধ্যে শুভ ও অশুভ দুইই আছে।

আগেই বলেছি শ্রীহনুমান চালীসা পাঠ 刃ভ লক্ষণগুলিকে প্রকাশ করে এবং তাকে বলবতী করে আর অগুভ লঙ্ষণগুলিকে তার মূল থেকে উচ্ছেদের কাজ করে। কিছু কথাকার তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে চালীসা নামের আরও কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। এক মত অনুযায়ী ‘চালীসা’র সক্ধি হলোঃ চাল্ + ঈশ্ অর্থাৎ চলমান ঈশ্বর। যে ঈশ্বর চলতে শেখায়, যে জীবিত, যে আমাদের জীবন-দর্শনের মূল প্রেরণা স্বরূপ, চালীসা তাঁরই গুণরাশির বর্ণনা।

আবার যাঁরা ভগবান শিবের পরম ভক্ত, তাঁরা যেহেতু হনুমানজী একাদশ রুদ্র অবতার, তাই ভাগবান শিবের সঙ্গে এই চালীসার মিল খোঁজেন। অনুধাবনে কঠিন হলেও তাঁদের মতে ভগবান সদাশিবের দ্বাদশ জোতির্লিঙ, অষ্টমূর্তি (বেদ ও মহিন্ন স্তোত্র অনুযায়ী), পঞ্চমুখ এবং পরেরো নেত্র মিলে চল্লিশ হয় এবং চালীসা নামের এটাও একটা কারণ। আসুন, আমরা এবার হনুমান চালীসার মূল পর্বে প্রবেশ করি।

দোঁহা

শ্রীণুরু চরণ সরোজ রজ, নিজমনু মুকুরু সুধারি।
বরনউ রঘুবর বিমল জসু, জো দায়কু ফল চারি।।

সারানুবাদ : শ্রীগুরুদেবের চরণ পদ্মের ধূলিতে নিজের মনরূপী আয়নাকে

পরিষ্কার করে রঘুবংশের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির নির্মল কীর্তি বর্ণনা করছি যা কিনা চার রকমের ফল দিতে পারে।

ব্যাখ্যা :- হনুমান চালীসার এই দোঁহা দিয়ে যেমন চালীসা আরস্ভ হয়েছে, তেমনি এই দোঁহাই আবার শ্রীভ্রীরামচরিত মানসের অযোধ্যাকাণুর প্রথম দোঁহারূপে বিরাজ করছে। অর্থাৎ সবার আগে গুরু-স্মরণ দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। গুরু বন্দনা দিয়ে শুরু করা তো আমাদের পরম্পরায় আছেই। কিন্তু এখানে গুরুর আগে ‘শ্রী’ শব্দ ব্যবহার হয়েছে। সদ্গুরু লাগানো হয়নি, ধর্মগুরু নয়, বিদ্যাগুরু নয়, কুলগুরুও নয়, জগদ্গুরুও নয়।

গোস্বামী তুলসীদাসজী ভগবান শঙ্করের কৃপায় কবি হয়েছেন। গোস্বামীজী রামায়ণে সদ্গুরু শব্দ তো ব্যবহার করেছেন। কিন্তু হনুমান চালীসা ও অযোধ্যাকাতুর আরস্ভই করেছেন ‘শ্রী’ শব্দ ব্যবহার করে। শাস্ত্রে এই ‘শ্রী’ শব্দের অনেক মাহাছ্য বর্ণনা রয়েছে। সাধারণত কোনো ভগবত কथা শুরু হয় “অথ শ্রী …….” বলে, বর্ণনা শেষ হয় “ইতি শ্রী ……” বলে।

এই ‘শ্রী’ ঐশ্বর্য সূচক, কল্যাণকারী বা মঙ্গলপ্রদ বলে এর এত প্রাধান্য। আবার ‘শ্রী’র আর এক অর্থ লস্ক্মীও হয়। কিক্তু এই ‘শ্রী’ শব্দ লক্ষ্মীর চেয়েও উপরে থাকে যখন আমরা দেখি যে দেবী লক্ষ্মীর বিখ্যাত সূত্র লক্ষীসূত্র না হয়ে ‘শ্রীসূক্ত’ রূপে বিখ্যাত হয়। গোস্বামীজী গুরুর আগে শ্রী শব্দ ব্যবহার করে জগতকে জানাতে চাইছেন যে আমার গুরুও ঐশ্বর্যবান, লক্ষ্মীবান ও কল্যাণকারী। আমার গুরু সৃজনকারীও বটে।

প্রসঙ্গক্রমে, একটা কথা এখানে উঠে আসে যে পরম্পরায় গুরুর নাম তো সাধারণতঃ নেওয়া হয় না কারণ নাম নিলে গুরু ব্যক্তি হয়ে যান, তিনি আর ব্যাপক পরমতত্ত্ব থাকেন না। তুলসীদাসজীকে যখন একাস্তভাবে গুরুর নাম নিতে হতো তখন তিনি কখনও কখনও ‘হরর’ শব্দ ব্যবহার করতেন। তিনি তাঁর ‘বিনয় পত্রিকায়’ ‘হে হরি’ শব্দ চাঁর গুরু স্মরণে বেশ কয়েকবার ব্যবহার করেছেন।

ুধু তাই নয়, এই হনুমান চালীসায় শিনি ‘হরি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন একেবারে শেষ চৌপাঈ-এ “চুলসীদাস সদা হরি চেরা …….” (হঃ চাঃ- চৌ 8০)। হনুমান চালীসার আরত্ভে তো আছেই, গুরুর শ্মেরণ চালীসার উপসংহারেও আছে। মঙ্গলাচরণে গুরুদেবকে স্মরণের পরে হনুমান চালীসার শেষেও গুরুকে স্মরণ করতে ভোলেনলি চৌপাঈ ৩৭-এ তিনি লিখছেনজৈ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈ। কৃপা করহু গুরুদেব কী নাঈঁ।।

এর থেকে এটা শ্পষ্ট যে তুলসীদাসজী ब্রীহনুমানজীকে গুরুর আসনে স্থাপন করেছেন। তাঁর উপাসনা করেছেন।এরপর এই গুরুর চরণকে পদ্মের সঙ্গে তুলনা করে তার ‘রজ’ বা ধূলির দ্বারা নিজের মন-দর্পণকে পরিষ্কার করার কথা বলছেন। ‘রজ’ মানে চরণ স্পর্শ করে তাঁর ধুলো লেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘রজ’র ব্যাপক অর্থ শাস্ত্রকাররা করেছেন।

যেমন ‘রজ’ মানে গুরুর বচন, ‘রজ’ অর্থে গুরু যে মতাদর্শের অনুসরণ করেছেন সেই পথে চলার সাহস। গুরুর চরণের ‘রজ’ অর্থে মানুষের রজোগুণ মেটানোর ক্ষমসা রাখা। সমস্ত ভারতীয় শাস্ত্র গুরুর মহিমার বর্ণনায় কখনও ক্ষান্ত হয়নি। আসুন এবার দেখি এই মহিমার রহস্যঃ অধিকাংশ লোকের ধারণা যে গুরু তাঁর শিষ্যকে ভগবানের দর্শন করিয়ে দেন, তাই ুরুর এত মহিমা।

কিল্তু বেদাস্ত এই তথ্যকে স্বীকার করে না। বেদাত্ত শেখায় যে, বাস্তবে ভগবানকে তো মানুষ পেয়েই আছে কারণ মানব ও ভগবান অভিন্ন। এই ভগবানের সঙ্গে মানুষের পরিচয় করে দেবার কাজটি গুরু করেন, তাই তাঁর এত প্রাধান্য। শাস্ত্রকারেরা দু’রকম পুরুষার্থের বর্ণনা দিয়ে থাকেন।

যেমন-লৌকিক পুরুষার্থ :- আমার যা নেই তার উপলক্ধি করালোর নাম লৌকিক পুরুষার্থ। মনে করুন কারুর বাংলো বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি নেই। সে যদি তার পরিশ্রম দ্বারা সম্পত্তি বানায় ও ক্রমে ক্রমে বাংলো বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি কেনে বা প্রাপু হয়, তাকে বলে লৌকিক পুরুষার্থ।

অলৌকিক পুরুষার্থ :- আমার যা আছে, তার সম্বন্ধে আমাকে সম্যক জ্ঞান করালোর নাম অলৌকিক পুরুষার্থ। লোকিক পুরুষার্থের দ্বারা সংসারের সব জিনিস উপলন্ধ হয় কিষ্তু ভগবানকে পাওয়া যায় না, কারণ ভগবান তো আমার থেকে আলাদা নল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতার ১৮ অধ্যায়ের ৬১ নং ল্লোকে বলছেন- ”

‘হে অর্জুন, ঈশ্বর প্রত্যেক প্রাণীর হৃদয়ে অবস্থান করছেন।” সমস্ত সৃষ্টিতে যুগ যুগ ধরে সনাতনী সদ্গুরুরা বার বার একটইই কথা বলেছেন যে, যে পরমতত্তৃকে আপনারা বাইরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তা বস্তুত আপনার ভিতরেই আছেন। তুলসীদাসজী তাই যখনই শ্রীরামের স্মরণ করেন তখনই তিনি অশ্রসজল নয়নে শ্রীহনুমানজীকে তাঁর সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানান। কারণ সদা অস্তরে অবস্থান করা প্রভুর খোঁজ তো হনুমানজীই দিয়েছিলেন একজন সমর্থ সদ্গুরু হিসেবে।

আপনারা কখনও ভেবে দেখেছেন যে, যে চোখ দিয়ে আমরা সমগ্র বিশ্ধকে দেখছি, সেই চোখ দিয়ে আমরা নিজেকে দেখতে পারি না। নিজেকে দেখার জন্য চোখের তো দরকারই, সাথে দরকার একটি পরিষ্কার আয়না। তেমনি বিশুদ্ধ স্ব-স্বরূপকে না জানলে ঈশ্বরের অনুভবও অসম্ভব। বাইরের সংসার দেখার জন্য যেমন দুটি চোখ দরকার, তেমনি প্রভুদর্শনের জন্য ভেতরের দুটি চোখ দরকার – জ্ঞান এবং বৈরাগ্য। শরীরের দুই চোখে ছানি পড়লে আমরা যেমন সবকিছু ঝাপসা দেখি, তেমনি জ্ঞানরূপী অন্তর্চক্ষুতে ‘

দ্বেষ’ আর বৈরাগ্যরূপী অস্তর্চক্ষুতে ‘রোগের’ ছানি পড়লে আমাদের অন্তর্দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে যায়। পরিণামে আড্দর্শনও হয় না। চোখে ছানি পড়লে তা সারাবার জন্য যেমন ব্যবস্থা আছে, তেমনি এই জান ও বৈরাগ্যের চোখের ছানি সারাবার অমোঘ ঔষধি হলো শ্রীগুরু চরণরজ অর্থাৎ সদ্গুরুর চরণরজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যে ধূলিকণা উড়ে এসে চোখে পড়লে দৃষ্টি রুদ্ধ হয় এবং চোখ বন্ধ করতে বাধ্য হয়, সেই একই ধূলিকণা যদি গুরুর চরণে সম্বন্ধ পায়, তা হলে তা অস্তর্চক্ষুর দৃষ্টি খুলে দেয় এবং স্বরূপের পরিচয় করায়।

শ্রীণুরু চরণ সরোজ রজ নিজমনু মুকুরু সুধারি।
গুরুর চরণের ‘রজ’ নিয়ে বা মনরূপ আয়নাকে পরিক্ষার করার কথা আমরা জানলাম, কিন্তু গুরুর চরণকে পদ্মর সঙ্গে তুলনা কেন ?

চুলসীদাসজী বলছেন যে গুরুর চরণ ‘কমল’ স্বরূপ বা ‘পদ্ম’ স্বরূপ। পদ্ম কেমন, না যার রস আছে, রূপ আছে, গক্ধ আছে, স্পর্শ আছে, শব্দ আছে। যখন বাতাস বয়, তখন পদ্ম দুলতে থাকে আর বাতাসের সাথে মনে হয় যেন কথা বলে। শব্দ আসতে থাকে। পদ্মের রসও আছে। এই জগৎ পঞ্চ-তন্মাত্রে বিভোর হয়ে বিষয়ী হয়ে আছে (রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ ও স্পর্শ)। কিল্টু গুরুর চরণকমল সর্বদই শুভ। এই চরণকমলের রজ মানুষকে বিষয় থেকে দুরে নিয়ে জ্ঞান এবং বৈরাগ্যের সাথে পরিচয় করায় আর অস্তর্মনের চোথের ধুলো পরিষ্কার করে নিজেকে নিজের পরিচয় করায়।

বরনউ রঘুবর বিমল জসু ঃ প্রশ্ন উঠতে পারে যে গোস্বামীজী তে শ্রীহনুমানজীর স্তুতি করার জন্য এই চালীসা রচনা করছেন, তাহলে প্রথম চরণেই কেন রঘুবর-এর বিমল কীর্তি বা রস বর্ণনার কথা বলছেন। আসুন এর কারণটা জেনে নিইঃ-

(১) সমস্ত শীরীরামচরিতমানসে, বিশেষতঃ সুন্দরকাণ্ড মাতা সীতা ও ভগবান রাম শ্রীহনুমানজীকে ‘সুত’ অর্থাৎ পুত্ররূপে ডেকেছেন। এীহনুমানজী তো জনকনন্দিনীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছেন। সমগ্র রামায়েে শীরামচন্দ্রই শুধু নয়, পরন্তু রাজা দশরথ, লক্ষ্মণ, ভরত ও শত্রম্লকেও রঘুবর বলে উপ্লেখ করা হয়েছে। রঘুকুলের যাঁরা শ্রেষ্ঠ তাঁদের সবাইকে রঘুবর আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীহনুমানজী রঘুবর-এর দূত হিসেবেই শুধু নয়, রঘুবংশের সমস্ত কার্যে সেবক হিসেবে সর্বদা যোগদান করেছেন। শ্রীরাম ও জনকন্নন্দিনী সীতা তাঁকে পুত্ররূপে স্বীকার করেছেন। শ্রীহনুমানজী দেবী সীতাকে মা বলে সর্বদা সম্বোধন করেছেন। তাই তিনিও কুলের একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হয়ে গেছেন। তিনিও তাই রঘুবর সম্বোধনে আছেন। এমনিতে বাড়ির কোনো সেবক দীর্ঘ দিন পরিবারের সাথে থাকলে, সে সেই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যায়।

(২) প্রভু শ্রীরামের কথা শ্রীহনুমানজীকে সদাই প্রসন্ন করে যেমন শ্রীহনুমানজীর গাথা প্রভু শ্রীরামকে। গোস্বামীজী খুব ভালভাবেই জানেন যে, শ্রীহনুমানজী তাঁর নিজের গুণ-গাথা শোনার জন্য কখনই আসবেন না। আর যাঁর গুণ-গাথা তিনিই যদি রস আস্বাদনের জন্য না আসেন তাহলে এই চালীসার রচনাও সর্বথা বৃথা প্রয়াস হবে। কিল্ত তিনি জানেন প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের বিমল কীর্তির গাথা যেখানে হবে, সেখানে তিনি সত্বর পৌঁছে যাবেন। এর অনেক প্রমাণ আমরা শান্তের পেয়েছি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের তাঁকে দ্বারকায় ডেকে আনার (মহামতি গরুদ্ডকে দিয়ে) চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। কিস্তু যখন ब্রীকৃষ্ণ বলে পাঠালেন

যে প্রভু শ্রীরাম তাঁকে দ্বারকায় স্মরণ করেছেন, তিনি তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করে শ্রীগরুড়ের অনেক আগে দ্বারকায় পৌঁছেছিলেন এবং প্রভু শ্রীরাম ও মাতা সীতার দর্শনের আনন্দ নিয়েছিলেন। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যে সমুদ্রতীরে যখন মহামতি জাম্ববান বানর যোদ্ধাদের সাথে (এর মধ্যে বালীপুত্র অঙ্গদ, শ্রীহনুমানজী, নল, নীল ইত্যাদিও আছেন)

সমুদ্র পার হওয়ার প্রসঙ্গে যোজনা করছেন, তখন হনুমানজীর গুণকীর্তন করে তাঁকে সমুদ্র পার হতে বলেছিলেন। কিন্তু শ্রীহনুমানজীর কোনো উৎসাহ দেখা যায়নি কিন্তু যখন জাম্ববান তাঁকে বললেন যে, প্রভু এ্রীরামের এই কাজ আপনাকে করতে হবে এবং একমাত্র আপনিই প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করতে সমর্থ, এই কথা শোনা মাত্র তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং দেখতে দেখতে তাঁর বিশাল চেহারা ও কাতিতে সবার চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। তিনি একলাফে নিকটবর্তী পাহাড়ে উঠে পড়লেন সমুদ্র পার হবার জন্য।

জো দায়কু ফল চারি ঃ তুলসীদাসজী চালীসার প্রথমে বলছেন যে, রঘুবীরের যশোগান করতে যাচ্ছি যা চার রকমের ফল দেয়। সাধারণতঃ ফলের বর্ণনা যে কোলো স্তোত্র বা স্তুতির শেষে হয় কিত্তু এখানে মঙ্গলাচরণের প্রথম দোহাতেই ফলের বর্ণনা দেখা যাচ্ছে। ভগবানের স্তুতি বা সেবা যোগ্য সময়ে তার ফল প্রদান করে, কিল্তু ভগবানের ভক্তের স্তুতি বা সেবা সঙ্গে সঙ্গে ফল প্রদান করার ক্ষমতা রাখে। শ্রীশ্রীরামচরিতমানসের উত্তরকাঞ্ডের দোঁহা ১২০তে ভক্তপ্রবর কাকভূশুঞ্জিজী খগরাজ গরুড়কে বলছেন :-

‘মেরো মন প্রভু অস বিশ্ধাসা। রাম তে अधिক রাম কে দাসা।।’
অর্থাৎ হে প্রভু, আমার মঢে তো এই বিশ্বাস আছে যে প্রভু শ্রীরামের দাস প্রভু শ্রীরামের চেয়েও বড়।

শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণে (৯-৪-৬৩) ভক্তরাজ অম্বরীষকে রক্ষা করার সময় ভগবান ঋষি দুর্বাসাকে পরিক্কার বলেছিলেন, “হে মহামুনি দুর্বাসা, আমি সদাই ভক্তাধীন থাকি, আমি একদমই স্বতন্ত্র নই। ভক্তরা আমার হৃদয় জিতে নেয়। ভক্তরা আমায় প্রেম করে আর আমি তাদের।”

তাই তুলসীদাসজী বলছেন যে, রঘুবরের যশগান্ যিনি করবেন, বিশেষতঃ তাঁর পরমভক্ত হনুমানজীর, তিনি অবশ্যই চার রকনের ফল পাবেন। অনেকট। এই রকম যেমন, যখন বর্ষা আসে তখন গাঁয়ের নদী জলে ভর্তি হয়। এখন তুমি জল ঘড়ায় ভরবে, না লোটায় নেবে, না খালি স্নান করবে এটা তোমার ওপর নির্ভর করবে। পরমাডার বা তাঁর ভক্তের গুণগানের বর্ষা অবশ্যই চার রকমের ফল দেবে।

এখন এটা নেওয়া না নেওয়া তোমার ওপর। চার রকমের যে ফল পাওয়া যাবে তা হলো : অর্থ, ধর্ম, কাম ও মোক্ষ। অর্থ বলতে আমরা যে টাকা-পয়সা বুঝি, স্থূল হিসেবে তা তো মিলবেই কিষ্তু এর সাথে যেটা পাওয়া যাবে তা হলো অমূল্য অর্থাৎ জীবনের অর্থ। শাস্ত্র তথা জীবনের অর্থ তার কাছে ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে যার পিছন পিছন আসবে জ্ঞন ও বৈরাগ্য। আর অর্থ যদি ধর্মের রাস্তায় অর্জিত হয় তাহলে ধার্মিক হওয়া তো শু সম সম়ের ব্যাপার। কিল্তু ধার্মিক হওয়াই শেষ কথা নয়। বরং আধ্যাছিক পথের এটইই তো প্রথম সোপান।

ধর্মের পথ ধরে যে কর্ম অর্থ যোগায় সেই কর্ম তখন আনন্দদয়ায় হয়। (টাকা-পয়সা) আছে কিলু অর্ধ আহায় যেন বাঁফতে না পারে, ধার্মিক আমি যেন ২র্মান্ধ না ইই; আমার কৃতকর্ম যেন অপরের সুতের কারণ হয়, কর্ম আমি যেন উপুলক ইই, আর চ্থথই মোক্ষ দোরগোড়ায় এসে হাজির হয়।

কিস্টু আধ্যাফ্মিক মার্গের সত্যিবারের অনুরাগীরা এই চার পদার্থে বা ফলে সধ্ত্ট নয়। তারা এই পাওয়াকে লোকস্লান বলে মরে করে। হনুমান চালীসা পাঠ করে, রঘুবরের ুণ কীর্তন করে, নাম-সংক্তীর্ত করে এই চার পদার্থ পাওয়াতে তারা সন্ত্ট নয়। তারা বরং প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে যে, হে প্রভু, তুমি এই চার ফল ফেরত নাও এবং তার পরিবর্তে এক ফল দাও।

প্রভু তো অস্তর্যমী, তিনি মুচকি হেসে यদি জিজেঞ্সস করেন, এই চারের বদলে কি চাই? ত্থন প্রকৃত ভত্ত প্রভুকে বলেন যে, প্রভু, আপনার গুণগান করেছি তো চার ফল পেয়েছি, কিষ্টু এই চার আপনি নিয়ে নিন আর পরিবর্তে আপনার চরণে অথগ প্রেম দিন। গোস্বামীজী তাঁর লেখা বিনয় পত্রিকায় বরেছেন এে এই চার ফলের यদি কোনো ফল হয়, তবে তা হলো নাম। প্রভুর নামে প্রীডি। সংক্ষিপু কथाয় প্রভুপ্রম।

দোঁহা

বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুमिরৌ পবনকুমার।
বল বুধ বিদ্যা দেহ মোহি, হরহঁঁ কলেস বিকার।।

সারানুবাদ : নিজেকে বুদ্ধিইীন ভেবে বায়ুপুট্রে স্মরণ করছি। পার্থনা করাছ আমাকে শকি, বুদ্ধি, বিদ্যা দিন আর আমার ক্রেশ এবং বিকার হরণ কु़्न।

ব্যাখ্যা : অত্যস্ত সোজা সাপটা অর্থ। এই দোহায় প্রথনে গোস্বামীজী রামচরিজ্লানসের’ মত নিত্য নতুন বিচারধারার সৃষ্টিকর্তা, অস্ত গ্রণের প্রণেতা আপনার কাছে স্বার্থ নিয়ে এসেছি। আমি অজ্ঞনী, বুদ্ধিইীন, ডইই হে পবন

কুমার, আপনাকে স্মরণ করছি আর প্রার্থনা করছি যে, আপনি আমায় তিনটি জিনিস দিন- বল (শক্তি), বুদ্ধি ও বিদ্যা।” শ্রীহনুমানজী জিজ্ঞেস করছেন, “প্রথম দোহায় তো চার ফল পাওয়ার কথা হলো, কই তখন তো আপনি কিছু দাবি রাখেননি; তবে এথন কেন্ন বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা চাইছেন?” গোস্বামীজী তার উত্তরে বলছেন, “তিন বস্তু চাইছি এটা সত্য, কিস্তু পরিবর্তে সতেরো বস্তু আপনি নিয়ে নিন।”

বলছেন, “বল, বুদ্ধি, বিদ্যা দেহ মোহি, হরহু কলেস বিকার।” সতেরো বস্তু আপনাকে দিচ্ছি আর কেবল তিনটি জিনিস আমাকে দিন। তুলনায় আমি দিচ্ছি অনেক বেশি, চাইছি খুব কম।” হনুমানজী তখন বলছেন, “আপনি আমায় স্মরণ করেছেন আর এই স্মরণ করেছেন অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে, অত্যন্ত দীনতার সঙ্গে; আপনার এই “অমি বুদ্ধিহীন” স্বীকার আমার মন ছুঁয়ে গেছে। এখন বলুন আপনি ঠিক কি চাইছেন আর সতেরো বস্তু ছেড়ে দেবার কথা কি বলছেন?”

গোস্বামীজী বলছেন, “সবার প্রথমে আপনি বল বা শক্তি দিন কারণ আমি শননেছি আপনি অতুলিত বল ধাম।” এখানে লক্ষ করার বিষয় হলো যে গোস্বামীজী এই দোঁহায় শ্রীহনুমানজীকে পবনপুত্র বা বায়ুপুত্র বলে সম্বোধন করেছেন। দেবাদিদেব মহাদেবের দিব্যতেজ শ্রীহনুমানজীর মাতা অঞ্জনাতে প্রতিস্থাপিত করার মাধ্যম ছিলেন বায়ুদেব। তাই শ্রীহলুমাজীকে পবনপুত্র নামেও ডাকা হয়। তিনি তাঁর পিতা বায়ুদেবের কাছ থেকে মুখ্যতঃ তিনটি গুণ পেয়েছেন।

প্রথম : বল বা শক্তি, দ্বিতীয় :- প্রাণরক্ষকতা, पৃতীয় ঃ সর্বব্যাপকত্ব। আগেই জানানো হয়েছে যে শ্রীহনুমানজী স্বয়ং প্রাণতত্ত্ব। বায়ুকে ছাড়া জীবন সম্ভব নয়। প্রাণের মূলই হল বায়ু। শ্রীহনুমানজী অনেক ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা করেছেন।

যেমন, সুগ্রীব :- বালীর ভয়ে আতঙ্কিত সুগ্গীবকে প্রভু শ্রীরামের সঙ্গে বক্ধুত্ব করিয়ে তার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। পরম শক্তিমান বালিকে যদি প্রভু বধ না করতেন, তবে সুগ্রীবের বাঁচাই মুশকিল হতো।

যেমন, সীতা :- লঙ্কার অশোকবনে জনকনন্দিনী প্রাণত্যাগের জন্য মনস্থির করে ফেলেছিলেন। এই শ্রীহনুমানজীই সমুদ্র লঙ্গন করে সমগ্র লঙ্কায় বোঁজ করে অশোকবনে পোঁছে প্রভু -্রীরামের দেওয়া আংটি দিয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করলেন যে, প্রতু শ্রীরাম একমাসের মধ্যে এসে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। এইভাবে উনি মা সীতার প্রাণরক্ষা করলেন।

লক্ষ্মণ : রাম-রাবণ যুদ্ধে মেঘনাদের বাণে মুর্ছিত লক্ষ্মণকে একরাত্রির মধ্যে হিমালয় থেকে সঞ্জীবনী বুটি এনে ডাঁর প্রাগ রক্ষা করেছিলেন।

বায়ুটেরের মতো শ্রীহনুমানজীভ সর্বব্যাপী। এই সৃষ্টির যে কোনো স্থানে যে কোনো সময় প্রকট হয়ে ঢাঁর উপস্থিতির অনুভব তিনি করাতে পারেন। শ্রীহনুমানজীর ব্যাপকত্ব নীমাহীন। আমরা জানি ভে বায়ু পাঁচ প্রকার। মানুযের দেহে অবস্থিত পঞ্চপ্রাণ যথা প্রাণ, অপান, ব্যান, উদান ৫ সমান-এর সঞ্চালক হলেন শ্রীহনুমানজী। এই পঞ্চপ্রাণের শরীরের অবস্থান এবং পঞ্চুখী হনুমানজীর মৃখের দিশা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্বন্ধয়ক্ত। যেমন-

ক্রম প্রাণের প্রকার মনুষ্যদেহে স্থান শ্রীহনুমানজীর মুখ মুখের দিক/দিশা
প্রাণ रुদয় কপি পূর্ব
অপান गुर्य বরাহ উন্তর
সমান नाভि নৃসিংহ দক্ষিণ
8 উদান কঠ্ঠ হয়গ্রীব উর্ধ্ব
ব্যান সমগ্র শরীর গরুড় পশ্চিম

বলা হয় যে, গোস্বামীজী এই কারণে শ্রীহনুমানজীর চালীসায় পাঁচবার ‘জয়’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন। কোথায় কোথায়-

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর। জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর।। (টোপাঈ ১) জজ জৈ জৈ হনুমান গোসাঈ। কৃপা করহু গুরুদেব কী নাঈ।। (চৌপাঈ ৩৭)

বল বুধি বিদ্যা দেতু মোহি :- গোস্বামীজী প্রথমেই শক্তি বা বল চাইলেন। এই চাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষকে শেখালেন যে, হনুমানজীর কাছে যদি চাইতেই হয় তবে টাকা, পয়সা না চেয়ে শক্তি চান, কেনলা আআ্মা বলহীনে মেলে না। ‘মুক্তক উপনিষদ’ এ কথা ঘোষণা করেছে যে, এই আত্যা বলহীন শরীরকে প্রাপু হয় না। এখানে বল এর অর্থ পহেলবান্ নয়; একজন সাধকের শারীরিক দিক দিয়ে সুস্থ থাকা জরুরী কারণ সুস্থ শরীরে মনও বলবান হয়।

কিস্তু শাস্ত্রকারগণ ও মুনি-ঝষিরা এর আরও অনেক গভীর অর্থ খুঁজে বার করেছেন যা প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় সংক্ষিপ্ত ভাবে উঙ্লেখ করছি। যেমন সাধুর বল হলো সাধুতা। যাঁরা যোগী তাঁদের বল হলো যম-নিয়ম। এক আদর্শ নারীর বল হলো লজ্জা। বুদ্ধিমান-এর বল হলো তেজস্বিতা আর বিচারের শুদ্ধতা। ভক্তর বল হলো ভরসা। ख্ঞানীর বল হলো সমদর্শন বা সম্যক দর্শন।

ত্যাগীর বল হলো অস্তঃকরণে বৈরাগ্য। এখন বোঝা যাচ্ছে গোস্বামীজী কেন প্রথমেই বল চাইলেন কারণ তিনি বৈরাগী, যোগী, আবার জ্ঞানীও। তিনি ভক্ত, তিনি সদ্গুরু, তিনি সন্ত। গোস্বামীজী স্বয়ং বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার ঘনীভূত रूপ।

শ্রীহনুমানজী তাঁর এই প্রার্থনা স্বীকার করে বলছেন, “ঠিক আছে চল বল দিয়া” (ঠিক আছে তোমায় কাখ্থিত শক্তি দিলাম)। তুলসীদাসজী তখন বললেন, “আমায় আর একটি বস্ত দিন। আপনি বুদ্ধিমান, তাই বুদ্ধি দিন।” শ্রীহনুমানজী তখন জিজ্ঞেস করলেন, “বল চেয়েছো, দিয়েছি। আবার বুদ্ধি চাইছ কেন ?”

তুলসীদাসজীর উত্তর মনকে ছুঁয়ে যাবার মতো। তিনি বলছেন, “আমি বুদ্ধি চাইছি কারণ বুদ্ধি শক্তিকে নিয়স্ত্রণ না করলে তা কখনও সৃজনশীল হয় না। আমি সমাজকে সৃজন করার জন্য যে বল, বুদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তাকে চাই।” বুদ্ধির কয়েকটি লক্ষণ আছে –

  • সমস্যা সমাধানের শক্তি;
  • বিপরীত অবস্থাকে অনুকূলে আনার শক্তি;
  • নির্ণায়ক শক্তি;
  • দূরদর্শিতা।

যদি শক্তি থাকে অথচ বুদ্ধি না থাকে পরিণামে হিংসা বাড়বে। তুলসীদাসজী সমগ্র মানব সমাজকে মাথায় রেখে ভেবেচিত্তে তাঁর প্রার্থনা রাখছেন।

কিন্তু এরপর বিদ্যা চাইলেন কেন ? কারণ শক্তি ও বুদ্ধি একত্রে মানুষকে উদ্ধত করতে পারে। এই দুই একত্রে বহ্ধনেরও কারণ হয়। শাস্ত্রজ্ঞান আর অনুভব মানুষকে বিচারশীল করে। বিদ্যাবান মানুষ তার নম্রতা ও নিঃস্পৃহতার কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। গোস্বামীজী শ্রীহনুমানজীর ভক্ত দের জন্য এই সব প্রার্থনা করেছেন যাতে তাঁরা সদাই সদ্গুণের অধিকারী হন।

হরল্ছ কলেস বিকার :- শ্রীহনুমানজী গোস্বামীজীর প্রার্থনা শুনে তাঁকে একে একে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা প্রদান করলেন। তারপর বললেন, “গোস্বামীজী আপনি বলছিলেন, যে সতেরো বস্তু আমায় দেবেন, ঢো দিন।” গোস্বামীজী বললেন, “এই সতেরো বস্তু এত গভীর ভাবে আমার মধ্যে ঢুকে গেছে যে আমি তো দিতে পারবো না, আপনি বরং তা ছিনিয়ে নিন।” বললেন, “হরएँ কলেল বিকার।”

ঋষি পতঞ্জলি চাঁর যোগসূত্রে পাঁচ রকমের ক্লেশ-এর কথা বলেছেন। সেঙুলো হলো অবিদ্যা-অস্মিতা-রাগ-দ্বেষ ও অভিনিবেশ। এই প্রতিটি বিষয় আত্যন্ত গভীর ও প্রভাবশালী। এ এক বিস্তৃত আলোচনার ক্ষেত্র। কিন্তু অত্যন্ত সংক্ষিপু ভাবে বলতে গেলে বলতে হয় :-

১. অবিদ্যা :- পবিত্রতে অপবিত্রর ভাব দেখা আর অপবিত্রতে পবিত্রর ভাব দেখা; অনাআ্মায় আত্মার আর আত্যায় অনাত্মার ভাব দেখা; বস্তুর প্রকৃতরূপকে না বুঝতে পারা, অসাধুততত সাধুতাকে দেখা বা সাধুতাতে অসাধুতাকে দেখা।

२. অস্মিতা :- একটা উদাহরণে যেমন তুলসীদাসজী বলছেন, আমি ব্রাহ্মণের ছেলে, আমি রামচরিত্মানস লিখেছি, আমি বড় সাধু-সন্ত, আমার প্রভু রামের দর্শন হয়েছে, এ সমস্ত কিছু আমার মনকে যদি প্রভাবিত করে তো আপনি সেই অস্মিতা হরণ করুন। ।যেমন অস্মিতার কারণে মানুষ নিজেকে ইন্দিয়, মন আর বুদ্ধির দাস ভাবে কিল্তু প্রকৃতপক্ষে জীবাতা বা আমি এই সবের সঙ্গে সম্পর্ক রহিত।

৩. রাগ :- ইন্দ্রিয়, মন আর শরীরে আত্মাবাব জাগ্রত হলে যে বস্তু, ব্যক্তি বা বিষয়ে সুখ অনুভব হয় বা তাঁকে পাওয়ার ইচ্ছা জাগে তাকে রাগ বলে। যতক্ষণ ইপ্নিত বস্তুর প্রাপ্তি না হয় ততক্ষণ দুঃখের অনুভব হয়।

8. দ্বেষ :- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর অপ্রাপ্তিতে যে দুঃখ অনুভব হয় সেই দুঃখের কারণগুলির প্রতি তখন দ্বেষ জন্মে, তা সে বস্তু হোক বা ব্যক্তি। তখন ঘৃণা, তিরস্কার বা ক্রোধের আকারে সেই দ্বেষের বহিঃপ্রকাশ হয়।

এই রাগ ও দ্বেষ দুটি কঠিন রোগ এবং এই রোগ সারানো খুব মুস্কিল। কিস্তু জ্ঞান ও গুণের সাগর শ্রীহনুমানজীর কৃপায় যখন মানুষের নিজ শুদ্ধ-স্বরূপের জ্ঞান হয় তখন লে বোঝে যে আসলে এই সুখ আর দুঃখের আগমন তার নিজ আত্ম-স্বরূপের সঙ্গে সম্পর্কহীন। শ্রীহনুমানজীর কৃপায় তার তথন রাগ ও দ্বেষজনিত কারণকে অনিত্য মনে হয় এবং বৈরাগ্যভাবের অনুভবে এই দুটি সম্পর্কে উদাসীন হয়ে ওঠে।

৫. অভিনিবেশ :- মৃত্যুভয়ের আর এক নাম অভিনিবেশ। মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া কঠিন। মৃত্যভয় কেন লাগে-

  • পুরনো কর্মের কথা মনে পড়ায়,
  • ভবিষ্যতের চিঙ্তা ভে এই সবের কি হবে ?
  • এতদিনের এই প্রিয় শরীর যাকে অত্যন্ত যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে, তাকে ছেড়ে যেতে হবে চার ভয়,
  • মৃত্যুযস্ত্রণার ভয়।

শ্রীহনুমানজীর কৃপায় যখন সাত্বিক বুদ্ধির উদয় হবে, তখন দেহের নশ্বরতা ও আত্মার অমরত্বের জ্ঞন হবে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যু ভয় চলে যাবে।

বিকার :- সর্বমোট বার রকম্মের বিকার আছে। ছয় রকমের বিকার শরীরের, আর ছয় রকম বিকার মনের।

শরীরের বিকার :- অস্তি (নিজ অস্তিত্বের গর্ব); জন্ম, বৃদ্ধি, পরিবর্তন, ক্ষয় ও মৃত্যু। তুলসীদাসজী প্রার্থনা করছেন এই ছয় বিকার হরণ করলন। আমার জন্ম, বৃদ্ধি, পরিবর্তন, ক্ষয় ও মৃত্যুকে হরণ করুন।

শরীরের পর মনের ছয় বিকার :- কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য। এই বিষয়ে আমাদের সবারই কিছু কিছু ধারণা আছে। অত্যন্ত সংক্ষেপে বলতে গেলে :

১. কাম :- সঙ্গ থেকে কাম-এর জন্ম। আসক্তি কাম বাড়ায়। ভগবান কপিল তাঁর মা দেবহুতিকে বলেছিলেন, সর্বদা সাধুসঙ্গ করা বা কখনই অসাধু সঙ্গ না করা কাম নাশের উপায়। সাধু তিনিই হবেন যিনি আসক্তিকে জয় করেছেন। কাম এক ধরনের মানসিক বিকার।

  • ক্রোধ :- কামনার বাধা হলেই ক্রোধ।
  • লোভ :- ‘লাভ’ এর ইচ্ছাই হল লোভ। বেশি লাভের ইচ্ছার কথাই বলা হচ্ছে।
  • মোহ :- সমস্ত মানসিক রোগের মূলই হলো মোহ।
  • মদ :- প্রাপু বস্তু, ব্যক্তি বা বিশেষ কারণের জন্য গর্ব অনুভব করা।
  • মাৎসর্য :- অপরের ভাল উন্নতি দেখলে মনের জ্বলনকে বলে মাৎসর্য।

শ্রীহনুমান চালীসা निয়মিত পাঠ করা এক ভক্ত শ্রীহনুমানজীর কাছে তাঁর আর্তি এইভাবে রাখছেন যা অত্যন্ত ভাবগ্রাহী বলে এখানে উল্লেখ করছি। ভভক্ত প্রার্থনা করছেনঃ “হে শ্রীহনুমানজী, আমায় তিন চাকার সইকেল দিন যা চালানো খুব সহজ। বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ এমনকি বাচ্চারও চালাতে পারে। এই তিন চাকা হল ‘বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা।’ আমার গতি চাই না, চাই শরণাগতি। আমি বুদ্ধিহীন বিকলাঙ্গ, বলহীন বিকলাঙ্গ এবং বিদ্যাহীন বিকলাঙ্গ।

আপনি বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা দিন আর ক্লেশ ও বিকার হরণ করুন। হে হনুমান, আমার তো কোনো গতি নেই। আপনি কর্মের দেবতা, জ্ঞানের দেবতা। আপনি আমায় কর্ম করাতে চান তো আমার গতিইীনতার কারণ এই সতেরো ক্লেশ ও বিকার হরণ করুন্ন আর ধীরে ধীরে পোঁছনোর জন্য বা শরণাগতির জন্য ভিন্য চাকার সাইকেল (বল, বিদ্যা, বুদ্ধি) দিন।”

দোঁহা

পবनऊनয় সংকট হরন, মঙ্গল মূরতি রূপ।
রাম লখন সীতা সহिত, হৃদয় বসহ সুর ভূপ।।

সারানুবাদ : হে পবনপুত্র! আপনি ক্ষ বা বিপদ হরণকারী এবং মঙ্গলের মুর্তিময় স্বক্রপ। হে দেবাদিদেব! ঐরীাম, লক্ষণ ও সীতার সাথে আপনি আমার হৃদয়ে অবস্থান বা বাস করুল।

ব্যাখ্যা : গোস্বামী তুলসীদাসজী হনুমান চালীসার শেষে ঢাঁর হৃদয়ের অস্তঃস্থল থেকে শ্রীহনুমানজীর বাছে সকাতর প্রার্থনা নিবেদন করছেন। শ্রীহনুমানজীর সহিত তাঁর হৃদয়ে সদা অবস্থান করার প্রার্থনা জানাচ্ছেন। আর এই দোঁহাতে তিনি শ্রীহনুমানজীর কছে প্রার্থনা করছেন যে, তিনি যেন প্রভু ब্রীরাম, ভাই লক্ষণ, মাতা সীতাকে নিয়ে তাঁর হৃদয়ে সদা অবস্থান করেন। এই দোঁহাতে তিনি শীরুনুমানজীকে একবার সম্বোধন করলেন ‘পবনপুত্র’ বলে এবং অন্যবার বললেন ‘দেবাধিদেব’।

বায়ুপুত্র হনুমান যে সর্বসঙ্কটহারী তার পরিচয় আমরা ‘চালীসা’য় বহুবার পেয়েছি। ‘সংকট মোচন হনুমানাষ্টক-‘এ তুলসীদাসজী বলছেন, “…কাজ্জ কিয়ে বড় দেবন কে ছুম…”। অর্থাৎ শীরুহুমানজ্জী দেবতাদের অনেক কাজ স্বয়ং করে দিয়েছেন বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছেন। তাই দেছে তাঁকে ‘দেবাধিদেব’ বলা সঠিক হয়েছে। শীহনুমানজী যখন যে কাজই করুন না কেন, তা সর্বদা তাঁর ভক্তের কল্যাণকারী হয় বা বিশ্বের কল্যাণসূচক হয়ে থাকে। তাই মঙ্গলের সাক্ষাৎ স্বরূপ।

একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হন শ্রীহনুমানজীর উপস্থিতি বা তাঁর সাক্ষনৎ সর্বদাই সাক্ষাৎকারীকে ধন্যাবাদের অনুভব করায়। যেমন শ্রীহনুমানজীর লঙ্কাপ্রবেশের সময় ডাঁর মুষ্টাঘাতে মৃতপ্রায় লঙ্কিনী ডাঁর পরিচয় পেয়ে গদগদ কঠ্ঠে বলেছিলেন, “হে তাত! আমার অনেক পূণ্যের কারণে আজ শ্রীরানের দূত আপনাকে আমি চাক্ষুষ দর্শন করলাম”। (রা:চ:মা:)

একই ভাবে শ্রীহনুমানজীর প্রথম দর্শনে পরিচয় পেয়ে লঙ্কাধিপতি রাবণের ভাই বিভীষণও আবেগরুদ্ধ কঠ্ঠে বলে উঠেছিলেন, “যখন শ্রীরামচন্দ্রের কৃপা হল তখনই আপনি আমাকে কৃপাপূর্বক দর্শন দিলেন।” (রা:চ:মা:)
গোস্বামীজী তাই ‘চালীসা’র শেষে শ্রীহনুমানজীর কাছে প্রার্থনা করছেন যে প্রভু শ্রীরাম, লঙ্ষ্ণণ এবং সীতার সঙ্গে আপনি সদা আমার হৃদয়ে অবস্থান করুন্ন।

আসুন, ‘হনুমান চালীসা’ পাঠের শেষে আমরাও শ্রীহনুমানজীর পরমভক্ত এবং প্রখ্যাত কথাকারদের দ্বারা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ সেই প্রার্থনা করি :”হে হনুমানজী! এই গ্রন্থের পাঠকদের জিজ্ঞাসু হৃদয়ে আপনি সর্বদা প্রভু শ্রীরাম, লক্ষ্মণ এবং মাতা সীতার সঙ্গে বিরাজ করুন্ন। আমরা সবাই আপনার বল, বুদ্ধি, বিদ্যা, শৌর্য্য, ধৈর্য এবং পরাক্রম থেকে যেন সর্বদা প্রেরণা পাই। আপনিই প্রভু শ্রীরামের কাজে আমাদের মার্গদর্শন করান। আপনার কাছে থাকা ‘রাম রসায়ন’ পেয়ে আমরা যেন অনস্ত শ্রদ্ধাবান ইই। আশীর্বাদ করুন্ন আমাদের আধ্যাছ্মিক যাত্রা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং কৃপালু প্রভু শ্রীরানের চরণ কমলে সদা স্থান হয়।”

দেবাধিদেব শ্রীহনুমান ও সাধারণ হনুমান

ভূমিকা : হিসেবে হিল্দুদের নিকট পুজনীয়। রামায়ণের মূল চরিত্র রাম যাকে হিল্দুরা ভগবান বিষুঞর অবতার হিসেবে মলে করে চাঁর অনুগত চরিত্র হিসেলে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি বায়ু দেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভ্ট হিসেবে পরিচিত। রামায়ণের কাহিনী অনুসারে হনুমান সীতাকে উদ্ধারের জন্য লঙ্কায় অভিযান চালান এবং রামায়ণের বিভিন চরিত্রকে কঠিন সষ্চট হচে উদ্ধারে সাহায্য করেন।

দেবাধিদেব শ্রীহনুমান ও সাধারণ হনুমান ভূমिका :

হনুমান হলেন হিন্দুধর্মের একজন দেবতা যিনি রামের একনিষ্ঠ ভক্ত। পুরাণে হনুমানকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে। রামায়ণ বর্ণিত হনুমান পবননন্দন হিসেবে হিন্দুদের নিকট পুজনীয়। রামায়ণের মূল চরিত্র রাম যাকে হিন্দুরা ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে মনে করে তাঁর অনুগত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় এই হনুমানকে। তিনি বায়ু দেবতার পুত্র। হিন্দুদের কাছে হনুমান রামভক্ত হিসেবে পরিচিত। রামায়ণের কাহিনী অনুসারে হনুমান সীতাকে উদ্ধারের জন্য লঙ্কায় অভিযান চালান এবং রামায়নের বিভিন্ন চরিত্রকে কঠিন সঙ্কট হতে উদ্ধারে সাহায্য করেন। সংস্ষিপু পরিচয় :

সংক্ষিপু পরিচয় :

উল্লেখ — রামায়ণে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র
জन्म — চৈত্র মাসের শক্ল একাদশী মঘা নক্ষত্র
মাতা ও পिতা — অঞ্জনা এবং রাজা কেশরী, পবনদেব ও দেবাদিদেব শিব
भूত্র — মৎসরাজা বা মকরধ্বজ (প্রসঙ্গ অহিরাবণ)
অস্ত্র — মুষ্টি, গদা, পরশু, চক্র, ঢাল, খণ্ডা (তরোয়াল) কাতার
বাহন — নেই
নামমাহাছ্ম — সঙ্কটমোচন, অণুভ শক্তির বিনাশ, প্রভু শ্রীরামের কৃপালাভ
মন্ত্র — হং হনুমতে রুদ্রাত্মকায় ছংং ফট্ হনুমতে নমঃ
উৎসব — হনুমান জয়স্তী
মন্দির —

  • তুলসীদাসজীর প্রতিষ্ঠিত সঙ্কটদোচন শ্রীহনুমানজীর মন্দির, বারাণসী,
  • সঙ্কটমোচন হনুমান মন্দির, ফিলাউর, পাঞ্জাব,
  • চিত্রকূট মন্দির, মধ্য ভারত,
  • যখু মন্দির, হিমাচলপ্রদেশ,
  • শ্রীলঙ্কা ও
  • দেশবিদেশব্যাপী অসংখ্য মন্দির

মূর্তি

  • প্রাচীনতম : ৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে খাজুরহে পাওয়া গাহিলের পুত্র গোলকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত
  • 8১ মি. উচচু মূর্তি, ইয়েরাভরম, অন্ধ্রপ্রদেশে বীর হনুমান মূর্তি,
  • পুরন্দর দুর্গ, বালী, ইন্দোনেশিয়ার মূর্তি,
  • তামিলনাড়ুতে একাদশ শতাব্দীতে চোল বংশ প্রতিষ্ঠিত হনুমান মূর্তি ও
  • দেশবিদেশেব্যাপী অংসখ্য মৃর্তি

হনুমান নামের উৎস ও বিভিল্ন নাম :

হনুমান নামটি এসেছে হনু (“চোয়াল”) এবং মান (“বিশিষ্ট” বা “কদাকার”) শব্দদ্বয় থেকে। অর্থাৎ “হনুমান” শব্দার্থ “কদাকার চোয়ালবিশিষ্ট”। অপর একটি সূত্র বলে হনুমান নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ হন (“হত্যা”) এবং মানা (“গর্ব”) থেকে। অর্থাৎ হনুমান অর্থ “যাঁর গর্ব হত হয়েছে”। কিছু জৈন গ্রন্থ থেকে জানা যায় হনুমান তাঁর উৈশব ‘হনুরাহা’তে কাটিয়েছেন এবং তাই তাঁর নাম হনুমান।

অপর একটি তথ্যানুসারে, “হনুমান” নামটি প্রাক-দ্রাবিড়ীয় শব্দ (যা পুরুষ বানরের জন্য ব্যবহৃত) এনা-মান্দি থেকে এসেছে, যা পরবর্তীতে সংস্কৃতিতে “হনুমান” হয়। “হনুমান” শব্দের ভাষাগত পার্থক্যর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হনুমাত, অনুমান (তামিল), অনোমান (ইন্দোনেশীয়), আন্দামান, (মালয়) এবং হনলামান (লাও)। এছাড়া আরও রয়েছে:

  • অঞ্জন্যা, হনুমাস্তা,
  • অঞ্জন্যা, অঞ্জনিপুত্র বা অঞ্জনেয়ুডু বা হনুমাষ্ঠুডু (তেলেগু), যার অর্থ “অঞ্জনার পুত্র”
  • অঞ্জনেয়ার, গ্রামীণ তামিলীয়রা ব্যবহার করে।
  • কেশরী নন্দন (“কেশরী”পুত্র)
  • মরুতি (“মরুত পুত্র”) বা পবনপুত্র (“পবনপুত্র”) ; এই নামগুলোর উদ্ভব ঘটেছে বায়ুর বিভিন্ন নাম থেকে, যিনি অঞ্জনার গর্ভ থেকে হনুমানকে বহন করেন।
  • বজরং বলী, “একক শক্তিশালী (বালী), যার বভ্রর ন্যায় পা রয়েছে ; গ্রামীণ উত্তর ভারতে এই নাম ব্যবহৃত হয়। বজরং বলী বলতে আরো বোবানো হয় একক শক্তিশালী বালী যার শরীরের রঙ বজ্রের ন্যায়।
  • সং কেরা পেমুজা দিওয়া রামা, হনুমান, ইন্দোনেশীয় “”রাম-এর বলশালী ভক্ত, হনুমান”

মহাভারতে হনুমান :

মহাবীর হনুমান ‘রামায়ণ’-এর চরিত্র। তিনি অমর। তাই পরবর্তী মহাকাব্য ‘মহাভারত’-এও তাঁর সাবলীল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এই মহাকাব্যে তিনি কেমন যেন এক ধীর-শান্ত ব্যক্তিত্ব। ঢাঁর বীরভাব এখানেও বজায় রয়েছে বটে। কিত্তু তার উপরে প্রলেপ পড়েছে জ্ঞানের, অভিজ্ঞতার।

হনুমান এবং ভীম দু’জনেই পবনপুত্র। সেদিক থেকে দেখলে, তাঁরা ভ্রাতা। পাগুবদের অজ্ঞাতবাসের সময়ে হনুমান এক অসুস্থ এবং বৃদ্ধ বানরের বেশে ভীমকে দেখা দেন। ভীম ছিলেন অসষ্ভব আত্মগর্বী। তাঁকে শিক্ষা দেওয়াই ছিল বজরং বলীর উদ্দেশ্য। ভীমের পথ রুদ্ধ করে অসুস্থ বৃদ্ধের ছদ্মবেশে হনুমান শুয়ে ছিলেন। ভীম তাঁকে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি ভীমকে বলেন তাঁর লেজটি সরিয়ে চলে যেতে। ভীম বহ চেষ্টাতেও সেই লেজ সরাতে পারেননি। শেষে তিনি অনুভব করেন, এই ব্যক্তি কোনো সাধারণ বানর নন। তিনি হনুমানের শরণ নেন।

হনুমানের সঙ্গে অর্জুনেরও দ্বৈরথ ঘটেছিল। সেতুবঙ্ধ রামেশ্বরমে অবস্থানকালে অর্জুন এক ক্ষুদ্র বানরের সম্মুখীন হন। অর্জুন সেই বানরের সামনে গর্ব ভরে বলেন, বানরদের সাহায্য না নিয়ে রামচন্দ্র একাই সেই সমুদ্র-সেতু নির্মাণ করতে পারতেন। তির যোজনা করেই তো সেটা করা সম্ভব ছিল। ক্ষুদ্র বানর অর্জুনকে আহ্বান জানায় ওই কাজ করে দেখাতে। অর্জুন ব্যর্থ হলে ক্ষুদ্র বানরের ছদ্মবেশ ত্যাগ করে হনুমান প্রকট হন। অর্জুন তাঁর শরণ নিলে, তিনি অর্জুনের রথশীর্ষে অধিষ্ঠান করবেন বলে বর দেন। অর্জুনের রথের উপরে তাই ‘কপিধ্বজ’ শোভা পায়।

মাত্র চারজন ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে ভগবদ্গীতা তনেছিলেন এবং বিশ্বরূপ দর্শন করেছিলেন। এঁরা হলেন- অর্জুন, সঞ্জয়, ঘটোৎকচ এবং

বর্বরিক (ঘটোৎকচের পুত্র)। কিত্তু একথা মনে রাখতে হবে, ধ্বজ হিসেবে রথশীর্ষে অবস্থানের কারণে হনুমানও ছিলেন সেই তালিকায়। अन्गणम कीर्जि :

(১) পধ্চমুখী রূপ ধারণ : রাবণের ভাই মহিরাবণ ও অহিরাবণ যখন রাম ও লস্ষ্মণকে পাতালে বন্দী করে রাখে, তখন হনুমান পধ্চমুখী রূপ ধারণ করে পাঁচদিকে জ্বলত্ত পাঁচটি প্রদীপকে একই সঙ্গে নিভিয়ে দুই রাক্ষসকে হত্যা করে রাম ও লস্ষণকে উদ্ধার করেন।

(২) সাহিত্য কীর্তি : কথিত আছে, রামের রাবণ জয়ের পর হনুমান হিমালয়ে বসে শ্রীরামের সমস্ত কীর্তি চাঁর নখ দিয়ে লিখে ‘হনুমৎ রামায়ণ’ নামে এক সাহিত্য রচনা করেন। পরে মহর্ষি বাল্মীকি সেই রচনা দেখে অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়েন। হনুমান এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন যে ‘হনুমৎ রামায়ণ’ এত উৎকৃষ্ট রচনা যে তার কাছে বহ পরিশ্রমে লেখা তাঁর রামায়ণ কিছুই নয়।

এই শনে হনুমান ‘হনুমৎ রামায়ণ’ পরিত্যাগ করেন। এতে বাল্মীকি লজ্জিত হয়ে বলেন যে হনুমানের যশোগান যা তাঁর রামায়নে উনোক্ত তা গাইবার জন্য ঠাঁকে আরও একবার জন্ম গ্রহণ করতে হবে। মনে করা হয় যে মহর্ষি বাশ্মীকি পরবর্তী জন্মে গোস্বামী ঢুলসীদাসজী রূপে বিখ্যাত হন।

বলা হয় ‘হনুমৎ রামায়ণ’-এর একটি অংশ মহাকবি কালিদাসের সময়ে নদীীীরে পাওয়া যায় যা পেয়ে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন এবং বিলুপ্ত হরফে লেখা অংশটিরি পাঠোদ্ধার করেন।

সাধারণ হনুমান :

সাধারণ হনুমান যা আমরা সচরাচর দেখতে পাই সেগুলির তিনটি প্রজাতি পাওয়া যায় :-

উত্তুরে হনুমান বা সাধারণ হনুমান বা ধূসর হনুমান বা মুখপোড়া হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Semnopithecus entellus । এদের দেহের রং ফ্যাকাশে-কমলা এবং নিচের দিকে কিছুটা হালকা। মাটিতে থাকা অবস্থায় এরা সাধারণত লেজ বাঁকিয়ে শরীরের উপর দিকে রাখে। মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৫১-১০৮ সেমি এবং লেজ ৭২-১০৯ সেমি লম্বা হয়। পুরুষ ও স্ত্রী হনুমানের ওজন যথাক্রুমে ৯-২১ কেজি ও ৮-১৮ কেজি হয়ে থাকে। একটি দলে ৮ থেকে ২৫টির মতো সদস্য দেখা যায়।

চশমা পরা হনুমান বা কালো হনুমান বা কালা হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Trachypithecus phayrei । এদের পিঠ ও লেজ ধূসর-কালো কিং্বা গাঢ় বাদামি রডের এবং নিচের দিকটা সাদাটে-ধূসর রঙের হয়। এদের চোখ ও মুখ ঘিরে সাদা বলয় রয়েছে। পুরুষ ও স্ত্রীর দেহের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৫০-৫৫ সেমি, ও 8৫-৫৩ সেমি এবং ওজন যথাক্রমে ৭-৯ কেজি ও ৮-১৮ কেজি হয়ে থাকে। পুরুষ ও স্ত্রীর লেজের দৈর্ঘ্য গড়ে ৬৫-৮৬ সেমি হয়।

মুখপোড়া হনুমান বা লালচে হনুমান বা লাল হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Trachypithecus pileatus। কপালে পিছন ফেরানো, সোজা, লম্বা, মোটা, টুপির মতো একগুচ্চ চুল থাকার কারণে এরা টুপিওয়ালা হনুমান নামেও পরিচিত। এদের পিঠ ধূসর থেকে গাঢ়-ধূসর রঙের, নিচের দিক ও দাড়ি বাদামি-হলুদ থেকে কমলা-লাল রঙের এবং লেজের মাঝ থেকে শেষ প্রাস্ত পর্যণ্ত ক্রমাব্বয়ে গাঢ় রঙের হয়। পুরুষ ও স্ত্রী হনুমানের দেহের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৬৮-৭০ সেমি ও ৫৯-৬৭ সেমি, লেজ যথাক্রনে ৯৪-১০৪ সেমি ও ৭৮-৯০ সেমি এবং ওজন যথাক্রনে ১১-১৪ কেজি ও ৯-১১ কেজি হতে দেখা যায়। একটি দলে ৩-১৫টির মতো সদস্য থাকে।

Shiv Puran in Gujarati – વાયવીય સંહિતા

Shiv Puran in Gujarati - વાયવીય સંહિતા

The verses in Shiv Puran in Gujarati illustrate the profound philosophy of Shaivism.

Shiv Puran in Gujarati – વાયવીય સંહિતા

पूर्वाध

નૈમીષારણ્યના ક્ષેત્રમાં ગંગા અને યમુનાના સંગમ સ્થળ પર એક ખુબજ મોટા યજ્ઞુ અનુષ્ઠાન થયું. તેમાં વ્યાસજના શિષ્ય સુતજી પણ આવ્યા.મુનિયોએ સુતજીનુ સ્વાગત કર્યુ અને તત્વ જ્ઞાન સંભળાવવાની પ્રાર્થના કરી. સુતજીએ કહ્યું કે સંપૂર્ણ વિદ્યાઓમાં ચૌદ વિદ્યાનો સમાવેશ થાય છે.આ ચૌદ-ચાર વેદ, છ શાસ્ત્ર અને મીમાંસી ધર્મ શાસ્ત્ર, ન્યાય તથા પૃરાણ મળીને થાય છે.એમાં જ્યારે ધનુર્વેદ,આયુર્વેદ, ગંધર્વવેદ અને અર્થશાસ્રનં મેળળી

દેવામાં આવે તો અઠાર થઈ જાય છે.સુતજી એ બતાવ્યુ ક ભગવાન શંકર અઢાર વિદ્યાઓના જન્મદાતા છે અને તેમણે સૌથી પહેલા બ્રહ્માજને આ વિદા આપી અને પછી વિષ્ણુજીએ સંસારને રક્ષા માટે શક્તિ આપી.બ્રહ્માજીએ પુરાણોનો વિસ્તાર કર્યો અને પછી પોતાના ચાર મુખેથી ચાર વેદોની રચના કરી વેદો પછી બધા શાસ્રનની ઉત્પતિ થઈ.

વિષ્ગુજએ વેદ શાસ્ત્રનો ઉયોગ્યરૂપે વિસ્તાર કરવા માટે વ્યાસજીના રૂપમાં અવતાર લીધો તેમણે વેદોને ચારભાગમાં વિભાજીત કર્યા અને પછી ચાર લાખ શ્લોકોની રચના કરીને પુરાણોને સામાન્ય જન સુધી સુલભ બનાવ્યુ.એક સમયે બધા મુનિ ઈશ્વરિય સત્તાના રહસ્યોને ન જાંણતા હોવાથી બ્રહહ્માની પાસે ગયા. બ્રહ્માજીએ મુનિઓને બતાવ્યુ કે ભગવાન શંકરજ એકમાત્ર પરમેશ્વર છે અને હું તેમની ઈછ્છાથી જ પ્રજાપતિ પદ પામ્યો છું ભગવાન શંકરના ત્રણ રૂપ છે સ્થુથ, સુક્ષ્મ અને સુક્ષ्માતિ સુક્ષ्મ સ્થુળ રૂ૫ દેવોને સુક્ષ्મ યોગિઓને અને અતિસુક્ષ्મા તિસુક્ષ્મ રૂ૫ ભક્તોને દેખાય છે.ગુરનુ ખુબ મહત્ત્વ છે કારણ ક ગુરૂની કૃપાથી સાધકના માર્ગના વિધ્નો દુર થાય છે.

બ્રહ્માજીએ ઋષિઓને કહ્યું ક ઈજ્વરિય શિવતત્વને જાણવા માટે તમે લોકો યજનુ આયોજન કરો. યજની સમાપ્તિથી તમને શિવ તત્વનો મર્મ આવાહિત વાયુ દ્વારા સમજાવવામાં આવશે ત્યારબાદ તમે વારાણસીમાં જઈને શિવ પાર્વતીની પુજા કરી કલ્યાણના માર્ગને પ્રાપ્ત કરશો. હું તમને મનોમય ચક્ર આપુ છું તમે તેની પાછળ પાછળ જાવ જયાં તેની નેમી તુટી જાય ત્યાં એક મોટા યજનુ આયોજન કરો.

ચક્ર નૈમિષારણ્યમાં ૫ડયુ અને ત્યાંજ યજ કરવામાં आव्यो. યશ્ઞ સમામ્ત થતા વાયુદેવ પ્રગટ થયા અને તેમણે મુનિઓએ શિવતત્વને સમજાવવાનુ નિવેદન કર્યુ ત્યારે વાયુદેવે તેમને બતાવ્યુ કે શ્વેતરૂપ એકવીસમાન કલ્પમાં વિર્યના નિર્માણ માટે બ્રહ્માજીએ ઘોર તપ કરીને શિવજીને પ્રસન કર્યા શિવજી પ્રસન્ન થયા અને તેમણે બ્રહ્માજને બ્રહ્મ જાન આપી તે બ્રહ જાનને में પોતાના તપના બળ પર બ્રહ્માજી પાસેથી મેળવ્યુ આ જાન પશુ, પાશ અને ગતિની સંજાવાળા છે.

ક્ષર મ્રકૃતિ માયા છે અને તેના મૂળ કર્મથી યોગ રાખવાવાળો પુરૂષ છે. આ માયા શિવજીની જ શક્તિ છે ચિદ્રરૂપ માયાથી આવૃત થનાર છે અને આવૃત કરવાવાળા છે શિવના દ્વારા ઉત્પન્ન મલ તે ક્પ્પિ છે. આ ચિદ્રૂપ જીવ કર્મફળ ભોગવવા માટે માયાથી આચ્છાદિત થઈને મૂથ વગેરેથી ઉત્પન્ન થાય છે અને મલના વિનાશ થવાથી મુક્ત થર્ઈ જા.ય છે.

પુરૂષને જાન ઉત્પન્ન કરાવવા વાળી શક્તિ એક વિદ્યા છે. ક્રિયા તેની કલા છે કાળ તેનો રાગ પ્રવર્તક અને દેશ ભક્તિ તેનુ નિયમન કરવાવાળી છે સત્ રજ અને તમ રૂપ પ્રકૃતિ જ અવ્યક્તનુ કારણ છે કલા ક્રિયાત્મક છે અને ઈશ્વરીય શક્તિને વ્યજંતિ કરવાવાળી છે તેનાથી સૃષ્ટીના પહેલા અનભિવ્યક્તિ હતા અને સૃટીની દશામાં અભિવ્યક્તિ થર્ઈ અને આ અભિવ્યક્તિમાં વિમોહિત આત્મા ત્રણેય ગુછોનો ભોક્તા છે આ આત્મા બુધ્ધિ,ઈન્દ્રિય શરીરથી અલગ છે કારણ સહિત તેનુ જ્ઞાન ખુબજ અઘરૂ છે આત્મા સર્વવ્યાપ્ત હોવા છતાં પણ જોઈ શકાતો નથી અને ન તો ગ્રહણ કરી શકાય છે તે નો માત્ર અનુભવ જજ કરી શકાય છે.

આ શરીર દુ:ખોને પ્રામ કરતા નાશ થર્ઈ જનારૂ છે આત્મા અનેક શરીરોમાં રહે છે અને એક શરીરના જીર્ક થવાથી બીજાને પ્રામ કરી લે છે.આ આત્મા શરીરથી કયારેક સંયુક્ત હોય છે. ક્યરરકક વિભક્ત જે અજ્ઞાની છે તે સુખ છ્રઃનો વિષય હોવાને કારણે સ્વર્ગ-નર્કમાં જાય છે. પરમાત્માની પ્રેરણાથી ભરેલા પશુ મતલબ જવરર્તા રૂપમાં દેખાય છે. પરંતુ તે કર્તા હોતા નથી. કત્તા तो પરમેશ્વર છે.

પરમાત્મા ક્ષર અને અક્ષરના સંયોગથી સંપૂર્ણ દ્રશ્ય અને અદ્રશ્યને પ્રગટ કરે છે, ધારણ કરે છે અને તે પોતાનામાં વિશ્વ છે અને વિશ્યના વિનાશક છે. આ સંસાર એક વૃક્ષના રૂપમાં છે તેમાં સરખી અવસ્થાવાળ જ્રાત્મા અને પરમાત્મા નિવાસ કરે છે જીવાત્મા આ વૃક્ષના કડવા-મીઠા ફળ ખાય છે અને સુખ દુ:ખ વેઠે છે પરમાત્મા જ્રવાત્માના રૂપમાં જોતા રહે છે અનં દસેય દિશાઓમાં પોતાના તેજ પ્રકાશ કરતો સાક્ષીના રૂમાં સ્થિર રહે છે આજ પરબ્રહ છે, તેનાથી જ મૂનિઓએ જવાનુ છે એજ પરમેશ શંકર છે.

કાળની ઉંમર અથવા ગાળાનુ પ્રમાણ ધણુ જ અઘરૂ છે તેનુ પ્રથમ પરિમાણ નિમેષ છે ૧૫ નિમેષોની એક કાષ્ઠા,૩૦ કાષ્ઠાઓની એક કલા અને ૩૦ કલાઓનુ એક મૂર્સત અને ૩૦ મુરૂર્તોનો એક દિવસ-રાત તથા ૧૫ દિવસરાતોનો એક પક્ષ+ થાય છે બે પક્ષો (શુક્ત અને કૃષ્ણ) નો એક મહિનો થાય

છે છ મહિનાઓનુ એક અયન થાય છે અને બે ઉતરાતયણ અને દક્ષિણાયન અયનોનુ એક વર્ષ થાય છે. મનુષ્યનુ એક વર્ષ દેવતાઓનો એક દિવસ થાય છે.આ પરિમાણથી મનુષ્યોના ઉ૬૦ વર્ષોના વીતવાથી દેવતાઓનુ એક વર્ષ થાય છે.દેવતાઓના વર્ષને અનુરૂ ૪૦૦૦ વર્ષનો સતયુગ, ૩૦૦૦ વર્ષનો ત્રેતા અને ૨૦૦૦ વર્ષોનો द્વાપર અને ૧૦૦૦ વર્ષોનો કલિયુગ થાય છે અને ૧૦૦૦ કલ્યોના વિતવાથી એક મન્વંતર થાય છે હજ સુધી વિતેલા

હજારો મન્વંતરોની ગણતરી શક્ય નથી. બ્રહ્માજીનો કલ્પ એક દિવસના બરાબર હોય છે અને હજાર કલ્પ એક વર્ષના સમાન બ્રહાજીને માટે આઠ હજાર વર્ષોની ગાળો એક યુગ હોય છે એક હજાર યુગોનો એક સવન થાય છે અને બ્રહ્માજીનુ આખુ આયુષ્ય ૩૦૦૦ સવન છે બ્રહ્માજી એક દિવસમાં ૧૪ ઈન્દ્ર હોય છે અને આખા આયુष्यમાં ૫ લાખ, ૪૦ હજાર ઈન્द्रोનો જન્મ અને નાશ થાય છે વિષ્ણુના એક દિવસમાં બ્રહ્માજીની રૂદ્રના એક દિવસમાં વિષ્ણુજીની તથાં ઈશ્વરના એક દિવસમાં રૂદ્રનું આયુષ્ય સમાપ્ત થાય છે.

સૃષ્ટીથી પ્રલય સુધી બ્રહ્માજની પુર્વાર્ધ અને પરાર્ધ વાળુ આખુ આયુષ્ય પુરૂ થઈ જાય છે.જયારે અવ્યક્ત આત્મા વિકાર ભર્યો થઈ્ઈ જાય છે ત્યારે તે પ્રધાન અને પુરૂષ ધર્મી થઈ્ઈ જાય છે તેનામાં તમોગુણ અને સતોગુણ સરખા પ્રમાણમાં રહે છે પરંતુ ગુણોની આ સમાનતા તેને તમોમય કરી દે છે અને તેના વિભાગ નથી થતા તે સમયે શાંત વાયુથી નિશ્ચલ જળમાં કંઈપણ ખબર પડતી નથી અને આ અજાણ્યા જગતની વગ્ચે મહે શ્વર પરમ મહે શ્વરી નિશ્ણાનુ સેવન કરે છે સવાર થતા જ પ્રકૃતીના પુરૂષના મધ્ય પ્રવૃષ્ઠ થવાથી મહે શ્વર મહાયોગથી આ બંનેને શ્રુમિત કરે છે. ત્યારે પરમ બ્રહ્મ મહેશ્વરની આજાથી સૃષ્ટીની ઉત્પતિ તથા પછી લય થાય છે

સૌથી પહેલા પુરૂષ અધિષ્ઠિત અવ્યક્તથી બુધ્ધિ વગેરેથી લઈને અનેક વિકાર ઉત્પન્ન થયા અને આ વિકારોથી અપ્રતિહિત શક્તિ અને અણીમાં વગેરે સિધ્ધિમાં સંપન્ન બ્રહભ્મા પછી વિષ્ણુ અને રૂદ્ર ઉત્પન્ન થયા. આ ત્રણેય દ્વવતા આ પુરૂષ પ્રકૃતિની આત્મા છે. જે જગતના સૃષ્ટા અને ઈશ્વર તત્વમાં રહેલા છે. ત્યારબાદ બુધ્ધિ ખ્યાતિ અને મતિ ઉત્પન્ન થયા પછી પાંચ કર્મેન્દ્રિયા પાંચ જાનેન્દ્રિયા અને અગિયારમુ મન મનના અહંકારથી ભુતાટી,તન્માત્રા અને તેનાથી શબ્દ પછી આકાશ પછી સ્પર્શ પછી વાયુ રૂપ તેજ અને તેજથી રસ, રસથી જળ જળથી ગંધ, ગંધથી પૃથ્વી ઉત્પન્ન થઈ અને આ બાજુ પંચ મહાભૂતોથી ભર્યા આ જગત ઉત્પન્ન થયું.આ બધું મળીને એક અંડ ઉત્પન્ન

ગયો.એ અંડથી બ્રહ્મા ઉત્પન્ન થયા.તેજ બ્રહ્મા સૃષ્ટિના કર્મમાં ચાર મુખવાળા વિભક્તિઓથી ત્રિગુણ,ચારથી ચતુવ્યૂહ કહેવાયા આ અંડને ચારેબાજુથી દસ ગણુ તેજ,તેજથી દસ ગણો વાયુ,વાયુથી દસ ગણુ આકાશ,આકાશને પંચભૂત, પંચભૂતને મહ તત્વ અને તેને પ્રકૃતિ ઢાંકેલા છે. સંપૂર્ણ બ્રહાંડ પ્રકૃતિની સાથે આવરણથી ઢંકાયેલા છે અને આ આવૃત સાપેક્ષ છે.સૃષ્ટિનું સર્જન પાલન અને સંહાર કરવાવાળા દેવ પરસ્પર એંકબીજાને ધારણ કરે છે.

બ્રહ્માજના એક દિવસમાં ચૌદ મન્વંતર હોય છે એ દ્રષ્ટીથી એ બધાનુ વર્ણન ન કરી શકાય.કારણ કे તે અસંખ્ય છે.વર્તમાન વારાહ કલ્પના ચૌદ (સાત સ્વયંભુ, તથા સાત સાવનિક) મન્વંતર છે. અને આ સમયે સાતમો મન્વંતર ચાલી રહ્યો છે. પહેલા કલ્પની સમાત્તીથી અગ્નિદેવે સંસારને સળગાવ્યો અને પછી પાણીથી ભરાયેલા જોઈને પિતામહ બ્રહ્મા નારાયણ સ્વરૂપે જળની ઉપરજ સુઈ ગયા.તેથીજ તેમનુ નામ નારાયણ પડ્યુ પછી સવારે મુનિઓએ તેમની સ્તુતી કરી તેમને જગાડ્યા.નારાયણે જાગીને જ્યારે પોતાને એકલા જોયા તો તેમણે શિવજીનુ સ્મરણ કર્યુ અને તેમને એ પણ ખબર પડી ક પૃથ્વી પાણીમાં હુબી ગઈ છે.તેથી પૃથ્વીના ઉધ્ધાર માટે તેમણે વરાહનુ રૂ૫ ધારણ કર્યુ અને રસાતલમાંથી પૃથ્વીને કાઢી.

જ્યારે બ્રહહાજીએ સૃષ્ટિની ચિંતા કરી તો સૌથી પહેલા તમો મોહ, મહામોહ, તામિર્ત, અંદ્ર અને અવિદ્યા આ પાંચેયનો પાદુર્ભાવ થયો અને પછી બીજના ધડાની જેમ અંધકારથી ઘેરાયેલુ જગત દેખાવા લાગ્યુ ત્યારબાદ આસ્છાદિત આત્માવાળા વૃક્ષ, પર્વત વગેરેની સૃષ્ટિ બની ત્યારબાદ તેમણે નવી સૃષ્ટિનો વિચાર કર્યો તો ત્રાંસી ચાલવાવાળી સૃષ્ટિ બની ત્યારબાદ ફરી તેમણે સાત્વિક દેવસૃષ્ટિ બનાવી પછી પિતામહે માનવ સૃષ્ટિની રચના કરી બ્રહ્માજીની પાંચમી અનુગ્રહ સૃષ્ટિ ચાર રીતે રહેલી છે. મહત્ત સૃષ્ટિ, તન્માત્રાઓની સૃષ્ટિ, વૈકારિક સૃષ્ટિ અને ક્રાન કર્મેન્દ્રિય સૃષ્ટિ એ સાથે તિર્થક સ્થાવર દેવ અને મનુષ્ય સૃષ્ટિ જોડાઈને આઠસૃષ્ટિઓ બને છે.

આ સર્ગોમાં બ્રહ્માજીએ સૌથી પહેલા સનત કુમારજને ઉત્પન્ન કર્યા. ત્યારબાદ તેમણે ઘણુ જ તપ કર્યુ ઘણા સમય સુધી તપ કરવા છતાં કોઈ ફળ ન મળતા બ્રહ્માજીની આંખમાં આંસુ આવી ગયા અને આ આંસુઓથી પ્રેતોની સૃષ્ટિ બની.ત્યારબાદ બ્રહ્માજને ઘણી ગ્લાની થઈ અને તેમણે પોતાનુ શરીર છોડી દીધુ. ત્યારે પ્રજાપતિ પ્રગટ થયા અને તેમનાથી અગિયાર રૂદ્ર પ્રગટ થયા અને સૃષ્ટિ રચનામાં જોડાઈ ગયા શિવજીએ બ્રહ્માજીમાં મ્રાછોનો સંચાર કર્યો.

આ બધા રૂપ. મહેશ્ચથી ઉત્પન્ન થયેલા છે.સાક્ષાત ભગવાન અનેકરૂપ ધારણ કરે છે અને આ ત્રણેય એકબીજાથી ઉત્પન્ન થાય છે. એક હોવા છતાં એકબીજાથી મોટા થવાની હોડમાં રહે છે.શિવથી વધારે શક્તિ માંગવાને કારણે બ્રહ્મા ત૫ કરે છે. મેઘવાહન કલ્પમાં ભગવાન વિષ્ઝુએ દેવતાઓને દસ હજાર વર્ષ સુધી સુખ આપ્યુ.જે જોઈને મહેશ્વરે તેમને સર્वોતમ ભાવથી અવ્યક્ત શક્તિ આપી. જ્યારે બ્રહ્મા પોતાની પ્રજામાં વૃધ્ધિ ન જોતા શિવજન શરણમાં જાય છે પછી મહેશ્વરની ઈચ્છાથી કાલસ્વરૂપ ભગવાન રૂદ્ર પુત્રના રૂપમાં મ્રગટ થઈને બ્રહાને અનુગૃહિત કરે છે.

બ્રહ્માજએ જ્યારે જોયુ તો મારી સૃષ્ટિ વધતી નથી તો તેમણે મૈયુન સૃષ્ટિ કરવાનો વિચાર કર્યો પરંતુ શિવે નારી જાતને ઉત્પન જ કરી ન હતી ત્યારે બ્રહ્માજએ તપ કર્યુ અને શંકર અર્ધનારીશ્વરા રૂપમાં પ્રગટ થયા. તેમણે બ્રહ્માના મનની વાત જાણી લીધી અને એક પરમ શક્તિ દ્વેવીને ઉત્પત્ન કર્યા. આ દેવીની સામે બ્રહ્માજીએ મૈથુન સૃષ્ટિ પ્રારંભ કરવા માટે નારીકુળની ઉત્પતિની માગણી કરી આ શક્તિથી વ્રહ્માજી પોતાના આધા શરીરથી મનુ નામવાળા પુત્રને ઉત્પન્ન કર્યો અને બાકી અડધાથી શતરૂપા નામની ચ્રીને મનુ અને સતરૂપે પ્રિયઘ્રત અને ઉત્તનપાદ નામના બે પુત્ર આકૃતિ, દેવદુતિ અને પ્રસુતિ નામની ત્રણ કન્યાઓને ઉત્પન્ન કરી પ્રસુતિના લગ્ન

દક્ષ સાથે અને આકૃતિના રૂચી પ્રજાપતિ સાથે થયા આક્કૃતિના યજ અને દક્ષિણા પુત્રપુત્રીના રૂપમાં ઉત્પન્ન થયા અને પ્રસુતિને ચોવીસ કન્યા ઉત્પન્ન થર્ઈ તેમાં તેર કન્યાના ધર્મ સાથે લગ્ન કર્યા પછી બાકી અગિયાર કન્યાઓના ભૃગુ,રૂદ્ર વગેરે ઋષિઓ સાથે લગ્ન કર્યા.દક્ષ પ્રજપતિની પુત્રી જ પિતા દ્વારા પોતાના પતિના અપમાનને સહન ન કરી શકી.તેને કારણે યજની અગ્નિમાં ભસ્મ થઈ ગર.પછી તે હિમાલયના ધરમાં પ્રગટ થઈ્ઈ અને કઠરર ત૫ કરીને શિવને પતિના ३૫પમાં પ્રામ કર્યા.

ભૃગુએ ખ્યાતિથી વિષ્ણુ પ્રિયા લક્ષ્મી નામની એક પુત્રી અને બીધા ઘાતા,વિદ્યાતા નામના બે પુત્રોને જનન્મ આપ્યો.પછી ધાતા-વિદ્યાતાની પરંપરામાં હજારો પુત્ર ઉત્પન્ન થયા. જે ભાર્ગવ કહેવાયા મરિચીએ સંભૂતીથી ચાર પુત્રીઓ અને એક પુત્રને ઉત્પન્ન કર્યા.આ વંશમાં કશ્ય૫ ઋષિ ઉત્પન્ન થયા.અંગિરાએ સ્મૃતિથી અગ્નોથ અને સરભ બે પુત્રો તથા ચાર પુત્રીઓ અને સૃષ્ટિ રચનામાં જોડાઈ ગયા શિવજીએ બ્રહ્માજીમાં મ્રાછોનો સંચાર કર્યો.

આ બધા રૂપ. મહેશ્ચથી ઉત્પન્ન થયેલા છે.સાક્ષાત ભગવાન અનેકરૂપ ધારણ કરે છે અને આ ત્રણેય એકબીજાથી ઉત્પન્ન થાય છે. એક હોવા છતાં એકબીજાથી મોટા થવાની હોડમાં રહે છે.શિવથી વધારે શક્તિ માંગવાને કારણે બ્રહ્મા ત૫ કરે છે. મેઘવાહન કલ્પમાં ભગવાન વિષ્ઝુએ દેવતાઓને દસ હજાર વર્ષ સુધી સુખ આપ્યુ.જે જોઈને મહેશ્વરે તેમને સર્वોતમ ભાવથી અવ્યક્ત શક્તિ આપી. જ્યારે બ્રહ્મા પોતાની પ્રજામાં વૃધ્ધિ ન જોતા શિવજન શરણમાં જાય છે પછી મહેશ્વરની ઈચ્છાથી કાલસ્વરૂપ ભગવાન રૂદ્ર પુત્રના રૂપમાં મ્રગટ થઈને બ્રહાને અનુગૃહિત કરે છે.

બ્રહ્માજએ જ્યારે જોયુ તો મારી સૃષ્ટિ વધતી નથી તો તેમણે મૈયુન સૃષ્ટિ કરવાનો વિચાર કર્યો પરંતુ શિવે નારી જાતને ઉત્પન જ કરી ન હતી ત્યારે બ્રહ્માજએ તપ કર્યુ અને શંકર અર્ધનારીશ્વરા રૂપમાં પ્રગટ થયા. તેમણે બ્રહ્માના મનની વાત જાણી લીધી અને એક પરમ શક્તિ દ્વેવીને ઉત્પત્ન કર્યા. આ દેવીની સામે બ્રહ્માજીએ મૈથુન સૃષ્ટિ પ્રારંભ કરવા માટે નારીકુળની ઉત્પતિની માગણી કરી આ શક્તિથી વ્રહ્માજી

પોતાના આધા શરીરથી મનુ નામવાળા પુત્રને ઉત્પન્ન કર્યો અને બાકી અડધાથી શતરૂપા નામની ચ્રીને મનુ અને સતરૂપે પ્રિયઘ્રત અને ઉત્તનપાદ નામના બે પુત્ર આકૃતિ, દેવદુતિ અને પ્રસુતિ નામની ત્રણ કન્યાઓને ઉત્પન્ન કરી પ્રસુતિના લગ્ન દક્ષ સાથે અને આકૃતિના રૂચી પ્રજાપતિ સાથે થયા આક્કૃતિના યજ અને દક્ષિણા પુત્રપુત્રીના રૂપમાં ઉત્પન્ન થયા અને પ્રસુતિને ચોવીસ કન્યા ઉત્પન્ન થર્ઈ તેમાં તેર કન્યાના ધર્મ સાથે લગ્ન કર્યા પછી બાકી અગિયાર કન્યાઓના ભૃગુ,રૂદ્ર વગેરે ઋષિઓ સાથે લગ્ન કર્યા.

દક્ષ પ્રજપતિની પુત્રી જ પિતા દ્વારા પોતાના પતિના અપમાનને સહન ન કરી શકી.તેને કારણે યજની અગ્નિમાં ભસ્મ થઈ ગર.પછી તે હિમાલયના ધરમાં પ્રગટ થઈ્ઈ અને કઠરર ત૫ કરીને શિવને પતિના ३૫પમાં પ્રામ કર્યા. ભૃગુએ ખ્યાતિથી વિષ્ણુ પ્રિયા લક્ષ્મી નામની એક પુત્રી અને બીધા ઘાતા,વિદ્યાતા નામના બે પુત્રોને જનન્મ આપ્યો.પછી ધાતા-વિદ્યાતાની પરંપરામાં હજારો પુત્ર ઉત્પન્ન થયા. જે ભાર્ગવ કહેવાયા મરિચીએ સંભૂતીથી ચાર પુત્રીઓ અને એક પુત્રને ઉત્પન્ન કર્યા.આ વંશમાં કશ્ય૫ ઋષિ ઉત્પન્ન થયા.અંગિરાએ સ્મૃતિથી અગ્નોથ અને સરભ બે પુત્રો તથા ચાર પુત્રીઓઉત્પન્ન કરી. પુલત્સ્યએ પ્રીતિથી દંતાગ્નિ પુત્ર ઉત્પન્ન કર્યો. જે અગત્સ્યા ના નામથી પ્રસિધ્ધ થયો.

થોડા સમય પછી પ્રજા વધવા લાગી અને શુંભ તથા નિશુંભ નામના દૈત્યો ઉત્પન્ન થયા આ हैત્યોએ ઈન્દ્રરાજને જીતીને સ્વર્ગ પર પોતાનુ અધિપત્ય જમાવી લીધુ આનાથી બ્રહ્માજ ઘણા ચિંતિત થયા અને તે શંકરની શરણમાં આવ્યા.ભક્તોના આગ્રહ કરવાથી ભોળાનાથ પાર્વતીની પાસે પહોંચ્યા અને નારી જાતિની નિંદા કરવા લાગ્યા. પાર્વતી બોલ્યા કે જો તમે નારીના નિંદનારા છો તો મારી સાથે કેમ રહો છો અને પાર્વતી એ તેમની પાસે તપ કરવા જવાની અનુમતિ માંગી. શિવજએ તેમને ઘણા સમજાવ્યા પરંતુ ઉમાને તે ભ્રમ થઈ ગયો ક શિવજીએ તેમના

કાળાપણાને કારણે નારીનુ અપમાન કર્યુ છે. તેમણે મોડે સુધી ત૫ કર્યુ ત્યાં એક સિંહ જે પહેલા ઉમાનુ માંસ ખાવા ઈં્છતો હતો તે તેમની સેવા કરવા લાગ્યો. આ બાજુ દાનવોથી ત્રાસીને દેવતાઓ ફરી બ્રહ્માજ પાસે આવી ગયા બ્રહ્માજીએ પાર્વતીની પાસ આવ્યા ત્યારે પાર્વતીજીએ તેમને કહ્યું ક શિવજીએ સૌથી પહેલા તમને ઉત્પન્ન કર્યા. તેથી તમે $જ$ મારા સૌથી પહેલા તમને ઉત્પન્ન કર્યા. તેથી તમે જ મારા સૌથી મોટા પુત્ર થયા અને પ્રજાની વૃધ્ધિ માટે ભગવાન શંકર તમારા મુખેથી પ્રગટ થયા આ નાતે તમે મારા સસરા થયા અને તમે મારા પિતા હિમાલયના પિતા છો તેથી તમે મારા પિતામહ થયા. મારા તપનો ઉદ્દેશ ગોરો વાન પ્રાપ્ત કરવાનો छे.

બ્રહ્માજીએ કહ્યું કે આ રૂપ પરિવર્તન તમે તમારી પસંદગીથી કરી શકો છો.આ સમયે તો તમે શુભ અને નિશુંભને મારવાની કૃપા કરો.પાર્વતી એ ગૌરીનુ ર૫ ધારણ કર્યુ અને ત્યાં ઉત્પન્ન કૌશિકી નામની કન્યા અનેક અસ્તશસ્ત્રને લઈને વિઘ્યાંચલની તરફ ચાલી નીકળી અને તેણે શુંભ-નિશુંભનો વધ કર્યો.ત્યારબાદ ગૌરી શિવજીની પાસે પાછા ફર્યા.શિવજએ તેમનુ સ્વાગત કર્યુ ઉમાએ કૌશીકી અને સિંહનો શિવજી સાથે પરિચય

કરાવ્યો ત્યારે શિવજીએ કૌशીકીને આરાધ્ય દેવીના રપમાં સિંહને નંદીના રૂપમાં પ્રતિષ્ઝિત કર્યા. શિવજએ વાસ્તવિક સ્વરૂપને જાણવા માટે ઋષિઓને પૂછયુ કે હે ભગવાન એ બતાવો કે વેદોમાં શિવનુ સ્વરૂપ સવર્થા નિર્ગુણ કહેવામાં આવ્યું છે અને તેને સગુણ પણ કહેવામાં આવે છે. તો આ સગુણ અને નિર્ગુણ રૂપ જેમાં સંસાર રહેલો છે બંને એકજ છે કે અલગ-અલગ એક વિચારવાની વાત એ છે કે જો આ પરમ તત્વછ બધા પર પ્રેમ કરવાવાળુ છે તો બધાને એક સાથે મુક્ત કેમ નથી કરતા? પ્રારબ્ધ અને કર્મજ બંને ઈશ્વર પ્રદત્ત છે. આ બંનેમાં મુખ્ય કોણ છે.

મુનિઓની વાત સાંભળીને વાયુદેવ બોલ્યા-શિવજી સર્વતંત્ર છે પરંતુ સ્વતંત્રનો શબ્દનો અર્થ નિરપેક્ષ છે. જે વ્યક્તિ અનુગૃહિતને પરતંત્ર બનાવશે. તેનાથી નુકસાન થશે. જયાં સુધી અગુણ અને નિર્ગુણનો પ્રશન છે.સગુણ દ્વારા જ નિર્ગુણની પ્રાપ્તિ શક્ય છે. લાકડીમાં જે રીતે અગ્નિ હાજર રહે છે. દેખાતી નર્થી તેજ રીતે પરસ્પર સગુણ-નિર્ગુણ રહે છે. શિવજી અનુગ્રહ વાળા છે.નિગ્રહ નહીં જ્યારે કોઈ દોષ કરે છે.

તો શિવજી તેમને દંડ કરે છે. જો શિવ પોતાના ઈશરત્વને દંડ અને કૃપાથી સ્થાપિત ન કરે તો ઈશ્વર કેવી રીતે કહેવાશે. જો પાપીને દંડ ન આપવામાં આવે તો તે વધારે પાપ કરશે અને આ રીતે વ્યવસ્થા બગડશે. મૂર્તિમાં શિવનુ ઐદ્વર્ય છે શિવનો આદેશ જ શિવત્વ છે અને તેમનુ હિત અનુચ્રહં જેવી રીતે આગ સોનાને પિગળાવી દે છે. અંગારને પીગળાવતી નથી એજ રીતે શિવજી વ્યક્તિઓ પર કૃપ કરે છે અને દુષ્ટોને छંડ કરે છે.

જ્ઞાન અને અદ્વર્યની વિષમતા ઉંચી અને નીચી સ્થિતિનુ કારણ હોય છે. દેવતાઓની આઠ યોનિઓ ઘણી ઉત્તમ છે.મનુષ્ય મધ્ય યોનિમાં છે અને પશુની પાંચ યોનિઓ હોય છે ઉંચામાં (ંંચી યોનિમાં જવાનુ મનુષ્યના પોતાના વશમાં છે. પશુની આત્માના પણ સત રજ અને તમ ત્રણ ભેદ હોય છે. જો આ બધા ભેદો અને ઉપભેદોના કર્તા શિવજીની આજાનુ પાલન કરતા નથી તે દુ:ખી રહે છે.

જાનના બે પ્રકાર હોય છે. પરોક્ષ અને પ્રત્યક્ષ જે વ્યક્તિ અસ્થિર છે.તેને પરોક્ષ અને જે સ્થિર હોય છે.તેને અપરોક્ષ અથવા પ્રત્યેક્ષ કહેવામાં આવે છે હેતુ અને ઉદ્દેશ પરોક્ષ જાન છે.અપરોક્ષ માટે અનુष્ઠાન કરવામાં આવે છે અને ત્યારે તે પ્રાપ્પ થાય છે.તે માટે પ્રયત્ન જરૂરી છે. પ્રત્યક્ષ જાન મેળવવા માટે મોક્ષ મેળવવા માટે શિવની આરાધના મુખ્ય છે.આ પાંચ પ્રકારની છે ક્રિયા,જ્ય, તપ, ધ્યાન અને જાન વેદો પ્રમાણે ઉત્તમ અને અધર્મ ધર્મના બે રૂપ છે. ઈતિહાસ પુરાણ બધામાં શિવની આરાધનાને પરમ ધર્મના ૩૫માં માનવામાં આવે છે.શિવનુ રૂદ્રનામ એટલા માટે પડ્યુ કે તે દુ:ખ સુખને દુર કરવાવાળા છે તેમને પિતામહં એટલા માટે કહેવામાં આવે છે કે તે મૂર્તિમાન પિતા છે અને તેમની હંમેશાથી વિષ્ણુ નામની સંજા સર્વવ્યાપક હોવાને કારણે છે તે સર્વજ છે અને કોઈ અન્ય આત્માને આધિન નથી તેથી પરમાત્મા છે.

શિવજીનુ વ્રત ચૈત્રી પૂનમે કરવામાં આવે છે. તેરસના દિવસે નહાઈધોઈને આચાર્યની પુજી કરવી જોઈએ પછી તેમની આજા લઈને વર્ત્ર ધારણ કરીને માળા અને ચંદન વગેરેને ધારણ કરીને કુશના આસન પર બેસીને હાથમં કુશ લઈને આજીવન, બાર વરસ,છ વરસ,એક વરસ, મહિનો,દિવસ જેટલા દિવસ સુધી ઈચ્છા હોય તે સંકલ્પ કરો. ત્યારબાદ પંચાક્ષરી મંત્રનો પાઠ કરો અને પછી છાણનો એક કુંડ બનાવી તેને અગ્નીમાં રાખો અને જ હવિષ્ય અન્ન છે તેનુ ભોજન કરો.

બીજા દિવસે પણ અઆજ રીતે કરવુ જોઈએ. પુનમના દિવસે પહેલા બે દિવસની જેમજ પુજા કરવી બે વાર આચમન કરીને માથાથી પગ સુધી ત્રિપુંડ ષોડસોપચાર પુજા કરો. પુજાના પહેલા આવરણમાં શિવ, ગણેશ અને બ્રહા,બીજા આવરણમાં વિધ્નોનો નાશ કરવાવાળા અને ત્રીજા આવરણમાં વિધ્નોનો નાશ કરવાવાળા અને ત્રીજા આવરણમાં શિવની આઈ મૂર્તિઓ અને ચોથા આવરણમાં ગણેશ, મહાદેવના તથા પાં.યમાં આવરણમાં દિશાઓના સ્વામીઓનુ ધ્યાન કરવુ જોઈએ. રાત્રિમાં જમીન પર સુવુ જોઈએ અને અપવિત્ર વસ્તુઓથી દુર રહેવુ જોઈએ.

જુના સમયમાં વ્યાધ્રયાદના પુત્ર ઉપમન્યુ પોતાના પહેલા જન્મથીજ સિધ્ધ હતા અને તેજ કારણે મુનિ થઈઈ ગયા હતા. એક વખત તેમણે પોતાની માતા પાસે દુધ માંગ્યુ તો માં એ બનાવટી ઘોળ-ધોળીને દુધના રૂપમાં આપી દ્વીધુ.જ્યારે બાળકે ઘુંટડો ભર્યો ત્યારે માતાને ફરિયાદ કરી ક આ દુધ નથી. ત્યારે માં એ બાળકને સમજાવ્યું કે દુધ તો શિવજીની કૃપાથી મળશે.

શિવજીને પ્રસન્ન કરો. માં એ એ પણ કહ્યું ક પંચાક્ષર, મંત્રનો જાપ કરો. ત્યારે તેમણે ભસ્મ આપી અને કહ્યું કે આ ભસ્મથી ધણી-બધી મુશક્લીઓ ટળી જાય છે બાળકે પોતાના મનમાં આ વાતને ધારણ કરીને ભુખ્યો જ સુઈ ગયો.અડધી રાત્રે દરવાજામાં જોયુ તો શિવજી દુધનુ પાત્ર લઈને ઉભા છે.તેને લાગ્યુ કે શિવજ તેને બોલાવી રહ્યાં છે.શિવજને બહાર સમજને તે બહાર આવ્યો પરંતુ તેને કંઈજ દેખાયુ નહી તે છતાં પણ ચાલતો જ રહ્યો. થોડે દુર જઈને તેને શિવમંદિર દેખાયુ અને તેણે વિચાયું ક શિવજ તેમાં છુપાયેલા હશે. તેથી તે અંદર ચાલ્યો ગયો.

ત્યાં જઈને શિવલિંગથી વીંટળાઈને વારેવારે પંચાક્ષર મંત્રનો જાપ કરવા લાગ્યો.થોડી વારમાં એક પિશાચ મંદિરમાં આવ્યો અને તે બાળકને ઉઠાવીને નજીકના પર્વતમાં ગુફામાં લઈ ગયો. તો બાળકને ખાઈ જવાની ઈચ્છા થઈ. પરંતુ જેવો તે બાળકને મોમાં નાખવા લાગ્યો તેવા જ એક અજગરે તેને ૩સી લીધો બાળકનુ ગળુ સુકાઈ ગયુ હતું છતાં પણ તેના મુખમાંથી શિવજીના મંત્રનો જાપ ચાલુ હતો તેનુ ત૫ એટલુ પ્રભાવશાળી હતું કે તેનાથી વ્યાકુળ થઈને દેવતા લોકો શિવજની પાસે ગયા અને શિવજએ તેમને આશ્વાસ આપી પાછા મોકલી દીધા.

થોડીવાર પછી ઈન્દ્રનું ३૫ ધારણ કરીને શિવજ ઉપમન્યુની પાસે ગયા અને તેને વરદાન માંગવા માટે કહ્યુ. त्यારે ઉપમન્યુ બોલ્યો के મને શિવ ભક્તિનુ વરદાન આપો.તેના પર શિવજ બોલ્યા ક તુ શિવજની ભક્તિ છોડીને કોઈ બીજ દેવતાની ભક્તિ કરો અને પોતાનુ ઈસ્છિત ફળ મેળવો શિવજની નિંદા સાંભળી બાળક ઉપમન્યુ ધછો દુઃ: થયો અને ક્રોધિત થર્ઈ ગયો. તેછે પોતાની ભસ્મને મંત્ર બોલીને ઈન્દ્ર ઉપર ફંકી દીધી ઉપમન્યુ નીસા ભસ્મને નદીએ પોતાની ઉપર શ્રહછ કરી અને શિવજ બાળકની તપસ્યાથી પ્રસન્ન થયા તથા તેને પોતાના દર્શન કરાવ્યા ત્યારે ઉપમન્યુ ખુશ થઈન ભક્તિ વરદાન આપ્યુ. તે ઉપમન્યુ એ છે.જેણે શ્રીકૃષ્ઝે પાશુપાત વ્રતનુ જાન આપ્યુ. જેનાથી તેમને પુત્રની પ્રાપ્તિ થई.

Shiv Puran in Gujarati – ઉમા સંહિતા

Shiv Puran in Gujarati - ઉમા સંહિતા

The recitation of Shiv Puran in Gujarati is a sacred tradition that unites devotees in their love for Lord Shiva.

Shiv Puran in Gujarati – ઉમા સંહિતા

મહાત્મા સુતજને ઋ ષી બોલ્યા તમે મને શિવજ અને પાર્વતીના અન્ય ગુપ્ત ચરિત્રો. સંભળાવવાની કૃપા કરો. સુતજીએ કહ્યું કે, હે મુનીઓ? શિવજીનું આ ચરિત્ર ઉ૫મન્યુએ કૃષ્ણને બતાવ્યુ હતું અને એજજ ચરિત્ર હું તમને લોકોને

એક વખત श्रीકૃષ્ણ કैલાસ પર્વત પર શિવજીને પ્રસન્ન કરવા માટે તપ કરવા ગયા. ત્યાં તેમણે ઉપમન્યુને ત૫ કરતા જોયા અને તેમને પ્રાર્થના કરી કे તે તેમને શિવચરિત્ર સંભળાવે. શ્રીકૃષ્ણની વાત સાંભળીને ઉપમન્યુ બોલ્યા है શિવજને પ્રસન્ન કરવા માટે બ્રહ્મા,વિષ્ણુ વગેરે અનેક દેવતાઓને મેં તપસ્યા. કરતા જોયા છે શિવજીની રૂપ અનુપમ છે અને તેમનુ મહાત્ય પણ અલૌકિક छ. શંકરજના

દિવ્ય રૂપને જોઈને મેં જ્યાર તેમના પુજી-અર્ચના કરી ત્યાર તેમણે વરદાન માંગવા કહ્યું. મેં વરદાનમાં માંગ્યુ કે મને ત્રણ કુળોનુ જાન થર્ઈ જાય. તમારામાં પ્રગાઢ ભક્તિ રહે અને પરિવારને હંમેશા દુત-ભાત મળતા રહે. શિવજ પાસે મારૂ માંગેલુ બધું મને સહજ ઉપલબ્ધ થઈ ગયુ. શ્રીકૃષ્ણના પુછવાથી ઉપમન્યુએ કહ્યું કે હું કંઈક અવિશિષ્ટ શિવભક્તોનુ વર્ણન કરતા શિવ અને શિવ ભક્તિનુ મહાત્મ્ય બતાવુ ધું.

હિરણ્યકશિયુએ એકવાર મહાદેવની આરાધના કરી દેવોના જેવુ ઐ શ્યર્ય મેળવ્યુ.આ કારણે તેણે અનેક દેવતાઓને પણ હરાવ્યા ત્યાં સુધી કे પ્રહલાદે ઈન્દ્રબને પરાજિત કર્યા અને ત્રણેય લોકો પર અધિકાર જમાવી દીધો. મહાદેવજીની પુજાથી જ યાજવલ્કયને ફાન ઈન્દ્રથી પરાજીત બાલખિલ્ય ઋષિઓને શિવજની કૃપાથી જ સોમરસનુ હરણ કરવાવાળા ગરૂડજને સહાયકના રૂપમાં પ્રાપ્ત કર્યા.ચિત્રસેન અને ગોપિકાપુત્રને મહાદેવને પુજાથી જ પરમસિધ્ધિ પ્રાપ્ કરી રાજા ચિત્રાંગદને શિવજીએે યમુનાથી બચાવ્યા અને ચંચુકાને પરમ ગતિ પ્રદાન કરી શિવજીએ જ મંદર બ્રાહ્મણ અને પિંગળા

આગ લગાવનારા, પણ નરકગામી હોય છે. ર્રીનો વેપાર કરવાવાળા, પાખંડી,કૃતધ્ની,સાર્વજનિક સ્થળોને અપવિત્ર કરવાવાળા, અશ્રિતોને પીડા આપનારા, ઘુસખોરી, પશુહિંસા વેપારમાં કપટ કુરતા કરવાવાળા નરકગામી થાય છે.
હે ષિઓ, મનુષ્ય પોતાના કર્મનુ ફળ જરૂ ભોગવે છે ખરાબ કામ કરનારા કોઈપણ એવા નથી જે યમલોકથી બચી શકે. ધર્માત્મા લોકો સૌમ્યમાર્ગ પૂર્વ દ્વામર જાય છે અને પાપી દક્ષિણ માર્ગથી યમલોક

જાય છે આ રસ્તો કઠોર પત્શરથી છરાની ધાર જેવો બન્લો હોય છે. એમાં કયાંય અંધકાર,કાદવકીચડ તપી બાલુ સિંહ, વરૂ વગેરે ભયંકર પશુ છે.અજગર, જોંક વગેરે પણ છે અને અહીંયા યમલોકમાં પાપી પ્રાણીને તેમના કર્મોનું ફળ આપવા માટે લાવવામાં આવે છે કોઈને ઉલટા લટકાવે છે અને કોઈને કામ,ગાલ, નાકમાં ખીલ્લા ઠોકે છે અને ઘણાને ખુબજ ધસડે છે એનાથી ઉંધુ શુભ આચરણ કરવાવાળી વ્યક્તિઓનું સ્વાગત કરવામાં આવે છે.

સનતકુમારજીએ ત્યારબાદ જુદા પ્રકારના પાપોની જુદી યાતનાઓનો પરિચય આપ્યો. તેમણે કહ્યું કે અસત્ય શાસ્ત્રમાં પ્રવૃતી કરવાવાળા દ્વિિ હારવ્ય નરકમાં જાય છે અને ત્યાં તેને તેજ હળથી ધાયલ કરવામાં આવે છે.માતાપિતા તથા ગુરને ભય દેખાડવા વાળાના મોંમાં વિષ્ટા નાખવામાં આવે છે. જે મંદિર, કુવા વગેરેને તોડે છે. તેને ધાણીમાં પીલવામાં આવે છે. સજ્જનો ની નિંદા સાંભળનારાના કાનમાં ખીલા ઠોકવામાં આવે છે ધર્મ ગ્રંથો, શિવલિંગો બ્રાહ્મણોને પગ લગાડવા વાળાના પગ કાપી નાખવામાં આવે છે. પિતાનુ તર્પણ ન કરવાવાળાને તમિસ્ત્ર નરકમાં જાય છે. આ બધાના વિરૂધ્ધ ઉત્તમ કર્મ કરવાવાળા લોકો યમલોકમાં સુખ મેળવે છે.

જે બ્રાહ્મણને ચાખડી આપે છે તે ઘોડા પર ચઢીને યમલોકમાં જાય છે. પુષ્પવાટિકા લગાવનારા પુષ્પક વિમાનથી અને દાન કરવાવાળા સુખયાનથી લઈ્ઈ જવામાં આવે છે અને ત્યાં સુખેથી રહે છે.અન દાન સમાન કોઈ્ઈ પૂણ્ય નથી અન્નને પ્રાણ કહેવામાં આવે છે. તેથી અન્નદા પ્રાણદાન છે. આવી વ્યક્તિઓને કોઈ અસુવિધા હોતી નથી. જળદાન પણ મહિમાવંતુ છે જળદાન આ લોક અને પરલોકમાં આનંદ આપનાર છે.એથી જ મનુષ્યએ તથાવ,

ક્રવ વગેરે ખોદાવવા જોઈએ કારણ દક દેવ પિતૃ, નાગ રાક્ષસ ગંધર્ સ્થાવર, શુલાદિક બધા જળનો સહારો લે છે આ રીતે વન-ઉપવનમાં વૃક્ષ લગાવવાનું પણ ઉત્તમ ફળ જાય છે એક જન્મમાં લગાવેલા વૃક્ષ બીજા જન્મમાં પુત્ર પ્રાપ્તિ કરાવે છે સતત્ય વચન પરમ કલ્યાણકારી છે.તપથી સ્વર્ગ, યશ,કામ, મોક્ષ, જાન-વિજ્ઞાન સૌભાગ્ય તથા રૂપ પ્રામ્ત થાય છે તપથી બ્રહ્મા, વિષ્ચુ અને રૂદ્ર સૃષ્ટીની રચના પાલન અને સહાર કરવામાં સામર્થ બને છે. વિશ્ધામિત્ર તપથી જ ક્ષત્રિયમાંથી બ્રાહ્ભપ બની ગયા.

સનતકુમારજી કહે છે જે રીતે સુર્ય, ચંદ્ર વગર સંસાર અંધકાર જાય છે એ રીતે પુરાણો વગર સંસારમાં અજ્ઞાનનું સામ્રાજય છે. પુરાણો દ્વારા જ અજાન દૂર થાય છે પુરાણ કહેવાવાળા પણ બીજાને પતનથી બચાવે છે. બ્રહ્મા વિષ્ણુ અને શિવપુરાણ વકતા હોવાથી પરમ પુજનિય છે. પુરાણ કહેવાવાળા પણ બીજાને પતથની બચાવે છે બ્રહ્મા વિષ્ણુ અને શિવપુરાણ વકતા હોવાથી પરમ પુજનીય છે. પુરાણોના જ્ઞાની વિદ્યાનોને સંતુષ્ટ કરવાવાળા મનુષ્ય સૌભાગ્યની ગતિ પ્રાપ્ત કરે છે અને તેનાથી શિવલોક પ્રાપ્ત થાય છે શિવની કથા સાંભળનારા સાક્ષાત રૂદ્ર બની જાય છે.કલયુગમાં શિવપુરાણને કહેવા અને સાંભળવાથી મોટુ કોઈ પુણ્ય નથી.

સુતજી કહે છે કે બ્રહ્માંડને કારણે ધૂત અનામ તથા કાલભૂત વ્યક્ત અને અવ્યક્ત શિવજથી બે પ્રકારના બ્રહ્મા પેદા થાય છે. જો ચૌદ ભુવનવાળા બ્રહ્માંડની રચના કરે છે. બ્રહ્યાંડમાં સાત પાતાળ અને સાત ભૂતળ છે.સૌયજન વિસ્તારવાળા સાતા પાતાળના નામ અટલ,વિતલ,સુતલ, રસાતલ, તલ,તલાતલ અને પાતાળ એ સાતેય પૃથ્વીની નીચે છે અને આ લોકના મોટા મોટા મહેલ સોનાના અને રત્નોથી જડેલા છે એમાં દાનવ,દૈત્ય તથા નાગ અને રાક્ષસ જાતીઓ રહે છે અહીંની પ્રકૃતિ ઘણી સુંદર છે એ લોકોની ઉપર શૌરવ કતાલ, રોધ, રવણ, વિલોહીત કૃમિ, બિવસન વિગેરે અનેક પ્રકારના નર્ક છે તેના ઉપર

પૃથ્વી મંડલ છે. જેમાં જંબુ, પ્લવક્ષ,ક્રાંચ, પુઠકર, સાક, શાલ્મલી વગેરે દ્વીપ છે અનો લવણ, ઈક્ષરસ, દ્રુત, મધ, દુગ્ધ, દધિ અને જળના સાત સમુદ્ર છે એ બધાની વચ્ચે જમ્બુધ્વી છે જેની વચ્ચે સોળ યોજન ઉંચો ચોર્યાસી યોજન ઉંચો અને બત્રીસ યોજન પહોળો એક સ્વર્ણમયી કૈલાસ પર્વત છે તેના દક્ષિણમાં હિમકુટ અને હિમાલય તથા ઉતરમાં શ્વેત અને શૃंગોવાળા અન્ય પર્વત છે. તેમાં ભાર્ત વર્ષ નામનુ હજારો યોજન વિસ્તૃત મોટો દેશ છે તેની આગળ સુમેર દક્ષિણમાં હરિવંશ ઉતરમાં રમ્યક તથા સમાનાંતર હિરણ્યમ પર્વત છે. તેના પર ઉતરમાં કુરૂ વચ્ચમાં ઈલાવૃત અને મેરૂ પર્વત છે સમેરૂથી મળેલા-પૂર્વમાં મંદરાચલ, પશ્ચિમમાં વિપુલ અને દક્ષિણમાં ગંધમાદન અને ઉત્તરમાં સુયાશ્વ

ચાર પર્વત છે જાંબુના ફળને કારણે તેનુ નામ જમ્બુદ્વીપ પડયુ.કારણ કે તેના પત્થરો પર પડવાથી નીકળેલા રસથી જમ્બુરસની નદીના કીનારે રહેવા જાળા પ્રાણી પીડામુક્ત હોય છે સમુરૂના પૂર્વમાં ભદ્રાશ્ય, પશ્ચિમમાં કેતુમાલ અને તેમની વચ્ચે ઈલાવૃત વન છે તેના પૂર્વમાં ચૈત્રરથ પશ્ચિમમાં વિભરાજ અને ઉતરમાં નંદનવન તથા દક્ષિણમાં ગંધ માદન છે.

ભારત વર્ષ સાગરથી ઉત્પન્ન નવનો દ્વીપ છે દક્ષિણની તરફ હજારો યોજના ફેલાયેલા આ દ્વિપના પૂર્વમાં કિરાત ઉતરમાં તપસ્વી તથા દક્ષિણમાં યવન નિવાસ કરે છે. મધ્યમાં બ્રાહ્મણ, ક્ષત્રિય વૈદ્ર પોત પોતાનુ કાર્ય કરે છે. અહીંયા મલય મહેન્દ્ર, સુદામા, વિધ્ય, અક્ષય અને પરિપાત્ર તથા સહયય નામના સાત પર્વત છે. પરિયાત્રથી વેદ, સ્મૃતી, પૂરાણ વગેરે ઉત્પન્ન થયા છે. નર્મદા, સુરસા વગેરે સાત મહાનદીઓ સ્લિવાયની અનેક નદીઓ વિદ્યાચલમાંથી નીકળીને વહે છે ભારત વર્ષ જમ્મુ द्विવમાં श्रेष्ठ કર્મ અને કર્મભૂમી છે. મોટા પુણ્યથી અહીંયા મનુષ્ય જન્મ મળે છે.સ્વય ભગવાન અવતાર ધારણ કરીને અહીંયા વિચરણ કરે છે.

ચંદ્ર અને સુર્યની કિરણોના પ્રસાર સુધી પૃથ્વીને ભૂલોક કહેવામાં આવે છે. પૃથ્વીના એક લાખ યોજનના ઘેરામાં સુર્યમંડળ છે જેમાં એક હજાર યોજનના ઘેરામાં સુર્ય રહેલો છે ચંદ્ર સુર્યથી એક લાખ યોજન ઉ૫ર છે. ચંદ્રની ઉપર દસ-દસ હજાર ઉપર ચારે તરફ ગ્રહોનુ મંડળ છે. પછી તેની આગથ બુઘ, પછી તેની આગળ શુક્ર પછી મંગળ અને પછી ગુર અને બધાથી ઉપર શનિ રહેલો છે તેનાથી એક લાખ યોજન ઉપર સપ્રષષિનુ મંડળ છે અને તેનાથી સાત હજાર યોજન ઉપર ધુઘની વચ્ચે ભૂલોક, ભુવ:લોક અને સ્વર્ગલોક છે ધ્રુવલોકની ઉપર મહલોક છે અને તેની છવીસ લાખ યોજન સુધી તપલોક છે અને ત્યાંથી ગણા દુર સત્યલોક છે.

શાન અને બ્રહચારી ભૂલોકમાં સિધ્ધિ અને દેવતા તથા મુનિ ભુવ:લોકમાં આદિત્ય પવન વસુ વગેરે સ્વર્ગ લોકમાં રહે છે. બ્રહ્માંડ ચારે બાજુથી અંડકટાહથી લપેટાયેલુ છે અને પાણીથી દસ ગણુ આગ,પવન,આકાશ,અંધારૂ વગેરે વ્યાપ્ત છે એના ઉપર મહાભૂતોનો વાસ છે ત્યારબાદ આ બ્રહ્યાંડને પ્રધાન. મહાતત્વોથી લપેટીને પરમ પુરૂષ રહેલો છે.

સનતકુમારજીએ ફરીથી બ્રહ્માંડ ઉપર લોકોનો પરિચય આપતા કહ્યું કे બ્રહ્માંડની ઉપર બે વૈક્કુંઠ છે એ વિષ્ગુજીનુ નિવાસ સ્થથ છે તેના ઉપર કુમાર લોકમાં કાર્તિકેય રહે છે તેના પછી ઉમા લોક છે જેમાં શિવ શક્તિ સુશોભીત છે તેની ઉપર સનાતન શિવલોક છે તેમાં મહેશ્વર,ત્રિગુણાતિત પર બ્રહ્મ રૂપમં સિમિત છે તેની પાસે જ ગૌલોક છે.જયાં નૌમાતા નીવાસ કરે છે અને કૃષ્ણજી ગૌસેવા કરે છે.

મનુષ્ય જ નહી પણ દેવ, ગધર્વ વગેરે જાતિઓનો પણ પરમ લક્ષ્ય શિવલોકની પ્રાપ્તિ છે પરંતુ આ પદ માત્ર મનુષ્ય જ પામે છે.કારણ કે તે જ એક કર્મયોની છે અન્ય તો ભોગયોનીઓ છે કર્મ જ મનુષ્યની વિશિષ્ટતા છે મનુષ્ય જ જો ઈચે તો તપથી શિવજને પ્રાપ્ત કરી શકે છે. બ્રહ્મા વિષ્ણુ વગેરે પણ તપમાં જ રહેલા છે.તપના ત્રણ પ્રકાર છે.સાત્વિક,રાજસીક, તામસિ.ક નિષ્કામ ભાવ અને હિતથી કરેલુ તપ સાત્વિક હોય છે. સાત્વિકની અંતર્ગત જ પુજા, વ્રત,દયા,કુપવાળી બનવાનું છે તેનાથી બધા ફળોની પ્રાપ્તિ થાય છે.

કામની ઉદેશથી કરેલુ તપ રાજ્સીક છે અભિષ્ક સિધ્ધિનો પ્રદાતાં છે પરંતુ બીજાના અનિષ્ટ માટે કરેલુતપ તામસિક હોય છે તે અનિચ્છનિય હોવા છતાં સિધ્ધી આપ છે છેવટે તે તપ તો છે જે પ્રાણાયમને સર્વોત્તમ સાત્વિક ત૫ કહેવામાં આવ્યુ છે. સનતકુમારજી કહે છે કે ભગવાન શંકરના અંશથી બ્રાહ્મણ, क्षત્રિય વગેરે ચારેય વર્ણ ઉત્પન્ન થયા છે. અને તેમની ઉત્કૃષ્ટતાનુ સર્વશ્રેષ્ઠ છે પરંતુ ક્ષત્રિયનો સંગ્રામ પણ તપની જ સમાન હોય છે.

વ્યાસજીએ કઘ્યું કે હે મુનિ હવે તમે જીવોના જન્મ, ગર્ભસ્થિત અને વૈરાગ્ય અંગે વિસ્તારથી બતાવોએ સાંભળીને સનતકુમારજી બોલ્યા કे જે રીતે અન્ન અને જળ પાક પાત્રમાં અલગ રહે છે અને પછી આગમાં ગર્ભ જળ બનીને રસ અને મળ બંનેમાં વિભક્ત થઈ્ઈ જાય છે તેજ રીતે ભોજન પણ રસ અને મળના રૂપમાં વિભાજત થાય છે. રસ આખા શરીરમાં પ્રસરી જાય છે અને મળના રૂપમાં બહાર નીકળે છે.આ બાર સ્થાન છે.

કાન, નાક, જીભ, દાંત, આંખ, લિંગ, ગુદા, મલાશય,કફ,સ્વેદ, મૂત્ર અને વિષ્ઠા હદય કમળથી યુક્ત નાડિયો દ્વારા રસ શરીરમાં પહોંચે છે અને જ્યારે આત્મા તેને પચાવી લે છે તો તે પહેલા ચામડી અને લોહી બને છે. તેના પછી રંવાટીવાળા, નખ વગેર ઉગે છે અને તેના પછી મજ્જનથી વિક્ક થઈને પ્રસવના હેતુ શુક્ર એટલે કे વીર્ય ઉત્પન્ન થાય છે. જીવની પ્રવૃત્તિ ગર્ભમાં હોય છે જ્યારે વીર્ય ર્ત્રીના લોહીમાં ભળી જાય છે.તે એક દિવસમાં કલિલ અને પાંચ રાતમાં પરપોટા સમાન હોય છે. સાત રાતમાં માંસપિંડ બની જાય છે અને બે મહિનાની અંદર ગરદન, ખભા, પીઠ,છાતી, ઉદર હાથ અને પગ બને છે ત્રીજા મહિનામાં

અંકુરસંધિ અને ચોથામાં આંગળીઓ પાંચમાં મોં અને નાક અને કામ છઠામાં દાંત કાન છિત્ર વગેરે સાતમામાં ગુદા, નાભિ વગેરે બને છે. આ રીતે માતાના ગર્ભમાં જીવ સાત મહિનામાં અંગ ઉપાંગોથી પૂર્ણ બની જાય છે અને પછી માતાના ભોજનના રસથી તંદુરસ્ત બનતુ રહે છે .માતાના ગર્ભમાં જ જીવને પોતાના અનેક જન્મોના સ્મરણથી સુખ-દુ:ખ અને દુ:ખથી ભરેલો હોય છે અને આ સંસારમાં ફરે છે.

માતાના ગર્ભથી બહાર આવીને તે ગર્ભ યંત્રની પીડાથી તો મુક્ત થઈ્ઈ જાય છે પરંતુ સંસારના મોહમાં પડી જાય છે.તેની પૂર્વ સ્મૃતિ નષ્ટ થઈ જાય छे. જીવ બાળપણમાં કંઈ પણ કરી શકે છે પરંતુ કરી નથી શકતો. પછી ધીરે ધીરે વધવાથી તે સંસારમાં સકત થઈ્ई જાય છે અને છુ:ખને જ સુખ સમજવા લાગે છે તેનો સૌથી અજ્ઞાન પૂર્ણ પ્રસંગ સ્ર્રીનો સંગ છે અને ર્રી બધા દોષોનુ ઘર છે. કેટલીયવાર કુળવાન અને સુશિક્ષિત પુરૂષ દ્વારા સુરક્ષિત હોવા છતાં સ્રીઓ મર્યાદામાં નથી રહેતી સ્ર્રીનો એક દોષએ પણ છે કे તે બીજા પુરૂષમાં આસક્ત થઈ્ઈ જાય છે અને અધમ સ્રીઓમાં આસક્ત બનીને મનુષ્ય પોતાનુ અનિષ્ટ કરે છે.

ત્યારબાદ સનતકુમારજીએ મૃત્યુ સુચક ચક્ર અથવા લક્ષણોનો ઉલ્લેખ કર્યો છે તેમના પ્રમાણે જ્યારે શરીર ચારેબાજુથી પીડા અને ઉપરથી લાલ થઈ જાય છે અને મુખ,કાન,આંખ,જીભ વગેરે બંધ થવા લાગે તો સમજી લેવુ કે છ મહિનામાં જ મૃત્યુ થવાનું છે. જો મનુષ્યને સુર્ય ચંદ્ર વગેરેનો પ્રકાશ ન દેખાય અને બધા પદાર્થ કાળા દેખાય તો છ મહિનામાં મૃત્યુ થર્ई શકે છે.

કાળ વાંચનની વિધી બતાવતા શિવજીએ પાર્વતીને કહ્યું કे આકાશ પંચભૌતિક શરીરમાં વ્યાપક છે અને બાકીના બધા તત્વ આકાશમાંથી ઉત્પત્ન થાય છે અને લીન થાય છે.કાળને કોઈ વંચિત નથી કરી શકતુ પરંતુુ આ વાતનો વિચાર કરે છે કે પંચભૂત જ્યારે ગુણ ગ્રહણ કરે છે તો જન્મ થાય છે અને જ્યારે ગુણોનો ત્યાગ કરે છે ત્યારે મૃત્યુ થાય છે.યોગી જ્યારે પોતાની તર્જનીઓથી પોતાના બંને કાન બંધ કરે છે તો તેને એક અગ્નિ પ્રેરીત તુમકાર शબ્દ સંભળાય છે એ શબ્દ સાંભળીને યોગી મૃત્યુને જીતી લે છે. વાયુને અંદર રોકવાનુ નામ મ્રાણાયમ છે તે ખુબજ શક્તિશાળી પ્રક્રિયા छे. જ્યારે મનુષ્ય વાયુને અંદર રોકે છે તે દિપકની જેમ અંદર તથા બહાર

પ્રકાશ કરે છે ધ્યાનમાં તપ્પર યોગી પરમ ધામ પહોંચીને ત્યાંથી પાછો ફરતો નથી.પ્રાણાયામનુ બીજુ રૂપ એકાંતમાં ચંદ્ર અથવછા સુર્યથી પ્રકાશીત પ્રદેશને નિરાલસ્ય થઈને ભૃદૃટીઓની વચ્ચે જોવુ અને હાથની આંગળીઓથી આંખો બંધ કરી ક્ષણિક ધ્યાન મેં તપ્પર રહેવુ છે આ રૂને અપનાવનાર યોગી ઈશ્વરિય જયોતીનો અનુભવ કરે છે અને તે મૃત્યુથી છુટી જાય છે.

ત્રીજુ રૂપ છે જભ જીભને તાળવામાં વાળીને લગાવવાનો અભ્યાસ કરવો તેનાથી જીભ લાંબી થાય છે અને તેમાંથી અમૃત ટપકે છે જે અમર કરી દે છે.ચોથો પ્રકાર તે છે જેમાં યોગી ઉંચો થઈને અંજલિ બાંધીને ચાંચના આકારવાળા મુખ મોં વાયુ પાન કરે છે એમાંથી કોઈપણ એક વિધિને અપનાવીને અમૃત તત્વ પામી શકાય છે.શંકરજએ પાર્વતીને કાળના જપનો એક અન્ય ઉપાય બતાવ્યો તેમણે કહ્યું કे સુર્ય અથવા સોમને પાછળ કરીને સફેદ ક૫ડા પહેરીને ધુપ વગેરેથી સુગંધિત थઈને ॐ નમો ભગવતે રૂદ્રાયનો જાપ કરી બ્રહ્મની પ્રાપ્તી થાય છે છાયા પુરૂષને જોઈને એક વર્ષ સુધી આ મંત્રનો જાપ કરનારને બધી સિધ્ધિઓ મળે छे.

શૌનક વગેરે ઋ પી પુન:સૃષ્ટિનુ રહસ્ય પુછવા લાગ્યા ત્યારે સુતજએ તેમને કહ્યું કે દરેક સમયે બ્રહ્માજી પર સૃષ્ટિને ઉત્પન્ન કરવાનો ભાર હોય છે. વિષ્ણુ પાલન કરે છે અને શિવ સંહાર છે સૃષ્ટિ-રચનાની ઈચ્છા પર સ્વયંભૂ પહેલા જળને ઉત્પન્ન કરે છે અને પછી તેના બીજ નાખે છે જેનાથી જળ પર નર અને તે નરનો પુત્ર નાર કહેવાય છે અને પછી જળમાં રહેલા અંડના બે ભાગ કરે છે.એક ખંડ આકાશ અને એક ખંડ ભુમી કહેવાય છે. પ્રભુ ચૌદ ભુવન બનાવે છે પછી જળના ઉપર રહેલી પૃથ્વી અને આકાશ દસ દીશાઓને મન વાણી,કામ,ક્રોધ,રતિ વગેરેને બનાવે છે.પછી

મરિચી,અંગીરા વગેરે સાત ષિઓને પછી પોતાના ક્રોધથી અગિયાર રૂદ્રોને તથા સનતકુમારોને ઉત્પન્ન કરે છે યજની વિધિ માટે બ્રહ્માજી ચાર વેદોનુ નિર્માણ કરે છે અને પછી પોતાના મુખેથી દેવતાઓલના વક્ષ સ્થળથી પિતૃઓને જંધારોથી મનુષ્યને અને નીચેના ભાગથી દૈત્યોને ઉત્પન્ન કરે છે આવુ કરવાથી પણ બ્રહ્માજીની પ્રજા વધતી નથી તેથી તે પોતાના શરીરના જ બે ભાથથી સ્ત્રી અને પુરૂષ કરે છે. ત્રી ભાગ શતરૂપા અને પુરૂષ ભાગ મનુ કહેવાય છે. મનુ-શતરૂપથી ઉત્પન્ન પ્રિયવ્રત અને અત્યંત તેજસ્વી પુત્ર ધ્રુવને જન્મ આપે છે.ત્યારબાદ ધ્રુવના બે પુત્ર થાય છે.પુષ્ટિ તથા ધાન્ય,પુષ્ટિના પાંચ

પુત્ર વૃશ, ઋ પુન્જય, વિત્ર વૃકલ અને તત્રસુ હોય છે તે સાથે જ ચાક્ષુસ નામનો એક પુત્ર ઉત્પન્ન થાય છે અને તે મનનુના નામથી વિખ્યાત થાય છે તે નવલા પત્નીથી દસા તોજસ્વી પુત્રે ઉત્પન કરે છે પુરૂ,માસ, શત ધુશ તપસ્વી,સત્યજીત,કવિ, અગ્નિષ્ટોમ, અતિ રાત્ર, મન્યુ અને સુયશ પુરૂષના છ પુત્ર અંગ,સુમનસ ખ્યાતિ, સ્મૃતિ, અંગીરાસ અને ગપ ઉત્પન્ન થાય છે.અંગો બેન નામનો એક પાપી પુત્ર થાય છે જેને ઋષિ પોતાના હુંકારથી મારી નાખે છે પછી બેનની પત્ની સુનીશાની પ્રાર્થના પર બેનના દક્ષિણ હાથને મથીને ઋષિ પૃથને ઉત્પન્ન કરે છે સુર્ય સમાન તેજસ્વી અને સાક્ષાત વિષ્ગુ નો અવતાર પૃથુ પ્રજા માટે

ગૌ રૂપીના મગધ,વિજીતાશ, હર્યશ્વ અને બર્હ વગેરે પુત્ર ઉત્પન્ન थाય છે. બાહ્ના જ પુત્ર પ્રજાપતિ ઉત્પન્ન થાય છે.તે મનથી ચરઅચર द્वિવપાદ અને ચતુષ્પાદ જોડાય છે તે હર્યથ્વ વગેરે દસ હજાર પુત્ર ઉત્પન્ન કરે છે જે નારદના ઉપદેશથી વિરકત થઈ્ઈ જાય છે દક્ષ ફરીથી શવલારવ નામના એક હજાર પુત્ર ઉત્પન્ન કરે છે તે નારદજી પ્રેરણાથી પુર્વજોના અનુગત થઈ જાય છે એના પર કૃધ દક્ષ નારદને સ્થિર રહીને રહેવાનુ સ્થાન ઉપલબ્ધ ન હોવાનુ તથા ભટકતા રહેવાનો શ્રાપ આપે છે તે ઉપરાંત દક્ષ અનેક કન્યાઓ ઉત્પન્ન કરીને ધર્મને,કશ્યપને અંગિરાને તથા સોમને પરણાવી દે છે જેનાથી દેવ, દૈત્ય વગેરે અનેક પુત્રો ઉત્પન્ન થાય છે અને તેનાથી આખુ જગત ભરાઈ જાય छે.

વૈવસ્વત મન્વંતરની સૃષ્ટિનુ વર્ણન કરતા સુતજી કહે છે- પ્રથમ સૃષ્ટીના ઉત્પન્ન થયેલા સપ્તર્ષીના ચાલ્યા જવાથી દિતી કશ્યપજીને પ્રસન્ન કરીને તેમની પાસે ઈન્દૂય્રહંતા પુત્ર માંગે છે. જેને કશ્યપજ સ્વિકાર કેર છે એક દિવસ ઉચ્ધિષ્ટ મુખ અને પગ ધોયા દગર ગર્ભવતી દીતીના સુઈ જવાથી ઈન્દ્ર તેના ગર્ભમાં પ્રવિષટ થઈ જાય છે અને તે પોતાના વજથી ગર્ભના સાત ભાગ કરી નાખે છે અને ફરીથી એક-એક ભાગ કરી નાખે છે ઈન્દ્રથી ભાઈચારો ઘોષિત કરવાથી ઈન્દ્ર તેમનાથી દવેષ છોડી દે છે તે ૪૯ મરૂત નામના દેવતા કહેવાય છે તેમના માટે પ્રજાપતિ બ્રહ્માજ રાજ્યોના વિભાગ કરીને બેન પુત્ર પૃથુ,સોમ,વરૂણ,વિષ્ણુ પાવક શુલપાણી મહાદેવ વગેરેને આ રાજ્યો પર પ્રતિષ્ઠિત કરે છે તે પૂર્વ દિશામાં વિરાજના પુત્રને દક્ષિણ દિશામાં કદર્મના પુત્રને પશ્ચિમ દિશામાં રજસુના પુત્રને અને ઉતર દિશામાં દુઘર્ષના પુત્ર અભિવ્યક્તિ કરે છે. સુતજી બોલ્યા-મુનિશ્વરો ભૂત ભવિષ્ય અને વર્તમાનમાં કુલ પંદર મનુ

પુત્ર વૃશ, ઋ પુન્જય, વિત્ર વૃકલ અને તત્રસુ હોય છે તે સાથે જ ચાક્ષુસ નામનો એક પુત્ર ઉત્પન્ન થાય છે અને તે મનનુના નામથી વિખ્યાત થાય છે તે નવલા પત્નીથી દસા તોજસ્વી પુત્રે ઉત્પન કરે છે પુરૂ, માસ, શત ધુન તપસ્વી,સત્યજીત,કવિ, અગ્નિષ્ટોમ, અતિ રાત્ર, મન્યુ અને સુયશ પુરૂષના છ પુત્ર અંગ,સુમનસ ખ્યાતિ, સ્મૃતિ, અંગીરાસ અને ગપ ઉત્પન્ન થાય છે.અંગો બેન નામનો એક પાપી પુત્ર થાય છે જેને ઋષિ પોતાના હુંકારથી મારી નાખે છે પછી બેનની પત્ની સુનીશાની પ્રાર્થના પર બેનના દક્ષિણ હાથને મથીને ઋષિ પૃથને ઉત્પન્ન કરે છે સુર્ય સમાન તેજસ્વી અને સાક્ષાત

વિષ્ણુનો અવતાર પૃથુ પ્રજા માટે ગૌ રૂપીના મગધ,વિજીતાશ્વ, હર્યશ્વ અને બર્હ વગેરે પુત્ર ઉત્પન્ન થાય છે. બર્હિના જ પુત્ર પ્રજાપતિ ઉત્પન્ન થાય છે.તે મનથી ચરઅચર દ્વિવપાદ અને ચતુષ્પાદ જોડાય છે તે હર્યશ્વ વગેરે દસ હજાર પુત્ર ઉત્પન્ન કરે છે જે નારદના ઉપદેશથી વિરકત થઈ્ઈ જાય છે દક્ષ ફરીથી શવલારવ નામના એક હજાર પુત્ર ઉત્પન્ન કરે છે તે નારદજ પ્રેરણાથી પુર્વજો ના અનુગત થઈ જાય છે એના પર કૃધ દક્ષ નારદને સ્થિર રહીને રહેવાનુ સ્થાન ઉપલબ્ધ ન હોવાનુ તથા ભટકતા રહેવાનો શ્રાપ આપે છે તે ઉપરાંત દક્ષ અનેક કન્યાઓ ઉત્પન્ન કરીને ધર્મને,કશ્યપને અંગિરાને તથા સોમને પરણાવી દે છે જેનાથી દેવ, દૈત્ય વગેરે અનેક પુત્રો ઉત્પન્ન થાય છે અને તેનાથી આખુ જગત ભરાઈ જાય છે.

વૈવસ્વત મન્વંતરની સૃષ્ટિનુ વર્ણન કરતા સુતજી કહે છે- પ્રથમ સૃષ્ટીના ઉત્પન્ન થયેલા સપ્તર્ષીના ચાલ્યા જવાથી દિતી કશ્યપજીને પ્રસન્ન કરીને તેમની પાસે ઈન્દૂય્રહંતા પુત્ર માંગે છે. જેને કશ્યપજ સ્વિકાર કેર છે એક દિવસ ઉચ્ધિષ્ટ મુખ અને પગ ધોયા દગર ગર્ભવતી દીતીના સુઈ જવાથી ઈન્દ્ર તેના ગર્ભમાં પ્રવિષટ થઈ્ઈ જાય છે અને તે પોતાના વજ્રી ગર્ભના સાત ભાગ કરી નાખે છે અને ફરીથી એક-એક ભાગ કરી

નાખે છે ઈન્દ્રથી ભાઈચારો ઘોષિત કરવાથી ઈન્દ્ર તેમનાથી દવેષ છોડી દે છે તે ૪૯ મરૂત નામના દેવતા કહેવાય છે તેમના માટે પ્રજાપતિ બ્રહ્માજી રાજયોના વિભાગ કરીને બેન પુત્ર પૃથુ,સોમ,વરૂણ,વિષ્ણુ પાવક શુલપાણી મહાદેવ વગેરેને આ રાજ્યો પર પ્રતિષ્ઠિત કરે છે તે પૂર્વ દિશામાં વિરાજના પુત્રને દક્ષિણ દિશામાં કદર્મના પુત્રને પશ્િમ દિશામાં રજસુના પુત્રને અને ઉતર દિશામાં દુઘર્ષના પુત્ર અભિવ્યક્તિ કરે છે. સુતજી બોલ્યા-મુનિશ્વરો ભૂત ભવિષ્ય અને વર્તમાનમાં કુલ પંદર મનુ

સ્વયંભુવ,સ્વારોચિષ, ઉત્તમ, તામસ, શૈત, ચાક્ષુસ, વૈવસ્તવ, સાવર્ણિ, ચૌચ્ય સાવર્ણિ,,ધન સાવર્ણિ, રદ્રસાવર્ણી, દેવ સાવર્ણિ, અગ્નિ સાવર્ણિ અને ઈન્દ્ર સાવર્ણિ થાય છે તેમનો સમય ચૌદ હજાર કલ્પ નિં્ચિત કરવામાં આવે છે. તેની સંતતિઓની રૂપરેખા આ પ્રકારે છે.સ્વર્યુભુવ મનુના દસ પુત્રો હતા જેમાં ઈન્દ્રનુ નામ યજ હતું.તે પ્રથમ મન્યંતર ખુબજ દિવ્ય હતો.બીજા મન્વંતરમાં સ્વારોચિસ મનુના પણ દસ વિર્યવાન અને પરાક્રમી પેદા થયા.

જેમાં ઈન્દ્રનુ નામ રોચન હતું ત્રીજા મન્વંતરમાં ઉતર મનુના દસ પુત્રો થયા જેમાં સત્યજીત નામનો ઈન્દ્ર હતો. એ રીતે ચૌદ મન્વંતરોમાં મનુઓની સંતાનોમાં પૃથકપૃથક ઈન્દ્ર ઋષિ અને દેવતા વગેરે થતા આવ્યા છે.જે હજારો યુગો સુધી સૃષ્ટિનુ પાલન કર્યા પછી બ્રહહલોકમાં જાય છે સુર્યના કિરણોથી પ્રાણીઓ સળગવા લાગે છે. ત્યારે બ્રહ્માજી નારાયણ હરિમાં પ્રવેશ કરે છે અને કંલ્પાંતમાં અનેક ભૂતોને ઉત્પન્ન કરે છે જ્યારે શિવજ તેમનો સંહાર છે મન્વંતરોની ઉત્પતિનો આ કમ છે.

મહર્ષિ કશ્યપનો પુત્ર વિવશ્ધાન સુર્યને પોતાની પત્ની સંજાથી ત્રણ સંતાનો બ્રાધ્યદેવ, મનુ અને યમ-યમી (યુગ્મ) ઉત્પન્ન કર્યા પોતાના પતિના તેજને ન સહી શકવાને કારણે સંજા પોતાના સંતાનો છાયાને સોંપી પોતાના પિતાના ઘરે ચાલી ગઈ. પિતા દ્વારા અવગણના થવાથી ત્યાંન રહી શકવાને કારણે અશ્ચોનુ રૂપ ધારણ કરીને

કુરેેેશમા ભ્રમણ કરવા લાગી. આ બાજુ છાયાને જ સંજ્ઞા સમજીને વિવસ્વાન એ તેની પાસે સાર્વાણ મનુ નામનુ બાળક ઉત્પન્ન કર્યો. છાયફાના આ બાળકને સર્વાધિક સ્નેહ તથા પक્ષપાત જોઈને યમએ છાયા પર ચરણપ્રહાર કર્યો તો છાયા એ તેને પગ વગરના થઈઈ જવાનો શ્રાપ આપ્યો.યમએ તેના પિતા સુર્યને સંપુર્ણ વૃતીત બતાવ્યો તો સુર્યએ શ્રાપને અન્યથા કરવામાં પોતાની અસમર્થતા બતાવી.

સુર્યએ તેની પત્ની પર ગુસ્સો કરતા તેની તે ચેષ્ટા માટે જ્યારે સ્પષ્ટીકરણ માંગ્યુ તો તેણે સંજાને છાયા હોવાનો રહસ્ય અને સુર્યના પ્રચંડ તેજને શાંત કરીને તેને સૃંદર રૂપ પણ આપ્યુ. રહસ્યની ખબકર પડતાજ સુર્યએ ઘોડાનુ રૂ૫ ધારણ કરી સંજા જોડ ભોગ કરવાનો પ્રયાસ કર્યો સંજા દ્વારા મનાઈ કરવાથી સુર્યના વીર્ય તેની નાસિકાના બે તપનો પર પડી ગયા.જેનાથી અશ્વિનીકુમાર ઉત્પન્ન ગયા તેના પછી સંજા પોતાના પતિની સુંદર મોહક રૂં જોર્ઈ તેને સાથે ઘરે આવી ગઈ.

સૂતજી બોલ્યા-ઋષિઓ આમ તો મનુના ઈક્ષ્વાકુ શિવિ વગેરે નવ પુત્ર હતા પરંતુ એક વખતે સંતાન ન હોવાથી મનુએ પુત્રષ્ટિ યજ દ્વારા ઈલા અથવા ઈડા નામની કન્યાને ઉત્પન્ન કરી. ઈલાએ મિત્રાવરૂણની પાસે જઈને ઈચ્છે છે. મિત્રવરૂણે ખુશ થઈને તેને સુધુમ્ન નામથી પુરૂ થઈ જવાનુ વરદાન આપ્યુ પરંતુ ધરે પાછા ફરતા સમયે તેને રસ્તામં બુધ મળ્યો જેની પ્રાર્થનાથી તેને મૈથુન કરીને ઈલા પુરૂ કરવા નામને સુંદર પુત્ર ઉત્પન્ન કર્યો. ફરીથી તેણે સુધુમ્ન બનીને ત્રણ પુત્ર ઉત્કલ ગય અને વિનતાધ્વ ઉત્પન્ન કર્યા.

મનુનો એક પુત્ર નરિષ્યંતએ ત્રણ પુત્ર અને એક પુત્રીને જન્મ આપ્યો.રાજ્યુત્રી સુકન્યાએ રયવન ઋષિથી સો પુત્ર ઉત્પન્ન કર્યા.જેનાથી સૌથી મોટા કુકુદનીની કન્યા રેવતી હતી.જેનો વિવાહ બ્રહ્માજીની અનુમતિથી બલરામ સાથે થયો.
મનુનો એક હાની પુત્ર નગના ગૌદનના વ્યતિકમ,દુબુધ્ધિ તથા પાપના ફળસ્વરૂ૫ યોનિમાં ૫ડવાથી શ્રીકૃષ્ગએ તેનો ઉધ્ધાર કર્યો તેનો પુત્ર પ્રવૃત્તિ પણ મોટો ધર્માત્મા હતો મનુનો આઠમો પુત્ર વૃષદન તેના કર્મોથી શય બન્યો અને નવમો પુત્ર કવિ ખુબ બુધ્ધિમાન થયો જેણે આ લોકમાં સુખને છોડીને દુર્લભ મુક્તિ પ્રાપ્ત કરી.

મનુની વંશાવતીની પરિચય આપતા સેરેજી કહે છે મનુજીના નાસિકાથી ઉત્પત્ન ઈક્ષ્વાકુ નાસો પુત્રીમા વિક્કૃતિ અધાથી મોટો હતો. એકવાર તેણે શશક્ષાનુ માંસ ખાઈ લીધુ.જેનાથી વશિષ્ઠજની આજાથી ઈક્ષ્વાકુ તેને રાજ્યમાંથી કાઢી મુક્યો. ઈક્ષ્વાકુએ શકુનિ વગેરે અન્ય પંદર પુત્રો ઉત્પન્ન કર્યા. તેમાં અબોધની વંશપરંપરા આ પ્રકાર ચાલી અબોધ-કુકુત્સ્ય-આદિનામ-પૃથુ-વિષ્ટરાશ્વ ઈન્દ્ર યુવાનશ્વ શ્રાવ શ્રાધસ્તક-વૃહદાશ્વ-કુવલશિવ-વૃશાસ્વ હર્યસ્વ-નિકુંભ મહતાશ્વ,અક્ષારવ-હેમવતી કન્યા પ્રસંન જીત યુવનાશ્વ માંધાલા-મુચકુંદ કવીશ્ધર-સત્યવ્વત.

એકવાર વિશ્વામિત્ર તેમની પત્નીને ત્યાગીને સમુદ્ર તટ પર તપસ્યા કર્રી રહ્યાં હતા. ભુખથી વ્યાકુળ બાળકોથી બચાવા વિશ્વામિત્રની પત્ની તેના સુપુત્રને પોતાના ગળામાં બાંધી તેની સાથે પોતાને પણ વેચવા લાગી તો સત્યવ્રત તેને ખરીદી લીધી ગળામાં બાંધવાને કારણે તે બાળકનુ નામ ગાલબ ૫ડયુુ તે થાળક તેનીમાં અને તેના ભાઈઓને સત્યવ્રતએ (વિશ્વામિત્રની પ્રસન્નતા માટે) ખુબજ પ્રેમપૂર્વક પાલન-પોષણ કર્યો.
એકવાર દુષ્ટ સત્યવ્રતે વશિષ્ઠજજની કામધેનુને મારી નાખી અને તેનુ માંસ પોતે ખાધુ તથા વિશ્વામિત્રના પુત્રોને ખવડાવ્યુ. પિતાનુ અપમાન કરવા વિશ્વામિત્રના આશ્રમમાં મરેલા પશુઓ ફેકવા અને કામધેનુનો વધ કરવાના રૂપમાં ત્રણ-ત્રણ મહાપાપ કરવાવાળા સત્યવ્રતને વશિષ્ઠજીએ ત્રિશંકુ થવાનો શાપ આપ્યો.

વિશ્ધામિત્રના તપથી પાછા ફર્યા જ્યારે સત્યવ્રત દ્વારા પોતાની પત્ની અને પુત્રીની રક્ષા કરવાની વાત સાંભળી તો આભારવશ વિશ્વમિત્રએ પોતાના તપોબળથી તેને શરીર સાથે સ્વર્ગમાં મોકલી દીધો સત્યવ્રતની વંશ પરાંપરા આગળ આ રીતે ચાલી સત્યવ્રત-હરિશચંદ્ર રોહિત, વૃક-બાડુ-સગર-સાઈ હજાર પુત્ર (પિલ મુનિના શાપથી બળીને રાખ) અને પંચજન-અંશુમાન-દિલીપ ભગીરથ (સ્વર્ગથી ગંગા લાવીને પુર્વજોના ઉધ્ધારક) શ્રુતસેન-નાભાગ અંબરીશ-અથુતાજત-કૃતપર્ણ-અનુપર્ણ-કલ્મષપાદ-સર્વકર્મા-અનરણ્ય-કુંડીદુહનિષિરતિષદાંગ-દીર્ધ બાહું-રદુ-અજ-દશરથ-રામચંદ્ર-કુશ-અતિથિ

વિષયનલ-પુછડરીક-ક્ષેત્રધન્વા-અહિનગ-શયાદ-સહસ્વાન-વીરસેન-પરિપાત્રબલારથ-સ્થલ-સુર્ય-યક્ષ-અગુણ-વિચ્ધ-હિરણ્યનાભ-યોગાચાર્ય-યાજવકલ્યપુષ્પ-ધુવ-અગ્નિવર્ણા-શીઘ-મરૂત મરૂતનો પુન્ન યોગસિધ્ધ થયો તો જે કાલાપ ગામમાં હજી સુધી રહેલો છે કલિયુગમાં તેનો નાશ થવાથી કલાપ ગામ વાસી ફરીથી સુર્ય વંશનો ઉધ્ધાર કરશે તેની વંશાવલી આ પ્રમાણે આગળ ચાલશો.

યોગસિધ્ધ-તક્ષક-વૃહદબ-બૃહદ્રણ-ઉરૂકિય-વત્સબધ્ધ-પ્રતિવ્યોમભાનુદિવાકર-સહદેવ-વૃહદશ્વ-ભાનુમાન-પ્રતીકશ્વ-સુપ્રતીક-મરૂદ્વવ-વૃહદશ્વભાનુમાન-પ્રતીકશ્વ-સુપ્રતીક-મરૂદેવ-સુનક્ષત્ર-પુ ષ્કર-અંતરિક્ષ-સુત-સંજયશાક્ય-સુધોદલાંગન શુદ્રક-સુરથ-સુમિત્ર-વિચિત્ર વીર્ય વિચિત્ર વિર્યની સાથે ઈક્ષ્વાકુ વંશ સમાપ્ત થઈ જશે. श्रાધ્ધનુ મહત્વ અને તેના ફળનુ વર્ણન કરતા સુતજી શૌનક વગેરે ઋષિઓને બતાવે છે કે પોતાના પિતા-પિતામહ તથા પ્રપિતામહના

શ્રાધ્ધ કરવાવાળા પુરૂષ સત ધર્મ તથા સારા સંતાન જરૂ પ્રાપ્પ કરશે. ભારદ્વાજ ઋષિના સાત દુષ્ટુધધધિ પુત્ર હતા તેમણે એક દિવસ ઋષિ વિશ્વામિત્રની ગાયને મારીને ખાઈ લીધી અને આવીને કહી દીધુ કે જંગલમાં સિંહે ગાયને પકડી લીધી છે.તેમણે એક સાર કામ એ કર્યુ હતું કે તે ગાયના માંસથી પોતાના પિતૃઓનુ શ્રાધ્ધ કરી નાખ્યુ. સાતેયભાઈ આ ખોટુ ભાષણ અને ગૌહત્યાના પાપથી દોષિત થઈને વારાફરતી

વ્યાધપુત્ર,મૃગ,ચક્રવાક,જલચર તથા નભચર બન્યા આ બધી યોનિઓમાં પિતૃઓના પ્રસાદથી જ તેમનુ ઉત્તમ જ્ઞાન જળવાઈ રહ્યું અને વારાફરતી તેમનો શાપ દુર થઈ્ઈ ગયો. તેનુ એકમાત્ર કારણ તેમનુ ગાયનુ મારણ કરીને ધર્મથી પિતૃઓનુ તર્પણ કરવાનુ જ હતું. આ રીતે પિતૃ તર્પણ, શ્રાધ્ધ. તથા પુજન ખુબજ પુણ્યશાળી છે.

સુતજી વ્યાસજીની ઉત્પતિનુ વર્ણન કરતા કહે છે. એક દિવસ ઋષિ પરાશર યમુનાના કિનારે તિર્થયાત્રા કરતા નિષાહને ઝડપથી નદીપાર કરાવવા માટે કહેવા લાગ્યા. આના પર નિષાદે પોતીીન પુત્રી મત્સ્યગંધાનો પરાશરને પરિચય આપીને નદીપાર કરાવવા માટે કહ્યુ.જ્યારે પરાશરનાવમાં બેસીને નદીની વચ્ચે પહોંચ્યા તો આશ્ચ્ચર્યની વાત બની કे અનેક અટસરાના પ્રેમને ઈુકરાવનારા પરાશર આ

નિષાદબાળા પર મુગ્ધ થઈ ગયા અને તેનો હાથ પકડીને પ્રેમા-લાપ કરવા લાગ્યા તેની મનાઈ કરવાથી તે ફરી કામ પિડિત થઈ ગયા ત્યારે નિષાદંકન્યાએ કહ્યું કે કયાં તમે ઉચ્ય કુળના ઋષિ અને કયાં હું નિષાદ બાળા આના પર ઋષિએ નિષાદબાળમાને પોતાના તપોબળથી ખુબજ રૂપવતી બનાવી દીધી અને જ્યારે તે સમાગમ માટે તપ્તર થયા તો તેણે કહ્યું કે દિવસનો સમય છે અને અજવાળામાં

તેના પિતા આવીને જોઈ શકે છે ત્યારે પરાશરે તપોબળથી શતનુ ગાઢ અંધારૂ ઉત્પન્ન કરીને નિષાદબાળા સાથે સમાગમ કર્યો.આના પર તેણે પૂછયું કે તમારા આ સંસર્ગથી જો હું ગર્ભવતી થઈ ગઈ તો તમારા ચાલ્યા જવાથી મારી શું હાલત ગશે. ત્યારે પરાશર બોલ્યા કે હे બાળા, મારી આફાનુ પાલન કરીને તું સત્યવતીના નામથી પ્રસિધ્ધ થઈશ અને તારા ગર્ભમાંથી એક અદૂભુત શક્તિશાળી બાળક ઉત્પન થશે અને તેના પર પણ તારૂ કુંવારાપણુ નષ્ટ નહીં થાય. પરાશર ચાલ્યા ગયા અને આ બાજુ યોગ્ય સમયે સત્યવતીએ વ્યાસ નામના એક સુંદર બાળકને જન્મ આપ્યો.જન્મ થયા બાદ પુત્રએ માતાને પ્રણામ કર્યા અને કહ્યું કે જ્યારે પણ જરૂર પડે તો મારૂ સ્મરણ કરજે, હું આવી જઈશ.

અનેક તિર્થોનુ ભ્રમણ કરતા વ્યાસજી જ્યારે કાશી આવ્યા તો એ વાત પર ચિંતા થઈ કે શિવલિંગમાંથી કોણ ઝડપથી સિધ્ધિ દાયક છે આ વાત ધ્યાનમાં આવતા તે શિવજનુ ધ્યાન કરવા લાગ્યા આ વાત ધ્યાનમાં આવતા તે શિવજીનુ ધ્યાન કરવા લાગ્યા અને સમાધિ તુટતા તેમણે એ અનુભવ કર્યો ક અતિમુક્તે દ્વર ક્ષેત્રમાં મધ્યમે શ્વરલિંગની સમાન કોઈ વધારે મહત્વપૂર્ણ નથી અને ત્યારે તેમણે ગંગામાં સ્નાન કરીને વ્રતનો આરંભ કર્યો તેમણે ગંગામાં સ્નાન કરીને વ્રતનો આરંભ કર્યો. તેમણે વિધિવત ક્યરેક થોડા ભોજનથી અને ક્યારેક

નિરાહાર રહીને મધ્યમેશ્વરની પુજી કરી તેની પુજાથી શંકરજ્એ પાર્વતીની સાથે તેમને પોતાના દર્શન દીધા.તેમના દર્શન મેળવીને વ્યાસજ ધણા પ્રસન થયા અને તેમની જુદી-જુદી રીતે સ્તુતી કરવા લાગ્યા.જ્યારે શંકરજએ વ્યાસજને વરદાન માંગવા માટે કહ્યુ તો વ્યાસજએ પોતાના મનની ઈચ્છા બતાવી અને એ કહ્યું ક મારી ઈશ્છાપૂર્તિ માટે વરદાન આપો. ત્યારે શિવજએ કહ્યું કे તમારી ઈ્છા પુરી થાય અને તેમણે એે પછ કહ્યું

તમારામાં બિરાજમાન થઈને ઈતિહાસ અને પુરાણોની રચના કરીશ. વ્યાસજ એ આ રીતે અઠાર પુરાણેની રચના કરી આ પુરાણોના નામ આ રીતો છેઅને ભવિષ્ય. વ્યાસજની ઉત્પતિ અને શિવજની આરાધનાના. વિષયમાં સાંભળી ઋષિ બોલ્યા કે, હવે અમને તમે ભગવતી જગદંબાનુ ચરિત્ર સંભળાો. એ પછી સૂતજી બોલ્પા કे સ્વારોશિષ મન્વંતરમાં વિરથનોલ સત્યવાદી પુત્ર સુરથ થયો જ્યારે નવ રાજાઓએ

તેનું રાજ્ય છિનવી લીધુ તો તે વનમાં ચાલ્યો ગયો અને ષિયો સાથે રહેવા લાગ્યો પરંતુ તે કમનસીબે હંમેશા ઉદાસ રહેતો હતો. એક દિવસ સમાધિ નામના એક વૈષ્યે સુરથને કહ્યુ કે तેને તેના પુત્રોએ ધરમાંથી બહાર કાઢી મૂક્યા છે પણ તેમ છતાં પણ તે પોતાના પુત્રોનું સારૂ ઈછે છે રાજએ આ વાત પર આર્વર્ય વ્યક્ત ક્યું કે આ વ્યક્તિ અપમાન કરવાવાળા સામે પણ આદરભાવ રાખે છે અને મેધા નામના ઋષિ

પાસે જઈને આ લાગણીનું કારણ પૂછયું ત્યારે ઋષિએ તેને કહ્યું ફे, મન મોહિત કરવાવાળી માયારૂપી શક્તિને કારણે થાય છે એ પછી તેમણે મહામાયાનો પરિચય આપ્યો તેમાે કહ્યું કે, વિષ્યુજ જ્યારે યોગનિંદ્રામાં સૂઈ્ઈ ગયા ત્યારે કાનના મેલમાંથી જન્મેલા બે દૈત્યોએ બ્રહનાજને મારવાની કોશિเશ કરી. બ્રહ્મા પોતાની રક્ષા માટે વિષ્ણુ તથા પરમે દ્યરી દેવીની સ્તુતિ કરવા લાગ્યા.બ્રહ્માજની સ્તુતી સાંભળી ફાગણ સુદ બારશના દિવસે મહામાયા મહાકાળીના રૂપમાં પ્રગટ થયા અને આ દૈત્યોને મારવાનું આશ્વાસન આપ્યું સાથે યુધ્ય કર્યુ અને અંતમાં ભગવાન શિવે તેમને મારી નાંખ્યા.

આ તરફ રેંભાસુરનો પુત્ર દેવતાઓ સાથે જતીને સ્વર્ગમાં રાજકારણ લાગ્યો હતો અને દ્વેતાઓ બ્રહ્મા, વિષ્ણુને લર્ઈ શિવજ પાસે આવ્યા. દેવતાઓની પીડાથી શિવજનો ખુબ ગુસ્સો આવ્યો અને એ સમયે તેમના મુખથી અને દેવતાઓના શરીરથી જે શક્તિ નીકળી તે એક શક્તિ સ્વરૂપ

દેવીના રૂપમાં પરિર્વિતત બની. દેવતાઓએ પ્રસન્ન થઈ એ દેવીને પોત પોતાના શર્ત્રો દીધા. એ શસ્ત્રોથી સજ્જ થઈ દેવી ગરજવા લાગ્યા મહિષાસુર શક્તિ સાથે લડવા માટે આવ્યો તો બંને વચ્ચે ઘમાસાન યુધ્ધ થયું.દેવીએ મહિસાસુરની મયાને છિન્ન ભિન્ન કરી નાંખી અને અંતે પોતાના ત્રિશૂળથી તેની ડોક કાઢી નાંખી ત્યારે દેવતાઓએ દેવીની સ્તુતિ કરી બીજી તરફ શુભ અને નિશુંભના ઉત્પાતથી પીડિત દેવતા પોતાની પીડા દૂર કરવા માટે પ્રાર્થના કરવા લાગ્યા.

પાર્વતીએ તેમને આશ્વાસન આપ્યુ અને અર્તધ્યાન થઈ ગયા તે સુંદર રૂપ ધારણ કરી શુંભ અને નિશુંભની સામે આવ્યા તેમનુ મનોહર રૂપ જોઈ સેવકોએ પોતાના સ્વામીઓ પાસે તે ર્રીને મેળવવા માટે વિન્તી કરી ત્યારે સુશ્રીવ નામના દૂતે જઈને જગદંબાને કહ્યું કे તમે શુંભ-નિશુંભમાંથી કોર્ઈ એકની પસંદગી કરો ત્યારે દેવીએ કહ્યું કે, જેમને સંગ્રામમાં कીતશે એને હું

મારોલ પતિ બનાવીશ.આ સાંભળી શુંભે પોતાના સેનાપતિનને આજા આપી તો ધુમાક્ષ દેવી સાથે લડવા ચાલ્યો.દેવીએ તેને હુંકારથી જ નષ્ટ કરી દીધો. શુંભને જ્યારે આ વાતની ખબર પડી તો પોતાના ખૂબ પરાકમી ચંડમુંડ વગેરેને મોકલ્યા પરંતુ દેવીએ બધાને મારી નાંખ્યા.એ પછી શુંભનિશુંભ,કાલકેય ચૌર્ય તથા દુર્ધષ વગેરે વીરો સાથે લર્ઈ પોતે યુધ્ધ કરવા આવ્યા ત્યારે દેવીએ ઘંટનાદ કરી ધનુષ પર પણ છ ચઢાવી

અને આક્રમણ ક્યુ જ્યારે સેંકડો हैત્યો મરી ગયા ત્યારે નિશુભ પોતે દેવીની સામે આવ્યો અને દેવીએ પોતાના ઝેરીલા બાણોથી તેનુ માથુ કાપી નાંખ્યુ પોતાના મોટાભાઈ માર્યા ગયાના સમાચાર સાંભળી શુંભ ખુબ દુ:ખી અને અવાચક્ર બની ગયો અને ભયંકર શસ્ત્રોથી દેવી પર આક્રમણ કરવા લાગ્યો.ભગવતીએ પોતાના ત્રિશૂળથી તેનુ માથું પણ કાપી નાંખ્ય અને નિશુંભના મર્યા બાદ हैત્યો ડરીને ભાગી ગયા તો દેવોએ દેવી પ્રત્યે પોતાનો આભાર વ્યક્ત કર્યો.

દાનવો પર આ રીતે વિજય મેળવી દેવોમાં ગર્વ આવ્યો અને તે આત્મપ્રશંસા કરવા લાગ્યા.ત્યારે દેવોનું ગર્વ દૂરશ કરવા માટે દેવીએ એજ અત્યંત દિવ્ય રૂપધારી કૂટ તેજ કાઢયુ જેને જોઈ દેવતા ગભરાઈ ગયા અને તેમણે બધી વાત ઈન્દ્રને જઈને કહી. ઈન્દ્રે વાયુને ખબર જાણવા માટે મોકલ્યો તો એ દિવ્ય તેજે વાયુની પરીક્ષા

લેવા માટે તેની સામે એક તણખલુ મૂકી ઉપાડવાનુ કઘ્યું વાયુએ પોતાની બધી તાકાત વાપરી તેમ છતાં તે ઉપાડી ન શક્યો અને વરૂણ તેને પલાળી ન શક્યો આ બધી સ્થિતિથી ઈન્દ્ર ગભરાઈ ગયા અને જ્યારે તે તેજને શોધવા લાગ્યા તો તેજ અંર્તધ્યાન થઈ્ઈ ગયુ ત્યારે કોઈ ઉપાય ન રહેતા ઈન્દ્ર તે તેજનું સ્તવન કરવા લાગ્યા. ત્યારે તે દેવીએ પ્રગટ થઈને કહ્યું કે, હું પરબ્રહ્મ, પ્રણવ રૂપિણી છું અને દૈત્યો સામે તમારો વિજય કરાવ્યો છે એટલે તમે ગર્વ છોડી મારી પૂજા કરો. એ પછી દેવતાઓનો ગર્વ દૂર થઈ્ई ગયો અને તે સામાન્ય થર્ઈ રહેવા લાગ્યા.

સુતજીએ દ્વેવતાઓ પાસેથી વેદ છિનવાયા પછી તેના પરિણામોની ચર્ચા કરતા કહ્યું કે, ધણા સમય પહેલાની વાત છે એક વખત એક મહાબળી રૂદ્રના પુત્ર દુર્ગએ દેવતાઓ પાસેથી વેદ છિનવી લીધુ. વેદોના અભાવથી યજ્ઞ કર્મ બંધ શર્ઈ ગયા અને દુર્ગમ ભયંકર ઉત્પાત કરવા લાગ્યો.બ્રાહ્મણ પણ આચારભ્રષ્ટ થઈ્ઈ ગયા એ પછી દેવતાઓએ મહામાયાની શરણમાં જઈ પોતાનુ દુ:ખ રજુ કરી પ્રાર્થના કરવા લાગ્યા.

દેવીએ પોતાના શરીરથી દસ દેવીઓ કાઢી કાળી, તારા, શ્રીવિઘાપ ભુવને શ્વરી, ભૈરવી, છિન્નહતા, લગુલા,માતંગી,ધુમા અને ત્રિપુરસુંદરી આ બધાએ મળળ દૈત્યનો સફાયો કરી નાંખ્યો.ત્યારે દેવતાઓએ ફરી દેવીની આરાધના કરી અને પોતાને હંમેશા વિધ્નુુ્ત રાખવાની પ્રાર્થના કરી. આ પ્રાર્થનાથી દેવીએ આશ્ચાસન આપ્યુ કे સમય-સમય પર દેવતાઓના કલ્યા૬ માટે અવતાર ધારણ કરતા रेेशे.

શુતજી બોલ્યા કે, દેવો પરામણદ સર્વોચ્ચ સ્થાન છે. જાન, કર્મ અને ભક્તિ આ ત્રણ શક્તિને મેળવવાના માર્ગ છે. ચિત્તનુ આત્માથી સંયોગ શાન છે બાહ્મનો અર્થ સંયોગકર્મ અને દેવી તથા આત્માની એકતા અનુભૂતિ ભક્તિ છે આ ત્રણેનો સંભોગ ક્રિયાયોગ કહેવાય છે.જે પરમ સાધન છે.

Shiv Puran in Gujarati – કોટિરૂદ્ર સંહિતા

Shiv Puran in Gujarati - કોટિરૂદ્ર સંહિતા

Devotees often recite Shiv Puran in Gujarati to seek liberation from the cycle of birth and death.

Shiv Puran in Gujarati – કોટિરૂદ્ર સંહિતા

ઋષિઓએ સુતજને પૂછ્યું હે સુતજી તમે કથા કરીને : ર્તિલિંગ મુખ્ય છે. તેનુ હું વિસ્તારથી વર્ણન કરીશ. અત્રિશ્વર મહાદેવ: જુના સમયની વાત છે કે સતત સો વર્ષ સુધી અનાવૃષ્ટીને કરણે કામદવન ખુબજ ઉષ્ણ અને શુષ્ક થઈ ગયા તે રહેવા માટે અન ઉપયોગી થઈई ગયા ત્યારે તેમાં અગ્નિજએ પોતાની પત્ની અનસુયા સાથે કઠોર તપ કર્યુ. શિવજના જાપ કરતા કરતા ષિ અચેત થઈ ગયા પતિ-પત્નિના દર્શન કરવા માટે દેવતા ગંગા વગેરે નદીઓ અને અનેક ઋ ષીઓ ત્યાં આવ્યા પરંતુ શિવજ અને ગંગા,અનસુયાના ઉપકાર કરવા માટે ત્યાં રોકાઈ ગયા.

ચૌદ વર્ષ સુધી સમાધિસ્થ રહેવા પછી અત્રિજીએ અનસુયા પાસે જળ માંગ્યુ તે કમંડળ લઈને પાણીની શોધમાં નીકળી ગંગા પણ તેમની પાછળ-પાછળ ગઈ અને તેમની સત્યનિષ્ઠા અને સેવાભાવથી પ્રસન્ન થઈને બોલી કे હું ગંગા છું તુ જે ઈચ્છે તે વરદાન માંગ.અનસુયાએ જળ માગ્યુ ગંગાના કહેવા પ્રમાણે જ્યારે અનસુયાએ ખાડો ખોધો તો ગંગાએ તેમાં પ્રવેશ કર્યો અને અનસુયાએ જળ લીદુ તથા ગંગાને પ્રાર્થના કરી કે તે તેના પતિ સુધી પહોંચવા અને તેમના આવવા સુધી ત્યાંજ રહે અનસુયા દ્વારા લાવેલા જળનુ આચમન કરીને

ષિએ આશ્ચર્ય પ્રગટ કર્યુ અને પૂછયું કे વરસાદ ન હોવા છતાં પણ આ પાણી કયાંથી આવ્યુ? અનસુયાએ બતાવ્યું કે ભગવાન શંકરની કૃપાથી ગંગાજી અહીંયા આવ્યા છે અને આ ગંગાજળ છે.જયારે અગ્નિએ આ આશ્ચર્યજનક વાતને પોતાની આંખે જોવા માગ્યુ તો અનસુયાએ તેને તે ખાડો બતાવી દીધો.અગ્નિએ પોતાના તપને સફળ માનના વારે-વારે તે જળનુ આયમન કર્યુ અને હાથ જોડીને ગંગાને હંમેશના માટે આ સ્થાન

પર રહેવાની વિનંતી કરી ત્યારુ ગંગાએ કહ્યું કે જો અનસુયા પોતાના શિવ-પુજક પતિની એક વર્ષ સુધી સેવાનુ પુણ્ય મને આપી દે તો હું અહીંયા રહી શકુ અનસુયાએ તે પુણ્ય આપી દીધુ તેજ સમયે મહાદેવજી પાર્થિવ લિંગના રૂપમાં ત્યાં પ્રગટ થયા અને ઋષિ દંપતિએ પંચમુખ શંકરને જોઈને તેમની સ્તુતી કરી તથા તેમને ત્યાં રહેવાની પ્રાર્થના કરી અનસુયા દ્વારા ખોદવામાં આવેલા ખાડા મંદાકિની કહેવાય અને શિવજીનુ પાર્થિવલિંગ અત્રિશ્વર જયોર્તિલિંગ કહેવાયુ અને શિવજીનુ પાર્થિવલિંગ અત્રિશ્વર જયોર્તિલિંગ કહેવાયુ.

મહાબલે જ્વરઃ સોમની નામના બ્રાહ્માની કન્યા સાથેના લગ્ન પછી કેટલાક વર્ષોમાં તેના પતિનુ મૃત્યુ થઈ ગયુ કેટલોક સમય તેણે સદાચાર તથાપવિત્રતાનુ જીવન જીવ્યા પછી તે કામપીડિત થઈને વ્યભિચારિણી બની ગઈ. તેના પર તેના ઘરવાળાઓએ તેને ઘરમાંથી કાઢી મુકી સોમની એ એક શુદ્રને અપનાવી લીધો. જે નાથી તે માંસાહાર અને મદિરાપાન પણ કરવા લાગી. એક દિવસ તેણે એક વાછરડાને મારીને તેનુ માંસ ખાઈ લીધુ તેના મર્યા પછી યમરાજે તેને નર્કવાસ માંથી નિવૃત કરી તે આંધળી છોકરીના રૂપમાં એક ચાંડાલના ર૫માં જન્મ લીધો.તે આંધળી છોકરીના કૃષ રોગની શિકાર થઈ ગઈ.

કેટલાક સમય પછી ગોકર્ણની યાત્રા કરતી વખતે તે પણ ભિક્ષાની લાલચમાં શિવ ભક્તોની પાછળ-પાછળ ચાલી કોઈએ તેની હથેળીમાં બિલ્વમંજરી રાખી તો તેણે તેને અભક્ષ સમજને ફેકી દીધી. સંયોગથી બિલ્વ મંજરી રાતના સમયે કોઈ શિવલિંગના મસ્તક પર જઈને પડી આ બાજુ ચૌદશની રાત્રે કંઈ ન મળવાને કારણે તેનુ વ્રત નિરાહાર થઈ ગયુ અને રાત્રિના જાગરણ પણ થઈ ગયુ. સવારે ઘરે પાછા ફર્યા પછી ભુખથી વ્યાકુળ થઈને મરી ગઈ.

શિવગણોએ તેને પોતાના વિમાનોમાં ઉઠાવીને શિવના પરમ પદને પ્રામ્ત કરાવ્યુ. શિવજીનુ અજ્ઞાનથી પણ કરવામાં આવેલી પુજાનુ ફળ તેને મળ્યુ અને તેનો ઉધ્ધાર થઈई ગયો. એક બીજી કથા પ્રમાણે એકવાર કલ્માષ્યાર્દ એક મુનિ અને તેના પુત્રને પકડીને મારી નાખ્યા મુનિ પત્નીએ જ્યારે પોતાના પતિ અને પુત્રને છોડવાની પ્રાર્થના કરી અને કલમાષયાદ ન માન્યો તો મુનિ પત્નીએ તેને ख્રી સમાગત કરવાથી મૃત્યુ પ્રાપ્ત થવાનો શ્રાપ આપી દીધો.

એ પહેલા તેને વશિષ્ઠ દ્વારા બાર વર્ષ સુધી રાક્ષસ હોવાનો શ્રાપ મળ્યો હતો.બાર વર્ષ પછી તે જ્યારે શ્રાપ મુક્ત થયો તો તે પોતાની પત્ની દમયંતી સાથે સમાગમ કરવા લાગ્યો ત્યારે તે પતિ વ્રતાને તે શ્રાપ યાદ આવ્યો અને તેને પોતાના પતિને સમાગમથી વિરક્ત કરી દીધો.ત્યારે તે ઉદાસ થર્ઈને વનમાં ચાલ્યો ગયો. તેણે જ૫,ત૫,દાન, વ્રત ક્યા પરંતુ તેને બ્રહહત્યામાંથી મુક્તિ ન મળી.છેવટે તે શિવભક્ત ગૌતમની શરણમાં આવ્યો અને તેને ગોકર્ણ નામની શિવક્ષેત્રમાં જઈને મહાબળે શ્વર લિંગની પુજા કરવાની સલાહ આપી ત્યાં તેણે પુજાની તરફ છેવટ સુધી બ્રહ્મહત્યાથી મુક્ત થઈને શિવ પદને પ્રાપ કર્યુ.

નંદિકેશ્વર મહાદેવ : કર્ણિકા નામની એક નગરી રેવા નદીના પશ્ચીમી તટપર હતી ત્યાં એક કુલીન બ્રાભ્મણે પોતાના પુત્રોને બધું ધન સોંપીને કાશી પ્રસ્થાન કર્યુ અને ત્યાંજ સ્વર્ગવાસી થયા તેમની પત્નીએ કેટલુક ધન પોતાની અંતિમક્રિયા માટે રાખીને બાકીનુ પોતાના પુત્રોમાં વહેંચી દીધુ કેટલાક સમય પછી બ્રાહણીનુ મૃત્યુ નજીક આવી ગયુ. તો ખુબજ દાન,પુજી કરવાથી પણ તેના પ્રાણ નીકળતા ન હતા તેની અંતિમ ઈચ્છા પુછવામાં આવતા તો તેણે કહ્યું કે તેની અસ્થિઓ કાશીમાં ગંગામાં વિસર્જીત કરવામાં આવે.પુત્રો દ્વારા આશ્વાસન આપવાથી તેના પ્રાણ નિકળળ ગયા.

તેનો સુષાદ નામના મોટા પુત્ર અસ્થિઓ લઈને કાશી ગયો તો એક બ્રાહ્મણને ત્યાં રોકાયો.ત્યાં તેણે જોયુ કे જ્યારે રાતના બ્રાહણ પાછો ફર્યો અને તેણે વાછરડાને ચુસાવીને ખીલા સાથે બાંધી દીધો અને ગાયને દોહવા લાગ્યો.તો વાછરડાએ તેનો પગ કચડી નાખ્યો બ્રાહ્મણે વાછરડાને માર્યુ તો તેણે ઉછળકુદ કરવાનું બંધ કરી દીધુ પરંતુ ગાય દોહયા પછી તેણે નિર્દયતાથી વાછરડાને પીટયુ. વાછરડાની વેદનાથી દુ:ખી તેની માંએ વાછરડાને બતાવ્યુ કे તે સવારે બદલો લેવા માટે બ્રાહણને પાડી દેશે ત્યારે વાછરડાએ પોતાની

માતાને મનાઈ કરી અને કહ્યું કે આપણે કોણ જાણે કયા પાપનુ ફળ ભોગવી રહ્યાં છીએ અને હવે એવુ કોઈ દુષ્કર્મ ન કરવુ જેથી આગળ કોઈ કષ્ટ પડે અને મુક્તિનો માર્ગ સમાપ્પ થઈ્ई જાય.ગાયનો ક્રોધ ઘણો વધારે હતો અને તેને પોતાના વાછરડાની ચેતાવણી પણ ધ્યાનમાં નરહી. તેણે વિચાર્યુ હું સવાર થતા જ પોતાના શિંગડાથી દુટ્ટ બ્રાહ્મણને મારીને તેને ઘાયલ કરી દઈશ અને તે ત્યાંજ મરી જશે.સુધાદે ગાય અને વાછરડાનો આ સંવાદ સાંભળ્યો અને આ ઘટનાને જોવા માટે પીડાનુ બહાનુ બતાવીને ત્યાંજ સુતો રહ્યો.

બીજે દિવસે બ્રાભ્ને પોતાના પુન્રને ગાય દોહવાનુ કહીને ચાલ્યો ગયો અને બ્રાહણનો પુત્ર પોતાની માતાની સાથે જેવો થાય દોહવા લાગ્યો તો ગાયે તેને કઠોર પ્રહારથી મારી નાખ્યો.ઘરમાં હાહાકાર મચી ગયો અને બ્રાહ્મીએ ગાયને ખીલા સાથે છોડી દીધી. બ્રહ્મત્યાના પાપને કારણે ગાયનુ સફેદ શરીર કાળુ પડી ગયુ હતું ગાય પોતાના લક્ષ્યની તરફ ચાલવા લાગી અને સુષાદ પણ તેની પાછળ ગયો ગાય નર્મદા કિનારે નંદિશ્વર મહાદેવના સ્થાને પહોંચી અને ત્યાં તેણે ત્રણ ડુબકી મારી તેનુ શરીર ફરીથી સફેદ થઈ ગયુ. નંદિશ્ધરના અનુશ્રહ અને નર્મદાના મહાત્મ્યથી તેનુ પાપ દુર થયું.

તેજ સમયે સુષાદની સામે ગંગાએ એક સ્રીનુ રૂપ ધારણ કરીને પોતાની માતાની અસ્થિઓનુ વિસર્જન માટે ક્्યુ. તેણે કહ્યું કे આજનો દિવસ વૈશાખ સુદ સાતમ છે ગંગા નર્મદામાં વાસ કરે છે સુषાદે એવુ $જ$ કર્યુ तो તेની માતાએ દિવ્ય શરીર ધારણ કરીને તેને આશીર્વાદ આપ્યા. જિકા નામની વિધવા કન્યાએ શિવજીનુ પાર્થિવ પુજન કર્યુ તો એક માયાવી દૈત્ય આકાર તેની પાસે રતિદાન માગવા લાગ્યો તે કન્યા શિવભક્ત હતી અને કામ ભાવના નષ્ટ થઈ્ઈ ચુકી હતી તે એકાગ્ર ચિતથી શિવજીના નામનો જ જાપ કરતી હતી हैત્યએ તેને પોતાનુ અપમાન સમજયુ અને

દાનવનુ રૂ૫ બતાવીને ડરાવવા લાગ્યો તો કન્યાએ શિવજને બોલાવ્યા શિવજીએ દુષ્ટ દૈત્યનો વિનાશ કર્યો અને કન્યાને વરદાન માંગવાનુ કહ્યુ એ બ્રાભ્મ કન્યાએ શિવજીની અચલ ભક્તિનુ વરદાન માંગ્યુ અને શિવજને પાર્થિવ રૂપમાં ત્યાંજ રહેવાની પ્રાર્થના કરી.શિવજી પોતાનુ પાર્થિવ શરીર ત્યાંજ છોડીને અંતર્યાન થઈ ગયા.એજ દિવસથી તે સ્થાન નંદીકેશ્વર મહાદેવના નામથી ઓળખાવા લાગ્યુ.

અંધકે જ્વર મહાદેવ :- સમુદ્રમાં રહેવાવાળો અંધકાસુર ત્રિલોકને પોતાના વશમાં કર્યા પછી દેવતાઓને હેરાન કરવા લાગ્યો ત્યારે દેવતાઓએ શિવજીની સ્તુતી કરી અને તેમના શરણમાં આવ્યા શિવજએ દેવતાઓને તેના પર ચઢાઈ કરવા માટેનો આદેશ આપ્યો.શિવજી પોતે જ પોતાના ગણોને સાથે લઈને અંધકના ગર્ત પર આવ્યા અંધક પણ ભીષણ યુધ્ધ કરતા જેવો પોતાના ગર્ત પર આવ્યો તેવા જ શિવજીએ ત્રિશુળથી તેનો વિચ્છેદ કરી નાખ્યો અંધકે ભગવાન શંકરની સ્તુતી કરી તો શંકરે વરદાન માંગવાનુ કહ્યુ.. ત્યારે અંધકે તેને ત્યાંજ રહેવાનુ વરદાન માંગ્યુ અને ત્યારથી ત્યાંનુ નામ અંધકેશ્વર મહાદેવ પડયु.

હાટકેશ્વર મહાદેવ: એક વખત દારૂક વનના નિવાસી ઋષીઓની પરીક્ષા માટે શંકર પોતાના વિકટરૂપ સાથે હાથમાં જયોર્તિલિંગ ધારણ કરીને ઋષિ પત્નીઓ પાસે પહોંચ્યા અને કામુક ચેષ્ટાઓ કરવા લાગ્યા જ્યારે ઋષી લોકો પહોંચ્યા તો આ અવધુતને ધણુ ખરૂ-ખોટુ કહ્યુ. મહાદેવ શાંત રહ્યા પરંતુ ઋષિઓ તેની વાસ્તવિક્તાને સમજી ન શક્યા અને તેમના લિંગને પૃથ્વી પર પડવાનો શ્રાપ આપી દીધો. પૃથ્વી પર પડીને લિંગ આગની

જેમ સળગવા લાગ્યુ અને આમ-તેમ ઘુમવા લાગ્યુ. બધા લોક વ્યાકુળ થઈ્ઈ ગયા ઋષિ લોકો બ્રહ્માજી પાસે ગયા અને તેમને ઉપાય પુછયો બ્રહ્માજીએ તેમને કહ્યું કે તમે દેવી પાર્વતીની આરાધના કરો ઋષિઓએ શાસ્ત્રોક્ત વિધિથી શિવપાર્વતીની પણ પુજા કરી. શિવજીએ બતાવ્યું કे જો પાર્વતી તેને ધારણ કરે તો તમારા લોકોનુ દુઃખ દુર થઈ્ઈ શકશે. અહીં એજ રૂપ સ્થાપિત હાટકેશ્વર મહાદેવ કહેવાયા.

બટુકેશ્વર : દધિચી બ્રાહ્મણી પુત્ર વધુ ખરાબ સ્વભાવની હતી. એ. કારણે તે ક્યારેય ક્યાંય રોકાઈ શકતા ન હતા. એક સમયે દધિચીના પુત્ર સુદર્શને પોતાની પત્ની દુકુલા સાથે શિવરાત્રીના દ્વિવસે સહવાસ કર્યો અને સ્નાન કર્યા વગરજ શિવની પુજા કરી શિવજએ તેને જડ થવાનો શ્રાપ આપી દીધો. એ વાત પર દુ:ખી દધિભીએ પાર્વતીને પ્રાર્થના કરી જેનાથી પ્રસન્ન થઈને

ભગવતીએ તેને પોતાના પુત્ર બનાવી દીધો પાર્વતીના કહેવાથી શિવજીએ પોતાના ચારેય પુત્રોને બટુકના રૂપમં ચારે દિશામાં અભિશિત દકરી દીધા અને અહીં એ કહ્યું બટુકની પુજા વગર શિવ ભક્તિ પુરી નહીં થાય. મલ્લિકાર્જુન મહાદેવ:પોતાના લગ્ન માટે જ્યારે કાર્કિકેય પૃથ્વીની પરિક્રમા કરીને પાછા ફર્યા તો તો તેમને નારદજી દ્વારા ગણેશજીના કैલાસ લગ્નની ખબર પડી. તેનાથી તે નારાજ થઈને માતા-પિતાની વાત ન માનીને કૌચ પર્વત પર ચાલ્યા ગયા.

શંકરે દેવર્ષિઓને કુમારને સમજાવવા માટે મોકલ્યા તો પણ કુમાર માન્યા નહી ત્યારે પાર્વતીની સાથે શિવ જાતે જ ત્યાં ગયા પરંંતુ માતા-પિતાના આગમનનુ સાંભળીને કુમાર ત્યાંથી પણ ત્રણ યોજન દુર ચાલ્યા ગયા.શિવ- પાર્વતીનને જ્યારે કુમારે ત્યાં ન મળ્યા તો તેમણે અન્ય જગ્યાએ જવાનો વિચાર કર્યો પરંતુ ત્યાં પહેલા એક જયોતિ સ્થાપિત કરી દીધી. તેજ દિવસથી મલ્લિકર્જુન ક્ષેત્રનુ નામ તે મલ્લિકાર્જુન કહેવાય છે.

સોમેશ્ચર મહાદેવ:-દક્ષે અપોતાની સત્યાવીસ પુત્રીના લગ્ન ચંદ્ર સાથે કરી દીધા હતા પરંતુ ચંદ્રએ તેની પુત્રી રોહિણી પ્રત્યે વધારે આસકિત બતાવી એનાથી અન્ય છવીસ પોતાને અપમાનિત અનુભવવા લાગી તેમણે પોતાના પિતાને અપમાનિત અનુભવવા લાગી. તેમણે પોતાના પિતાને પતિની ફરિયાદ કરી તો દક્ષે પોતાના જમાઈને સમજાવ્યુ પરંતુ પ્રયાસ નિષ્કળ ગયો.ચંદ્રમાં રોહીણીમાં જ આસક્ત રહ્યો ત્ટારે દક્ષે ચંદ્રને ક્ષયી થવાનો શ્રાપ આપી દીધો.

દેવતા લોકો ચંદ્રના દુ:ખથી દુ:ખી થયા અને બ્રહ્માજીને સાપ સમાપ્ર કરવાનો ઉપાય પુછયો બ્રહ્માજએ મહાશંકરની ઉપાસના કરવો જ એકમાત્ર ઉપાય બતાવ્યો.જ્યારે ચંદ્રએ છ મહીના સુધી શિવજની પુજા કરી અને શિવજ તેમની સામે પ્રગટ થયા તો તેમણે ચંદ્રને વરદાન આપ્યુ કे તે દરરોજ એક પક્ષમાં એક એક કલાનો હાસ ભોગવશે અને પછી બીજા પક્ષાં દરરોજ વધતો જશે દેવતાઓ પર પ્રસન્ન થઈને તે ક્ષેત્રમાં તેમની મહિમા વધારવા માટે સોમેશ્વર નામના ચંદ્રથી સોમેશ્વર નામથી સ્થાપિત થયા.

ઓમકારે વર મહાદેવ :- એક વખત નારદજીએ ગોકિર્ણ તિર્થમાં શિવજીની પુજા કરી અને પછી વિધ્યાચલ પર્વત પર આવીને પણ શ્રધ્યાપુર્વક શિવજની આરાધના કરવા લાગ્યા.આથી ગર્વથી ભરાઈને વિધ્યાચલ નારદજી પાસે આવ્યો અને પોતાને સર્વશ્રેષ્ઠ કહેવા લાગ્યો નારદજીએ કહ્યું કे સુમેરુની સામે તારી કોઈ ગણના નથી.

સુમેરૂની ગણતરી દેવતાઓમાં કરવામાં આવે છે.આ સાંભળીને વિધ્ય ભગવાન શિવની પાર્થિવ મૂર્તિ બનાવી તંથા તેની પુજા કરી શિવજી પ્રસન્ન થઈ્ઈ ગયા અને વરદાન માંગવા માટે કહ્યું.વિધ્યએ પોતાની બુધ્ધિથી મનોકામનાઓ પુરી કરવાનુ વરદાન માંગ્યુ તો શિવજીએ વિચાર્યું કે એ બીજાઓ માટે દુ:ખદ બની શકે છે. ત્યારે તેમણે વિચાર કર્યો કે આ વરદાન બીજાઓ માટે પણ સુખદ બને એ વિચારીને તે જાતે જ ત્યાં ઑકારેશ્વના રૂપમાં સ્થિત થઈ્ઈ ગયા.

કેદારેશ્વર:-બદ્રિકા ગામમાં જ્યારે નર-નારાયણ પાર્થિવ પુજા કરવા લાગ્યા તો શિવજી ત્યાં પ્રગટ થયા.થોડા સમય પછી શિવજીએ પ્રસન્ન થઈન તેમને વરદાન માંગવાનુ કહ્યું તો નર-નારાયણે લોક કલ્યાણની ભાવનાથી તેમને પોતાને પોતાના રૂપી પુજાને કારણે તે સ્થાન પર હંમેશા રહેવાની પ્રાર્થના કરી આ બંનેની આ પ્રાર્થના પર હિમાસ્છદિત કેદાર નામના સ્થાન પર સાક્ષાત મહેશ્વર જયોતી રૂપથી સ્થિત થર્ઈ ગયા અને ત્યાંનુ નામ કેદારેશ્વર ૫ડયુ.

મહાકાલેશ્વરઃમહાકાલે શ્વરની મહિમા વધારે છે અવંતીવાસી એક બ્રાહ્મણના ચાર પુત્રો શિવના ઉપાસક હંતા. બ્રહ્માએ દૈત્યરાજ દુષણે વરદાન મેળવીને અવંતિમાં જઈને ત્યાંના બ્રાહ્મણો ધણા દુ:ખી કર્યા પરંતુ શિવજીની ઉપાસનામાં લીન આ બ્રાભ્મણે જરા પણ દુ:ખ માન્યુ નહીં ત્યારે દૈત્યરાજે પોતાના ચાર અનુચરને મોકલીને નગરીને ઘેરી લીધી અને ધર્મ અનુષ્ઠાન ન કરવાનો આદેશ આખ્યો.

દેત્યના અત્યાચારથી પીડાયેલી મ્રજા ક્રાનણની પાસે આવી બ્રાહ્મોએ પ્રજાને ધીરજ બંધાવી અને પોતે શિવજની ઉપાસનામાં લીન થઈ્ઈ ગયા એ સમયે જ્યારે જ્યારે દુષણ દૈત્ય આ બ્રાહ્મણો પર આક્રમણ કરવા માટે તૈયાર તમ્મર થયો તો તેવા જ શિવજી વિરાટ મહાકાલરૂપે પોતાને પ્રગટ કરી તે દુષ્ટ દૈત્વને બ્રાહણ પાસે ન જવાનો આદેશ આપ્યો પરંતુ તેણે આજા માની નહીં પરિણામે શિવજીએ તેને ચસ્મ કરી દીધો. શિવજીનુ આ રૂપ જોઈને બ્રહ્મા,વિષ્ણુ ઈન્દ્ર વગેરે દેવતાઓએ તેમની સ્તુતી કરી.

આ સંદર્ભમાં એક બીજી કથા પણ છે ઉજ્જૈન નરેશ ચંદ્રસેન જાની હોવાની સાથે-સાથે શિવ ભક્ત પણ હતો. તેના મિત્ર મહેશ્વરજીના ત્રણ મણિભદ્રએ તેને એક ચિંતામણી આપી હતી. જ્યારે ચંદ્રસેન આ મણિને ધારણ કરતા તો તે ખુબજ તેજસ્વી બની જતા. કેટલાક રાજાઓએ તેની પાસે આ મણિની માંગણી કરી અને ન આપવાથી તેમના પર ચઢાઈ કરી દીધી. પોતાની રક્ષાનો કોઈ ઉપાય ન જોતા તે મહાકાલની શરણામાં ગયા શિવજીએ મ્પસન્ન થઈને તેમની રક્ષાનો ઉપાય કર્યો ત્યારે જ પોતાના બાળકને ગોદમાં લઈને

એક બ્રાહ્મણી ફરતી મહાકાલની પાસે પહોંચી તો તે વિધવા બની ગઈ. અજાણ્યા બાળકને મહાકાલેશ્વર મંદિરમાં રાજાને શિવની પુજા કરતા જોઈને તેમનામાં પણ ભક્તિ-ભાવ જાગૃત થઈ્ઈ ગયો. તેણે એક સુંદર પત્થર ઘરે લાવીને શિવ રૂપમાં સ્થાપિત કર્યો અને તેની પુજા કરવા લાગ્યો. તે ધ્યાન એટલો લીન થઈ્ઈ ગયો કે માતાના વારે-વારે બોલાવવા છતાં પણ તેનુ ધ્યાન તુટયુ નહી. આ શિવમાયાથી વિમોહિત માતાએ શિવલિંગને ઉઠાવીને દુર ફેંકી દીધુ.

પુત્ર માતાના આ કર્મથી પણ શિવજીનું સ્મરણ કરતો રહ્યો. શિવજીની કૃપાથી ગોપી પુત્રથી પુજાયેલા તે પત્થર જયોર્તિલિંગના રપપમાં સ્થાપિત થયું શિવજીની પુજા કરીને જ્યારે તે બાળક ઘરમાં ગયુ તો તેણે જોયુ કે ઝુંપડીના સ્થાને એક વિશાળ મહેલ ઉભો છે. આ તરફ શિવજીની કૃપાથી ધન ધાન્ય થઈ ગયો. બીજી તરફ ચંદ્રસેનના વિરોધીથી સંપન્ન રાજાઓના અભિયાનનો પ્રારંભ કરતા જાણી લીધું હતું કે ઉજ્જૈન નગરી મહાકાલની નગરી છે અને ચંદ્રસેન શિવભક્ત છે.તો તેમણે જીતવાનો વિચાર છોડીને બધાએ મળીને મહાકાલની પુજા કરી ત્યાં જ હનુુમાજી પણ પ્રગટ થયા અને તેમણે બતાવ્યું के શિવજ તो મંત્ર વગર પણ પ્રસન્ન થई જાય છે.

ભીમેશ્વર મહાદ્વવ :- ભીમ નામનો એક મોટો રાક્ષસ હતો. તેના માતાપિતાનુ નામ કર્કટી અને કુંભકર્ણ હતું તેના પિતા રાવણના ભાઈ હતા. આ વાતની જાણ ભીમને તેમની પાસેથી થઈ અને એ પણ જાણ થઈ કे તેમને રામચંદ્રજીએ મારી નાખ્યા હતા.માતાએ પણ બતાવ્યું કे મે હજી સુધી લંકા જોઈ નથી. તારા પિતા મને અહીંજ મળ્યા હતા અને જ્યારથી તું જન્મ્યો ત્યારથી હું અહીં જ રહુુું આ મારૂ ઘર જ મારો સહારો છે.

કારણ કે મારા માતા-પિતા પણ અગત્સ્ય મુનિના ક્રોધથી ભસ્મ થઈ ગયા હતા.આ સાંભળીને દેવતાઓથી બદલો લેવા માટે તપ્રર થયો અને કઠોર તપ કરીને બ્રહ્માજને પ્રસન્ન કર્યા.બ્રહાજીએ તેને ખુબજ બળવાન થવાનુ વરદાન આપ્યુ.ભીમે ઈન્દ્ર વગેરે દેવતાઓને જીતીને પોતાના વશમાં કરી દીધા ત્યારબાદ તેમણે શિવજીના મહાન ભક્ત કામરૂપેશ્વરનુ બધું છીનવીને તેમને જેલમાં નાખી દીધા. તેમની પત્ન, પણ શિવની આરાધનામાં લાગેલી રહેતી હતી.

આ બાજી બ્રહ્મા, વિષ્ણુ વગેરે ભીમથી છુટકારો મેળવવા માટે ભગવાન શંકરની સેવામાં ગયા. બીજી તરફ કોઈએ ભીમને કહ્યું કे કામરૂપેશ્વર તેના મરણનુ અનુષ્ઠાન કરી રહ્યાં છે.ત્યારે રાજા જેલમાં ગયા અને પુછપરછ કરી.રાજા કામેરૂપેશ્વરે બધું સાચે-સાભુ બતાવી દીધુ.આ સાંભળીને ભીમે તેને પોતાની પુજા કરવા માટે કહ્યું તથા તેણે પોતાની તલવારથી શિવજીના પાર્થિવ લિંગ પર પ્રહાર કરવાની ઈં્છા કરી ત્યારે જ શિવજી પ્રગટ થયા પછી બંને વચ્ચે યુધ્ધ થયું છેવટે નારદજી ત્યાં જ રહેવાની પ્રાર્થના કરી અને શિવજી ભીમેશ્વર નામના જયોર્તિલિંગના રપમાં ત્યાંજ સ્થાયી થયા.

વૈદ્યનાથ મહાદેવ:-રાવણે કैલાસ પર્વત પર ઘોર તપ કરીને શિવજીને પ્રસન કરવા માટે બધા પ્રકારની પ્રાકૃતિક આપત્તિઓ સહન કરી પરંતુ જ્યારે શિવજ પ્રસન્ન ન થયા તો રાવણે પોતાનુ માથુ કાપી-કાપીને શિવલિંગ પર ચઢાવવાનુ શેર કરી દીધુ.જ્યારે તે પોતાના નવ માથા ચઢાવી ચુક્યો અને તેના બધા માથા પહેલા જેવા કરીને વરદાન માંગવાનુ કહ્યુ. રાવણે તેમને લંકા આવવા માટે ક્યુ. શંકરે અનિચ્છાએ સ્વીકાર કરી લીધો શંકરે કઘ્યું કे તું મારા લિંગને ભક્તિ સાથે ઘરે લઈ જા પરંતુ જો વચમાં ક્યાંય પણ રાખીશ તો તે ત્યાં સ્થિર થઈ જશે. રાવણ શિવલિંગને લઈને નીકળ્યો અને રસ્તામાં લઘુ શંકાને કારણે એક ગોવાળને તે લિંગ આપી દીધુ ગોવાળ તેનો ભાર ન સંભાળી શક્યો.તે ત્યાંજ પાડી દીદુ ત્યારથી શિવજી વૈદ્યનાથ મહાદેવના રૂપમાં ત્યાંજ સ્થિત છે.

નાગેશ્વર મહાદેવ : પશ્ચિમી સમુદ્ર કિનારે લગભગ સોળ યોજનના વિસ્તારમાં એક વન હતું તેમાં દારૂક અને દારકકા રહેતા હતા તેમણે ખુબજ ઉત્પાત મચાવ્યો તેનાથી તંગ આવીને મુનિ લોકો ઔર્વ મુનિના શરણમાં આવ્યા તેમણે દૈત્યોને નાશ થઈ જવાનો શ્રાપ આપ્યો દેવતાઓએ દેત્યો પર આક્રમણ કર્યુ. દૈત્ય ગભરાયા પરંતુ દારૂકાની પાસે પાર્વતી દ્વારા આપવામાં આવેલી શક્તિના બથ ઉપર તે વનને આકાશ માર્ગથી ઉડાવીને સમુદ્રની વચ્ચે લઈ આવ્યા અને ત્યાં નિશ્ચિત થઈને રહેવા લાગ્યા.તે નૌકાથી સમુદ્રની ચારે તરફ જઈને લોકોને કેદ્દી બનાવીને લાવતા હતા.

એક વખત તેમાં એક સુપ્રિય નામનો શિવભક્ત પણ હતો તે શિવપુજન વગર અન્ન જળ ચ્રહણ કરતો ન હતો. તેણે જેલમાં પણ શિવજીની પુજા શરૂ ંરી દીધી. જ્યારે તેને આ કાર્યની ખબર પડી તો તેણે તેને મારી નાખવાની ધમકી આપી.સુપ્રિયએ ભગવાન શિવને પ્રાર્થના કરી અને શિવજી એક ક્ષણમાં પ્રગટ થઈને રાક્ષસોને મારી નાખ્યા અને ત્યારે તે વનને ચારેય લોક વર્ણો માટે ખોલવામાં આવ્યુ. પરંતુ દારૂકાને પાર્વતીએ જે વરદાન આપી રાખ્યુ હતું તેને કારણે આ યુગના અંતમાં રાક્ષસી સૃષ્ટી થવા અને દારૂકાી શાસિકા બનવાની વાત સ્વીકારી અને નાગેશ્વર જયોર્તિલિંગના રપપમાં ત્યાંજ સ્થાપિત થયું.

રામેશ્વર મહાદેવ : એકવાર ભગવાન શ્રીરામ સીતાજીને શોધતા-શોધતા સુગ્રીવની મિત્રતા સાથે બંધાઈ ગયા અને હનુમાનજી દ્વારા તેમને સીતાજની ખબર મળી રામે રાવણ પર આક્રમણ કરવા માટે વાનર સેનાને સંગઠિત કરી અને દક્ષિણના સમુદ્ર કિનારે પહોંચ્યા તેમની સામે સમુદ્રને પાર કરવાની સમસ્યા હતી. શિવભક્ત રામગંદ્રને સુગ્રીવ વગેરે એ ખુબ સમજાવ્યા પરંતુ તે રાવણની શિવમક્તિ જાણતા હતા.

એ વચ્ચે જ તેમને તરસ લાગી અને જેવુ તેમણે જળ માંગ્યુ અને પીવા લાગ્યા તેવુ જ તેમને શિવની પુજા ન કરવાનુ યાદ આવ્યુ. ત્યારે તેમણે શિવજીનુ પાર્થિવ લિંગ બનાવી ષોડશોપચારથી તેમની પુજા પ્રારંભ કરી શિવજી પ્રસન્ન થયા અને તેમને ત્યાંજ સ્થિત થવાનુ વરદાન માંગ્યુ શિવજી એવમસ્તુ કહ્યું અને ત્યાંજ રામે ધર મહાદેવના રૂપમાં स्थिત થई ગયા.

ઘૂશ્મે જ્વર મહાદેવ : પોતાની સુંદર પત્ની સુદેહાની સાથે ભારદ્વાજ ગોત્રવાળા સુધર્મા નામના એક વેદજ બ્રાહણ દક્ષિણ દિશામાં રહેલા દેવ પર્વત પર રહેતો હતો. તેને કોઈ સંતાન ન હતા જે કારણે તેને તેના પાડોશીઓના મેણા-ટોણા સાંભળવા પડતા હતા પરંતુ સુધર્મા તે પર ધ્યાન આપતા ન હતા પણ સુદ્હાએ તેને जીજા લગ્ કરવા માટે વિવચ કરી દીધો અને પોતાની બહેન ઘૂશ્યાને બોલાવી પોતાના પતિ સાથે લગ્ન કરાવી દીધા અને એમ પણ કહ્યું કे તે કોઈ પ્રકારનો દ્વેષ નહી રાખે સમય જતાં ઘૂશ્માને પુત્ર જન્મ્યો અને તેના લગ્ન થયા.

જોકે સુધર્મા અને ઘૂશ્મા બંને સુદેહાનું બહુ ધ્યાન રાખતા હતા છતાં પણ તેના મનમાં ઈર્ય્યાનો ભાવ ત્યાં સુધી ફેલાઈ ગયો કे તેણે દએક દિવસ યુવકની હત્યા કરી પાસેના તળાવમાં ફેંકી દીધો. સુધર્માને ઘડપણમાં ઘા આર્વી પડયો પણ ઘૂશ્માએ શિવજીનું પૂજન ન છોડયુ. તેણે તળાવ પર જર્ઈ સો શિવલિંગ બનાવ્યા અને તેમની પૂજા કરવા લાગી.જ્યારે તે તેનુ વિસર્જન કરી ઘર તરફ ચાલવા લાગી તો તેને તેનો પુત્ર તળાવના કિનારે ઉભેલો જોવા મળ્યો અને શિવજએ પ્રગટ થઈ સુદેહાના પાપની વાત કહી તથા તેને મારવા માટે ગુસ્સે થયેલા શિવજને રોકી તેમની પ્રાર્થના કરી આવુ કર્મ કરતા રોક્યા અને કહ્યું કે, જો તેઓ પ્રસન છે તો તેઓ અહીં જ રહે. શિવજીએ તે ની પ્રાર્થનાનો સ્વીકાર કર્યો અને ઘૂમેશ્વર નામથી ત્યાં સ્થિત થઈ્ઈ ગયા.

વિશ્चેશ્વર મહાદેવ :- પહેલાના સમયમાં નિર્વિકાર તથા ચૈતન્યબ્રહ્મે સૌથી પહેલા નિર્ગુણથી અગુણ શિવરૂપ ધારણ કર્યુ. પ્રકૃતિ અને પુરૂષ (શક્તિ અને શિવ) ને શિવે ઉત્તમ સૃષ્ટિ માટે તપ કરવાનો આદેશ કર્યો.જયારે તેમણે એક સારા સ્થાન અંગે પૂછયું તો શિવે પોતાની પ્રેરણાથી સંપૂર્ણ તેજથી સંપન્ન

પંચકોશી નામની નગરશરીનું નિર્માણ કર્યુ ત્યાં વિષ્ગુજીએ ઘણા સમય સુધી શિવજની આરાધના કરી. એનાથી ત્યાં અનેક જલધારાઓ વહેવા લાગી. આ અદભૂત દ્રશ્ય જોઈઈ જ્યારે વિષ્ણુજી આશ્ચર્યચકિત થયા તો તેમના કાનમાંથી એકમણિ ત્યાં પડી ગયો જેથી આ જગ્યાનું નામ મણિકાર્ણિકાતીર્થ પડી ગયુ. મણિકર્ણિકકાના પાંચકોશના વિસ્તાર સુધી બધા પાણીને શિવજએ પોતાના ત્રિશૂળ પર ધારણ કર્યુ અને તેમાં

વિષ્ણુ પોતાના પત્ની સાથે સૂઈ ગયા ત્યારે શિવજીની આજાથી આ સૃષ્ટિનું નિર્માણ થયું. શિવે પંચકોશી નગરીને બધાથી અલગ રાખી અને પોતાના જયોર્તિલિંગની સ્થાપના કરી પછી શિવજએ તેને ત્યાંથી ઉઠાવી મૃત્યુ લોકમાં સ્થાપિત કરી દીધુ જે બ્રહ્માના દિવસો પૂરા થવા છતાં પણ નષ્ટ ન થયું. આ સ્થાપના કાશીમાં થઈ. પ્રલયકાળમાં શિવજીએ ફરી તેને પોતાના ત્રિશૂથ પર ધારણ કરી લીધુ.આ પ્રમાણે કાશીમાં અવિમુક્તે શ્વરલિંગ હંમેશા સ્થિર રહે છે.

અને મહાપુણ્ય આપવાવાળી પંચકોશી નગરી ઘોર પાપનો નાશ કરવાવાળી છે ભગવાન શંકરે પાર્વતી સહિત અંદરથી સત્વગુણી અને બહારથી તમોગુણઆ આ નાગરીએ પોતાનું સ્થાયી નિવાસ બનાવ્યું.આ પ્રમાણે ત્રણ પ્રકારના કર્મ કહેવામાં આવ્યા છે જે કર્મકાંડના બંધનમાં નાંખવાવાળા છે

  • સંચિત પહેલાના જન્મમાં કરવામાં આવેલા શુભ અને અશુભર્મ
  • ફ્રિયામણ વર્તમાન જન્મમાં કરવામાં આવી રહેલા કર્મ
  • પ્રારબ્ધ-શરીરના ફળસ્વરૂપ ભોગવવામાં આવતા કર્મ પ્રારબ્ધકર્મનો વિનાશ એકમાત્ર ભોગથી અને સંચિત તથા ક્રિયામાણનો વિલોભ પૂજનથી થાય છે કલીમાં જઈ સ્નાન કરવાથી અને પ્રાણ છોડવાથી મોક્ષની પ્રાપ્તિ થાય છે.

ત્રંબકે શર મહાદેવ :- દક્ષિણ બ્રહ્મ પર્વત પર અહિલ્યાના પતિ ગૌતમ તપ કરતા હતા સો વર્ષ સુધી અહી પાણી નવરસવાથી લીલોતરી નષ્ટ થઈઈ ગઈ. અહીંના પ્રાણી દુકાળથી પરેશાન થઈ આમતેમ જવા લાગ્યા. એટલે ઘોર દુકાળ પડયો કે ગૌતમજીએ છ મહિના સુધી પ્રાણાયામ દ્વારા માંગલિક તપ કર્યુ એનાથી વરૂણ દેવતા પ્રસન થયા અને ગૌતમે પાણીનુ વરદાન માંગ્યુ.વરૂણદેવના કહેવા મુજબ ગૌતમે એક ખાડો ખોદયો ત્યાં પાણી મળી આવ્યુ. વરૂણે કહ્યું કે અહીં હંમેશા પાણી ભરાયેલુ રહેશે તમારા નામની તેની પ્રસિધ્ધી થશે આ સ્થાન હવન, તપ, યજ, દાન કરવાવાળા લોકોને ફળ આપશે. આ પાણીના કારણે ઋષિયોને આનંદ ગયો અને પૃથ્વી લીલીછમ બની ગઈ. એક વખત ગૌતમના શિષ્ય ત્યાં માટે લેવા માટે ગયા તો અન્ય મુનીઓની

પત્નીઓ પણ ત્યાં પાણી લેવા આવી હતી અને તે પહેલા પાણી ભરવાની જદ કરવા લાગી.ગૌતમના શિષ્ય ગૌતમની પત્નીને બોલાવી લાવ્યા અને તેમણે શિષ્યોને જ પહેલા પાણી લેવાની વ્યવસ્થા કરી મુનિ પત્નીઓએ આ વાતને પોતાના પતિઓ આગળ મીફ, મરચુ ભભરાવીને કરી. ત્યારે મુનિઓએ ગૌતમ સામે બદલો લેવા માટે ગણેશજીની પૂજી કરી ગણેશજના પ્રગટ થતી વખતે તેમણે વરદાન માંગવા કહ્યુ જે પછી

ષિઓએ વરદાન માંગ્યુ કे,ગૌતમને અપમાનિત કરી ત્યાંથી હાંકી કાઢવાનુ બળ તેમને મળે. જે સામે ગણેશજીએ સૂચન કર્યુ કે, આવા મુનિ સાથે દ્વેષ રાખવો યોગ્ય નથી.જેણે પોતાના તપથી આ વિસ્તારમાં પાણીની વ્યવસ્થા કરી છે પરંતુ મુનિઓએ બહુ હઈ કરી ગણેશજીએ તેમની વાત માની લીધી પરંતુ ચેતવણી આપી કે, આખા પરિણામ સારા નહીં આવે એના થોડા દિવસ પછી ગૌતમજી ત્યાં ગયા તો તેમણે એક દુબળી પાતળી ગાય જોઈ અને જેવી તેને ત્યાંથી હટાકવા એક પાતળી લાકડી તેને મારી ગાય મરી ગઈ.આ બનાવ પછી મુનિઓએ ગૌતમ પર ગૌહત્યાનો આક્ષેપ લગાવ્યો.તેમને અપમાનિત કર્યા અને તેમને ત્યાંથી ચાલ્યા જવા માટે કહ્યુ.ગૌતમ દુ:ખી થઈ્ई ત્યાંથી ચાલ્યા ગયા.

ગૌતમે ગૌહત્યાના પાપથી મુક્તિ મેળવવા માટે તેપ કર્યુ. ગંગાજમાં સ્નાન કર્યુ અને કરોડોની સંખ્યામાં પાર્થિવલિંગ બનાવી શિવજીની પૂજા કરી શિવજીએ પ્રસન્ન થઈ દर्शન આપ્યા અને કહ્યું કे, તમે તો આત્માથી શુધ્ધ *षિ છો તમે કોઈ પાપ કર્યુ નથી. જ્યારે શિવજીએ ગૌતમને વરદાન માંગવા કહ્યું ત્યારે ગૌતમે શિવજી પાસેથી તેમને ગંગા આપી સંસારના ઉપકાર માટેનું વરદાન માંગ્યુ.શિવજએ ગંગાનુ તત્વરૂપજળ મુનીને

આપ્યુ ગૌતમે ગંગા પોતાને ગૌહત્યાથી મુક્ત કરવવાની પ્રાર્થના કરી. ગંગાએ વિચાર્યુ કે તે ગૌતમને પવિત્ર કરી સ્વર્ગલોકમાં લઈ ચાલી જશે પરંતુ શિવજીએ તેને કહ્યું જયાં સુધી કલિયુગ છે ત્યાં સુધી તમે ધરતી પર જ રહો. જે સામે ગંગાએ પણ તેમને કહ્યું के પછી આપ પણ પાર્વતી સાથે પૃથ્વી પર રહો. ગંગાજીએ શિવજને પૂછયું ક, જયાં સુધી બૃહસ્પતિ સિંહ રાશિમાં રહેશે ત્યાં સુધી તમારા કિનારે અમે રહી અને સ્નાન કરી શિવજીના દર્શન કરતા રહીશુ અને અમારા પાપ દૂર કરશે આ વાત સાંભળી ગંગા ગોમતી નામથી અને શિવલગ ત્ર્યંબક નામની ત્યાંજ स्थिત थયું.

ગંગા-દ્વારકારનું નામ એટલા માટે પડયું છે કે, ગૌતમજીએ અહીંયા સૌથી પહેલા સ્નાન કર્યુ હતું જ્યારે બીજા મુનિઓ અહીં સ્નાન કરવા માટે આત્મા તો ગંગા અદ્રશ્ય બની ગઈ હતી. ગૌતમે તેમને પ્રાર્થના કરી પણ તેમણે કૃત્યન મુનિઓએ દર્શન આપવાનો ઈન્કાર કરી દીધો.ગૌતમે ફરી પ્રાર્થના કરી તો તેમણે કહ્યું કે, આ પર્વતની સોવાર પ્રદક્ષિણા કર્યા પછી જ તે દર્શન આવશે. મુનિઓએ તેમ ક્યુ અને ગૌતમ પાસે પણ માફી માંગી (જુની કથાઓમાં એ પણ વર્ણન મળે છે કे ગૌતમે તો ઋષિઓને શ્રાપ આપ્યો હતો અને તે કાંચીપુરીમાં જર્ઈ રહેલા લાગ્યા હતા તથા શિવભક્ત ન રહ્યા. તેમના સંતાન પણ શિવભક્તિથી રહિત બની ગયા અને તે દાનવ જેવુ વર્તન કરવા લાગ્યા પરંતુ પછી ગંગાજી ફરીએ સ્થાન પર આવી અને તેમાં સ્નાન કરી તેમનું કલ્યાણ થયું)

કરિશ્વર મહાદેવ:-પહેલાના સમયમાં જ્યારે રાક્ષસો દેવતાઓને ખુબજ કષ્ટ આપવા લાગ્યા અને ધર્મનો હાસ થયો તો દેવતા વિષ્ગુજી પાસે ગયા વિષ્ણુજીએ દેવતાઓને કહ્યું કે તેઓ શિવજની આરાધના કરી મેળવેલી શક્તિથી જ हैત્યોનો સંહાર કરી શકશે. વિષ્ણુજી કैલાસ પર જઈ શિવજની ભક્તિ કરવવા લાગ્યા. તેમણે માનસરોવરમાં ખીલેલા કમળોથી શિવજની પૂજા કરી અને સહસ્ત્ર નામોથી પાઠ કરતા એક-એક નામ

મંત્રનું ઉચ્યારણ દકરી એકએક કમળ શિવજી પર ચઢાવવા લાગ્યા. વિષ્ણની પરીક્ષા લેવા માટે શિવજએ સહસ્ત કમળોમાંથી એક કમળને છુપાવી દીધુ. વિષ્યુએ બધી જગ્યાએ શોધ્યુ અંતે હારીને પોતાનું એક નેત્ર કમળ કાઢીને ચઢાવા લાગ્યા ત્યાંજ શિવજ પ્રગટ થયા અને વિષ્યુજીએ વરદાન માંગ્યુ કे તેઓ हैत्योની શક્તિ હણી લે. ખ્ઝ પછી મહાદેવે વિષ્ણુને પોતાનું સુદર્શન ચક્ર આપ્યુ. જેના પ્રભાવથી વિના કોઈ પરિશ્રમણથી વિષ્ણુજીએ દૈત્યોને પરાજય આપ્યો.

વ્યાધે ધ્ધર મહાદેવ:- શિવજીને પ્રસન્ન કરવાવાળા અનેક વૃત્તોમં શિવરાત્રિનું વ્રત સૌથી મહત્વપૂર્ણ છે. આ વ્રતને પુરૂ કરવા માટે સવારે ઉઠીને નિત્ય કર્મથી નિવૃત થઈને શિવાલયમાં જઈને શિવની પૂજા કરવી જોઈએ. આ ઉપરાંત જયોતિલિંગને સુંદર સ્થાન પર સ્થાપિત કરી બધી સામગ્રી સહીત પૂજા કરવી જોઈએ.

ॐ ન નમ:શિવાયા જાપ કરી ગીત-સંગીતની સાથે ત્રણવાર આચમન કરવુ જોઈએ. રાત્રિ જાગરણ, પ્રાર્થના કરતા વ્રત પુર કરવુ જોઈએ. શિવજની ઉપાસના કરતા કહેવુ જોઈએ, કે હે મહાશંકર તમે આ વ્રતથી સંતુષ્ટ થાવ અને અમારા પર કૃૃા કરો.પછી પોતાની શક્તિ અનુસાર દાન વગેરે કહી શિવલિંગનુ વિસર્જન કર્યા બાદ ભોજન કરવુ જોઈએ. એના વિશે એક કથા આ મુજબ છે કે ગુરદુષ્ટ નામે એક પાપી નિષાદ રોજ વનમાં જર્ર ચોરી કરી

અનેક દુષ્કર્મો કરતો હતો. એક વખત શિવરાત્રિના દિવસે તે પોતાની ગર્ભવતી પત્નીની સાથે ભોજનની શોધમાં નિકળ્યો પરંતુ તેને કાંઈ ન મળ્યું તે નિરાશ થર્ઈ એક તળાવની પાસે એક વૃક્ષની આકાશમાંએ આશાએ બેસી ગયો કે જો કોઈ પશુ પાણી પીવા આવે તો તેને મારીને ખાઈ જાય. રાત્રિના પહેલા પ્રહરમાં એક હરણી પાણી પીવા આવી તો તેના પર ભીલે ધનુષ પર બાણ ચડાવ્યુ જેવુ તેણે આમ ક્યુ તે સમયે તે વૃક્ષ પરથી કેટલાક ફૂલ અને પાણીના ટીપા શિવજીના જયોતિલિંગ પર પડયા એનાથી શિવજનું પૂજન થઈ ગયુ.હરણીએ દુ:ખી સ્વરમાં કહ્યું કે, મને થોડીવાર માટે બાળકોની વ્યવસ્થા કરવા માટે જવા દો.

હું ફરી આવીશ નિષાદે તેને જવા દીધી અને તેની રાહ જોતા એક પ્રહર જાગતા વીતી ગયો. બીજા પ્રહરમાં તે હરણીને શોધતી તેની બહેન તળાવ પર આવી નિષાદે ફરીથી તેનુ જ કર્યુ અને તેનાથી ફરી ફુલ તથા જળ જયોતિલિંગ પર ૫ડ્યા અને શિવજીની પુજા થર્ઈ ગઈ. હરીણીની બહેન પણ થોડો સમય માંગીને ચાલી ગઈ. નિષાદે તેને પણ જવા દીધી ત્રીજા પ્રહરમાં એ બંનેને શોધતો એક તંદુરસ્ત હરણા ત્યાં આવ્યો અને ફરી તેને મારવાની કોશિષ કરી તેમાં ફુલ અને જળ પડ્યા અને શિવજીનુ ત્રીજા પ્રહરનુ પુજન થઈ્ઈ ગયુ.હરણે પણ કરૂણ વાણીમાં નિષાદને પોતાના બાળકોની વ્યવસ્થા કરવા માટે સમય માંગ્યો અને પાછા ફરવાનો વિશ્વાસ આપ્યો. તેની રાહમાં નિષાદનુ ચોથા પ્રહરનુ પણ જાગરણ થઈ ગયુ.

ધરે પહોંચીને ત્રણેએ એકબીજાને પોતાની વાર્તા સંભળાવી અને હરણીને બાળકોનો ભાર સોંપીને હરણ પોતે નિષાદ પાસે જવાનો ભ ચાર કર્યો. હરણીએ વૈંધત્યને ખુબજ ખરાબ બનાવતા સાથે જવાનો આગ્રહ કર્યો અને ત્યારબાદ બાળકો પણ માતા-પિતાની સાથે ત્યાં પહોંચી ગયા. ચોથા પ્રહરમાં જ્યારે નિષાદે ધનુષ બાણ ચડાવ્યા તો તેજ રીતે જળ અને પત્ર-પુષ્પ શિવજી પર ચઢવાથી યોથા પ્રહરની પુજા પણ થઈ ગઈ.

તેનાથી નિષાદનુ પાપ નષ્ટ થઈ ગયુ અને તેણે જાનનો અનુભવ કર્યો.તેને હરણ-હરણીના વચનબધ્ધતાની ભાવનાને કારણે મુક્ત કરી દીધા.નિષાદના આ કર્મથી પ્રસન્ન થઈને શિવજ પ્રગટ થયા અને તેને વરદાન માંગવા માટે ક્્યુ. નિષાદે તેમની પાસે વરદાન માંગ્યુ કે તે ત્યાં જ નિવાસ કરે શિવજીએ તથાસ્તુ કહ્યું અને વ્યાધેશ્વર ત્યાંજ स्थिર થર્ई ગયા. આ રીતે શિવજીના આ જયોર્તિલિંગ જુદા-જુદા રૂપમાં જુદા-જુદા સ્થાનો